এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত স্বনামধন্য লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান গল্প ‘মেঘ-চোর’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে লেখক পরিচিতি, রচনার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, বিষয়সংক্ষেপ এবং নামকরণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
এই আলোচনাটি আপনাদের ‘মেঘ-চোর’ গল্পটি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে এবং এর অন্তর্নিহিত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির থিম ও মূলভাব বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক পরিচিতি ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন এসে থাকে; তাই পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: জীবন ও সাহিত্য
1934 খ্রিস্টাব্দের 7 সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমএ পাস করেন। সাহিত্য ও কর্মজীবনে তিনি নানাপ্রকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন গৃহশিক্ষক হিসেবে। পরবর্তীকালে বহু পত্রপত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বভার বহন করেছেন তিনি। ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা সংস্থার ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে আজীবন যুক্ত ছিলেন সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক। তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস হল ‘আত্মপ্রকাশ’ এবং প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘একা এবং কয়েকজন’। কবি হিসেবে তিনি যেমন কীর্তিমান, তেমনি গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবেও তিনি দক্ষ শিল্পী। ছোটোদের মহলেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক। তাঁর লেখা প্রথম কিশোর উপন্যাস হল ‘ভয়ংকর সাড়ে সাত’। নীললোহিত ছদ্মনামে তিনি প্রসিদ্ধ হলেও ‘সনাতন পাঠক’ ও ‘নীল উপাধ্যায়’ ছদ্মনামেও বহু রচনার তিনি স্রষ্টা। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল — ‘প্রথম আলো’, ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব-পশ্চিম’, ‘মনের মানুষ’, ‘অর্জুন’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ইত্যাদি। প্রায় 200 গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন। কাকাবাবু ও সন্তু চরিত্রের স্রষ্টারূপে কিশোরমহলে তিনি বন্দিত। তাঁর লেখা বহু গল্প ও উপন্যাস চলচ্চিত্র, বেতার ও টিভির পর্দায় রূপায়িত হয়েছে। পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর বহু রচনা। সাহিত্য কীর্তির সম্মানরূপে তিনি ‘আনন্দ পুরস্কার’, ‘বঙ্কিম পুরস্কার’, ‘সাহিত্য আকাদেমি’ প্রভৃতি পুরস্কার লাভ করেছেন। 2012 খ্রিস্টাব্দের 23 অক্টোবর কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রয়াত হন।
পাঠপ্রসঙ্গ
কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি সর্বদাই শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মনকে আকর্ষণ করে। সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মেঘ-চোর’ এমনই একটি কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি। অনেক সময়েই বিজ্ঞানের কাহিনি শিশুমনকে আনন্দ দিতে পারে না, সেই আনন্দ দেয় কল্পবিজ্ঞান, কারণ এখানে বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার মিশ্রণ ঘটে। তখন এই কাহিনি অত্যন্ত সুখপাঠ্য হয়ে ওঠে। বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে কোথাও বৃষ্টিহীন আবার কোথাও অতিবৃষ্টি দেখা যায়। কিন্তু সর্বত্রই বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন আছে কম-বেশি। তাই একস্থানের মেঘ যদি অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে বৃষ্টিহীনতা থেকে সেই স্থানকে রক্ষা করা যায়। বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীও তেমনই ভেবেছিলেন। তাই তিনি সাইবেরিয়া থেকে মেঘ চুরি করে সেই মেঘে গোবি-সাহারার বুকে একমাসে 100 ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন। এই ঘটনায় তিনি যেমন প্রশংসা পেয়েছেন, আবার নিন্দিতও হয়েছেন বহু মানুষের কাছে। তবে এমন ঘটনা বা আবিষ্কার বিশ্বকে ধ্বংস করে দিতেও সক্ষম। কারণ তাতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে, প্রকৃতি নিজস্বতা হারিয়ে ফেলবে। তাই সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় অসীমা চরিত্রের সক্রিয়তায় বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীর আকাঙ্ক্ষাকে সার্থক হতে দেননি। একটি সুন্দর গল্পের মাধ্যমে কল্পবিজ্ঞানকে জনপ্রিয়তা দিতেই আলোচ্য গল্পের সৃষ্টি।
বিষয়সংক্ষেপ
বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী বৃষ্টিবিজ্ঞানী হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত। তিনি মার্কারি-সহ 11টি ধাতুর মিশ্রণে এমন একটি ধাতব গোলক তৈরি করেছেন, যা জলীয় বাষ্প বা জলের সংস্পর্শে এলেই ভয়ানক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই উত্তাপের তীব্রতা এতটাই যে তা একটি বরফের লেকের সমস্ত বরফকে মাত্র 5 মিনিটেই বাষ্প করে মেঘে পরিণত করতে পারে। এমন আবিষ্কারের শক্তিতেই বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী একদেশের মেঘ উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেন অন্য দেশে। যেমন তিনি সাইবেরিয়া থেকে মেঘ উড়িয়ে নিয়ে গোবি সাহারার বুকে একমাসে প্রায় 100 ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ঘটান। এই ঘটনায় সারা বিশ্বে আলোড়ন পড়ে যায়। বিজ্ঞানী চৌধুরী একইসঙ্গে প্রশংসা ও নিন্দা অর্জন করেছেন এই কাজের জন্য।
বিজ্ঞানী কারপভ, বিজ্ঞানী চৌধুরীর এই মেঘ চুরির ঘটনা মেনে নিতে পারেননি এবং তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। বোস্টন শহরে আবহাওয়া বিষয়ক এক আলোচনা সভায় গিয়ে বিজ্ঞানী কারপভের সঙ্গে বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীর এ ব্যাপারে তর্কাতর্কি হওয়ার সময় পুরন্দর চৌধুরী জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি দেখেন তাঁকে শুশ্রূষা করছেন একটি যুবতী। মেয়েটি জানায় সে অসীমা, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গবেষক এবং সে বিজ্ঞানী চৌধুরীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ভাই দিকবিজয়ের কন্যা। অসীমা বলে তার বাবা নানা দেশে ঘুরতে ঘুরতে আলাস্কায় আসেন এবং সেখানেই এক এস্কিমো মেয়েকে বিবাহ করে থেকে যান সেদেশেই। বাবার মুখেই সে পুরন্দর চৌধুরীর কথা শুনেছে। তার বাবা, দাদা পুরন্দর চৌধুরীকে খুবই ভালোবাসতেন।
বিদেশবিভুঁইয়ে এসে হঠাৎ করেই রক্তের সম্পর্কের নিকটাত্মীয়াকে পেয়ে বিজ্ঞানী চৌধুরী খুব খুশি হয়েছিলেন। এরপর নিজের রকেটে অসীমাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে প্রকৃতি তথা আবহাওয়ার নানা রহস্য সম্পর্কে অবহিত করতে থাকেন। ঘুরতে ঘুরতে তাঁরা একসময় আলাস্কার আকাশে আসেন। আলাস্কায় তখন এস্কিমোদের ইগলুর বদলে বড়ো বড়ো এয়ারকন্ডিশনড্ বাড়ি উঠেছে। নীচের দিকে একটি সোনালি রঙের পাহাড় অসীমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিজ্ঞানী পাহাড়টির নাম জানতে চান। ইতিহাসের ছাত্রী হলেও ভূগোলটাও অসীমা ভালো জানত। তাই অকপটে সে জবাব দেয় পাহাড়টি হল মাউন্ট চেম্বারলিন আর তার পাশের কুয়াশায় ঢাকা হ্রদটি হল শ্রেভার লেক। অসীমার উত্তরে খুশি হয়ে বিজ্ঞানী চৌধুরী তাকে এমন একটি বস্তু দেখাতে চাইলেন, যা সারা পৃথিবীতে হইচই ফেলে দেবে কিন্তু অসীমা যেন এ ব্যাপারে কোনোভাবে মুখ না খোলে — এ কথাও তিনি বলে দেন কারণ এর মাধ্যমে তিনি কারপভকে জব্দ করতে চান।
বিজ্ঞানী পুরন্দর অসীমাকে বলেন যে, তাঁর আবিষ্কৃত বস্তুর মাধ্যমে তিনি শ্রেভার লেক শুকিয়ে সেই জল মেঘে পরিণত করে অন্যত্র তা নিয়ে যেতে পারেন এবং শ্রেভার লেক শুকিয়ে তার নীচ থেকেই আটলান্টিস সভ্যতাকে আবিষ্কার করবেন। তিনি জানান যারা তাঁর শত্রু তাদের দেশে একফোঁটা মেঘ-বৃষ্টিও তিনি দেবেন না। তিনি মেঘ নিয়ে ফেরিওয়ালার মতো সব দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করবেন ‘বৃষ্টি নেবে?’ বিজ্ঞানীর এমন ভাবনার কথা শুনে অসীমা কিছুটা মজা অনুভব করে। অসীমা জানতে চায় জল-ভরা মেঘ যদি কোথাও কোনো দেশের উপর ফেটে পড়ে তবে কী হবে? বিজ্ঞানী তাকে আশ্বাস দেন — যদি তেমন অবস্থা হয় তবে তিনি সেই মেঘ কোনো নির্জন স্থানে ফাটিয়ে দেবেন।
এরপরেই বিজ্ঞানী পুরন্দর তাঁর তৈরি ধাতব গোলকটি অসীমাকে দেখান, যার মাধ্যমে গোটা লেকের জল 5 মিনিটে শুকিয়ে ফেলা যায়। এমন সময় অসীমা ছোট্ট রিভলবার বের করে বিজ্ঞানীর দিকে লক্ষ করে গোলকটিকে বায়ুনিরুদ্ধ বাক্সে ঢোকাতে বলেন। অসীমা বলেন গোলকটা ব্যবহৃত হলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। এরপরেই অসীমা নিজের প্রকৃত পরিচয় দিয়ে বলেন যে, তিনি কারপভের কন্যা আর বিজ্ঞানী কারপভ তাঁকে বড়ো দাদার মতোই শ্রদ্ধা করেন। কম্পিউটারেও বিশেষভাবে আগ্রহ আছে অসীমার। কম্পিউটারের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই সে রকেটটিকে বায়ুমণ্ডলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে অনেক উঁচুতে নিয়ে যায়। কারণ বায়ুমণ্ডলের বাইরে ধাতব গোলকটির কার্যকারিতা থাকবে না। অসীমা বলে সমুদ্র থেকে খাল কেটে সাহারায় জল আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাই একস্থানের মেঘ চুরি করে অন্য স্থানে বৃষ্টি ঘটানোর প্রয়োজন নেই। নিজের আবিষ্কার পৃথিবীর মানুষের কাছে অজানাই থেকে যাবে — এতে বিজ্ঞানী পুরন্দর দুঃখ পান। একইসঙ্গে অসীমার বুদ্ধির কাছে হার মানেন তিনি।
এরপর অসীমা বিজ্ঞানী চৌধুরীর হাত থেকে ধাতব গোলকটি নিয়ে রকেটের সকেটে ফেলে দেন। এতে গোলকটি চিরকাল মহাশূন্যেই থেকে যাবে আর জলের ছোঁয়াও পাবে না। ফলে পৃথিবীর জল যেমন ছিল তেমনই থেকে যাবে এবং ভারসাম্য রক্ষা পাবে প্রকৃতির।
নামকরণ
নামকরণের মধ্যেই থাকে যেকোনো রচনার মূল বিষয়ের ইঙ্গিত। সুতরাং নামকরণ হল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বৃষ্টিবিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী এমন একটি সংকর ধাতুর বল আবিষ্কার করেছেন, যা জল এমনকি বাতাসের জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এলেই উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পুরন্দর এই ধাতব বলের সাহায্যে সাইবেরিয়ার মেঘ চুরি করে এক মাস ধরে 100 ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছেন সাহারা মরুভূমিতে। একারণেই অন্য এক বিজ্ঞানী কারপভের সঙ্গে তাঁর মতান্তর ঘটে। কারপভ পুরন্দরকে বড়ো ভাইয়ের মতো মনে করলেও তাঁর এই মেঘ চুরির কাজ সমর্থন করতেন না। পুরন্দরও কিন্তু আবিষ্কারের অহংকারে সেদিকে কর্ণপাত না করে মেঘ চুরির ঘটনা ঘটিয়েই চলেছেন। এরপর রাষ্ট্রসংঘে অনেক দেশ আইন করে মেঘ চুরি বন্ধ করার কথা বলেছে।
এই সময় অসীমা এক অন্য পথ অবলম্বন করে পুরন্দরকে জব্দ করতে। অসীমা আসলে বিজ্ঞানী কারপভের কন্যা। পুরন্দরকে সে ছদ্মপরিচয় দিয়ে বলে যে, সে পুরন্দরের ভাই দিকবিজয়ের মেয়ে; তার মা একজন এস্কিমোকন্যা। পুরন্দর অসীমার কথা সহজেই বিশ্বাস করেছিলেন। কারণ প্রায় 25 বছর আগে তাঁর ভাই দিকবিজয় নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল। নিঃসঙ্গ জীবনে একজন নিজের আত্মীয় পেয়ে পুরন্দর খুব খুশি হয়েছিলেন। অসীমাকে নিয়ে পুরন্দর কম্পিউটারচালিত রকেটে চড়ে পৃথিবীর অনেক উপরে আকাশপথে উড়ে চলেন। একের পর এক দেশ সাইবেরিয়া, আলাস্কা, লেক শ্রেভার, সাহারা মরুভূমি, চেম্বারলিন পাহাড় তিনি অসীমাকে দেখাতে থাকেন। কীভাবে, কীসের সাহায্যে লেক শ্রেভার শুকিয়ে দেবেন, এক দেশের মেঘ অন্য দেশে চুরি করে নিয়ে যাবেন — এইসব তথ্য তিনি জানান অসীমাকে।
এরপরেই আসে অসীমার মেঘ-চোর বৃষ্টিবিজ্ঞানী পুরন্দরকে শায়েস্তা করার পালা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করলেও কম্পিউটারে দক্ষতা খুব বেশি ছিল অসীমার। পুরন্দরকে পিস্তল দেখিয়ে অসীমা এই কম্পিউটারের সাহায্যেই রকেটটিকে বায়ুশূন্য স্তরে উঠিয়ে নিয়ে তাকে ধাতব বলটিকে ফেলে দিতে বাধ্য করেছে। বায়ুশূন্য স্তরে এই ধাতব বল সম্পূর্ণ অকেজো। অসীমা এরপর ছদ্মপরিচয়ের পরিবর্তে আসল পরিচয় দিয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমনই রেখে দেওয়ার চেষ্টা করেছে অসীমা।
সমগ্র গল্পবৃত্তের কেন্দ্রীয় চরিত্র মেঘ-চোর পুরন্দর। মেঘ চুরি করে তিনি পৃথিবীর ভারসাম্যের ক্ষতিসাধন করছিলেন, বিজ্ঞানের অপব্যবহার করছিলেন। সুতরাং বিষয়ানুগ চরিত্রকেন্দ্রিক নামকরণ হিসেবে ‘মেঘ-চোর’ গল্পের নামকরণ সার্থক হয়েছে।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘মেঘ-চোর’ গল্পটির বিষয়সংক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, লেখাটি এই পাঠ্যাংশটি সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং বিষয়টি সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক পরিচিতি ও গল্পটির সারসংক্ষেপ বা মূলভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যোগাযোগ: আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!





মন্তব্য করুন