এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত স্বনামধন্য কবি সুকুমার রায় রচিত মজাদার কবিতা ‘নোট বই’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে কবি পরিচিতি, রচনার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, বিষয়সংক্ষেপ এবং নামকরণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
এই আলোচনাটি আপনাদের ‘নোট বই’ কবিতাটি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে এবং এর অন্তর্নিহিত হাস্যরস ও মূলভাব বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন এসে থাকে; তাই পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কবি পরিচিতি
সুকুমার রায়ের জন্ম 1887 খ্রিস্টাব্দের কলকাতায়। তাঁর পিতার নাম উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। পিতার মতো তিনিও শিশুসাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিক এবং অন্যদিকে তিনি হাসির রাজা, গল্পকার ও অভিনেতা। তাঁর পুত্র হলেন পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে ‘আবোল তাবোল’, ‘খাই খাই’, ‘পাগলা দাশু’, ‘অবাক জলপান’, ‘ঝালাপালা’, ‘হ-য-ব-র-ল’, ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেল’ ইত্যাদি প্রসিদ্ধ। তিনি অকালে মৃত্যুবরণ করলেও স্বল্পদিনের জীবনে তিনি যা সৃষ্টি করে গেছেন, তা বাঙালি জাতি চিরকাল মনে রাখবে।
এই সুমহান কবি-সাহিত্যিকের জীবনের অবসান ঘটে 1923 খ্রিস্টাব্দে।
উৎস
নোটবই কবিতাটি কবির ‘আবোল তাবোল’ শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
পাঠপ্রসঙ্গ
কবিতায় বর্ণিত নোটবই যেন ভিন্ন একটি চরিত্র। বইটিতে নানান ধরনের জানা-অজানা সব প্রশ্ন লেখা রয়েছে এবং তার উত্তরও সেখানে লেখা আছে। কোনো প্রশ্নের উত্তর কারোর অজানা থাকলে সেই নোটবই পড়ে জেনে নিতে পারবে। যারা নোটবই পড়ে না তারা কিন্তু ওইসব প্রশ্নের উত্তর বলতে পারবে না। অর্থাৎ নোটবুক না থাকলে জীবনটাই ব্যর্থ বলে মনে হবে।
বিষয়সংক্ষেপ
নোটবই কবিতাটির মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারি যে, একটি শিশুর মনের মধ্যে নানান ধরনের সব অদ্ভুত প্রশ্ন ভিড় করে আসে এবং সেগুলির উত্তর সে নোটবইতে লিখে রাখে। প্রশ্নগুলি সে নিজেই দেখে, লেখে এবং তার উত্তরগুলিও মাথা ঘামিয়ে লিখে রাখে। ফড়িঙের ক-টি ঠ্যাং, আরশোলা কী কী খায়, আঙুলে আঠা লাগলে কেন তা চটচট করে? কেনই বা গোরুকে কাতুকুতু দিলে ছটফট করে—এমনসব নানান প্রশ্ন তার মাথায় ভিড় করে। কান কটকট করে কেন, ফোঁড়া কেন টনটন করে এসব প্রশ্নের উত্তর সে খুঁজে পায় না। অন্যদিকে মেজদাকে খুঁচিয়ে সে জেনে নিতে চায় ঝোলাগুড় সাবান না পটকায় দিতে হয়, পেট কেন কামড়ায়, জোয়ানের আরকে ঝাঁজ হয় কেন? তেজপাতায় কীসের এত তেজ, লঙ্কায় এত ঝাল কোথা থেকে এল? নাক ডাকে কেন এবং মানুষের পিলে কেন চমকায়, দুন্দুভি কাকে বলে, অরণি কী—এসবই পাঠকের উদ্দেশে শিশুমনের প্রশ্ন। কিন্তু সবশেষে শিশুর নিজস্ব উপলব্ধি—এইসব প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারবে না, কারণ তারা নোটবুক পড়েনি।
নামকরণ
নোটবই কবিতাটি হাস্যরসিক কবি সুকুমার রায়ের একটি উল্লেখযোগ্য হাস্যরসাত্মক কবিতা। কবিতাটিতে একটি শিশুর মাথায় যতসব আজগুবি ও হাস্যকর প্রশ্ন ভিড় করে। ছেলেটি গুরুগম্ভীরভাবে অনেক ভাবনাচিন্তা করে তার উত্তরগুলি নোটবইতে লিখে রাখে। ভালো কথা যা শুনতে পায়, তাও নোটবুকে লিখে রাখে। বইটি তার কাছে বিশ্বজ্ঞানের ভাণ্ডারের মতো। বিশ্বে যত রকমের আজগুবি প্রশ্ন আছে, তার সব উত্তর বইটির মধ্যে আছে বলে ছেলেটি মনে করে। নোটবইতে যতসব আজগুবি হাস্যকর তথ্য আছে বলে কবিতাটির নাম কবি ‘নোটবই’ রেখেছেন। সেদিক থেকে নামকরণটি সার্থক বলা যায়।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের সুকুমার রায়ের লেখা ‘নোট বই’ কবিতাটির বিষয়সংক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, লেখাটি এই পাঠ্যাংশটি সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং বিষয়টি সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতাটির সারসংক্ষেপ বা মূলভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যোগাযোগ: আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!





মন্তব্য করুন