এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের লেখা মজাদার কবিতা ‘নোট বই’-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘ভালো কথা শুনি যেই চটপট লিখি তায়’ – বক্তা কোন্ কোন্ ভালো কথা নোটবইয়ে লিখে রেখেছিলেন?
বক্তা অর্থাৎ বাচ্চা ছেলেটি তার নোটবইয়ে নানান ধরনের প্রশ্ন এবং তার উত্তর লিখে রেখেছিল। যেমন – ফড়িঙের কটি ঠ্যাং, আরশোলা কী কী খায়, আঙুলে আঠা লাগলে চটচট করে কেন, কাতুকুতু দিলে গোরু কেন ছটফট করে ইত্যাদি।
‘কাল থেকে মনে মোর লেগে আছে খটকা’ – কাল থেকে কী খটকা লেগেছে? এই খটকা কীভাবে দূর হবে?
ছেলেটির মনে ঝোলাগুড় কীসে দেওয়া হয়, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। তা সাবানে দেওয়া হয়, না পটকায়—এই দুটির মধ্যে সে ঠিক করতে পারে না। এই বিষয়টিই তার কাছে খটকা লাগে। এই প্রশ্নের উত্তর সে মেজদার কাছ থেকে জেনে নিলে তার খটকা দূর হবে।
‘বলবে কী, তোমরাও নোট বই পড়োনি!’ – নোটবই পড়লে আর কী কী জানা যাবে?
নোটবই পড়া থাকলে অনেক অদ্ভুত ধরনের প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে। যেমন – আমাদের পেটে কেন যন্ত্রণা হয়, জোয়ানের আরকে এত ঝাঁজ কেন, তেজপাতায় কীসের তেজ, লঙ্কায় ঝাল কেন, নাক ডাকে কেন, অরণি বলতে কী বোঝায় ইত্যাদি।
কবিতায় উত্থাপিত কোন্ কোন্ প্রশ্নের উত্তর তুমি জানো?
কবিতায় উত্থাপিত অনেক প্রশ্নের উত্তরই আমার জানা। যেমন – ফড়িঙের ছটি পা, আরশোলা নোংরা বাসি খাবার খায়, আঠা বা মিষ্টি হাতে লাগলে হাত চটচট করে, কানে ব্যথা হলে অনেক সময় কান কটকট করে, ফোঁড়া পেকে গেলে তা টনটন করে, যুদ্ধের সময় দামামা বা ঢাক বাজানো হয় ইত্যাদি।
কোন্ প্রশ্নগুলি পড়ে কবিতাটিকে তোমার কবির খেয়ালি মনের কল্পনা বলে মনে হয়েছে?
কবিতাটিতে থাকা অনেক প্রশ্নকেই খেয়ালি মনের কল্পনা বলে মনে হয়েছে; যেমন – গোরুকে কাতুকুতু দিলে গোরু কেন ছটফট করে, ঝোলাগুড় সাবানে দেয় না পটকায়, তেজপাতায় তেজ কেন, লঙ্কায় ঝাল কেন, পিলে চমকায় কেন, নাক ডাকে কেন ইত্যাদি।
নোট বই কবিতাটিতে কী ধরনের মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে?
বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় তাঁর ‘নোটবই’ কবিতায় শিশুমনের খেয়ালি কল্পনার জাল বুনেছেন। কবি আলোচ্য কবিতায় এমন সব অবাস্তব প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, যার উত্তর প্রশ্নের মধ্যেই নিহিত আছে। আসলে বিষয়বস্তুর সারমর্ম তুলে ধরা কবির মূল উদ্দেশ্য নয়, কল্পনাপ্রবণ শিশুমনকে চমকে দেওয়াই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য।
‘দেখে শিখে পড়ে শুনে বসে মাথা ঘামিয়ে’ – কোন্ কবিতার অংশ? বক্তা কে? সে কোন্ বিষয়ে মাথা ঘামিয়েছে এবং কেন?
উদ্ধৃত অংশটি হাস্যরসিক কবি সুকুমার রায় রচিত ‘নোটবই’ শীর্ষক কবিতার অংশ। কবিতায় বর্ণিত বক্তা হলো একটি ছোটো ছেলে, যার নানা রকম উদ্ভট বিষয়ে জানার প্রবল ইচ্ছা। বক্তা অর্থাৎ ছেলেটি যে যে বিষয়ে মাথা ঘামিয়েছে সেগুলি হলো – ফড়িঙের কটি পা; আরশোলার খাবার কী; আঙুলে আঠা লাগলে তা কেন চটচট করে; কাতুকুতু দিলে গোরু কেন ছটফট করে ইত্যাদি। শিশুমন চিরকালই কৌতূহলপ্রবণ। প্রয়োজনীয় কিংবা অপ্রয়োজনীয় নানা বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা থাকে। কবিতায় বর্ণিত ছেলেটিও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই সেও এসব উদ্ভট বিষয়ে মাথা ঘামিয়েছে।
‘এই বেলা প্রশ্নটা লিখে রাখি গুছিয়ে, জবাবটা জেনে নেব মেজদাকে খুঁচিয়ে।’ – কোন্ কবিতার অংশ? উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য লেখো।
উদ্ধৃত অংশটি সুকুমার রায়ের লেখা ‘নোটবই’ কবিতার অংশ। কবিতাটিতে এক ছোটো ছেলে বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত সব প্রশ্ন তার নোটবইয়ে লিখে রাখে এবং সেগুলির উত্তরও সে নোটবইয়ের মধ্যে সংগ্রহ করে রাখে। এখানে ঝোলাগুড় কীসে দেয়, সাবানে না পটকায় – সেই প্রশ্নের উত্তর সে জানতে চায়। সেজন্য মেজদা বারবার বিরক্ত হলেও তাকে খুঁচিয়েই সে এই উত্তর জেনে নেবে বলে ঠিক করেছে। উত্তর জানার পর সেগুলি সে যথারীতি নিজের নোটবইতে লিখে রাখবে।
‘বলবে কী, তোমরাও নোটবই পড়োনি।’ – কার লেখা, কোন্ কবিতার অংশ এটি? আলোচ্য পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
আলোচ্য পঙ্ক্তিটি সুকুমার রায়ের লেখা। এটি ‘নোটবই’ কবিতার অংশ।
পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বড়ো মানুষরা কখনও সাধারণ বিষয় নিয়ে অদ্ভুত প্রশ্ন করে না এবং তার উত্তরও জানতে চায় না। কিন্তু ছোটোদের মনে সেসব বিষয় নিয়ে কত বিচিত্র ধরনের প্রশ্ন জাগে এবং তার উত্তর জানতে চাওয়ার জন্য বড়োদের তারা বিরক্ত করে। তাদের মনের মধ্যে সেইসব অদ্ভুত ধরনের প্রশ্ন ভিড় করে আসে, যার উত্তর তাদের জানা নেই। কবি বলতে চেয়েছেন তারাই ওইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে যারা নোটবই পড়েছে। আর যারা নোটবই পড়েনি তারা এর উত্তর দিতে পারবে না।
নোটবই পড়লে কোন্ কোন্ বিষয় জানা যায়, তা কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় তাঁর ‘নোটবই’ কবিতায় শিশুমনের খেয়ালি কল্পনার জাল বুনেছেন শব্দ ও ছন্দের মাধ্যমে। এ নোটবই সাধারণ নোটবই নয়; এতে আছে কতকগুলি উদ্ভট প্রশ্ন – যা শিশুমনে হাসির উদ্রেক করে। ফড়িঙের কতগুলি ঠ্যাং, আরশোলা কী কী খায়, আঙুলে আঠা লাগলে কেন চটচট করে, কাতুকুতু দিলে গোরু কেন ছটফট করে, এসব সাধারণ প্রশ্নের উত্তর শিশু মাথা ঘামিয়ে লিখে নেয়। কান কেন কটকট করে, ফোঁড়া কেন টনটন করে – এ প্রশ্ন আজগুবি বলেই মনে হয়। ঝোলাগুড় কী কাজে লাগে আমরা সবাই জানি।
তবে এর প্রয়োগটি বেশ অদ্ভুত। তেজপাতায় কেন তেজ, লঙ্কায় কেন ঝাল, জোয়ানে কেন ঝাঁজ – এসব প্রশ্ন অতি সাধারণ হলেও কবির উপস্থাপন কৌশলে বেশ মজার উদ্রেক হয়। নাক ডাকা ও পিলে চমকানো ব্যাপারটাও বেশ হাস্যকর। তবে দুন্দুভি ও অরণি ব্যাপারটা একটু শক্ত। যাই হোক, কবির কলমে ছড়ার ছন্দে সামান্য বিষয়গুলি অসামান্য হয়ে উঠেছে ‘নোটবই’ কবিতায়।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত, সুকুমার রায় রচিত ‘নোট বই’ কবিতার কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন