এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘মেঘ-চোর’ গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Long Answer Questions) নিয়ে আলোচনা করব। এই বিস্তারিত প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে ব্যাখ্যামূলক বা বড়ো প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘আমার বাবা আপনাকে খুব ভালোবাসতেন,’ – কে, কাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলেছে? বক্তা তার বাবা সম্পর্কে কী জানিয়েছে?
প্রশ্নোক্ত অংশটি সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কল্পবিজ্ঞানমূলক কাহিনি ‘মেঘ-চোর’ থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটির বক্তা হল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গবেষক অসীমা, সে বিশ্বখ্যাত বৃষ্টিবিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীকে লক্ষ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
বোস্টন শহরে আবহাওয়া বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে এসেছিলেন বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী। সেখানে বিজ্ঞানী কারপভ তাকে ‘মেঘ-চোর’ বলে কটূক্তি করলে উত্তেজনায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বিজ্ঞানী পুরন্দর। জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন যে, তাকে সেবা করছে একটি যুবতী নারী। অবাক পুরন্দর তখন মেয়েটিকে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, যুবতী নিজেকে পুরন্দরের ছোটো ভাই দিগ্বিজয়ের মেয়ে অসীমা বলে পরিচয় দেয় এবং বাবার সম্পর্কে কিছু কথা বলে। অসীমা বলে যে – তার বাবা নিরুদ্দেশ হয়ে যাননি। তিনি দেশ ছেড়ে ঘুরতে ঘুরতে শেষপর্যন্ত আলাস্কায় এসে সেখানেই থেকে গেছেন। তিনি একজন এস্কিমো মেয়েকে বিয়ে করেন, যিনি অসীমার মা। অসীমা আরও বলে যে, তার বাবা বিজ্ঞানী পুরন্দরকে খুব ভালোবাসতেন এবং মৃত্যুর আগেও তার কথা তিনি বলেছিলেন।
‘ওঁরা এসেছেন আলাস্কার আকাশে।’ – ওঁরা কারা? ওঁরা কেন আলাস্কায় এসেছেন? সেখানে তারা কী কী দেখলেন?
ওঁরা বলতে বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী ও বিজ্ঞানী কারপভের কন্যা অসীমার কথা বলা হয়েছে।
বোস্টন শহরে আবহাওয়া বিষয়ক আলোচনায় যোগ দিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিজ্ঞানী পুরন্দর, তখন তার সেবা করে অসীমা। সুস্থ হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন অসীমা তার ভাইঝি। বিদেশে রক্তের সম্পর্কে এক আত্মীয়াকে কাছে পেয়ে খুব খুশি হন বিজ্ঞানী। তখন তিনি নিজের রকেটে অসীমাকে নিয়ে মহাকাশে ঘুরতে বেরোন। অসীমাকে নিয়ে বহু স্থানে ঘুরে ঘুরে তাকে নানা রকমের আবহাওয়ার রহস্য দেখাতে দেখাতেই আলাস্কার আকাশে চলে আসেন তারা।
আলাস্কাতে আগে যেখানে অসীমা তার মা-বাবার সঙ্গে থাকত, সেই স্থান দেখতে পায় অসীমা। তবে সেখানে এস্কিমোদের ইগলুর বদলে বড়ো বড়ো বাতানুকূল বাড়ি দেখেন তারা। বিজ্ঞানী পুরন্দরের নির্দেশমতো নীচে তাকিয়ে অসীমা দেখে একটা সোনালি রঙের পাহাড়, পাহাড়টির চূড়ার বরফের উপরে রোদ পড়েছে বলে, সেটি সোনার মতো ঝকঝক করছে। পাহাড়টি হল, ‘মাউন্ট চেম্বারলিন’। চেম্বারলিনের পাশেই তারা দেখতে পান কুয়াশায় ঢাকা ‘লেক শ্রেভার’। আলাস্কায় এইসব প্রাকৃতিক দৃশ্য তারা উপভোগ করেন।
এই গল্পে কাকে, কেন ‘মেঘ-চোর’ বলা হয়েছে? তার মেঘ চুরির কৌশলটি সংক্ষেপে লেখো।
সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মেঘ-চোর’ গল্পে বৃষ্টিবিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী এক দেশের মেঘ চুরি করে অন্য দেশে নিয়ে গিয়ে, সেখানে বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারেন, তাই তাকে ‘মেঘ-চোর’ বলা হয়েছে।
বিজ্ঞানী চৌধুরী মার্কারি-সহ আরও এগারোটি ধাতুর মিশ্রণে এক ধাতুসংকর সৃষ্টি করে তা দিয়ে তিনি একটি ধাতব গোলক তৈরি করেন। ওই গোলকটি জল এমনকি জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এলেও ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হত এবং শেষ অবধি এটি এতটাই গরম হয়ে পড়ত যে পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটি লেকের বরফকে জল, বাষ্প ও পরে মেঘে পরিণত করে দিত। তারপর তিনি সেই মেঘ নিজের ইচ্ছামতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেখানে খুশি বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারতেন। অর্থাৎ প্রকৃতির নিজস্বতাকে অগ্রাহ্য করে বিজ্ঞানী চৌধুরী নিজের ইচ্ছায় মেঘকে স্থানান্তরিত করতে পারতেন। ফলে যে দেশের মেঘ, সেখানে বৃষ্টিপাত না হয়ে, অন্য দেশে গিয়ে সেই মেঘ বৃষ্টিপাত ঘটাত। এভাবেই বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী মেঘ চুরি করতেন।
‘বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অমিত বল, কিন্তু অযোগ্য মানুষের হাতে সেই ক্ষমতা হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী।’ – পঠিত গল্পটি অবলম্বনে উপরের উদ্ধৃতিটি বিশ্লেষণ করো।
সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কল্পবিজ্ঞানমূলক একটি গল্প হল ‘মেঘ-চোর’। এই গল্পে লেখক দেখাতে চেয়েছেন যে, বিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ না হলে তার ফলে কেমন ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বৃষ্টিবিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী তার বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে মার্কারি-সহ আরও এগারোটি ধাতুর মিশ্রণে এক ‘অ্যালয়’ তৈরি করেন এবং সেই অ্যালয় দিয়ে একটি গোলক তৈরি করেন। এই গোলকটি জল, এমনকি জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এলেও ধীরে ধীরে এতটাই উষ্ণতা লাভ করে যে, তা একটি লেকের বরফকে গলিয়ে বাষ্প তথা মেঘে পরিণত করতে পারে। বিজ্ঞানী সেই মেঘ চুরি করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে সেখানে বৃষ্টিপাত ঘটাতেন। এর ফলে প্রকৃতি তার আপন স্বাভাবিক সত্তা হারিয়ে ফেলার এক প্রবল সম্ভাবনা দেখা দেয়। কিন্তু যশ, নাম বা ক্ষমতার লোভে বিজ্ঞানী চৌধুরী বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে প্রকৃতির ধ্বংসসাধনে মেতে ওঠেন। সাহারা মরুভূমিতে তিনি মাসে 100 ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে সাংঘাতিক কাণ্ড করেন, এই ঘটনায় প্রকৃতির ভারসাম্য ভীষণভাবে বিঘ্নিত হতে বাধ্য।
এই ঘটনা থেকেই প্রমাণিত হয় যে, অযোগ্য লোক বিজ্ঞানকে ব্যবহার করলে তা হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী।
পুরন্দর চৌধুরীর চরিত্রটি তোমার কেমন বলে মনে হয়েছে – বিশ্লেষণ করো।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘মেঘ-চোর’ গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হল বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী। চরিত্রটি একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক।
বিজ্ঞানের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হলেন বিজ্ঞানী পুরন্দর, তাই বিজ্ঞান-মেধাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি ধাতব গোলক আবিষ্কার করেন যার সাহায্যে তিনি মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একটি লেকের সমস্ত বরফকে গলিয়ে বাষ্প তথা মেঘ বানিয়ে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে বোঝা যায় তিনি একজন বড়ো বিজ্ঞানী। তিনি সাইবেরিয়া থেকে মেঘ চুরি করে নিয়ে যান সাহারার আকাশে এবং সেখানে এক মাসে 100 ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেন। এদিক থেকে বিচার করে চরিত্রটিকে আকর্ষণীয় বলে আমার মনে হয়েছে।
তবে বিজ্ঞানী পুরন্দর অর্থ, যশ বা নাম করার আশায় এক দেশের মেঘ দক্ষতার সঙ্গে অন্য দেশে নিয়ে যান এবং সেখানে বৃষ্টিপাত ঘটান। এই ঘটনা প্রকৃতির স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করতে উদ্যত হয়। ব্যবসায়ীদের মতো তিনি মেঘ ফেরি করে বেড়ানোর পরিকল্পনাও করেন এবং যারা তার বিরোধী বা শত্রু তাদের তিনি মেঘ ও বৃষ্টি থেকে বঞ্চিত করতে চান। অর্থাৎ কোথাকার মেঘ কোথায় যাবে, বৃষ্টি হবে কি না তা নির্ভর করবে বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীর ইচ্ছার উপর। অর্থাৎ প্রকৃতিকে নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার করে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করেছেন তিনি।
এখানে তার মানবিক চেতনার প্রকাশ অপেক্ষা দানবীয় চেতনার প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এভাবেই বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী চরিত্রটি আমার কাছে একইসঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিয়েছে।
গল্পটি অবলম্বনে অসীমা চরিত্রটি সম্বন্ধে তোমার মতামত জানাও।
সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মেঘ-চোর’ নামক কল্পবিজ্ঞানের কাহিনির একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হল অসীমা। এই চরিত্রটির মাধ্যমে লেখক শুভবুদ্ধির জয় ঘোষণা করার চেষ্টা করেছেন।
অসীমা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গবেষক হলেও, ভূগোলেও তার যথেষ্ট জ্ঞান আছে, সে কম্পিউটার বিদ্যায় দক্ষ, সর্বোপরি সে মানবিক চেতনায় সমৃদ্ধ এক নারী। বৃষ্টিবিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীর কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝেই সে বিরোধী মনোভাব ব্যক্ত করেছে। হ্রদের জল মেঘ হলে ক্ষতি হবে। তাই সে বলেছে – ‘একসঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টি বেড়ে গেলে পৃথিবীর দারুণ কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে না!’ পুরন্দর চৌধুরীর মেঘ ফেরি করার কথা শুনে সে বিজ্ঞানী পুরন্দরকে ফেরিওয়ালা বলে সামান্য বিদ্রুপও করেছে। অর্থাৎ কখনোই অসীমা বিজ্ঞানীর কথাকে নির্দ্বিধায় মেনে নেয়নি। এখানে তার চরিত্রের দৃঢ়তার প্রকাশ ঘটেছে। সবশেষে যখন সে বুঝতে পেরেছে যে, বিজ্ঞানী চৌধুরী তার আবিষ্কৃত সংকর ধাতুর গোলকটির সাহায্যে শ্রেভার লেকের বরফকে মেঘে পরিণত করে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে চলেছেন, তখন অসীমা বাধ্য হয়ে বিজ্ঞানীকে ভয় দেখিয়ে তার কাজ থেকে তাকে বিরত করেছেন। গোলকটিকে রকেটের সকেটে ফেলে দিয়ে অসীমা সেটিকে অকেজো করেছে এবং পৃথিবীর স্বাভাবিকতাকে রক্ষা করেছে।
এভাবেই আলোচ্য কাহিনিতে অসীমার বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষাসংস্কার ও মানবকল্যাণকর চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।
এই গল্পে পুরন্দর এবং অসীমা আসলে দুটি পৃথক এবং পরস্পরবিরোধী বিজ্ঞানচেতনার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কে, কোন্ ধারণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন জানিয়ে তুমি এঁদের মধ্যে কাকে, কেন সমর্থন করো বিশদে জানাও।
সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মেঘ-চোর’ গল্পে দুই পরস্পরবিরোধী মনোভাবসম্পন্ন চরিত্রের পরিচয় পাই – এরা হলেন বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী এবং কারপভের কন্যা অসীমা।
বিজ্ঞানী পুরন্দর – বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী সারা বিশ্বে বৃষ্টিবিজ্ঞানী নামে পরিচিত। তিনি তার বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগে সংকর ধাতু দিয়ে একটি ধাতব গোলক তৈরি করেছেন, যার সাহায্যে তিনি অতি অল্প সময়েই একটি লেকের সমস্ত বরফকে বাষ্প তথা মেঘে পরিণত করে সেই মেঘ নিজের পছন্দমতো স্থানে নিয়ে গিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারতেন। এক দেশের মেঘ চুরি করে অন্য দেশে নিয়ে যান তিনি, এর ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। বিজ্ঞানের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের নাম, যশ, প্রতিপত্তি বাড়ানোর নেশায় মেতে উঠেছিলেন। তার ধারণা ছিল, বিজ্ঞানের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃতিকে তিনি নিজের কথামতো চালাবেন, এই ধারণা তাকে অহংকারী করে তুলেছিল।
অসীমা – অসীমার প্রকৃত পরিচয় সে বিজ্ঞানী কারপভের কন্যা এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গবেষক কিন্তু ভূগোল এবং কম্পিউটারেও তার দক্ষতা রয়েছে। সে কখনোই বিজ্ঞানকে সভ্যতার ধ্বংসসাধনে ব্যবহার করতে চায়নি। তাই বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীর মেঘ চুরির ঘটনাকে সমর্থন করেনি সে। সে জানত যে বিজ্ঞানী চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য সাংঘাতিকভাবে নষ্ট হবে, যার ফলে সভ্যতা ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে। তার মতে বিজ্ঞান মানুষের কল্যাণকর জীবনের সহায়ক। তাকে আপন স্বার্থে ব্যবহার করা অন্যায়। তাই বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীকে ভয় দেখিয়ে তাকে তার কাজ থেকে নিবৃত্ত করেছে অসীমা।
আলোচ্য দুই চরিত্রের মধ্যে আমি অসীমাকেই সমর্থন করি। কারণ বিজ্ঞানী পুরন্দর বিজ্ঞানের শক্তিকে আপন স্বার্থে ব্যবহার করে মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন কিন্তু অসীমা বিজ্ঞানকে সভ্যতার কল্যাণেই ব্যবহার করতে চেয়েছে।
গল্পটিতে যতগুলি স্থাননাম আছে তার একটি তালিকা বানিয়ে প্রত্যেকটি স্থান সম্বন্ধে সংক্ষেপে লেখো।
- সাহারা মরুভূমি – আফ্রিকা মহাদেশের উত্তরাংশে 94,00,000 বর্গকিমি বিস্তৃত পৃথিবীর উষ্ণ মরুভূমি।
- বোস্টন শহর – এটি আমেরিকায় অবস্থিত একটি বন্দর-শহর। ম্যাসাচুসেট্স-এর রাজধানী।
- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় – আমেরিকার ম্যাসাচুসেট্স-এ অবস্থিত 1636 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়।
- আলাস্কা – আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রদেশ।
- মাউন্ট চেম্বারলিন – আলাস্কার ব্রুকস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
- লেক শ্রেভার – আলাস্কার মাউন্ট চেম্বারলিনের পাশে কুয়াশায় ঢাকা বরফাবৃত হ্রদটির নাম লেক শ্রেভার।
- সাইবেরিয়া – মধ্য এশিয়ার উত্তরাংশে অবস্থিত বরফাবৃত একটি অঞ্চল হল সাইবেরিয়া এটি তুন্দ্রা জলবায়ুর অন্তর্গত। দক্ষিণ সাইবেরিয়ায় পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ বৈকাল অবস্থিত।
- আটলান্টিস – আটলান্টিস হল বরফাবৃত লেকের তলায় থাকা পৃথিবীর এক প্রাচীন সভ্যতা।
- কলকাতা – ভারতের মহানগরগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। একদা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। বর্তমানে কলকাতা হল পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘মেঘ-চোর’ গল্পের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নোত্তরগুলি অত্যন্ত সহায়ক হবে, কারণ পরীক্ষায় এই ধরনের বর্ণনামূলক প্রশ্ন প্রায়শই এসে থাকে।
আশা করি, এই আলোচনাটি আপনাদের উপকারে এসেছে। পাঠ্যবিষয়ক কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে জানাতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং পড়াশোনায় সাহায্য করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!





মন্তব্য করুন