স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পিতা ও মাতার একজন বর্ণান্ধ কন্যা থাকা কি সম্ভব?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পিতা ও মাতার একজন বর্ণান্ধ কন্যা থাকা কি সম্ভব?” — নিয়ে আলোচনা করব।

এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় (Competitive Exams) এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পিতা ও মাতার একজন বর্ণান্ধ কন্যা থাকা কী সম্ভব?

বর্ণান্ধতার জিনগত কারণ

বর্ণান্ধতার (Color blindness) জন্য দায়ী জিনটি X ক্রোমোজোমস্থিত প্রচ্ছন্ন জিন। এর ফলে নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে জিনটির প্রকাশ ভিন্নভাবে ঘটে:

  • মহিলাদের ক্ষেত্রে: মহিলাদের ক্ষেত্রে হেটেরোজাইগাস (Xc+Xc) অবস্থায় জিনটি প্রকাশ পায় না, তবে এক্ষেত্রে মহিলারা রোগটির বাহক হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে জিনটি কেবল হোমোজাইগাস (XcXc) অবস্থায় প্রকাশ পায়, অর্থাৎ তখন তারা বর্ণান্ধ হয়।
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে: অপরদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে যেহেতু Y ক্রোমোজোম বর্ণান্ধতার কোনো জিন বহন করে না, তাই হেমিজাইগাস (XcY) অবস্থায় এই জিনটির প্রকাশ ঘটে এবং তারা বর্ণান্ধ হয়।

স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পিতা ও মাতার একজন বর্ণান্ধ কন্যা থাকা কী সম্ভব?

বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী জিনটি X ক্রোমোজোমস্থিত প্রচ্ছন্ন জিন হওয়ায় মহিলাদের ক্ষেত্রে হেটেরোজাইগাস (Xc+Xc) অবস্থায় জিনটি প্রকাশ না পেলেও এক্ষেত্রে মহিলারা রোগটির বাহক হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে জিনটি কেবল হোমোজাইগাস (Xc-Xc) অবস্থায় প্রকাশ পায়। অপরদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে যেহেতু Y ক্রোমোজোম বর্ণান্ধতার কোনো জিন বহন করে না তাই হেমিজাইগাস (XcY) অবস্থায় এই জিনটির প্রকাশ ঘটায় তারা বর্ণান্ধ হয়।

একজন বর্ণান্ধ কন্যার জিনোটাইপ XcXc; এক্ষেত্রে একটি Xc পায় মাতার থেকে এবং অপর X পায় পিতার থেকে। প্রশ্নানুযায়ী বর্ণান্দ কন্যার মাতা স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন অর্থাৎ, মাতার জিনোটাইপ হবে Xc+Xc; এক্ষেত্রে মাতা বাহক হবে এবং পিতার জিনোটাইপ হবে (XcY) অর্থাৎ, পিতা বর্ণান্ধ হবে। তাই স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পিতা ও মাতার একজন বর্ণান্ধ কন্যা থাকা কখনোই সম্ভব নয়।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের বংশগতি অধ্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ জিনগত প্রশ্নটি সহজভাবে সমাধান করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি মাধ্যমিক ও অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? ইহা কত প্রকার ও কী কী? থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গগুলি উল্লেখ করো।

থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? প্রকারভেদ ও উপসর্গ

অসুস্থ ভ্রূণ তথা সন্তান যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলর দম্পতিকে সাধারণত কী কী পরামর্শ দেবেন?

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন দিকগুলি লেখো।

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পিতা ও মাতার একজন বর্ণান্ধ কন্যা থাকা কি সম্ভব?

থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? প্রকারভেদ ও উপসর্গ

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান