এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “X-লিংকড জিন বলতে কী বোঝো? লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার কী?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ”-এর অন্তর্গত “কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের ক্রোমোজোম – অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোম
মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে মানুষের ক্রোমোজোম সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা থাকা জরুরি। মানুষের কোষে মোট 23 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এদের 2টি ভাগে ভাগ করা যায় –
- অটোজোম (Autosomes) – প্রথম 22 জোড়াকে বলা হয় অটোজোম, যা মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে অংশ নেয় না, বরং দেহের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
- সেক্স ক্রোমোজোম (Sex Chromosomes) – বাকি 1 জোড়াকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম (X এবং Y), যা লিঙ্গ নির্ধারণের (ছেলে না মেয়ে হবে) পাশাপাশি বিভিন্ন বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।
X-লিংকড জিন বলতে কী বোঝো? লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার কী?
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এই 2টি বিষয়ের সঠিক সংজ্ঞা নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো –
- X-লিংকড জিন (X-Linked Gene) – যে জিনগুলি লিঙ্গ নির্ধারক X ক্রোমোজোমে অবস্থিত, তাদের বলা হয় X-লিংকড বা সেক্স-লিংকড জিন।
- লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার (Sex-Linked Inheritance) – জনিতৃ জনু (পিতা-মাতা) থেকে অপত্য জনুতে (সন্তানসন্ততি) সেক্স ক্রোমোজোমের (বিশেষ করে X ক্রোমোজোম) নির্দিষ্ট নিয়মে সঞ্চারণকে বলা হয় সেক্স-লিংকড ইনহেরিটেন্স বা লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার।
সেক্স-লিংকড ইনহেরিটেন্স-এর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
লিঙ্গ সংযোজিত জিনের মিউটেশনের ফলে সৃষ্ট বংশগত রোগগুলি সেক্স-লিংকড ইনহেরিটেন্স-এর চমৎকার প্রমাণ বহন করে। এর প্রধান 2টি উদাহরণ হলো –
- হিমোফিলিয়া (Haemophilia) – এটি একটি X ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না। ফলে শরীরের কোনো অংশ সামান্য কেটে গেলে অতিরিক্ত রক্তপাতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। (অতিরিক্ত তথ্য – ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার রাজপরিবারে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, তাই একে ‘রাজকীয় রোগ’ বা Royal Disease-ও বলা হয়।)
- বর্ণান্ধতা (Colour Blindness) – এটিও একটি X ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মূলত লাল এবং সবুজ রঙের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন না।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে এবং লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার সম্পর্কে আপনাদের ধারণা স্পষ্ট হয়েছে। মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন।





Leave a Comment