এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়া কী? থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর “কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়া কী?
থ্যালাসেমিয়া –
থ্যালাসেমিয়া হল অটোজোম বাহিত এক ধরনের বংশগত রোগ, যা হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন-পেপটাইড শৃঙ্খলের অস্বাভাবিক গঠনের ফলে সৃষ্টি হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হিমোগ্লোবিন গঠিত হয় না বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পায়, লোহিত রক্তকণিকা ক্ষুদ্র হয় এবং এর আয়ু কম (RBC -র গড় আয়ু 120 দিন) ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
হিমোফিলিয়া –
মানুষের X ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যে বংশগত রোগের ফলে ক্ষতস্থানে রক্ত তঞ্চিত হয় না, তাকে হিমোফিলিয়া বলা হয়। সাধারণত রক্তে তঞ্চন ফ্যাক্টর VIII বা IX -এর অভাবে এই ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়।
থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়ার মধ্যে পার্থক্য –
| থ্যালাসেমিয়া | হিমোফিলিয়া |
| এটি একটি অটোজোম বাহিত বংশগত রোগ। | এটি X ক্রোমোসোম বাহিত বংশগত রোগ। |
| 16নং এবং 11নং ক্রোমোসোমে অবস্থিত গ্লোবিন জিনের ত্রুটির ফলে এই রোগ হয়। | X ক্রোমোসোমে অবস্থিত জিনের মিউটেশনের ফলে এই রোগ হয়। |
| থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পায়। | হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থান থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হয়, ফলে রক্ততঞ্চন ব্যাহত হয়। |
| এই রোগে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সমান। | এই রোগে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হয়। |
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়া কী? থ্যালাসেমিয়া এবং হিমোফিলিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর “কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment