আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের অষ্টম অধ্যায় ‘ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টম শ্রেণির ভূগোল: ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক – প্রশ্ন ও উত্তর
‘ভারতীয় উপমহাদেশ’ (Indian Sub-Continent) বলতে কী বোঝো?
ভারত, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মায়ানমার প্রভৃতি দেশগুলি একত্রে ‘ভারতীয় উপমহাদেশ’ নামে পরিচিত, তার কারণগুলি হল –
- সামাজিক সাদৃশ্য – হিমালয় পর্বতের দক্ষিণে ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলিতে নানা ভাষা, নানা জাতি, ধর্ম, বর্ণ থাকলেও একে অপরের মধ্যে সামাজিক মেলবন্ধন অনেক গভীর।
- কেন্দ্রীয় অবস্থান – ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলির ঠিক মাঝখানে অবস্থান করছে। তা ছাড়া ভারতের আয়তন ও জনসংখ্যা অন্যান্যদের থেকে অনেক গুণ বেশি। প্রধানত এই বিশাল ক্ষেত্রটির কেন্দ্রস্থলে ভারত অবস্থান করছে।
- বৈচিত্র্যময় দেশ – একটি মহাদেশে যেমন ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদনদী, কৃষি, খনিজ, বনজ, জলজ, সর্বোপরি জনসংখ্যার বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়, ঠিক তেমনি ভারতেও বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, যা একটি মহাদেশের সমতুল্য। সেজন্য ভারতকে ‘একটি উপমহাদেশ’ (Sub-Continent) বা ‘পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ’ (An Epitome of the World) বলা হয়।
সার্ক (SAARC) কী?
সার্কের পুরো কথা – South Asian Association of Regional Co-operation বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিষদ।
সার্কের উদ্ভব – 1985 সালের 8 ডিসেম্বর এই পরিষদ গঠিত হয়।
সার্কের সদস্য – গঠনকালে সার্ক 7টি দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা 8টি। যথা – ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান।
সার্কের সদর দপ্তর – কাঠমাণ্ডু (নেপালের রাজধানী)।
সার্কের উদ্দেশ্য – সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হল –
- ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা,
- বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান,
- অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটানো,
- আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি,
- বাণিজ্যিক পণ্যদ্রব্য আদানপ্রদান,
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি,
- সাংস্কৃতিক ভাবের (নাটক, উপন্যাস, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান, খেলাধুলা, চলচ্চিত্র প্রভৃতি) বিনিময় ঘটানো।
ভুটানের ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতির কারণ লেখো।
ভুটানের ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প সমগ্র পৃথিবীব্যাপী খ্যাতি লাভ করেছে। ভুটানে ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতির কারণগুলি হল –
- অনুকূল জলবায়ু – উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থানের জন্য ভুটানে উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়, যা বিভিন্ন ফল উৎপাদনের জন্য অনুকূল এবং শীতল আবহাওয়ার জন্য ফলে সহজে পচন ধরে না যা ফল সংরক্ষণের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।
- ফল উৎপাদন – অনুকূল জলবায়ুর কারণে ভুটানে প্রচুর পরিমাণে ফল যেমন – আপেল, কমলালেবু, আনারস প্রভৃতি উৎপাদন হয়। ভুটানের পারো উপত্যকায় দেশের সর্বাধিক ফল উৎপাদিত হয়।
- কৃষিকাজের অভাব – বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, অনুর্বর মৃত্তিকার কারণে কৃষিযোগ্য জমির পরিমাণ কম। প্রায় 10 শতাংশেরও কম জমিতে কৃষিকার্য হয়। তাই এই শিল্পে মানুষের ঝোঁক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- অন্যান্য শিল্পের অভাব – বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, অনুন্নত প্রযুক্তি, লোকবলের অভাব প্রভৃতির কারণে অন্যান্য বৃহদায়তন শিল্প এখানে সেভাবে গড়ে ওঠেনি, যার ফলে প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- পরিকাঠামোগত উন্নয়ন – বিভিন্ন ফল ও ফলজাত দ্রব্য সতেজ রাখার জন্য হিমঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যেমন- ভুটানের ফুন্টশোলিং ও খামচি ফল সংরক্ষণ কেন্দ্র। যাতায়াত ব্যবস্থার ও সামগ্রিক পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটানো হয়েছে।
- বৈদেশিক চাহিদা বৃদ্ধি – বিদেশের বাজারে ভুটানে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলজাত দ্রব্য যেমন- জ্যাম, জেলি, পানীয় দ্রব্য প্রভৃতির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাপটা (SAPTA) ও সাফটা (SAFTA) কী?
সাপটা (SAPTA) – 1991 সালে ‘সার্ক’ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করা ও আমদানি-রপ্তানি শুল্ক সহজ-সরল এবং শিথিল করার জন্য সাপটা (SAPTA = South Asian Preferential Trade Agreement) নামক একটি সংগঠন গড়ে তুলেছে।
সাফটা (SAFTA) – 2004 সালের 6 জানুয়ারি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সার্ক অধিবেশনে SAFTA (South Asian Free Trade Area) চুক্তি গৃহীত হয় ও 2006 সালের 1 জানুয়ারি এটি কার্যকর হয়। এই চুক্তির দ্বারা সার্কের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ গড়ে তোলা হয়, যার দ্বারা প্রতিটি বাণিজ্য পণ্যের শুল্ক হ্রাস করা হয়। 2016-এর মধ্যে এই দেশগুলির মধ্যে বিনা শুল্কে পণ্যদ্রব্যের বাণিজ্যের ব্যবস্থা করা হবে।
পরিবেশের অবনমন (Environmental Degradation) ও পরিবেশ (Environmental Pollution) দূষণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
অথবা, উদাহরণ দিয়ে পরিবেশ দূষণ আর পরিবেশ অবনমনের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।
অথবা, পরিবেশ দূষণ আর পরিবেশের অবনমন কি এক?
পরিবেশের অবনমন ও পরিবেশ দূষণের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | পরিবেশের অবনমন (Environmental Degradation) | পরিবেশ দূষণ (Environmental Pollution) |
| ধারণা | পার্থিব পরিবেশের সামগ্রিক গুণমানের হ্রাস হল পরিবেশের অবনমন। | প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের কলুষিত হওয়াই হল পরিবেশ দূষণ। |
| প্রকৃতি | দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দূষিত পদার্থসমূহ পরিবেশের অবনমনকে ত্বরান্বিত করে। দূষণ পরিবেশ অবনমনের একটি কারণ মাত্র। | পরিবেশ দূষণ পরিবেশের অবনমন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। |
| আবশ্যিকতা | পরিবেশের অবনমন হলেই দূষণ হবে এমন নয়। যেমন— জীববৈচিত্র্য হ্রাস। | দূষণ হলে পরিবেশের অবনমন ঘটবেই। |
| উদাহরণ | দীর্ঘদিন ধরে মাটিতে প্লাস্টিক মেশার ফলে মাটির গুণমান হ্রাস পাওয়া, উর্বরতা নষ্ট হওয়া, মাটি ক্ষয় বৃদ্ধি পাওয়া পরিবেশ অবনমনের উদাহরণ। | মাটিতে প্লাস্টিক মিশলে মাটি দূষিত হয়, এটি দূষণের উদাহরণ। |
পরিবেশের অবনমন (Environmental Degradation) ও পরিবেশের বিপর্যয়ের (Environmental Disaster) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
পরিবেশের অবনমন ও পরিবেশের বিপর্যয়ের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | পরিবেশের অবনমন (Environmental Degradation) | পরিবেশের বিপর্যয় (Environmental Disaster) |
| ধারণা | পার্থিব পরিবেশের সামগ্রিক গুণমানের হ্রাস হল পরিবেশের অবনমন। | প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক কারণে যখন জীবকুলের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, তাকে পরিবেশের বিপর্যয় বলে। |
| ক্ষয়ক্ষতি | পরিবেশ ও মানুষের ধীরে ধীরে ক্ষতি করে। | বিপর্যয়ের ফলে মানুষ ও প্রকৃতির দ্রুত ক্ষতি সাধিত হয়। |
| আবশ্যিকতা | পরিবেশের অবনমন ঘটলেই বিপর্যয় হয় না। | বিপর্যয় পরিবেশের অবনমনকে ত্বরান্বিত করে। |
| উদাহরণ | জীববৈচিত্র্য হ্রাস, মরুভূমির প্রসার প্রভৃতি পরিবেশের অবনমনের উদাহরণ। | বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত পরিবেশের বিপর্যয়ের উদাহরণ। |
প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Environmental Hazard) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের (Environmental Disaster) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Environmental Hazard) | প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Environmental Disaster) |
| ধারণা | দুর্যোগ হল প্রাকৃতিক বা মানবিকভাবে সংঘটিত সেই ঘটনা যা পরিবেশের অবনমন ঘটায়। | দুর্যোগের প্রভাবে জীবকুলের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাকেই বিপর্যয় বলে। |
| কারণ ও ফল | দুর্যোগ হল বিপর্যয়ের কারণ। | বিপর্যয় হল দুর্যোগের ফল। |
| আবশ্যিকতা | দুর্যোগ হলেই বিপর্যয় হয় না। যেমন— সমুদ্রের মাঝে ঘূর্ণিঝড়। | বিপর্যয় হতে হলে তার পূর্বে দুর্যোগ হওয়া আবশ্যিক। |
| উদাহরণ | বন্যা, খরা প্রভৃতি। | বন্যা বা খরার ফলে জীবনহানি, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি প্রভৃতি। |
প্রাকৃতিক পরিবেশ (Natural Environment) ও অপ্রাকৃতিক পরিবেশের (Manmade Environment) মধ্যে প্রভেদ দেখাও।
প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অপ্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে প্রভেদ –
| বিষয় | প্রাকৃতিক পরিবেশ (Natural Environment) | অপ্রাকৃতিক পরিবেশ (Manmade Environment) |
| সংজ্ঞা | আমাদের চারপাশের প্রকৃতিই হল প্রাকৃতিক পরিবেশ। | পরিবেশের যে-সমস্ত উপাদান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মনুষ্যসৃষ্ট, তাকে অপ্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। |
| উপাদান | এর উপাদানগুলি হল — 1. ভৌগোলিক অবস্থান, 2. ভূপ্রকৃতি, 3. জলবায়ু, 4. মৃত্তিকা, 5. জীবজন্তু ইত্যাদি। | এর উপাদানগুলি হল— 1. জনবসতি, 2. শিক্ষা, 3. সংস্কৃতি, 4. অর্থনৈতিক পরিবেশ ইত্যাদি। |
| মানুষের ভূমিকা | এটি সৃষ্টিতে মানুষের ভূমিকা একেবারেই নেই। | এটি সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। |
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের অষ্টম অধ্যায় ‘ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক’ থেকে কিছু ‘সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment