এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব, “মহাভারতের সমস্ত চরিত্রের মধ্যে অপুর কর্ণের চরিত্র বড়ো ভালো লাগে কেন?” — এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মহাভারতের সমস্ত চরিত্রের মধ্যে অপুর কর্ণের চরিত্র বড়ো ভালো লাগে কেন?
মায়ের মুখে অপু কাশীদাসী মহাভারতের কাহিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনত। মহাভারতের যুদ্ধ এবং বীর নায়কদের সংগ্রাম অপুকে আকর্ষণ করত। তবে সকল চরিত্রের মধ্যে কর্ণকেই তার সবথেকে বেশি ভালো লাগত।
বিশেষত কর্ণের মৃত্যুর ছবিটি অপুকে বড়োই বেদনা দিত। যুদ্ধক্ষেত্রে কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে গেছে আর সেই সময়ে অর্জুন নিরস্ত্র কর্ণের উপরে বাণ নিক্ষেপ করে তাকে ঘায়েল করে ফেলছে, কর্ণের কোনো অনুরোধ অর্জুন শুনছে না। শেষপর্যন্ত অসহায়ভাবে কর্ণ মৃত্যুবরণ করছে—এই ঘটনা শিশু অপুর মনকে আর্দ্র করে তুলত। তার মনে হয় কর্ণ যেন এখনও সেই রথের চাকা তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অপুর মনে হয় অর্জুন বীর, সে মান পেল, রাজ্য পেল; কিন্তু কর্ণ বড়ো অসহায়, এত বড়ো বীর হয়েও সে মান পায়নি। তাই অব্যক্ত বেদনা সে বয়ে বেড়িয়েছে সর্বক্ষণ। কর্ণের প্রতি সহানুভূতিতে অপুর চোখে জল আসত। নিজের অজান্তেই সে কর্ণকে নিজের হৃদয়ে বীরের সিংহাসনে বসিয়েছে। এইসব কারণেই মহাভারতের অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে কর্ণের চরিত্র অপুর বড়ো ভালো লাগে।
আরও পড়ুন – কুঠির মাঠ দেখে বালকের কেমন অনুভূতি হয়েছিল লেখো।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “মহাভারতের সমস্ত চরিত্রের মধ্যে অপুর কর্ণের চরিত্র বড়ো ভালো লাগে কেন?” — নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment