এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু-জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্রসহ বর্ণনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু-জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্রসহ বর্ণনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – বায়ুর বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু-জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্রসহ বর্ণনা করো।
অথবা, বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে গড়ে ওঠা যে-কোনো তিনপ্রকার ভূমিরূপের বিবরণ দাও।
বায়ু-জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ –
মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম হলেও আবহবিকার, বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটে। নীচে ভূমিরূপগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করা হল –
ওয়াদি –
মরু অঞ্চলে বালুকারাশির মধ্যে হঠাৎ বন্যার জল তার প্রবাহপথে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না কিন্তু তার প্রবাহপথের চিহ্ন স্বরূপ শুষ্ক খাতটি পড়ে থাকে। এরূপ শুষ্ক খাতকে ওয়াদি বলে। ওয়াদি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘শুষ্ক উপত্যকা’। ওয়াদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশে ‘Wash, স্প্যানিশ ভাষায় ‘Arroyo, থর মরুতে নালা (Nallah) বলে।

পেডিমেন্ট –
‘Pedi’ শব্দটির অর্থ পাদদেশ এবং ‘Mont’ শব্দটির অর্থ পর্বত। সুতরাং, পেডিমেন্ট বলতে পর্বতের পাদদেশের সমতলভূমিকে বোঝায়। মরুভূমি মধ্যস্থিত পর্বতের পাদদেশে বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে এক প্রকার প্রায় সমতলভূমির সৃষ্টি হয়। এরূপ প্রায় সমতলভূমির ওপরের অংশ বেশ ঢালু হলেও তার নীচের অংশ মোটামুটি সমতল বলে এখানে ছোটো ছোটো জলধারা বাহিত শিলাচূর্ণ, নুড়ি, কাঁকর, বালি, কাদা ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে সমভূমি গঠন করে। এভাবে বায়ুর ক্ষয়কার্য এবং জলধারার সঞ্চয়কার্য যুগ্মভাবে মরুভূমির মধ্যস্থিত পার্বত্য অঞ্চলের পাদদেশে যে সমতলভূমি গঠন করে তাকে পেডিমেন্ট বলে।
উদাহরণ – আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে পেডিমেন্ট লক্ষ করা যায়।

বাজাদা –
বাজাদা একটি স্পেনীয় শব্দ। যার অর্থ পর্বতের পাদদেশীয় পলল সমভূমি। এটি পর্বত সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অবনত ভূমির চারদিকে পর্বতের পাদদেশে সৃষ্ট পলল শঙ্কু বা পলল পাখাগুলি ক্রমশ বিস্তার লাভ করতে করতে পরস্পর সংযুক্ত হয়ে উচ্চভূমি ও প্লায়া হ্রদের মাঝে যে মৃদু ঢালবিশিষ্ট ভূমি গঠন করে, তাকে বাজাদা বলে। বাজাদার উপাদান হল পলল, কাদা, নুড়ি, প্রস্তর খণ্ড প্রভৃতি। বাজাদার তলদেশে থাকে পেডিমেন্টের আবৃত অংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাজাদা সমগ্র পেডিমেন্টকে আবৃত করে ফেলে।
প্লায়া –
যখন মরু অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এরূপ একাধিক জলধারা কোনো পর্বতবেষ্টিত অবনত ভূমিতে এসে সঞ্চিত হয়, তখন সেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়। এরূপ হ্রদের জল স্বাভাবিক কারণেই লবণাক্ত হয়। মরু অঞ্চলের এইরূপ লবণাক্ত হ্রদকে সাধারণভাবে প্লায়া বলে। প্লায়াকে উত্তর আফ্রিকায় শট, ভারতের রাজস্থানে ধান্দ, যুক্তরাষ্ট্রে স্যালাইনা বা Salar বলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশে ও মেক্সিকোতে এইরূপ পর্বতবেষ্টিত অববাহিকা বোলসন নামে পরিচিত।
উদাহরণ – আরাবল্লি পর্বতে অবস্থিত সাঁভর (সম্ভর) হ্রদ একটি প্লায়া হ্রদ।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু-জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্রসহ বর্ণনা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু-জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্রসহ বর্ণনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – বায়ুর বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন