এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বর্ণান্ধতা কত প্রকার ও কী কী? তাদের সংজ্ঞা লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এর পাশাপাশি বর্ণান্ধতার কারণ এবং ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার নিয়েও বিস্তারিত জানব। এই প্রশ্নগুলো মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ণান্ধতার কারণ (Causes of Color Blindness)
আমাদের চোখের রেটিনায় থাকা কোন কোষ (Cone Cell) বিভিন্ন রং চিনতে সাহায্য করে। মানুষের X ক্রোমোজোমে থাকা নির্দিষ্ট জিনের মিউটেশনের (Mutation) ফলে রেটিনার এই কোন কোষগুলি সঠিকভাবে গঠিত হতে পারে না বা কার্যকরী রঞ্জক তৈরি করতে পারে না। যার ফলে মানুষের রং (বিশেষ করে লাল, সবুজ এবং নীল) চেনার ক্ষমতা লোপ পায় বা বর্ণান্ধতা দেখা দেয়।
বর্ণান্ধতা কত প্রকার ও কী কী? তাদের সংজ্ঞা লেখো
বর্ণান্ধতা (Color Blindness) প্রধানত তিন প্রকার, যথা –
- লাল বর্ণান্ধতা বা প্রোটানোপিয়া (Protanopia),
- সবুজ বর্ণান্ধতা বা ডিউটেরানোপিয়া (Deuteranopia),
- নীল বর্ণান্ধতা বা ট্রাইটানোপিয়া (Tritanopia)।
প্রোটানোপিয়া (লাল বর্ণান্ধতা)
মানুষের বর্ণান্ধতা রোগের ক্ষেত্রে X ক্রোমোজোমের বড়ো বাহুর প্রান্তীয় অঞ্চলে যে মিউট্যান্ট অ্যালিলের উপস্থিতির ফলে কার্যকরী স্বাভাবিক লাল সংবেদী রঞ্জক কোন কোষে তৈরি না হওয়ার ফলে ব্যক্তি লাল রং চিনতে অক্ষম হয়, সেই লাল বর্ণান্ধতাকে প্রোটানোপিয়া বলে এবং ওই ব্যক্তিকে বলা হয় প্রোটানোপ।
ডিউটেরানোপিয়া (সবুজ বর্ণান্ধতা)
বর্ণান্ধতার ক্ষেত্রে X ক্রোমোজোমের অপর লোকাসে অন্য একটি মিউট্যান্ট অ্যালিলের প্রভাবে রেটিনার কোন কোষে কার্যকরী স্বাভাবিক সবুজ সংবেদী রঞ্জক তৈরি না হওয়ার ফলে সবুজ বর্ণ চিনতে অক্ষমতার কারণে ব্যক্তিবিশেষে যে বর্ণান্ধতা দেখা যায়, তাকে ডিউটেরানোপিয়া বলে, আর ওই ব্যক্তিকে বলা হয় ডিউটেরানোপ।
ট্রাইটানোপিয়া (নীল বর্ণান্ধতা)
এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি নীল বর্ণ শনাক্ত করতে পারেন না। একে নীল বর্ণান্ধতা বা ট্রাইটানোপিয়া বলা হয়ে থাকে।
ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার (Criss-cross Inheritance) কী?
বর্ণান্ধতা হলো একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। যখন কোনো প্রচ্ছন্ন জিনগত বৈশিষ্ট্য (যেমন বর্ণান্ধতা) পিতা থেকে কন্যা সন্তানের (বাহক) মাধ্যমে নাতিতে (Grandson) অথবা মাতা থেকে পুত্র সন্তানের মাধ্যমে নাতনিতে (Granddaughter) সঞ্চারিত হয়, তখন সেই ধরনের বংশগত সঞ্চারণকে ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার বা Criss-cross Inheritance বলে।
জ্ঞাতব্য বিষয় – পুরুষদের ক্ষেত্রে একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকে (XY)। তাই সেই ক্রোমোজোমটি ত্রুটিযুক্ত হলেই পুরুষরা বর্ণান্ধ হয়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে দুটি X ক্রোমোজোম থাকে (XX)। তাই একটি ক্রোমোজোম ত্রুটিযুক্ত হলে তারা সরাসরি রোগে আক্রান্ত হয় না, বরং ওই রোগের বাহক (Carrier) হিসেবে কাজ করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন — “বর্ণান্ধতা কত প্রকার ও কী কী?”, এর কারণ এবং “ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার” — নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment