থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রকারভেদ (α ও β থ্যালাসেমিয়া) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Madhyamik Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ লেখো। α ও β থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ সম্পর্কে লেখো।” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর অন্তর্গত। মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ লেখো। α ও β থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ সম্পর্কে লেখো।

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ (Causes of Thalassemia)

থ্যালাসেমিয়া রোগটি মূলত অটোজোমে উপস্থিত প্রচ্ছন্ন মিউট্যান্ট জিনের প্রভাবে ঘটে। মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনে গ্লোবিন নামক একপ্রকার প্রোটিন থাকে, যা 2টি α (আলফা) পলিপেপটাইড এবং 2টি β (বিটা) পলিপেপটাইড শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত।

  • α (আলফা) থ্যালাসেমিয়ার কারণ – α পলিপেপটাইড তৈরির জন্য 16নং হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের প্রতিটিতে (ক্ষুদ্র বাহু বা p বাহুতে) 2টি করে জিন থাকে। এই জিনের ত্রুটির কারণে যখন α পলিপেপটাইড তৈরি হয় না বা খুব কম পরিমাণে তৈরি হয়, তখন তাকে α থ্যালাসেমিয়া বলে।
  • β (বিটা) থ্যালাসেমিয়ার কারণ – β পলিপেপটাইড তৈরির জন্য 11নং হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের প্রতিটিতে (ক্ষুদ্র বাহু বা p বাহুতে) একটি করে জিন উপস্থিত থাকে। β পলিপেপটাইড উৎপাদন কম হলে বা সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত থাকলে β থ্যালাসেমিয়া হয়।

থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ (Types of Thalassemia)

জিনগত ত্রুটির ওপর ভিত্তি করে থ্যালাসেমিয়াকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় –

  • α থ্যালাসেমিয়া মাইনর – α পলিপেপটাইড তৈরির 4টি জিনের মধ্যে 1টি বা 2টি জিনের অস্বাভাবিকতা থাকলে রোগীর দেহে স্বল্প পরিমাণ রোগলক্ষণ দেখা যায়, একে α থ্যালাসেমিয়া মাইনর (Alpha Thalassemia Minor) বলে।
  • α থ্যালাসেমিয়া মেজর বা হাইড্রপস ফিটালিস – দুই-এর অধিক জিনের অস্বাভাবিকতার কারণে তীব্র থ্যালাসেমিয়া দেখা যায়। একে α থ্যালাসেমিয়া মেজর বা হাইড্রপস ফিটালিস (Hydrops Fetalis) বলা হয়।
  • β থ্যালাসেমিয়া মাইনর – যখন β পলিপেপটাইড তৈরির একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হয়, তখন তাকে β থ্যালাসেমিয়া মাইনর (Beta Thalassemia Minor) বলে।
  • β থ্যালাসেমিয়া মেজর বা কুলির অ্যানিমিয়া – দুটি জিনই যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে, তবে তাকে β থ্যালাসেমিয়া মেজর বা কুলির অ্যানিমিয়া (Cooley’s Anemia) ঘটে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ এবং এর প্রকারভেদ সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। এই নোটটি আপনাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খুবই উপকারী হবে। আপনাদের পড়াশোনা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে আমাদের টেলিগ্রাম (Telegram) চ্যানেলে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

অসুস্থ ভ্রূণ তথা সন্তান যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলর দম্পতিকে সাধারণত কী কী পরামর্শ দেবেন?

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন দিকগুলি লেখো।

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ উল্লেখ করো।

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রকারভেদ (α ও β থ্যালাসেমিয়া) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

হিমোফিলিয়া রোগের কারণ এবং লক্ষণগুলি লেখো | Class 10 Life Science