এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—”মৃত্তিকাদূষণের কারণগুলি লেখো”—নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর ‘পরিবেশদূষণ’ অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Examination) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মৃত্তিকাদূষণের প্রধান কারণ (Causes of Soil Pollution)
মাটি বা মৃত্তিকা দূষিত হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। মৃত্তিকাদূষণের কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো –
- শিল্পজাত বর্জ্যবস্তুর নিক্ষেপ – মাটিতে শিল্পজাত বিভিন্ন বর্জ্যবস্তু ফেলা হয়। এগুলি হল – রাসায়নিক পদার্থ, ফ্লাই অ্যাশ, প্লাস্টিক, পেপার, রবার, চামড়া নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বস্তু, ধাতু এবং কাচ। এগুলি প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস হয় না। তাই এগুলি মাটিতে ক্রমশ জমতে থাকে এবং মাটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে তোলে।
- কৃষিজাত কার্য – কৃষিকাজে পেস্টনাশক, পতঙ্গনাশক, আগাছানাশক এবং রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহার মাটির গঠনকে যেমন ধ্বংস করে, তেমনই মাটির উপাদানের পরিবর্তন ঘটায়। এছাড়া, জলসেচের সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার না করা অথবা নিকাশি-ব্যবস্থার গণ্ডগোলের কারণে মাটিতে জমা জলের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে, যা মাটির গুণগত মান নষ্ট করে।
- কঠিন বর্জ্যের নিক্ষেপ – গৃহস্থালি, শিল্প, কৃষি এবং অন্যান্য কাজকর্মের ফলে যত্রতত্র কঠিন বর্জ্যবস্তু জমতে থাকে। এসব বস্তুর ভাঙনের জন্য দীর্ঘ সময় লাগে। অনেকসময় এগুলি একেবারেই ভাঙে না বা পচে না, ফলে প্রতিনিয়ত মৃত্তিকাদূষণ চলতে থাকে।
- অন্যান্য কারণ – দূষিত জলের চুঁইয়ে চুঁইয়ে মাটিতে প্রবেশ, ভূনিম্নস্থ সঞ্চয়ী ট্যাংক থেকে বর্জ্যবস্তুর নির্গমন, রাস্তা থেকে ধৌতকরণের মাধ্যমে তেল, ডিজেল, পেট্রোল ইত্যাদির নির্গমন, অম্লবৃষ্টি (Acid Rain), নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন এবং খনিজ পদার্থের অবৈজ্ঞানিক উত্তোলন ইত্যাদি কার্যাবলি মৃত্তিকাকে ক্রমশ দূষিত করে তোলে।
আরও পড়ুন – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান: জলদূষণের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায়ের অন্তর্গত “মৃত্তিকাদূষণের কারণ” সম্পর্কে সহজ ভাষায় আলোচনা করেছি। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য উপরের পয়েন্টগুলি খাতায় নোট করে রাখতে পারেন।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের ওপর আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে (Telegram) যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment