এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ছত্রাক, মস এবং ফার্নের বিভিন্ন প্রকার রেণু সম্পর্কে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ছত্রাক, মস এবং ফার্নের বিভিন্ন প্রকার রেণু সম্পর্কে আলোচনা করো।
ছত্রাক, মস এবং ফার্ন রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। এদের বিভিন্নপ্রকার রেণুগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল।
ছত্রাকের রেণু –
ছত্রাকে ফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল রেণু এবং ফ্ল্যাজেলাবিহীন অচলরেণু এই দু-প্রকার রেণুই দেখা যায়। Phytophthora (ফাইটোপথোরা) -তে সচলরেণু দেখা যায়। ছত্রাকের ক্ষেত্রে অচলরেণু বিভিন্ন প্রকার হয়। যেমন –
- স্পোরানজিয়োস্পোর – Rhizopus (রাইজোপাস) Mucor (মিউকর) প্রভৃতি ছত্রাকের রেণুস্থলীতে এই অচলরেণু সৃষ্টি হয়।
- কনিডিয়া – Penicillium (পেনিসিলিয়াম) -এর কনিডিয়োফোর থেকে এই অচলরেণু সৃষ্টি হয়।
- ওইডিয়া – Rhizopus (রাইজোপাস) নামক ছত্রাকের অণুসূত্র বিভাজিত হয়ে এই প্রকার অচলরেণু সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়াও Ascobolus (অ্যাসকোবোলাস) নামক ছত্রাকের অ্যাসকোস্পোর, Agaricus (অ্যাগারিকাস) নামক ছত্রাকে ব্যাসিডিয়োস্পোর নামক অচলরেণুর সৃষ্টি হয়।
ব্রায়োফাইটা বা মসের রেণু –
সকল ব্রায়োফাইটা সমরেণুপ্রসু। রেণুধর উদ্ভিদে ক্যাপসিউলের মধ্যে ডিপ্লয়েড রেণুমাতৃকোশের মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড রেণুর সৃষ্টি হয়। এই হ্যাপ্লয়েড রেণু অঙ্কুরিত হয়ে নতুন লিঙ্গধর উদ্ভিদের (n) সৃষ্টি করে। উদাহরণ – Riccia (রিকসিয়া), Pogonatum (পোগোনেটাম) Funaria (ফিউনারিয়া) প্রভৃতি।
টেরিডোফাইটা বা ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের রেণু –
টেরিডোফাইটার হ্যাপ্লয়েড (n) রেণুগুলি রেণুস্থলীতে উৎপন্ন হয় এবং এই রেণুস্থলীগুলি রেণুপত্রের সোরাসের মধ্যে আলগাভাবে অবস্থান করে। এই রেণু অঙ্কুরিত হয়ে সহবাসী বা ভিন্নবাসী লিঙ্গধর উদ্ভিদের (n) সৃষ্টি হয়। উদাহরণ – Marsilea (মারসিলিয়া), Lycopodium (লাইকোপোডিয়াম)।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ছত্রাকের রেণু প্রধানত কত প্রকার ও কি কি?
ছত্রাকের রেণু প্রধানত দুই প্রকার –
1. ফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল রেণু (যেমন – Phytophthora -তে) এবং
2. ফ্ল্যাজেলাবিহীন অচল রেণু। অচল রেণুর আবার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যেমন – স্পোরানজিয়োস্পোর (Rhizopus, Mucor), কনিডিয়া (Penicillium), ওইডিয়া (Rhizopus), অ্যাসকোস্পোর (Ascobolus), এবং ব্যাসিডিয়োস্পোর (Agaricus)।
ছত্রাকে অযৌন জনন ছাড়া অন্য কোন জনন পদ্ধতি দেখা যায় কি?
হ্যাঁ, অনেক ছত্রাকে যৌন জননও দেখা যায়, যার ফলে অ্যাসকোস্পোর, ব্যাসিডিয়োস্পোর ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। তবে রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে অযৌন জননই বেশি সাধারণ।
পেনিসিলিয়াম ও রাইজোপাসের রেণুর মধ্যে পার্থক্য কী?
পেনিসিলিয়াম ও রাইজোপাসের রেণুর মধ্যে পার্থক্য –
1. পেনিসিলিয়ামে বিশেষায়িত কনিডিওফোর নামক গঠন থেকে কনিডিয়া নামক অচল রেণু সৃষ্টি হয়।
2. রাইজোপাসে স্পোরানজিয়াম নামক থলিতে স্পোরানজিয়োস্পোর সৃষ্টি হয়। আবার এর অণুসূত্র বিভাজিত হয়ে ওইডিয়া নামক রেণুও সৃষ্টি করতে পারে।
মসে কি সবসময় একই প্রকারের রেণু (সমরেণু) উৎপন্ন হয়?
হ্যাঁ, সাধারণত সকল ব্রায়োফাইটাই সমরেণুপ্রসু। অর্থাৎ, এরা শুধু এক ধরনের রেণু উৎপন্ন করে যা অঙ্কুরিত হয়ে উভলিঙ্গ বা স্ত্রী/পুং উভয় ধরনের লিঙ্গধর উদ্ভিদ (Gametophyte) গঠন করতে পারে।
মসে রেণু কোথায় এবং কীভাবে সৃষ্টি হয়?
রেণু সৃষ্টি হয় রেণুধর উদ্ভিদের (Sporophyte) শীর্ষে অবস্থিত ক্যাপসিউল বা ফলকের মধ্যে। ক্যাপসিউলের ভিতরে ডিপ্লয়েড রেণুমাতৃকোশ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড রেণু তৈরি করে।
মসের জীবনচক্রে রেণুর ভূমিকা কী?
রেণু হল মসের বিস্তারের একক। এটি হ্যাপ্লয়েড (n) এবং অঙ্কুরিত হয়ে নতুন লিঙ্গধর উদ্ভিদ (Gametophyte) গঠন করে, যা যৌন জননের মাধ্যমে আবার রেণুধর উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
ফার্নে রেণু কোথায় থাকে?
ফার্নের রেণুগুলি রেণুপত্র (Sporophyll) এর নিচের পৃষ্ঠে বা কিনারায় সোরাস (Sorus) নামক গুচ্ছে অবস্থিত রেণুস্থলী (Sporangia) -এর ভিতরে তৈরি হয়।
ফার্নের রেণু অঙ্কুরিত হয়ে কি গঠন করে?
ফার্নের হ্যাপ্লয়েড রেণু অঙ্কুরিত হয়ে একটি সবুজ, হৃৎপিণ্ডাকার বা ফিতাকার স্বাধীন জীবন্ত গঠন তৈরি করে, যাকে লিঙ্গধর উদ্ভিদ বা প্রোথ্যালাস (Prothallus) বলে। এটি যৌন জনন সম্পন্ন করে।
ছত্রাক, মস ও ফার্নের রেণু উৎপাদনের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
ছত্রাক, মস ও ফার্নের রেণু উৎপাদনের মধ্যে মূল পার্থক্য –
1. ছত্রাক – রেণু উৎপন্ন হয় বিশেষায়িত অঙ্গে (স্পোরানজিয়া, কনিডিওফোর ইত্যাদি থেকে)। প্রধান উদ্দেশ্য অযৌন প্রজনন ও দ্রুত বিস্তার।
2. মস ও ফার্ন – এদের রেণু মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড রেণুমাতৃকোশ থেকে উৎপন্ন হয় এবং এরা একটি নিয়মিত জীবনচক্রের অংশ (স্পোরোফাইট → রেণু → গ্যামেটোফাইট → নিষেক → স্পোরোফাইট)।
3. মস – রেণু সৃষ্টি হয় ক্যাপসিউলে। রেণু থেকে সরাসরি লিঙ্গধর উদ্ভিদ গঠিত হয়।
4. ফার্ন – রেণু সৃষ্টি হয় সোরাসের রেণুস্থলীতে। রেণু প্রথমে একটি প্রোথ্যালাস (গ্যামেটোফাইট) গঠন করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ছত্রাক, মস এবং ফার্নের বিভিন্ন প্রকার রেণু সম্পর্কে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন