অষ্টম শ্রেণি বাংলা – একটি চড়ুই পাখি – বিষয়সংক্ষেপ

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘একটি চড়ুই পাখি’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এখানে কবির পরিচিতি, কবিতার উৎস, কবিতার পাঠপ্রসঙ্গ, কবিতার সারসংক্ষেপ, কবিতার নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং কবিতাটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এ ছাড়া, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি চড়ুই পাখি-কবি পরিচিতি-অষ্টম শ্রেণী-বাংলা

কবি পরিচিতি

বিশিষ্ট কবি ও রম্যরচনাকার তারাপদ রায় 1936 খ্রিস্টাব্দের 17 নভেম্বর অধুনা বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানকার বিন্দুবাসিনী ইংলিশ হাই স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে 1951 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় আসেন। সেন্ট্রাল কলকাতা কলেজ, আজ যেটি মৌলানা আজাদ কলেজ নামে পরিচিত, সেখানে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। এই সময় তিনি হাবড়ার একটি বিদ্যালয়ে পড়াতেন।

1960 খ্রিস্টাব্দে ‘তোমার প্রতিমা’ নামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও তিনি লিখেছেন ‘ছিলাম ভালোবাসার নীল পাতাতে স্বাধীন’, ‘কোথায় যাচ্ছেন তারাপদবাবু’, ‘নীলদিগন্তে এখন ম্যাজিক’, ‘পাতা ও পাখিদের আলোচনা’, ‘ভালোবাসার কবিতা’, ‘দারিদ্র্যরেখা’, ‘জলের মতো কবিতা’, ‘কবি ও পড়শিনী’ ইত্যাদি। 1995 খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘শিরোমণি’ ও ‘কথা’ পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলা শিশুসাহিত্যে পরিচিত ডোডো ও তাতাই তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি। 2007 খ্রিস্টাব্দের 25 আগস্ট এই বিখ্যাত কবির মৃত্যু হয়। কথ্যভঙ্গি ও পরিহাসমিশ্রিত কাব্যভাষায় তিনি স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেছিলেন।

বিষয়সংক্ষেপ

আধুনিকতাকে অনেকেই জীবনমুখিনতা বলে প্রকাশ করতে চান। জীবনের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে প্রকৃতি এবং ঈশ্বরসৃষ্ট প্রাণীকুল। অনেক সময় অতি সামান্য বিষয়ও আমাদের জীবনে অসামান্য হয়ে ওঠে। বাংলার চিরপরিচিত সাধারণ চড়ুই পাখি কবির মনের গভীরে রেখাপাত করে। তার চাঞ্চল্য, অস্থিরতা, বুদ্ধিমত্তা আর চাতুর্য কবিকে বিচলিত করে তোলে। ‘বাসা’ কথাটির মধ্যে কোথাও একটা নিরাপদ আশ্রয়ের কথা লুকিয়ে থাকে। ঝড় ও বাতাসে পাখির নীড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হয়তো সেই চিন্তা করেই চড়ুই ইট, কাঠ, পাথরের তৈরি শক্তপোক্ত অট্টালিকায় বাসা তৈরি করে, আবার ইচ্ছামতো এ-বাড়ি ও-বাড়ি উড়ে যায়।

কবি দেখেছেন চড়ুইয়ের বাসা প্রস্তুতির দক্ষতা। সারাদিন সে ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ায় আর সন্ধ্যাবেলা খড়কুটো ও ধান বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে। তার সঙ্গে আনন্দের সুরই ধ্বনিত হয়, যাকে কবি সংগীত বলেছেন। কখনো তার দৃষ্টিতে কবি দেখেন অসীম কৌতূহল। কবি বাইরে গেলেই হয়তো সে ভাবে, এই ঘরের সবকিছুই তার; টেবিলের ফুলদানি, বইখাতা—সবকিছুই একদিন বিধাতার কৃপায় তার হয়ে যাবে।

কল্পনাপ্রবণ কবি আবার কখনো চড়ুইয়ের দৃষ্টিতে তাচ্ছিল্যের ভাবটিও লক্ষ করেছেন। কার্নিশে এসে হয়তো সে ভাবে, মায়ার টানেই এই ভাঙাচোরা ঘরে সে আছে। কোনো এক সময় ওপাড়ার পালেদের বা বোসেদের বাড়িতেও সে আশ্রয় নিতে পারে। তবু কোনো এক অজানা বন্ধনে কবির সঙ্গে সে আবদ্ধ হয়ে গেছে। কবির মনে হয়, তাঁর একাকিত্ব নিরসনের জন্য চড়ুই পাখিটি নির্জন রাত্রে তাঁর একমাত্র সঙ্গী হয়ে রয়ে গেছে।

নামকরণ

মানবজীবনের সহজ সত্যটি কবি একটি চড়ুই পাখির মধ্যে তুলে ধরতে চেয়েছেন। আমাদের প্রত্যেকেরই আত্মীয়স্বজনে পূর্ণ গৃহটির প্রতি অদম্য আকর্ষণ আছে। দিনান্তে বিশ্রাম গ্রহণের জন্য আমরা এই আনন্দঘন স্থানটিতে পারিবারিক মিলনের জন্য ফিরে আসি। প্রাণীকুলের মধ্যেও এই সহজাত ভাবনার প্রকাশ ঘটে। ‘গৃহ’ অর্থ নিরাপদ আশ্রয়, কিন্তু নির্জন গৃহ মানুষকে গভীর একাকিত্বের মধ্যে ঠেলে দেয়। এই কবিতায় কবির জীবনের একাকিত্ব দূর করতে এই চড়ুই পাখিটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে; তাই তার থাকা বা সমাধা—দুটি বিষয়ই কবিকে ভাবিয়ে তুলেছে।

বহু মানুষের সঙ্গে এই চড়ুই পাখিটির অদ্ভুত সাদৃশ্য আছে। কবি বলেছেন, ইচ্ছামতো সে এই বন্ধন ছিন্ন করে ভাঙা ঘর ছেড়ে পালেদের বা বোসেদের গৃহে আশ্রয় নিতে পারে—এমনই তার মনোভাব। মানুষের ক্ষেত্রেও আজকাল পুরোনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি খুব একটা সম্ভ্রম নেই। আধুনিকতার স্রোতে ভাসতে ভাসতে সেও এক সম্পন্ন জীবনের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে, যার পরিসমাপ্তি অনেক সময় দুঃখজনক হয়ে ওঠে। জীবন আর একটা জীবনের হাত ধরেই সম্পূর্ণ হয়। একাকিত্ব বড়ো বেদনাদায়ক। কবির জীবনে শূন্য ঘরে নির্জন রাতে এই চিরপরিচিত চড়ুই পাখি পূর্ণতা এনেছে। গল্পের বা কবিতার নামকরণ সাধারণত বিষয়, চরিত্র বা গূঢ়ার্থের ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে একটি চড়ুই পাখির চাঞ্চল্য এবং তার সারাদিনের কর্মকাণ্ড নির্জন রাতে একাকী কবিকে আশ্বস্ত করে। সেই চিন্তাধারা থেকে বলা যায়, কবিতাটির নামকরণ যথার্থ হয়েছে।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘একটি চড়ুই পাখি’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এ ছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

'নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।' — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।

‘নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।’ — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।

'কাহাকে সে কী করিয়া বুঝাইবে সে কী আনন্দ!' - 'সে' কে? কখন তার এমন অনুভূতি হত?

‘কাহাকে সে কী করিয়া বুঝাইবে সে কী আনন্দ!’—’সে’ কে? কখন তার এমন অনুভূতি হত?

'বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।'—কোন্ বইয়ের কথা বলা হয়েছে? অপু কীরকম হতে চায়?

‘বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।’—কোন্ বইয়ের কথা বলা হয়েছে? অপু কীরকম হতে চায়?

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

‘নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।’ — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।

‘কাহাকে সে কী করিয়া বুঝাইবে সে কী আনন্দ!’—’সে’ কে? কখন তার এমন অনুভূতি হত?

‘বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।’—কোন্ বইয়ের কথা বলা হয়েছে? অপু কীরকম হতে চায়?

‘ব্যাপারটা কী দেখিতে সকলে ছুটিয়া গেলেন।’—কারা ব্যাপার দেখতে ছুটে এসেছিল? তারা কী ব্যাপার দেখতে পেল?

‘এই তো বেশ ছিল তাহারা,’ – এরূপ মনোভাবটি কার? তার মনে কোন্ অবস্থায় এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল?