অষ্টম শ্রেণি বাংলা – হাওয়ার গান – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘হাওয়ার গান’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

হাওয়ার গান - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

হাওয়াদের কী নেই? হাওয়ারা কোথায় কীভাবে তার খোঁজ করে?

কবি বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, হাওয়াদের কোনো বাড়ি নেই। হাওয়া তার খোঁজে সারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবীর সব জল ও তীর ছুঁয়ে, পাহাড়, বন্দর, নগর, অরণ্য-প্রান্তর ছুঁয়ে, পার্কের উপর দিয়ে, ঘুম ঘুম ঘরের পাশ দিয়ে, সমুদ্রের ঢেউয়ের মাথায় মাথায়, সমুদ্রে চলা জাহাজের ডেকের উপর দিয়ে হাওয়া অবিরাম ঘুরে বেড়ায়।

‘চিরকাল উত্তাল তাই রে’—কে চিরকাল উত্তাল? কেন সে চিরকাল উত্তাল হয়ে রইল?

হাওয়া চিরকাল উত্তাল। কবি বলেছেন, হাওয়াদের কোনো বাড়ি নেই। তাই তারা চিরকাল বাইরে কেঁদে মরে। পৃথিবীর সব জায়গাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে হাওয়া উত্তাল হয়। বয়ে যায় হয়তো সেই ঘরের খোঁজে, যে ঘর তার কোথাও নেই। নাকি কোনো অচেনা-অদেখা প্রিয়জন, যার খোঁজে সে উত্তাল ও অস্থির হয়ে ছুটে বেড়ায়, অথচ তাকে সে কোথাও পায় না। পৃথিবীর সব জল, তীর, পাহাড়, বন্দর, নগর, অরণ্য-প্রান্তর ছুঁয়ে সে বৃথাই বয়ে যায়। ঝরাপাতা-ঢাকা পার্কের বেঞ্চিকে, পাঁজর-বেরোনো দেয়ালের গায়ের শার্সিকে, চিমনির শব্দ ও কাননের কান্নাকে সে প্রশ্ন করে। ঘুমন্ত ঘরের পাশ দিয়ে, সমুদ্রে ভেসে চলা জাহাজের উপর দিয়ে সে বয়ে চলে। কোথাও তাকে পায় না। হাওয়ার কোনো বিশ্রাম নেই। অন্তহীন সময় ধরে সারা বিশ্ব জুড়ে চলে তার এই অফুরান সন্ধান। তাই সে চিরকাল উত্তাল হয়ে থাকে।

কবিতাটির নাম ‘হাওয়ার গান’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী যুক্তি কবির মনে এসেছিল বলে তোমার মনে হয়?

বুদ্ধদেব বসু রচিত ‘হাওয়ার গান’ কবিতার প্রথম কয়েকটি চরণে কবি জানিয়েছেন যে, হাওয়াদের কোনো বাড়ি নেই, তাই তারা বাইরে বাইরে কেঁদে মরে। সারা দিনরাত্রি ধরে বুকচাপা কান্না কেঁদে ও নিশ্বাস ফেলে তারা যেন কাকে খুঁজে ফেরে। এরপর পুরো কবিতাটিই লেখা হয়েছে হাওয়াদের জবানিতে। তারা যেন নিজেরাই জানাচ্ছে যে, কীভাবে তারা সারা পৃথিবী জুড়ে জলে, তীরে, পাহাড়ে, বন্দরে, নগরে, অরণ্যে, প্রান্তরে তাকে খুঁজে খুঁজে বৃথাই ঘুরেছে। ঝরাপাতায় ভরা পার্কের বেঞ্চি, কেঁপে ওঠা শার্সি, চিমনির শব্দ ও কাননের কান্নার কাছে শুধু তার কথাই শুধিয়েছে। দোলনায় ঘুমোনো মিষ্টি শিশু, মেঝের কার্পেটে তন্দ্রাচ্ছন্ন কুকুর আর মৃদু মোমের আলো নিয়ে স্বপ্নময় যে ঘর, সেখানেও হাওয়া তাকে খুঁজে পায় না। অন্ধকার সমুদ্রে ভেসে চলা জাহাজের যাত্রীরা যখন আমোদ-প্রমোদে মত্ত, তখন হাওয়া ঢেউকে ধাক্কা দিয়ে জানতে চায়, সে কোথায়? অবশেষে সব থেমে গিয়ে ডেক নির্জন হয়, চাঁদ অস্তগামী হয়, শুধু সমুদ্রের গর্জন শোনা যায়। তবু হাওয়াদের বিশ্রাম নেই। তারা সমস্ত বিশ্ব জুড়ে অনন্তকাল ধরে তাদের সেই অফুরান সন্ধানে উত্তাল হয়ে যেন সুর তোলে—সে কোথায়? সে কোথাও নেই। এইসব যুক্তিকে মাথায় রেখেই সম্ভবত কবি এই কবিতার নাম দিয়েছিলেন ‘হাওয়ার গান’।

‘হাওয়ার গান’ কবিতাটির বিষয়বস্তু আলোচনা করো।

হাওয়ারা যেন চিরকাল গৃহহীন। কাকে যেন খুঁজে খুঁজে তারা সারা পৃথিবী জুড়ে কেঁদে ফেরে। সাগর, পাহাড়, বন্দর, নগর, অরণ্য-প্রান্তর জুড়ে তারা বৃথাই ঘুরে মরে। যাকে খোঁজে, সে যেন কোথাও নেই। পার্কের বেঞ্চিতে ঝরে-পড়া পাতা, কাচের জানলায় কেঁপে ওঠা শার্সি, চিমনির শব্দের কাছে তারা এই প্রশ্ন করে চলে। ঘরের মধ্যে দোলনায় ঘুমিয়ে থাকা শিশু, কার্পেটের উপর তন্দ্রাচ্ছন্ন কুকুর, মৃদু মোমের আলো জ্বলা স্বপ্নময় ঘর সবই আছে। শুধু যাকে তারা খোঁজে, সে যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। অন্ধকার রাতে সমুদ্রের বুকে ভেসে চলা জাহাজের মাস্তুলে যখন আলো জ্বলে, যাত্রীরা নানা আনন্দে মেতে থাকে, হাওয়ারা তখন ঢেউয়ের বুকে আঘাত করে নিজেদের প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। কিন্তু সেখানেও যাকে খোঁজে তাকে পায় না। একসময় রাত গভীর হলে জাহাজের সব কোলাহল থেমে যায়, শুধু অন্ধকারে সমুদ্রের দোলা আর গর্জন চলে, চাঁদও অস্তগামী হয়। কিন্তু হাওয়াদের কোনো বিশ্রাম নেই। তাদের বাড়ি নেই, দেশ নেই, আছে শুধু অবিরাম ছুটে চলা। অন্তহীন সময় ধরে চলেছে তাদের এই সন্ধান। সারা বিশ্ব জুড়ে যেন বেজে চলেছে তাদের সেই করুণ গান—নেই, সে কোথাও নেই। তাই তারা চিরকাল উত্তাল হয়ে ফেরে। আসলে কবি তথা মননশীল মানুষের জীবনও যেন এমনই কোনো প্রাণের মানুষের খোঁজে অবিরাম ছুটে চলা। তাই তারও সত্যকার বাড়ি বা আত্মার আশ্রয় কোথাও নেই। তাকেই পাওয়ার জন্য মানুষের চিরকাল খুঁজে ফেরা। সে হয়তো আছে, হয়তো কোথাও নেই!

‘হাওয়ার গান’ কবিতাটির নামকরণ আলোচনা করো।

নামকরণ সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নামকরণের মধ্য দিয়ে পাঠক বিন্দুতে সিন্ধু দর্শনের মতো সাহিত্য-বিষয়টি পাঠ করার আগেই সাহিত্য-বিষয়টি সম্পর্কে খানিক ধারণা লাভ করতে পারেন। সাহিত্যে নামকরণ নানা উপায়ে হতে পারে। যথা—চরিত্রকেন্দ্রিক, ঘটনাকেন্দ্রিক, ব্যঞ্জনাধর্মী ইত্যাদি। কবিতার শিরোনাম তার বক্তব্য অথবা ভাববস্তুর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। কখনও সমুদ্রে, কখনও পথে, কখনও পার্কে বয়ে চলা হাওয়ার শব্দে কবি যেন তাদের গৃহহীনতার বেদনা, না-পাওয়া কোনো কাঙ্ক্ষিতের সন্ধানে অবিরাম ছুটে চলাকে অনুভব করেছেন। হাওয়ার শব্দে যেন বাজে সেই বেদনার করুণ সুর। তাই ‘হাওয়ার গান’ নামকরণটি অত্যন্ত সার্থক ও সুপ্রযুক্ত হয়েছে।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘হাওয়ার গান’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্যাকরণ বিভাগ - সমাস - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা - ব্যাকরণ বিভাগ - ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

ব্যাকরণ বিভাগ - বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয় - অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – সমাস

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – বাক্যের ভাব ও রূপান্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ব্যাকরণ বিভাগ – ধ্বনি পরিবর্তন