এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘হাওয়ার গান’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এখানে কবির পরিচিতি, কবিতার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, সারসংক্ষেপ, নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘হাওয়ার গান’ কবিতা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং কবিতাটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কবি পরিচিতি
বুদ্ধদেব বসুর জন্ম 1908 খ্রিস্টাব্দের 30 নভেম্বর এবং মৃত্যু 18 মার্চ, 1974 খ্রিস্টাব্দে। তাঁর বাবার নাম ভূপেন্দ্রচন্দ্র বসু। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও সম্পাদক। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। ‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন তিনি। ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটকের জন্য তিনি ‘আকাদেমি পুরস্কার’ পান। তিনি ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতেও সম্মানিত হন।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি-
- কাব্যগ্রন্থ – ‘বন্দীর বন্দনা’, ‘দ্রৌপদীর শাড়ি’, ‘দময়ন্তী’, ‘কঙ্কাবতী’, ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’, ‘শীতের প্রার্থনা’, ‘বসন্তের উত্তর’, ‘যে আঁধার আলোর অধিক’ প্রভৃতি।
- উপন্যাস ও নাটক – ‘তিথিডোর’, ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’, ‘সাড়া’, ‘রাতভোর বৃষ্টি’, ‘কলকাতার ইলেকট্রা’ প্রভৃতি।
- প্রবন্ধগ্রন্থ – ‘সাহিত্যচর্চা’, ‘নিঃসঙ্গতা’, ‘রবীন্দ্রনাথ-স্বদেশ ও সংস্কৃতি’, ‘An Acre of Green Grass’ প্রভৃতি।
পাঠপ্রসঙ্গ
কবিতা পাঠের সময় মনে রাখা দরকার যে, উৎকৃষ্ট কবিতায় বাচ্যার্থটুকুই সব নয়, তার আড়ালে অন্য কোনো গভীর ব্যঞ্জনা লুকিয়ে থাকে। এই কবিতাতেও হাওয়ার হাহাকারের মাধ্যমে কবির তথা মানুষের হৃদয়ের গভীর বেদনাই মূর্ত হয়েছে।
বিষয়সংক্ষেপ
হাওয়ারা যেন চিরকাল গৃহহীন। কাকে যেন খুঁজে খুঁজে তারা সারা পৃথিবী জুড়ে কেঁদে ফেরে। সাগর, পাহাড়, বন্দর, নগর, অরণ্যপ্রান্তর জুড়ে তারা বৃথাই ঘুরে মরে। যাকে খোঁজে, সে যেন কোথাও নেই।
পার্কের বেঞ্চিতে ঝরে পড়া পাতা, কাচের জানলায় কেঁপে ওঠা শার্সি, চিমনির শব্দের কাছে তারা এই প্রশ্ন করে চলে। ঘরের মধ্যে দোলনায় ঘুমিয়ে থাকা শিশু, কার্পেটের উপর তন্দ্রাচ্ছন্ন কুকুর, মৃদু মোমের আলো জ্বলা স্বপ্নময় ঘর— সবই আছে। শুধু যাকে তারা খোঁজে, সে যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। অন্ধকার রাতে সমুদ্রের বুকে ভেসে চলা জাহাজের মাস্তুলে যখন আলো জ্বলে, যাত্রীরা নানা আনন্দে মেতে থাকে, হাওয়ারা তখন ঢেউয়ের বুকে আঘাত করে নিজেদের প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। কিন্তু সেখানেও যাকে খোঁজে তাকে পায় না। একসময় রাত গভীর হলে জাহাজের সব কোলাহল থেমে যায়, শুধু অন্ধকারে সমুদ্রের দোলা আর গর্জন চলে, চাঁদও অস্তগামী হয়। কিন্তু হাওয়াদের কোনো বিশ্রাম নেই। তাদের বাড়ি নেই, দেশ নেই, আছে শুধু অবিরাম ছুটে চলা। অন্তহীন সময় ধরে চলেছে তাদের এই সন্ধান। সারা বিশ্ব জুড়ে যেন বেজে চলেছে তাদের সেই করুণ গান— নেই, সে কোথাও নেই। তাই তারা চিরকাল উত্তাল হয়ে ফেরে।
আসলে কবি তথা মননশীল মানুষের জীবনও যেন এমনই কোনো প্রাণের মানুষের খোঁজে অবিরাম ছুটে চলা। তাই তারও সত্যিকারের বাড়ি বা আত্মার আশ্রয় কোথাও নেই। তাকেই পাওয়ার জন্য মানুষের চিরকাল খুঁজে ফেরা। সে হয়তো আছে, হয়তো কোথাও নেই!
নামকরণ
নামকরণ সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নামকরণের মধ্য দিয়ে পাঠক বিন্দুতে সিন্ধু দর্শনের মতো সাহিত্য-বিষয়টি পাঠ করার আগেই সাহিত্য-বিষয়টি সম্পর্কে খানিক ধারণা লাভ করতে পারেন। সাহিত্যে নামকরণ নানা উপায়ে হতে পারে। যথা— চরিত্রকেন্দ্রিক, ঘটনাকেন্দ্রিক, ব্যঞ্জনাধর্মী ইত্যাদি।
কবিতার শিরোনাম তার বক্তব্য অথবা ভাববস্তুর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। কখনও সমুদ্রে, কখনও পথে, কখনও পার্কে বয়ে চলা হাওয়ার শব্দে কবি যেন তাদের গৃহহীনতার বেদনা, কোনো না-পাওয়া বঞ্চিতের সন্ধানে অবিরাম ছুটে চলাকে অনুভব করেছেন। হাওয়ার শব্দে যেন বাজে সেই বেদনার করুণ সুর। তাই ‘হাওয়ার গান’ নামকরণটি সুপ্রযুক্তই হয়েছে।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘হাওয়ার গান’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





Leave a Comment