এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘সুভা’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘সে নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন।’ – সুভা সম্পর্কে এ রকম উপমা লেখক ব্যবহার করেছেন কেন?
দ্বিপ্রহর অর্থাৎ দুপুরবেলা গ্রামবাংলার পথঘাট নির্জন থাকে, কোনো কোলাহল থাকে না। সুভা যেহেতু বাক্যহীনা বা বোবা ছিল, তাই কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তা ছাড়া, ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরাও তাকে ভয় পেত, তার সঙ্গে খেলা করত না। তাই সুভার নির্বাক, বন্ধুহীন অবস্থাকে লেখক এই উপমা দিয়ে প্রকাশ করেছেন।
চণ্ডীপুর গ্রামের বর্ণনা দাও।
বাংলাদেশের এক ছোট্ট নদীর ধারে চণ্ডীপুর গ্রাম। নদীর কলতান, পাখির ডাক, মাঝির গান, গাছের মর্মরধ্বনি এবং ঝিল্লির রবে পূর্ণ একটি ছোটো গ্রাম চণ্ডীপুর।
সুভার সঙ্গে সর্বশী ও পাঙ্গুলির সম্পর্ক কীরকম ছিল?
সর্বশী ও পাঙ্গুলি দুটি গাই। সুভাদের গোয়ালে থাকা এই গাই দুটি সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল। তার পায়ের আওয়াজ তারা চিনত। সুভার কথাহীন যে করুণ সুর, তার মর্ম তারা বুঝত। সুভার আদর, ভর্ৎসনা, মিনতি তারা মানুষের চেয়ে ভালো বুঝতে পারত।
“এইজন্য প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝিত” – প্রতাপের কাছে সুভা কীভাবে মর্যাদা পেত, তা গল্প অবলম্বনে লেখো।
মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। তাই প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত। সে সুভাকে ‘সু’ বলে ডাকত। প্রতাপের জন্য একটা করে পান বরাদ্দ ছিল, সুভা নিজে তা সেজে এনে দিত।
‘তাহাদের জাতি ও পরকাল রক্ষা হইল’ – কাদের সম্পর্কে এ কথা লেখক বলেছেন? তাঁর এরূপ মন্তব্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।
সুভার বাবা-মা সম্পর্কে প্রশ্নে প্রদত্ত কথাটি বলা হয়েছে। বোবা মেয়েটির বিবাহের বয়স উপস্থিত হলে কন্যাভারগ্রস্ত বাবা-মা চিন্তিত হয়ে উঠেছিলেন। সমাজে সবাই নিন্দা শুরু করেছিলেন, এমনকি তাদের একঘরে করার প্রস্তাবও উঠেছিল। তাই মেয়েটির বিয়ে দিয়ে তারা তাদের জাতি ও পরকাল রক্ষা করেছেন বলে লেখক কটাক্ষ করেছেন।
‘মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’ – এ কথা কেন বলা হয়েছে?
প্রশ্নে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘সুভা’ নামক গল্পটি থেকে। মাছ ধরা ক্রিয়াটি মোটেই সহজসাধ্য নয়। গভীর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ নিস্তব্ধ অপেক্ষার পর বড়শিতে মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সে-ক্ষেত্রে অপরের কথা মাছশিকারির মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই বাক্যহীন সঙ্গীই সেই পরিস্থিতিতে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ কারণেই লেখক এ কথা বলেছেন।
‘এবার তাহার স্বামী চক্ষু এবং কর্ণেন্দ্রিয়ের দ্বারা পরীক্ষা করিয়া এক ভাষাবিশিষ্ট কন্যা বিবাহ করিয়া আনিল।’ – এরকম আচরণের কারণ কী?
সুভার স্বামী সুভাকে বিয়ে করার আগে দেখতে আসার সময় কেবল রূপই দেখেছিল, নিজের কানে তার কণ্ঠস্বর শোনেনি। বিয়ের সপ্তাহখানেকের মধ্যে তারা বুঝতে পারে যে, নববধূ বোবা এবং বোবা মেয়ের এ সমাজে স্থান নেই। তাই তার বর পুনরায় বিয়ে করল। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সে চোখ ও কানের দ্বারা পরীক্ষা করে এক ভাষাবিশিষ্ট মেয়েকে ঘরে আনল।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘সুভা’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment