আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায় ‘পৃথিবীর অন্দরমহল’ এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভূত্বক (Crust) কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
অথবা, ভূকম্পীয়বিদ্যা অনুসারে ভূগর্ভের শ্রেণিবিভাগ করে যে-কোনো একটি ভাগের বিবরণ দাও।
ভূত্বকের সংজ্ঞা – সবার ওপরে অবস্থিত হালকা ও কঠিন পদার্থে গঠিত যে স্তরটি পৃথিবীকে শক্ত আবরণে মুড়ে রেখেছে, তাকে ভূত্বক বা ক্রাস্ট বলে। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত স্তরগুলিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা – কেন্দ্রমণ্ডল (Core), গুরুমণ্ডল (Mantle), শিলামণ্ডল (Lithosphere)। ভূগর্ভের এই বিভিন্ন স্তরগুলির প্রকৃতি, উষ্ণতা, ঘনত্ব ও চাপ ভূকম্প তরঙ্গের গতিবেগের পার্থক্যের মাধ্যমে বোঝা যায়।
ভূত্বকের বৈশিষ্ট্য –
- গভীরতা – মহাদেশের নীচে গড়ে 60 কিমি এবং মহাসাগরের নীচে গড়ে 5 কিমি গভীরতা পর্যন্ত ভূত্বক বিস্তৃত। এর গড় গভীরতা প্রায় 30 কিমি।
- উপাদান – ভূত্বকের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে অক্সিজেন (O₂)। এ ছাড়া সিলিকন (Si), ম্যাগনেশিয়াম (Mg), অ্যালুমিনিয়াম (Al) প্রভৃতি উপাদানে ভূত্বক গঠিত।
- উষ্ণতা বা তাপমাত্রা – পৃথিবী তাপ বিকিরণ করে গ্যাসীয় অবস্থা থেকে ক্রমশ শীতল হয়ে তরল হয়। তরল অবস্থা থেকে ক্রমশ শীতল হয়ে পৃথিবীর উপরিভাগের এই কঠিন আবরণটি সৃষ্টি হয়। ভূ-অভ্যন্তরের তিনটি স্তরের মধ্যে এই স্তরটির উষ্ণতা সবচেয়ে কম। ভূত্বকের গড় তাপমাত্রা 15°C।
- ঘনত্ব – ভূত্বক সবচেয়ে হালকা। এর ঘনত্ব 2.2-2.9 গ্রাম/ঘনসেমি।
- শিলা – ভূত্বক আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত এই তিন প্রকার শিলা দিয়ে গঠিত। এই শিলা নানা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। ভূত্বকের একেবারে ওপরে আছে মাটি।
- উপস্তর – ভূত্বকের দুটি অংশ। যথা –
- সিয়াল – সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত ওপরের অপেক্ষাকৃত হালকা স্তরটি হল সিয়াল (Si + Al = Sial) বা মহাদেশীয় ভূত্বক। এটি গ্রানাইট জাতীয় শিলায় গঠিত এবং মহাসাগরের নীচে অনুপস্থিত।
- সিমা – সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত অপেক্ষাকৃত ভারী স্তরটি হল সিমা (Si + Ma = Sima) বা মহাসাগরীয় ভূত্বক। এটি ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় গঠিত এবং সিয়ালের নীচে অবস্থিত।
- বিযুক্তিরেখা – ভূত্বকের সিয়াল ও সিমার মাঝে রয়েছে কনরাড বিযুক্তিরেখা এবং ভূত্বককে গুরুমণ্ডল থেকে পৃথক করেছে মোহোরোভিসিক বিযুক্তিরেখা।

গুরুমণ্ডলের (Mantle) সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
গুরুমণ্ডলের সংজ্ঞা – ভূত্বকের নীচ থেকে পৃথিবীর অভ্যন্তরে কেন্দ্রমণ্ডলের ঊর্ধ্বভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় একই ঘনত্বযুক্ত স্তরকে গুরুমণ্ডল বা ম্যান্টেল বলে।
গুরুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য –
- গভীরতা – ভূত্বকের নীচ থেকে প্রায় 2,900 কিমি গভীরতা পর্যন্ত গুরুমণ্ডল বিস্তৃত।
- উপাদান – এই স্তরের প্রধান উপাদান লোহা (Fe), নিকেল (Ni), ক্রোমিয়াম (Cr), ম্যাগনেশিয়াম (Mg) ও সিলিকন (Si)।
- উষ্ণতা – এই স্তরের উষ্ণতা 2000°C-3000°C।
- ঘনত্ব – এখানে পদার্থের ঘনত্ব 3.4-5.6 গ্রাম/ঘনসেমি।
- উপস্তর – গুরুমণ্ডলের দুটি স্তর। যথা –
- বহিঃগুরুমণ্ডল – গুরুমণ্ডলের 30-700 কিমি পর্যন্ত অংশে ক্রোমিয়াম (Cr), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) প্রাধান্য দেখা যায় বলে একে ক্রোফেসিমা (Crofesima) বলে।
- অন্তঃগুরুমণ্ডল – 700-2,900 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত অংশে নিকেল (Ni), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) আধিক্যের জন্য একে নিফেসিমা (Nifesima) বলে।
- বিযুক্তিরেখা – গুরুমণ্ডল মোহোরোভিসিক বিযুক্তিরেখা দ্বারা ভূত্বক থেকে এবং গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা দ্বারা কেন্দ্রমণ্ডল থেকে বিচ্ছিন্ন। আর বহিঃগুরুমণ্ডল ও অন্তঃগুরুমণ্ডলের মাঝে রয়েছে রেপিত্তি বিযুক্তিরেখা।
কেন্দ্রমণ্ডল (Core) কাকে বলে? কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য লেখো।
কেন্দ্রমণ্ডলের সংজ্ঞা – গুরুমণ্ডলের নীচে এবং পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে বেষ্টনকারী সর্বাধিক ঘনত্বযুক্ত স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বা কোর বলে।
কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য –
- গভীরতা – গুরুমণ্ডলের নীচে 2,900 কিমি থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র 6,370 কিমি গভীরতা পর্যন্ত কেন্দ্রমণ্ডল বিস্তৃত। অর্থাৎ, এই স্তরটি প্রায় 3,470 কিমি পুরু।
- উপাদান – এই স্তর অত্যন্ত ভারী নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe) দিয়ে গঠিত বলে একে নিফে (Nife) বলে।
- উষ্ণতা – এই স্তরের গড় উষ্ণতা প্রায় 5000°C।
- ঘনত্ব – এই স্তরের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। গড় ঘনত্ব প্রায় 9.1-13.1 গ্রাম/ঘনসেমি।
- উপস্তর – বিজ্ঞানীরা কেন্দ্রমণ্ডলকে দুটি অংশে ভাগ করেছেন।
- বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল – 2,900-5,100 কিমি গভীরতায় রয়েছে বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল। এর চাপ, তাপ ও ঘনত্ব অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের তুলনায় কম হওয়ায় এখানে পদার্থ অর্ধকঠিন অবস্থায় আছে।
- অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল – পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে বেষ্টন করে রয়েছে অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল। এর গভীরতা 5,100-6,370 কিমি। এই স্তরের চাপ, তাপ ও ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। অত্যধিক চাপে পদার্থগুলি এখানে কঠিন অবস্থায় আছে।
- বিযুক্তিরেখা – গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা দ্বারা কেন্দ্রমণ্ডল গুরুমণ্ডল থেকে আলাদা হয়েছে। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে রয়েছে লেহম্যান বিযুক্তিরেখা।
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করা যায়?
ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবিধি লক্ষ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ভূমিকম্প তরঙ্গ তিন প্রকার – P, S ও L তরঙ্গ। এর মধ্যে প্রাথমিক বা P তরঙ্গ ও গৌণ বা S তরঙ্গের গতিবিধি দ্বারা ভূ-অভ্যন্তরের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন –
‘P’ তরঙ্গ থেকে প্রাপ্ত ভূ-অভ্যন্তর সংক্রান্ত ধারণা – ‘P’ তরঙ্গ কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে এবং পদার্থের ঘনত্ব যত বৃদ্ধি পায় ‘P’ তরঙ্গের গতি ততই বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর যত অভ্যন্তরে যাওয়া যায় ততই ‘P’ তরঙ্গের গতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর থেকে বোঝা যায় ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে পদার্থের ঘনত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।

‘S’ তরঙ্গ থেকে প্রাপ্ত ভূ-অভ্যন্তর সংক্রান্ত ধারণা – ‘S’ তরঙ্গ কেবল কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়, তরল বা অর্ধতরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে হারিয়ে যায়। ভূ-অভ্যন্তরে ‘S’ তরঙ্গের একটা নির্দিষ্ট স্তরে হারিয়ে যাওয়া এটা প্রমাণ করে যে পৃথিবীর অভ্যন্তরের কোনো কোনো অংশ তরল অবস্থায় আছে।
এইভাবে ‘P’ ও ‘S’ তরঙ্গের গতিবেগের তারতম্য, প্রতিসরণ, তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি প্রভৃতির সাহায্যে ভূ-অভ্যন্তরের গঠন সম্পর্কে বহু তথ্য জানা গেছে।
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের বিভিন্ন বিযুক্তিরেখার পরিচয় দাও।
ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যেখানে যেখানে ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তিত হয় সেই স্থানকে ভূতত্ত্ববিদরা বলেন বিযুক্তিরেখা (Discontinuity line)। পৃথিবীর অভ্যন্তরে এরূপ 5টি বিযুক্তিরেখার অবস্থান জানা গেছে। এগুলি হল –
- কনরাড বিযুক্তিরেখা (Conrad Discontinuity Line) – ভূত্বকের মহাদেশীয় অংশ সিয়াল ও মহাসাগরীয় অংশ সিমার মাঝের বিযুক্তিরেখাকে কনরাড বিযুক্তিরেখা বলে। অস্ট্রিয়ার ভূবিজ্ঞানী কনরাড এই বিযুক্তিরেখা আবিষ্কার করেন। ভূ-অভ্যন্তরে গড়ে 10-12 কিমি নীচে এটি অবস্থিত।
- মোহোরোভিসিক বিযুক্তিরেখা (Mohorovičić Discontinuity Line) – ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে অবস্থিত বিযুক্তিরেখাকে মোহোরোভিসিক বা মোহো বিযুক্তিরেখা বলে। বিজ্ঞানী মোহোরোভিসিক এটি আবিষ্কার করেন বলে এরূপ নামকরণ। ভূ-অভ্যন্তরে গড়ে 30 কিমি নীচে এই বিযুক্তিরেখা অবস্থিত।
- রেপিত্তি বিযুক্তিরেখা (Repetti Discontinuity Line) – ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল এবং নিম্ন গুরুমণ্ডলের মাঝে অবস্থিত বিযুক্তিরেখাকে রেপিত্তি বিযুক্তিরেখা বলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 700 কিমি গভীরতায় এটি অবস্থিত।
- গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা (Gutenberg Discontinuity Line) – ভূ-অভ্যন্তরে গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে অবস্থিত বিযুক্তিরেখাকে গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা বলে। 1912 সালে ভূবিজ্ঞানী গুটেনবার্গ এটি আবিষ্কার করেন। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 2,900 কিমি গভীরে এই বিযুক্তিরেখা অবস্থিত। একে উইচার্ট-গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখাও বলা হয়।
- লেহম্যান বিযুক্তিরেখা (Lehmann Discontinuity Line) – কেন্দ্রমণ্ডলের বাইরের স্তর বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল এবং ভিতরের স্তর অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে অবস্থিত বিযুক্তিরেখাকে লেহম্যান বিযুক্তিরেখা বলে। এটি প্রায় 5,100 কিমি গভীরে অবস্থিত। বিজ্ঞানী লেহম্যান এর আবিষ্কারক।

শিলামণ্ডলের (Lithosphere) সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
শিলামণ্ডলের সংজ্ঞা – গ্রিক শব্দ ‘Lithos’ অর্থ ‘শিলা’ ও ‘Sphere’ অর্থ মণ্ডল। গুরুমণ্ডলের ঊর্ধ্বে অবস্থিত মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় ভূত্বকের সমষ্টিকে শিলামণ্ডল বা অশ্মমণ্ডল বলে।
শিলামণ্ডলের শ্রেণিবিভাগ –
- ক্ষুব্ধমণ্ডল (Asthenosphere) – বহিঃগুরুমণ্ডলের ওপরে প্রায় 100 কিমি বিস্তৃত নমনীয় ও আপাত-স্থিতিস্থাপক অথচ অশান্ত স্তরটি হল ক্ষুব্ধমণ্ডল (Asthenosphere)।
- ভূত্বক (Earth’s Crust) – অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপরে গড়ে প্রায় 30 কিমি পুরু, কঠিন, হালকা ও পাতলা স্তরটি হল ভূত্বক। ভূত্বককে পুনরায় দুটি উপবিভাগে ভাগ করা যায়। যথা – সিয়াল বা মহাদেশীয় ভূত্বক এবং সিমা বা মহাসাগরীয় ভূত্বক।
শিলামণ্ডলের বৈশিষ্ট্য –
- ক্ষেত্রমান ও ভর – পৃথিবীর মোট ক্ষেত্রমানের 1% এবং মোট ভরের 0.04% হল শিলামণ্ডল।
- গভীরতা – শিলামণ্ডল মহাসাগরের তলদেশে 5 কিমি এবং মহাদেশের নীচে প্রায় 50-60 কিমি গভীর। এর গড় গভীরতা প্রায় 30 কিমি।
- পরিমাণ – শিলামণ্ডলের 7/10 ভাগ মহাদেশীয় অংশ এবং 3/10 ভাগ মহাসাগরীয় অংশ।
- গঠন – শিলামণ্ডল আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলায় গঠিত।
- খনিজ উপাদানসমূহ – স্তরটি সিলিকন (Si), অ্যালুমিনিয়াম (Al), ম্যাগনেশিয়াম (Mg) সহ অন্যান্য বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত।
- জৈব পদার্থ – উল্লিখিত খনিজ উপাদানগুলি ছাড়াও কিছু জৈব পদার্থ এবং পলির সমন্বয়ে এই স্তরটি গঠিত হয়।
- ঘনত্ব – গভীরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিলার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এখানকার উপাদানগুলির গড় ঘনত্ব 2.6 – 3.3 গ্রাম/ঘনসেমি।
- মানবজীবনের ওপর প্রভাব – শিলামণ্ডলকে কেন্দ্র করেই কৃষিকার্য, শিল্পস্থাপন, বসতি নির্মাণ প্রভৃতি কার্যাবলি সম্পন্ন হয়। তাই মানবজীবনের ওপর শিলামণ্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম।
কেন আমরা পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারি না?
অথবা, পৃথিবীর ভিতরটা কেমন তা জানা সম্ভব হয়নি কেন?
অথবা, কেন আমরা পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে সরাসরি কোনো তথ্য পাই না?
পৃথিবীর ভিতরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে বেশি দূর প্রবেশ করা অসম্ভব। তবে ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবিধি ও আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ম্যাগমা পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন পৃথিবীর তিনটি স্তর রয়েছে। সবার ওপরের কঠিন শক্ত আবরণ হল ভূত্বক এবং এর পরবর্তী স্তরে রয়েছে গুরুমণ্ডল এবং সর্বশেষ স্তরটি হল কেন্দ্রমণ্ডল। পৃথিবীর ভিতরটা কেমন তা জানা সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণগুলি হল নিম্নরূপ –
- পৃথিবীপৃষ্ঠটি শীতলতার সংস্পর্শে এসে কঠিন হলেও পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের উপাদানগুলি অধিক তাপ ও চাপের কারণে তরল অবস্থায় আছে।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে গর্ত খুঁড়ে পৌঁছাতে গেলে 6,370 কিমি গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে, যা এক প্রকার অসম্ভব।
- পৃথিবীর ভূত্বক থেকে যত গভীরে অর্থাৎ, কেন্দ্রের দিকে যাওয়া যায়, ততই অক্সিজেন (O₂)-এর অভাব লক্ষ করা যায়।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে নীচের দিকে প্রথমে 100 কিমি পর্যন্ত 12°C/কিমি এবং তারপর 300 কিমি পর্যন্ত 2°C/কিমি হারে এবং তারও নীচে 1°C/কিমি হারে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- পৃথিবীর উপরিভাগের তুলনায় কেন্দ্রের দিকে চাপ অনেক বেশি হয়।
গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল প্রায় একইরকম পুরু। কিন্তু পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় গুরুমণ্ডল কেন 84 শতাংশ দখল করে আছে?
এখন ছোটো বৃত্তকে কেন্দ্রমণ্ডল ও বড়ো বৃত্তকে গুরুমণ্ডল ধরে বিচার করলে সহজেই বোঝা যায়, গুরুমণ্ডল কেন পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় 84% এবং মোট ভরের 68% অধিকার করে আছে, আর কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর মোট আয়তনের 16% এবং মোট ভরের 32% অধিকার করে আছে। তবে কেন্দ্রমণ্ডলে পদার্থের ঘনত্ব (9.1-13.6 গ্রাম/ঘনসেমি), গুরুমণ্ডলের ঘনত্বের (3.3-5.6 গ্রাম/ঘনসেমি) প্রায় দ্বিগুণ।

কেন্দ্রমণ্ডলের পদার্থসমূহ (লোহা, নিকেল, পারদ) পরস্পর ঘনসন্নিবিষ্ট অবস্থায় উচ্চ ঘনত্ব ও কম আয়তনযুক্ত অবস্থায় থাকে, কিন্তু গুরুমণ্ডলের হালকা পদার্থসমূহ (ক্রোমিয়াম, পেরিডোটাইট, সিলিকন, ম্যাগনেশিয়াম) পরস্পর কম সন্নিবিষ্ট অবস্থায়, কম ঘনত্ব ও বেশি আয়তনযুক্ত অবস্থায় থাকে।
অ্যাসথেনোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলা হয় কেন?
অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের উপাদানসমূহ প্রচণ্ড তাপ, চাপ, রাসায়নিক বিক্রিয়া বা আণবিক বিদারণের ফলে তরল হয়ে ম্যাগমার সৃষ্টি করে। ম্যাগমার মধ্যস্থিত গ্যাস ও জলীয় বাষ্পের চাপের তারতম্যের জন্য এই স্তরে পরিচলন স্রোতের (Convectional Current) সৃষ্টি হয়। এই পরিচলন স্রোতের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে কোথাও সংকোচন ও কোথাও প্রসারণ হয়, ফলে ভূপৃষ্ঠে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
ওই ফাটলপথ দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা চেম্বার থেকে লাভা বেরিয়ে আসে। অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ম্যাগমা গতিশীল হওয়ার ফলে ভূমিকম্প, মহীসঞ্চরণ, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয় পর্বত, মহাসাগর প্রভৃতি সৃষ্টি হয়, আবার কোথাও ভূমির ব্যাপক রূপান্তর ঘটে। সেজন্য স্তরটির অপর নাম ক্ষুব্ধমণ্ডল।
কেন্দ্রমণ্ডলের অপর নাম নিফে বলা হয় কেন?
ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ভূ-অভ্যন্তরকে তিনটি প্রধান স্তরে ভাগ করেছেন। যথা –
- শিলামণ্ডল (Lithosphere),
- গুরুমণ্ডল (Mantle),
- কেন্দ্রমণ্ডল (Core)।
গুরুমণ্ডলের নীচে এবং পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে বেষ্টনকারী সর্বাধিক ঘনত্বযুক্ত স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বা কোর বলে। কেন্দ্রমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরে 2,900 কিমি থেকে 6,370 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে সমস্ত পদার্থ প্রচণ্ড উত্তপ্ত অবস্থায় আছে। পৃথিবীর আবর্তন গতি ও মাধ্যাকর্ষণের টানে ভারী পদার্থগুলি যেমন – নিকেল (Ni), লো
আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায় ‘পৃথিবীর অন্দরমহল’ এর ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment