অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায়: পৃথিবীর অন্দরমহল – গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায় ‘পৃথিবীর অন্দরমহল’-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির (Class 8) ভূগোল পরীক্ষার (WBBSE) জন্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপ

পৃথিবীর যে শক্ত পিঠটার ওপর আমরা আছি তার নীচে কী আছে?

আমাদের পৃথিবীর উপরিভাগ (ভূত্বক) হালকা কঠিন উপাদানে আবৃত, যার গড় গভীরতা প্রায় 30 কিমি। ঠিক তার নিচ থেকে ভূকেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত থাকা পদার্থগুলো অত্যন্ত উত্তপ্ত। তবে এর প্রতিটি পদার্থই গলিত তরল অবস্থায় নেই; বরং কিছু অংশ গলিত তরল (যেমন – বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল) এবং একেবারে কেন্দ্রের অংশটি প্রচণ্ড চাপের কারণে কঠিন অবস্থায় (অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল) আছে। উল্লেখ্য, পদার্থসমূহের ওজন ও ঘনত্ব ভূকেন্দ্রের দিকে ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ম্যাগমা কী?

ভূগর্ভের পদার্থ প্রচণ্ড চাপ ও তাপে গ্যাস ও বাষ্পমিশ্রিত হয়ে উত্তপ্ত গলিত অবস্থায় থাকলে তাকে ম্যাগমা বলে। ম্যাগমা যেখানে সঞ্চিত থাকে তাকে ম্যাগমা চেম্বার বা ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ বলে।

তাপীয় বিকিরণ কাকে বলে?

পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যত গভীরে যাওয়া যায় ততই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি 33 মিটার গভীরতায় উষ্ণতা 1°C হারে বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ এখনও উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে বলে গভীরতার সাথে তাপমাত্রা বাড়ে। এ ছাড়াও ভূগর্ভের অনেক তেজস্ক্রিয় পদার্থ অনবরত তাপ বিকিরণ করে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে। এইভাবে দেখা যায় পৃথিবীর কেন্দ্রে তাপমাত্রা বেড়ে 5000°C-এর অধিক হয়ে যায়।

লাভা (Lava) কী?

ভূ-আন্দোলনের প্রভাবে সৃষ্ট ভূত্বকের কোনো ফাটল বা চ্যুতির মাধ্যমে কিংবা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে গলিত অর্ধতরল ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের ওপরে এসে পৌঁছায়, তখন তার ভেতর থেকে গ্যাস ও বাষ্প পৃথক হয়ে যায়। এই তরল পদার্থকে লাভা বলা হয়।

লাভা

ভারতের কোথায় কোথায় ভূ-তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে?

ভারতে ভূ-তাপশক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা বিরাট। ইতিমধ্যে হিমাচল প্রদেশের মণিকরণে ভূ-তাপশক্তির মাধ্যমে 5 কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরের চুমাথাং, পশ্চিমবঙ্গের বক্রেশ্বর, গুজরাটের কাম্বে, উত্তরাখণ্ডের তপোবন, মহারাষ্ট্রের জলগাঁও প্রভৃতি স্থানে ভূ-তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে।

ভূকম্পীয় তরঙ্গ কাকে বলে?

ভূবিজ্ঞানী জন মিশেল 1755 খ্রিস্টাব্দে 1 নভেম্বর লিসবনে সংঘটিত ভূমিকম্পে প্রথম লক্ষ করেন ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে কম্পন তরঙ্গ আকারে ভূপৃষ্ঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এই তরঙ্গকেই তিনি ভূমিকম্প তরঙ্গ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানত তিন ধরনের ভূকম্পীয় তরঙ্গের উল্লেখ করা যেতে পারে, যথা – প্রাথমিক বা ‘P’ তরঙ্গ, গৌণ বা ‘S’ তরঙ্গ এবং পৃষ্ঠ বা ‘L’ তরঙ্গ। এই তরঙ্গগুলি চোখে দেখা যায় না।

‘Low Velocity Zone বা নিম্ন ভূকম্পীয় বেগ অঞ্চল কী?

অ্যান্ডারসন, জেফ্রিজ, ই. সি. বুলার্ড, বি. এ. বোলট প্রমুখ ভূ-বিজ্ঞানীরা ভূ-অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্তরে P ও S তরঙ্গের গতিবেগের তারতম্যের কথা উল্লেখ করেন। ভূত্বক থেকে 100 – 200 কিমি গভীরতায় P ও S উভয় তরঙ্গের গতিবেগই খুব কমে যায় (7.8 কিমি / সেকেন্ড)। ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড চাপ, তাপ ও তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিদারণের জন্য এই স্তরে শিলা গলনাঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছোয় এবং সান্দ্র অবস্থায় থাকে। তাই একে নিম্ন ভূকম্পীয় বেগ অঞ্চল বলে।

অ্যাসথেনোস্ফিয়ার কী?

অ্যাসথেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere) কথাটি এসেছে গ্রিক ‘অ্যাসথেনে’ (asthenia) মানে ‘দুর্বল’ আর ‘স্ফিয়ার’ (sphere) মানে ‘মণ্ডল’ শব্দ দুটি থেকে, যার অর্থ দুর্বল মণ্ডল। অ্যাসথেনোস্ফিয়ার হল ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের অন্তর্গত এক সান্দ্র, দুর্বল ও নমনীয় প্রকৃতির পরিবর্তনশীল স্তরবিশেষ।

পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা যদি 15°C হয় তাহলে অঙ্কের হিসেবে রবিনসন ডিপের সোনার খনির শ্রমিকদের কত গরম সহ্য করতে হয়?

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গেছে প্রতি 33 মিটার গভীরতায় প্রায় 1°C করে পৃথিবীর অভ্যন্তরে তাপমাত্রা বাড়ে। রবিনসন ডিপ ভূপৃষ্ঠ থেকে 3-4 কিমি গভীরতায় অবস্থিত।

পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা যদি 15°C হয় তবে রবিনসন ডিপের গভীরে তাপমাত্রা হবে 75°C থেকে 106°C-এর মতো।

পৃথিবীর গভীরতম খনি (রবিনসন ডিপ)

বিযুক্তিরেখা কাকে বলে?

ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যেখানে যেখানে ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তিত হয় সেই স্থানকে ভূতত্ত্ববিদরা বিযুক্তিরেখা (Discontinuity Line) বলেছেন।

ক্রোফেসিমা কী?

গুরুমণ্ডলের 30-700 কিমি পর্যন্ত অংশে ক্রোমিয়াম (Cr), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) প্রাধান্য দেখা যায় বলে একে ক্রোফেসিমা (CROFESIMA) বলে।

সিয়াল ও সিমা কাকে বলে?

সিয়াল – সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত ওপরের অপেক্ষাকৃত হালকা স্তরটি হল সিয়াল (Si + Al = Sial) বা মহাদেশীয় ভূত্বক। এটি গ্রানাইট জাতীয় শিলায় গঠিত এবং মহাসাগরের নীচে অনুপস্থিত।

সিমা – সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেশিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত অপেক্ষাকৃত ভারী স্তরটি হল সিমা (Si + Ma = Sima) বা মহাসাগরীয় ভূত্বক। এটি ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় গঠিত এবং সিয়ালের নীচে অবস্থিত।

পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরীণ গঠনের সঙ্গে তুলনীয় এমন দুটি জিনিসের নাম লেখো।

পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরীণ গঠনের সঙ্গে তুলনীয় এমন দুটি জিনিসের নাম হলো:

  • আপেল – খোসা = ভূত্বক, শাঁস = গুরুমণ্ডল, বীজ অংশ = কেন্দ্রমণ্ডল।
  • ডিম – সাদা শক্ত খোলা = ভূত্বক, জেলির মতো অংশ = গুরুমণ্ডল, কুসুম = কেন্দ্রমণ্ডল।

পৃথিবীর চৌম্বকত্ব কোথা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে?

বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের চাপ, তাপ ও ঘনত্ব অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের তুলনায় কম। এই স্তর অর্ধকঠিন অবস্থায় পৃথিবীর অক্ষের চারদিকে আবর্তন করে চলেছে। সান্দ্র অবস্থায় থাকা লোহা প্রচণ্ড গতিতে ঘুরতে ঘুরতে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করছে, সেখান থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে পৃথিবীর চৌম্বকত্ব।

ঘনত্ব (Density) কী?

একটি নির্দিষ্ট ও একক আয়তনের পদার্থের কতটা ভর বা ওজন আছে তার পরিমাপকেই পদার্থের ঘনত্ব বলে। অর্থাৎ প্রতি ঘনএকক জায়গায় (বা একক আয়তনে) পদার্থের ভর বা ওজন কতটা সেটাই পদার্থের ঘনত্ব। যখন কোনো পদার্থের অণু এবং পরমাণুগুলি বিক্ষিপ্ত হয়, সেই পদার্থের ঘনত্ব কম হয়; যেমন – একটি কাঠের টুকরো। আবার কোনো পদার্থের অণু ও পরমাণুগুলি সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকলে তার ঘনত্ব বেশি হয়।


আমরা আমাদের আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায় ‘পৃথিবীর অন্দরমহল’-এর ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার জন্য বা চাকরির পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নগুলি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষায় প্রায় দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে।

আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা হলে, আপনারা আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাছাড়া নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

অস্থিত পৃথিবী - পাতসংস্থান তত্ত্ব - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় (অস্থিত পৃথিবী) – পাতসংস্থান তত্ত্ব অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

পৃথিবীর অন্দরমহল-অষ্টম শ্রেণী ভূগোল-রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল: পৃথিবীর অন্দরমহল (প্রথম অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

পৃথিবীর অন্দরমহল - অষ্টম শ্রেণী ভূগোল - পার্থক্যধর্মী প্রশ্নোত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায়: পৃথিবীর অন্দরমহল – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় (অস্থিত পৃথিবী) – পাতসংস্থান তত্ত্ব অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল: পৃথিবীর অন্দরমহল (প্রথম অধ্যায়) – গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায়: পৃথিবীর অন্দরমহল – গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায়: পৃথিবীর অন্দরমহল – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায়: ‘পৃথিবীর অন্দরমহল’ – গুরুত্বপূর্ণ টীকা