আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায়, “আঞ্চলিক শক্তির উত্থান”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

অন্ধকূপ হত্যা কী?
1756 খ্রিস্টাব্দে 20 জুন সিরাজ-উদ-দৌলা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করেন, তখন তিনি 146 জন ইংরেজ সৈন্যকে একটি ছোট ঘরে আটক করে রাখেন। এতে 123 জন সৈন্য মারা যায়। এই ঘটনা ইতিহাসে ‘অন্ধকূপ হত্যা’ নামে পরিচিত।
কবে, কাদের মধ্যে আলিনগরের সন্ধি হয়?
1757 খ্রিস্টাব্দের 9 ফেব্রুয়ারি বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ইংরেজ কোম্পানির মধ্যে আলিনগরের সন্ধি হয়।
আলিনগরের সন্ধির শর্ত কী ছিল? বা এই সন্ধির তাৎপর্য কী?
আলিনগরের সন্ধির শর্ত ছিল— 1. ইংরেজরা বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার পায়, 2. ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সংস্কার করার নির্দেশ পায়, 3. কোম্পানি তার নিজ মুদ্রা তৈরি করতে পারবে ইত্যাদি।
পলাশির লুণ্ঠন কী?
পলাশির যুদ্ধের পর ক্লাইভ সহ বিভিন্ন কোম্পানি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে এবং কোম্পানিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলা থেকে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে নিয়ে যায়। এই সম্পদ লুণ্ঠনের ঘটনাকে ঐতিহাসিক ব্রুকস অ্যাডামস ‘পলাশির লুণ্ঠন’ বলে অভিহিত করেছেন।
কবে, কাদের মধ্যে বক্সারের যুদ্ধ হয়?
1764 খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে বাংলার নবাব মীরকাশিম, অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা ও মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে ব্রিটিশ কোম্পানির যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধকে বক্সারের যুদ্ধ বলা হয়।
1760 খ্রিস্টাব্দের বাংলার ওলট-পালটকে কেন ‘1760-এর বিপ্লব’ বলা হয়?
1760 খ্রিস্টাব্দে বাংলার ওলট-পালট হয়। বাংলার নবাব মীরজাফরকে সরিয়ে মীরকাশিমকে নবাব পদে বসানো হয়। এই শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনকে বা এই ঘটনাকে ‘1760-এর বিপ্লব’ বলা হয়।
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কী?
ব্রিটিশ কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি ভারত বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারতের দেশীয় রাজ্যগুলির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নীতি বা রাজনৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ করেন, তা ইতিহাসে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি নামে পরিচিত।
ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ বলতে কী বোঝায়?
1767 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1799 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ কোম্পানি ও মহীশূরের মধ্যে চারটি যুদ্ধ হয়েছিল। এদেরকে একসঙ্গে ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ বলা হয়।
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির শর্তগুলি কী ছিল?
লর্ড ওয়েলেসলি প্রবর্তিত অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মূল শর্তগুলি হলো— ভারতের কোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা কোম্পানির অনুমতি ছাড়া অপর রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধ বা আপোষ করতে পারবে না। তাছাড়া তিনি নিজ রাজ্যে এক ব্রিটিশ রেসিডেন্ট রাখতে বাধ্য থাকবেন এবং কোম্পানির সৈন্যের ব্যয়ভার বহন করবেন।
সলবাইয়ের সন্ধি কেন স্বাক্ষরিত হয়?
1782 খ্রিস্টাব্দে পেশোয়া পদ নিয়ে মারাঠাদের মধ্যে বিবাদ বাধে। এই সুযোগে ইংরেজরা রঘুনাথ রাওয়ের পক্ষ নেয়। ফলে ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ হয় এবং শেষে 1782 খ্রিস্টাব্দে সলবাইয়ের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
সলবাইয়ের সন্ধির শর্তগুলি কী ছিল?
সলবাইয়ের সন্ধির শর্ত অনুযায়ী —
1. ইংরেজরা মাধব রাও নারায়ণকে পেশোয়া বলে মেনে নেয়,
2. রঘুনাথ রাওকে বাৎসরিক 3 লক্ষ টাকা বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়,
3. ইংরেজরা সালসেট ও ব্রোচ রেখে বাকি স্থান মারাঠাদের ফেরত দেয়।
কবে, কাদের মধ্যে বেসিনের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?
1802 খ্রিস্টাব্দে পেশোয়া দ্বিতীয় বাজি রাও এবং ইংরেজ কোম্পানির মধ্যে বেসিনের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
বেসিনের সন্ধির শর্তগুলি উল্লেখ করো।
বেসিনের সন্ধির শর্ত অনুযায়ী—
1. পেশোয়া অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি মেনে নেন।
2. কোম্পানি পেশোয়াকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়।
3. পেশোয়া অন্য কোনো শক্তির সাথে সম্পর্ক রাখবে না।
বেসিনের সন্ধির গুরুত্ব বা ফলাফল কী ছিল?
বেসিনের সন্ধির গুরুত্ব হলো—এই সন্ধির ফলে পেশোয়া কোম্পানির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যান এবং মারাঠা স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। তাছাড়া এর ফলে ভারতে ইংরেজ আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
কোন গভর্নর জেনারেলের আমলে এবং কোন আইনের দ্বারা তিনি গভর্নর জেনারেল হন?
বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং অ্যাক্ট (Regulating Act) অনুসারে গভর্নর জেনারেল হন।
1757 ও 1764 খ্রিস্টাব্দের গুরুত্ব কী?
1. 1757 খ্রিস্টাব্দের 23 জুন পলাশির যুদ্ধ হয়।
2. 1764 খ্রিস্টাব্দের 22 অক্টোবর বক্সারের যুদ্ধ হয়। এই দুই যুদ্ধের ফলে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
কবে, কাদের মধ্যে এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?
1765 খ্রিস্টাব্দে 12 আগস্ট মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও ইংরেজ কোম্পানির লর্ড ক্লাইভ-এর মধ্যে এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধির গুরুত্ব কী?
এই সন্ধি দ্বারা ইংরেজ কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি অনুযায়ী কোম্পানি মোগল সম্রাটকে বার্ষিক 26 লক্ষ টাকা দিতে সম্মত হয়।
কোম্পানির দস্তক বা দস্তক কী?
1717 খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জন সুরম্যান মোগল সম্রাট ফারুকশিয়রের কাছ থেকে বার্ষিক 3000 টাকার বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার যে ফরমান বা ছাড়পত্র পায়, তাকে দস্তক বলে।
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব লেখো।
1761 খ্রিস্টাব্দে মারাঠা ও আহমদ শাহ আবদালির মধ্যে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ ছিল মারাঠাদের ‘চূড়ান্ত বিপর্যয়’। গুরুত্ব —
1. এই যুদ্ধে মারাঠা শক্তির পতন হয় বা বড়ো ক্ষতি হয়।
2. মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
3. উত্তর ভারতে ইংরেজ শক্তির উত্থান সহজ হয়।
‘হায়দার আলি সফল হলেও টিপু সুলতান ব্যর্থ হন’—উক্তির যথার্থতা বিচার করো।
ঐতিহাসিক ড. এন. কে. সিনহা মনে করেন যে, হায়দার আলি গড়েছিলেন সাম্রাজ্য আর টিপু সুলতান তা ধ্বংস করেন। তবে এই মত সর্বাংশে সঠিক নয়, কারণ—
1. হায়দার আলির সময় ইংরেজ শক্তি ততোটা প্রবল ছিল না।
2. টিপু সুলতান যখন মহীশূরের ক্ষমতায় আসেন, তখন ইংরেজ শক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী।
3. হায়দারের মতো কূটনৈতিক দূরদর্শিতা টিপুর ছিল না। তাই টিপু ব্যর্থ হন।
ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে লর্ড ডালহৌসি কী নীতি গ্রহণ করেছিলেন?
ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য লর্ড ডালহৌসি তিনটি নীতি গ্রহণ করেছিলেন; সেগুলি হলো—
1. স্বত্ববিলোপ নীতি,
2. কুশাসনের অজুহাতে রাজ্য গ্রাস নীতি,
3. যুদ্ধ জয়ের নীতি।
চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের ফল কী হয়েছিল?
চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের ফলাফল –
1799 খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে টিপু সুলতান বীরত্বের সাথে লড়াই করেও পরাজিত ও নিহত হন। এই যুদ্ধের ফলে—
1. মহীশূর রাজ্যের স্বাধীন সত্তা বিলুপ্ত হয়।
2. মহীশূর রাজ্যটিকে 4 ভাগে ভাগ করা হয়।
3. মহীশূরের পুরনো হিন্দু রাজবংশের হাতে কিছু অংশ ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং মহীশূরকে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি মানতে বাধ্য করা হয়।
আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায়, “আঞ্চলিক শক্তির উত্থান”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন