আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের প্রথম অধ্যায়, ‘ইতিহাসের ধারণা’-এর ‘বিষয়সংক্ষেপ’ নিয়ে আলোচনা করব। এই অংশটি পড়ার ফলে অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়াবলি বুঝতে সুবিধা হবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা তোমাদের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।

ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, “ভারতবর্ষের যে ইতিহাস আমরা পড়ি এবং মুখস্থ করিয়া পরীক্ষা দিই তাহা ভারতবর্ষের নিশীথকালের দুঃস্বপ্ন কাহিনী মাত্র। …ইতিহাস সকল দেশে সমান হইবেই, এ কুসংস্কার বর্জন না করিলে নয়।”
বঙ্কিমচন্দ্রের ভাবনা
তাঁর বক্তব্য ছিল “বাঙালির ইতিহাস চাই। অর্থাৎ, বাঙালি জাতির অতীতের কথা বাঙালিকে জানতে হবে। বিদেশিদের লেখা বাঙালির ইতিহাস ভুলে ভরা। তাই বাঙালির ইতিহাস লিখতে হবে বাঙালিকেই।”
ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা
ইতিহাস শুধুমাত্র, রাজা-সম্রাটদের নাম, সাল, তারিখ বা যুদ্ধের বর্ণনা নয়। ইতিহাসের মধ্যে নানান যুক্তিতর্কের খতিয়ান মিশে আছে। ইতিহাসের সাক্ষ্য-প্রমাণগুলি হাজির করে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্কের সাহায্যে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করার জন্য সঠিকভাবে ইতিহাস জানা প্রয়োজন।
ভারতের ইতিহাসের বিষয়বস্তু
ভারতের ইতিহাস আসলে কিছু শিক্ষিত মানুষের বিচার অনুযায়ী লেখা ইতিহাস। তাই সিধু-কানহু ছাড়া সাঁওতাল বিদ্রোহে যোগ দেওয়া মানুষদের নাম ও পরিচয়, কিংবা মহাত্মা গান্ধির সঙ্গে আন্দোলন করা অসংখ্য মানুষের নাম জানা যায় না। শুধু সংখ্যা দিয়ে সেই মানুষগুলিকে বোঝানো হয়।
ভারতের ইতিহাসের যুগবিভাগ
ভারত ইতিহাসের সময়কালকে ঐতিহাসিকরা তিনভাগে ভাগ করে থাকেন। তবে ভাগগুলিকে কী নামে ডাকা হবে তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের অভিমত
1808 খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ভারতের ইতিহাস সম্পর্কিত ‘রাজাবলি’ বইটিতে মহাভারতের রাজা যুধিষ্ঠিরের কাল থেকে কলিযুগের কাল পর্যন্ত সময় উল্লেখ করেছেন। তিনি রাজাবলিতে প্রায় সব ঘটনার পিছনে নানা অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন।
জেমস মিলের অভিমত
জেমস মিল 1817 খ্রিস্টাব্দে ‘History of British India’ বইতে ভারতের ইতিহাসকে হিন্দু যুগ, মুসলিম যুগ ও ব্রিটিশ যুগ—এই তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম দুটি কাল শাসকের ধর্মের নামে এবং শেষ কালটি শাসকের জাতির নামে পরিচিত হয়েছে। তাঁর ধারণা ছিল আধুনিক হতে হলে ধর্মের বদলে জাতির পরিচয়ের দরকার।
‘হিন্দু যুগ’, ‘মুসলিম যুগ’ নামকরণে আপত্তি
হিন্দু যুগ—ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জেমস মিল ভারতীয় ইতিহাসকে যে ‘হিন্দু যুগ’ রূপে চিহ্নিত করেছিলেন তার বিপক্ষে বলা যায় যে, ভারতে কেবলমাত্র বৈদিক হিন্দুধর্মই প্রচলিত ছিল না, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্মও প্রচলিত ছিল। হিন্দু শাসকের পাশাপাশি অনেক বিদেশি ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী রাজারাও ভারতে রাজত্ব করেছেন। সুতরাং, এই যুগকে ‘হিন্দু যুগ’ না বলে প্রাচীন যুগ বলাই যুক্তিসংগত।
মুসলিম যুগ
মুসলিম যুগ নামকরণ সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ, এই যুগে মুসলিম শাসকদের পাশাপাশি অনেক রাজ্যে হিন্দু রাজারাও রাজত্ব করেছেন। যেমন – ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, আসাম, কেরল, দাক্ষিণাত্যের বিজয়নগর রাজ্যের শাসকরা দীর্ঘদিন মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রেখেছেন। সুতরাং এই যুগকে মধ্যযুগ বলাই সংগত।
ভারতের আধুনিক কালের ইতিহাসের উপাদান
আধুনিক ইতিহাস লেখার জন্য ইতিহাস রচনার উপাদান গুলি হল —

ভারতীয় প্রেক্ষাপটে – সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ
সাম্রাজ্যবাদ হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যে-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কোনো একটি শক্তিশালী দেশ অন্য কোনো দুর্বল দেশের ওপর প্রভুত্ব কায়েম করে বা তাকে নিজের দখলে আনে। সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে উপনিবেশবাদের যোগাযোগ একইরকম। কোনো একটি অঞ্চলের জনগণ ও সম্পদকে অন্য একটি অঞ্চলের স্বার্থে ব্যবহার করাই উপনিবেশবাদের মূল কথা। সাম্রাজ্যবাদের বিপরীতে দেশের চিন্তাও ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। শুরু হয় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশীয় তথা জাতীয়তাবাদী বিশ্লেষণের দ্বন্দ্ব।
আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের প্রথম অধ্যায়, “ইতিহাসের ধারণা”-এর “বিষয়সংক্ষেপ” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই আলোচনাটি অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়গুলো সহজে বুঝতে সাহায্য করবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও সহায়ক হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, মতামত জানাতে চাও বা আরও সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারো কিংবা আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারো—তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।





মন্তব্য করুন