আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের অর্থনৈতিক কারণ কী কী ছিল?
ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের অর্থনৈতিক কারণ –
1. ভারত থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে ইংল্যান্ডে প্রেরণ।
2. ভারত থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে ইংল্যান্ডের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটানো।
3. ভারতের বিশাল বাজার দখল করা।
4. ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটানো।
‘বোর্ড অফ রেভিনিউ’ কী?
1772 খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলা থেকে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা তুলে দেন এবং বাংলায় একটি সুষ্ঠু ও নির্দিষ্ট রাজস্ব নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেন। এই রাজস্ব নীতি নির্ধারণের জন্য তিনি যে বোর্ড গঠন করেন, তা-ই বলা হয় ‘বোর্ড অফ রেভিনিউ’।
ইজারাদারি ব্যবস্থা কে, কবে চালু করেন?
বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস 1772 খ্রিস্টাব্দে ইজারাদারি ব্যবস্থা চালু করেন। এই বন্দোবস্ত পাঁচ বছরের জন্য করা হত বলে এটি ‘পাঁচশালা বন্দোবস্ত’ নামেও খ্যাত। ইজারাদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে 1776 খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয় আমিনি কমিশন।
‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ কী?
হেস্টিং ভ্রাম্যমাণ কমিটি গঠন করেন। কমিটির সুপারিশক্রমে ওয়ারেন হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য (1772-77 খ্রিস্টাব্দ) জমি বন্দোবস্ত করেন। এই ভূমি বন্দোবস্তই পাঁচসালা বন্দোবস্ত নামে খ্যাত।
পাঁচশালা বন্দোবস্তের ত্রুটি উল্লেখ করো।
পাঁচশালা বন্দোবস্তের ত্রুটি হল —
1. এই ব্যবস্থায় জমিদারগণ প্রজাদের কাছ থেকে জবরদস্তিমূলক অতিরিক্ত খাজনা আদায় করতেন;
2. জমিদারদের প্রদেয় খাজনা ঠিক সময়ে সরকারি তহবিলে জমা পড়ত না।
একশালা বন্দোবস্ত কী?
পাঁচশালা বন্দোবস্তের ত্রুটিগুলি বিবেচনা করে এবং 1776 খ্রিস্টাব্দে আমিনি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে হেস্টিংস বাংলার জমিদারদের সঙ্গে এক বছরের জন্য জমি বন্দোবস্ত করেন। এই ভূমিবন্দোবস্তই একশালা বন্দোবস্ত নামে খ্যাত।
‘দশশালা বন্দোবস্ত’ কী?
লর্ড কর্নওয়ালিস 1790 খ্রিস্টাব্দে জমিদারদের সঙ্গে দশ বছরের জন্য যে ভূমি বন্দোবস্ত করেন, তা দশশালা বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কী ছিল?
লর্ড কর্নওয়ালিস 1786 খ্রিস্টাব্দে শাসনভার গ্রহণ করার পর ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। 1786 থেকে 1789 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতীয় ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে নানা অনুসন্ধান ও 1784 খ্রিস্টাব্দে পিটস আইনের নির্দেশ এবং ফিজিওক্র্যাট অর্থনীতিবিদ ফিলিপ ফ্রান্সিস-এর সুপারিশ অনুযায়ী লর্ড কর্নওয়ালিস জমিদারদের সঙ্গে স্থায়ী ভূমি রাজস্ব বন্দোবস্ত গড়ে তোলেন। এই ব্যবস্থাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
‘সূর্যাস্ত আইন’ কী?
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি দিক ছিল ‘সূর্যাস্ত আইন’। এই আইনে বলা হয় যে, প্রত্যেক জমিদার তার প্রদেয় খাজনা বাংলা বছরের শেষদিনে (সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে) সরকারি তহবিলে জমা দেবেন। যদি কোনো জমিদার খাজনা জমা দিতে না পারেন, তাহলে তাঁর জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তা নিলামে বিক্রি করা হবে।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের তিনটি কুফল লেখো।
1793 খ্রিস্টাব্দে চালু হওয়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ত্রুটিমুক্ত ছিল না। কারণ—
1. ‘সূর্যাস্ত আইন’ না মানতে পারায় অনেক জমিদার তাঁদের জমিদারি হারান;
2. অনেক জমিদার অনেক সময় অতিরিক্ত খাজনা আদায় করে প্রজাপীড়ন করতেন;
3. এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলায় মধ্যস্বত্বভোগী নামক এক নতুন শ্রেণির জমিদারদের উদ্ভব হয়।
‘পত্তনি প্রথা’ বা পত্তনিপ্রথা কী?
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি অন্যতম কুফল ছিল ‘পত্তনি প্রথার’ উদ্ভব। বহু জমিদার খাজনা আদায়ের জন্য তাদের জমিদারিকে কয়েকটি ছোটো ছোটো ভাগে বা পত্তনিতে ভাগ করে কয়েকজনকে নির্দিষ্ট খাজনা দেওয়ার শর্তে জমির দায়িত্ব দিতেন। এই ব্যবস্থা ‘পত্তনি প্রথা’ নামে খ্যাত। এর ফলে প্রজাপীড়ন বৃদ্ধি পায় এবং জমির উৎপাদন ক্ষমতাও হ্রাস পায়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পিছনে কোম্পানির উদ্দেশ্য কী ছিল?
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পিছনে কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল—
1. জমিদার নামক কোম্পানি-অনুগত এক নাগরিক শ্রেণি গড়ে তোলা;
2. জমিতে স্থায়ীভাবে জমিদারদের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করে জমির উন্নতি করা;
3. নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি তহবিলে ভূমিরাজস্ব জমা পড়া এবং কোম্পানির আয় সুনিশ্চিত করা ইত্যাদি।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার কৃষকদের কী দুরবস্থা হয়েছিল?
বাংলার কৃষকদের কাছে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (1793 খ্রিস্টাব্দ) ছিল এক অভিশাপস্বরূপ। কারণ —
1. এই ব্যবস্থার ফলে জমির মালিকানা লাভ করে জমিদাররা;
2. তাদের আর্থিক শোষণের ফলে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়;
3. এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ইজারাদারি শোষণ।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্ত বা বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্ত বা বৈশিষ্ট্যগুলি হল —
1. এই ব্যবস্থায় বাংলা, বিহার ও ওড়িশার জমিদারগণ জমির মালিকানা চিরদিনের জন্য এবং বংশানুক্রমিকভাবে ভোগদখল করবে;
2. ঠিক হয় জমিদারগণ তাঁদের আদায়ীকৃত খাজনার 9/10 অংশ কোম্পানিকে দেবে;
3. তবে সূর্যাস্ত আইন অনুসারে তাঁরা যদি নির্দিষ্ট খাজনা নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের কোষাগারে জমা দিতে না পারেন, তাহলে তাঁদের জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হবে।
রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত কী?
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে কৃষকদের (রায়ত) কাছ থেকে সরাসরি খাজনা আদায়ের যে ভূমিরাজস্ব নীতি গৃহীত হয়, তা রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত নামে পরিচিত ছিল।
ভারতের কোথায় এবং কার উদ্যোগে রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়?
1820 খ্রিস্টাব্দে বারাণসী, মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে স্যার টমাস মনরো ও আলেকজান্ডার রিড-এর উদ্যোগে রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়।
মহলওয়ারি বন্দোবস্ত বলতে কী বোঝো?
1822 খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্বসচিব হোল্ট ম্যাকেনজি গাঙ্গেয় উপত্যকায় মহল বা বাড়ি পিছু যে ধরনের ভূমি বন্দোবস্ত চালু করেন, তা মহলওয়ারি বন্দোবস্ত নামে খ্যাত। এই ব্যবস্থায় 25-30 বছরের জন্য জমি ইজারা দেওয়া হত। তবে জমিতে চাষির কোনো স্বত্ব ছিল না। সংগৃহীত রাজস্বের একটি অংশ রেখে বাকিটা সরকারকে দিতে হত।
তালুকদারি ব্যবস্থা কী?
কোম্পানি শাসনের প্রথমদিকে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় তালুকদারি ব্যবস্থা চালু ছিল। এই ব্যবস্থায় একজন তালুকদারের অধীনে কতকগুলি গ্রাম ছিল। সরকার তালুকদারের সঙ্গে 30 বছরের জন্য জমি বন্দোবস্ত করত। তবে জমিতে চাষির কোনো স্বত্ব ছিল না। সংগৃহীত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ রেখে বাকিটা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হত।
ভাড়াটে চাষি কাদের বলা হয়?
ঔপনিবেশিক শাসনে যে সকল কৃষকের জমিতে নিজস্ব মালিকানা ছিল না, শাসকের জমিতে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করার অধিকার পেয়েছিল, তাদের ভাড়াটে চাষি বলা হয়।
কোম্পানির আমলে বাংলায় দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের একটি কারণ লেখো।
কোম্পানির আমলে কৃষকের ওপর থেকে যত বেশি সম্ভব রাজস্ব আদায় করাই ছিল কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে কৃষকের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বাংলায় ক্রমেই দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
‘দাদন প্রথা’ কী?
দাদন বলতে বোঝায় অগ্রিম অর্থ প্রদান। ভারতীয় বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের পিছনে ‘দাদন প্রথা’র অপব্যবহার ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই প্রথার মাধ্যমে কোম্পানির কর্মচারীগণ উৎপাদিত পণ্যের একটা আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করে তার 50-75 শতাংশ টাকা অগ্রিমস্বরূপ ভারতীয় কারিগর ও বণিকদের দিয়ে দিত। বিনিময়ে ভারতীয় কারিগর ও বণিকগণ তাদের উৎপাদিত পণ্য দাদনদাতাকে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হত।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের ধ্বংসের একটি কারণ লেখো।
ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব হলে বয়নশিল্পের প্রভূত উন্নতি হয়। ফলে ভারতীয় বাজারে বিলিতি বস্ত্রের চাহিদা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়, কারণ বিলিতি বস্ত্র দেখতে ভালো এবং ভারতীয় বস্ত্রের থেকে দামে কম অথচ টেকসই। তাই বিলেতি বস্ত্রের সঙ্গে দেশীয় বস্ত্র প্রতিযোগিতায় দাঁড়াতে পারেনি। ধীরে ধীরে ভারতীয় তাঁতি, বণিক তথা বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ে।
ইংরেজ আমলে ভারতবাসীর দারিদ্র্যের প্রধান দুটি কারণ লেখো।
কোম্পানি আমলে ভারতবাসীর দারিদ্র্যের কারণগুলি হল —
1. কোম্পানির দ্বারা ভারতের ঐতিহ্যমণ্ডিত শিল্পগুলির ধ্বংসসাধনের (অবশিল্পায়ন) ফলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ে।
2. সরকারি উদাসীনতার ফলে কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত কোনো মানুষের উন্নতিসাধন ঘটেনি। ফলে সামগ্রিকভাবে ভারতীয়দের জীবনধারার কোনো উন্নতি হয়নি, বরং এক্ষেত্রে অবক্ষয়জনিত চিত্র ফুটে উঠেছে।
‘অবশিল্পায়ন’ কী?
সাধারণভাবে উনিশ শতকে ভারতে কুটিরশিল্পের অধঃপতন বা বিপর্যয়কে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ ‘অবশিল্পায়ন’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে দেশীয় শিল্পের অবক্ষয়ের প্রক্রিয়াই অবশিল্পায়ন নামে পরিচিত। অবশিল্পায়নের ফলস্বরূপ বিদেশি পণ্যে ভারতীয় বাজার ছেয়ে যায়। ভারতীয় শিল্প, বিশেষত বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের সম্মুখীন হয় এবং বস্ত্রশিল্পীরা জীবিকাহীন হয়ে পড়ে।
অবশিল্পায়ন তত্ত্বের প্রবক্তা কারা?
অবশিল্পায়ন তত্ত্বের প্রসঙ্গে প্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভারতের জাতীয়তাবাদী অর্থনীতিবিদ রমেশচন্দ্র দত্ত, দাদাভাই নওরোজি প্রমুখ ব্যক্তিত্ব। এই মতকে সমর্থন করেছেন ড. রজনীপাম দত্ত, ড. অমিয়কুমার বাগচি প্রমুখ।
ঔপনিবেশিক অর্থনীতি বলতে কী বোঝো?
ইউরোপীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল ঔপনিবেশিক অর্থনীতি। এককথায়, ঔপনিবেশিক অর্থনীতি বলতে বোঝায় মাতৃভূমির অর্থনীতির স্বার্থে কলোনি বা উপনিবেশগুলিতে শোষণমূলক অর্থনীতির প্রয়োগ।
হোমচার্জ কী?
1857 খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ব্রিটিশ সরকার এদেশে প্রশাসনিক খরচ বাবদ ব্যয় মেটানোর জন্য ভারতীয়দের কাছ থেকে যে কর আদায় করত তাকে বলা হয় হোমচার্জ।
সম্পদ নির্গমন বা নিষ্ক্রমণ বলতে কী বোঝো?
পলাশির যুদ্ধের পরবর্তী 100 বছর ধরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের অর্থ ও সম্পদ অবাধে বিলেতে পাচার করে। দাদাভাই নওরোজি একেই ‘সম্পদ নির্গমন’ বলেছেন।
‘অ্যাকোওয়ার্থ কমিটি’ কী?
ভারতীয় রেলপথ নির্মাণ ও রেলের প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য 1919 খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম অ্যাকোওয়ার্থের নেতৃত্বে যে কমিটি গঠিত হয় তাকে বলা হয় অ্যাকোওয়ার্থ কমিটি।
অ্যাকোওয়ার্থ কমিশন কেন গঠিত হয়?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ভারতে রেলের উন্নয়ন কিছুটা ব্যাহত হয়। তাই যুদ্ধশেষে এদেশে রেলপথের সম্প্রসারণ ও রেল প্রশাসন সংস্কারের উদ্দেশ্যে অ্যাকোওয়ার্থ কমিশন গঠিত হয়।
আমিনি কমিশন কেন গঠিত হয়?
1776 খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস ভূমিরাজস্ব সংস্কার বিষয়ে আমিনি কমিশন গঠন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল—
1. জমির উর্বরতা অনুযায়ী রাজস্বের হার নির্ধারণ করে রাজস্ব আদায় করা।
2. কৃষকদের ও কৃষিতে উন্নতি ঘটানো।
উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের প্রকৃতিতে কী কী পার্থক্য ঘটে?
উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সকল পরিবর্তন ঘটেছিল তা হল —
1. 1813 খ্রিস্টাব্দের চার্টার আইন অনুযায়ী অবাধ বাণিজ্য নীতি চালু করা হয়। এতে ইংল্যান্ডের সমস্ত বণিক সম্প্রদায় ভারতে ব্যবসা করার অধিকার পায়।
2. এই আইন অনুযায়ী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকারের বিলুপ্তি ঘটে।
ভাগচাষি বা বর্গাদার কাদের বলা হত?
1793 খ্রিস্টাব্দে বাংলায় জমিদারি বন্দোবস্ত চালু হলে কৃষকরা জমি হারায়। তারা জমিদারদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে জমি চাষ করত। এই কৃষকদের বলা হত ভাগচাষি বা বর্গাদার।
সাহুকার কাদের বলা হত?
1870 খ্রিস্টাব্দ নাগাদ দাক্ষিণাত্যে তুলোর দাম একদম কমে যায়। এর ফলে কৃষকের ওপর রাজস্বের চাপ বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে একশ্রেণির মানুষ চড়া সুদে কৃষকদের ঋণ দিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত করত। এই শ্রেণির মানুষকে বলা হত সাহুকার।
‘Agriculturists Relief Act’ কী?
1879 খ্রিস্টাব্দে ঋণগ্রস্ত চাষিদের ওপর থেকে অত্যাচারের বোঝা কমানোর জন্য একটি আইন তৈরি করা হয়েছিল। এই আইনকে বলা হয় Agriculturists Relief Act.
‘প্রজাস্বত্ব আইন’ কী?
1885 খ্রিস্টাব্দে প্রজাস্বত্ব আইন বলে জমির ওপর কৃষকের দখলিস্বত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এই আইন অনুসারে বলা হয় যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া কৃষকদের কিছুতেই জমি থেকে উচ্ছেদ করা চলবে না।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘রত্ন’ কাকে বলা হত এবং কেন?
ভারতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রত্ন বলা হত। কারণ ভারত থেকে সম্পদ ব্রিটেনে চলে যেত এবং সেই সম্পদ থেকে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার উল্লেখযোগ্য বাজার ছিল ভারত। এই কারণে ভারতকে বলা হত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রত্ন।
কে, কবে প্রথম রেলপথ চালু করেছিলেন?
ভারতের বড়োলাট লর্ড ডালহৌসি 1853 খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম রেলপথ চালু করেছিলেন। এর দৈর্ঘ্য ছিল 21 মাইল।
ভারতে রেলপথ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনকে গতিশীল করা এবং এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে দ্রুত সেনাবাহিনী পাঠানোর জন্যই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছিল।
ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কী হয়?
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে ভারতীয় বাজারে সহজেই ব্রিটিশ পণ্য আমদানি হতে থাকে। তবে রেলপথের প্রসার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ কারিগরি শিল্পও ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। ফলে বাজারি প্রতিযোগিতায় গ্রামীণ পণ্যদ্রব্যগুলি পিছু হটতে থাকে। আর ভারতের বাজার ছেয়ে যায় ব্রিটিশ পণ্যে।
ভারতীয় হস্তশিল্প ধ্বংসের ফলে কী হয়?
ভারতীয় হস্তশিল্প ধ্বংস হওয়ার ফলে ভারতের অনেক শহর তার আগের শিল্প গৌরব হারাতে থাকে। ক্রমে মুর্শিদাবাদ, ঢাকা, সুরাট প্রভৃতি শহর দুর্বল হয়ে পড়ে। শহরের জনসংখ্যা কমে যায়। শহরের শিল্পী ও কারিগররা চাষের কাজ করতে বাধ্য হয়। ফলে ভারতের কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
‘মহাজনি’ ব্যবস্থা কী?
ঔপনিবেশিক আমলে গ্রামসমাজে এক বিশেষ ধরনের মানুষ দেখা যায়, যারা চাষিদের চড়া সুদে টাকা ধার দিত। বেশি হারে নগদ রাজস্বের দাবি মেটাতে কৃষকরা এই শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিত। কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগে মহাজনরা তাদের নানাভাবে ঠকাত। তারা কারচুপি ও জালিয়াতি করেও সুদ আদায় করত। এই ব্যবস্থা ‘মহাজনি’ ব্যবস্থা নামে পরিচিত।
ঔপনিবেশিক রাজস্ব বন্দোবস্তের ফলে গ্রামসমাজে কী কী পরিবর্তন ঘটেছিল?
ঔপনিবেশিক রাজস্ব বন্দোবস্তের ফলে গ্রামসমাজে নানা পরিবর্তন ঘটেছিল। পুরোনো বহু জমিদার তাঁদের অধিকার হারিয়েছিলেন। অনেক নতুন ব্যবসায়ী, মহাজন ও শহুরে পেশার মানুষ গ্রামে জমিদারি কিনে নিয়েছিলেন। এবং এঁরা জমিদার হিসেবে খ্যাত ছিলেন। এই সমাজে জমির ও কৃষির উন্নতির কথা ভাবা হয়নি। কেবল কর্মচারীদের দ্বারা রাজস্ব আদায়ের ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়।
‘গ্যারান্টি ব্যবস্থা’ কী?
ভারতে রেলপথ নির্মাণ করার জন্য ব্রিটিশ সরকার 8টি বিদেশি কোম্পানিকে বরাত দেয়। বলা হয় কোম্পানিগুলি ভারতে রেলপথ নির্মাণের জন্য যে টাকা লগ্নি করবে সরকার তার ওপর 5 শতাংশ হারে সুদ দেবে। এই শর্ত সাপেক্ষে রেলপথ নির্মাণের এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘গ্যারান্টি ব্যবস্থা’।
আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন