অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

Rahul

আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা”-এর কিছু “বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা – অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর
Contents Show

1. ‘রেগুলেটিং অ্যাক্ট’ কী?

1772 খ্রিস্টাব্দে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তিনি ‘দ্বৈতশাসন’ ব্যবস্থা তুলে দেন এবং বাংলায় এক নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। যদিও ইতিমধ্যেই কোম্পানি শাসনের দুর্নীতি, শোষণ ও অপশাসনের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডে ধীরে ধীরে জনমত গড়ে উঠেছিল। এর চরম পরিণতি হল 1773 খ্রিস্টাব্দে ঘোষিত ‘রেগুলেটিং অ্যাক্ট’। এই অ্যাক্টের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থব্রুক।

‘রেগুলেটিং অ্যাক্ট’ – এর বিষয়বস্তু –

  1. সুবা বাংলার শাসনভার অর্পিত হবে একজন ‘গভর্নর জেনারেল’ ও চার সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিষদের উপর।
  2. পরিষদের 4 জন সদস্য নির্বাচন করবে ‘বোর্ড অফ ডিরেক্টরস’।
  3. এই আইন অনুসারে বাংলার ‘গভর্নর জেনারেল’ হন ওয়ারেন হেস্টিংস। যিনি যুদ্ধ বা শান্তির ব্যাপারে বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নরদের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারবেন।
  4. এই আইনের ফলে, 1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রথম ‘সুপ্রিমকোর্ট’ স্থাপিত হয়। এর প্রধান বিচারপতি হন স্যার এলিজা ইম্পে। এ ছাড়া এর অধীনে ছিলেন 3 জন সাধারণ বিচারপতি।

আইনের ত্রুটি – ‘রেগুলেটিং অ্যাক্ট’ সর্বৈব ত্রুটিমুক্ত ছিল না। বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস স্বাধীনভাবে কোনো কাজ করতে পারতেন না, কারণ কাউন্সিলের সদস্যগণের সমান ভোটাধিকার থাকার দরুন তাঁর মত কোনো গুরুত্ব পেত না। বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নরগণও ওয়ারেন হেস্টিংসের আদেশ অমান্য করতেন।

2. রেগুলেটিং অ্যাক্ট প্রবর্তনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

ভারতে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও কোম্পানির প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু রদবদল করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 1773 খ্রিস্টাব্দে যে আইন পাস করে, তাকে বলা হয় ‘রেগুলেটিং অ্যাক্ট’।

আইনের উদ্দেশ্য –

ব্রিটিশ জনমতের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ নড়েচড়ে বসেন। তাঁরই উদ্যোগে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 1773 খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং অ্যাক্ট বা নিয়ন্ত্রণ আইন ঘোষণা করে। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল—

  1. ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা।
  2. দুর্নীতিগ্রস্ত কোম্পানির কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।
  3. ইংরেজ কোম্পানির ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রভাব বৃদ্ধি করা।
  4. বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির সঙ্গে বাংলার প্রশাসনিক সম্পর্ক নির্ধারণ করা ইত্যাদি।

3. রেগুলেটিং অ্যাক্টের শর্তাবলি উল্লেখ করো।

ভারতে ইংরেজ কোম্পানির কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও কোম্পানির প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু রদবদল করার জন্য ব্রিটিশ সরকার 1773 খ্রিস্টাব্দে যে আইন পাস করে তা রেগুলেটিং অ্যাক্ট নামে পরিচিত।

রেগুলেটিং অ্যাক্টের শর্ত –

এই আইন অনুসারে —

  • বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের চার বছরের জন্য নির্বাচন করা হয়।
  • আইন অনুযায়ী স্থির হয় যে, সুবা বাংলার শাসনের দায়িত্বে থাকবেন একজন গভর্নর জেনারেল, তাঁর অধীনে থাকবে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কাউন্সিল। বাংলার গভর্নর জেনারেল হন ওয়ারেন হেস্টিংস।
  • এই আইন অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান বিচারপতি ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে।
  • বাংলা প্রেসিডেন্সি গভর্নরের হাতে বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নরদের নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার দেওয়া হয়।

4. পিটের ভারতশাসন আইন কী?

1773 খ্রিস্টাব্দে ‘রেগুলেটিং অ্যাক্ট’ ঘোষিত ও কার্যকর হলেও, এই আইনে কতকগুলি অসুবিধা ছিল। যেমন—গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলে 4 জন সদস্যকে সমান ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রশাসনিক বিষয়ে বাংলার গভর্নরের একছত্র স্বাধীনতা ছিল না। বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির ওপর গভর্নর জেনারেলকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হলেও সেখানকার গভর্নরগণ তা অমান্য করতেন।

বিষয়বস্তু – এই সমস্ত অসুবিধা দূর করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পিট (ছোটো) 1784 খ্রিস্টাব্দে ভারতের শাসনতন্ত্র বিষয়ে এক আইন বলবৎ করেন। এই শাসন আইনকেই বলা হয় ‘পিটের ভারতশাসন আইন’। এই আইন অনুযায়ী —

  1. গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে তিন জন করা হয়।
  2. বিশেষ অবস্থায় গভর্নর জেনারেল তাঁর কাউন্সিলের মত অস্বীকার করতে পারবেন।
  3. কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ছয় সদস্য নিয়ে গঠিত হয় ‘বোর্ড অব কাউন্সিল’।
  4. যুদ্ধ বা শান্তির সময় মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির গভর্নরদের উপর গভর্নর জেনারেলের পূর্ণ অধিকার বলবৎ করা হয়।

ফলাফল – ‘পিটের ভারতশাসন আইন’ দ্বারা সর্বপ্রথম ভারতে কোম্পানি শাসনের ওপর ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আইন দ্বারাই প্রথম বাংলার ‘গভর্নর জেনারেলের’ ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট করা হয়। এর ফলে ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণের নীতির সার্থক প্রয়োগ ঘটে।

5. পিটের ভারত শাসন আইনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

কোম্পানির শাসনাধীন ভারতে ব্রিটিশ সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ছিল পিটের ভারত শাসন আইন প্রবর্তন। 1784 খ্রিস্টাব্দে এই আইন ঘোষিত হয়।

পিটের ভারত শাসন আইনের উদ্দেশ্য – ‘রেগুলেটিং আইনে’ কতকগুলি অসুবিধা ছিল, যেমন—গভর্নরের কাউন্সিলরদের সমান ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ফলে বাংলার গভর্নরের অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহারের সমস্যা হচ্ছিল। বিশেষ করে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির গভর্নরদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে। এই সমস্যাগুলি সমাধান করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পিট 1784 খ্রিস্টাব্দে ভারতশাসন সম্পর্কিত নতুন এক আইন জারি করেন। একেই বলা হয় পিটের ভারত শাসন আইন।

6. পিটের ভারতশাসন আইনের শর্তগুলি উল্লেখ করো।

1773 খ্রিস্টাব্দে ঘোষিত রেগুলেটিং অ্যাক্টে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এগুলি দূর করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পিট 1784 খ্রিস্টাব্দে যে শাসন আইন প্রবর্তন করেন তা পিটের ভারতশাসন আইন নামে পরিচিত।

পিটের ভারত শাসন আইনের শর্ত –

এই আইন অনুসারে —

  • কোম্পানি ও ‘বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের’ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য 6 সদস্য নিয়ে গঠিত হয় ‘বোর্ড অব কন্ট্রোল’।
  • এর অধীনে ছিল ‘সিক্রেট কমিটি’।
  • গভর্নরের অধীন কাউন্সিলরদের সদস্য সংখ্যা 5 থেকে কমিয়ে 3 করা হয়।
  • বলা হয় বিশেষ অবস্থায় গভর্নর জেনারেল তাঁর কাউন্সিলরদের মত অস্বীকার করতে পারবেন।
  • যুদ্ধ বা শান্তি স্থাপনের সময় তিনি বোম্বাই ও মাদ্রাজের গভর্নরদের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারবেন।
  • কোম্পানির অপরাধী কর্মচারীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

7. ওয়ারেন হেস্টিংসের বিচার সংস্কার সম্পর্কে কী জান?

বিচার ব্যবস্থার সংস্কার – ওয়ারেন হেস্টিংস দেশীয় অভিজাতদের হাত থেকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থাকে আলাদা করার প্রস্তাব দেন। 1772 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষ থেকে নতুন বিচারব্যবস্থা চালু করা হয়। প্রতিটি জেলায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত তৈরি করা হয়। 1773 থেকে 1781 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় কতকগুলি পরিবর্তন আনা হয়। এই সময় বিচারব্যবস্থার চূড়ান্ত ইউরোপীয়করণ করা হয়েছিল। 1781 খ্রিস্টাব্দে বলা হয় যে, বিচার বিভাগের সমস্ত আদেশগুলি লিখে রাখতে হবে। এই সময় থেকে সমস্ত দেওয়ানি আদালতগুলিকে একই নিয়মের অধীনে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল।

8. ভারতে পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ওয়ারেন হেস্টিংস কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন?

ভারতবর্ষে প্রাথমিক পর্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে প্রথমে প্রাচীন পুলিশি ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু এদেশে কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলে এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। এ ব্যাপারে প্রথম সদর্থক ভূমিকা পালন করেন বড়োলাট ওয়ারেন হেস্টিংস।

হেস্টিংসের পুলিশি ব্যবস্থা – ভারতে পুলিশি ব্যবস্থার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বড়োলাট লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস। কোম্পানির শাসনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে তিনি পুলিশিব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেন। এ জন্য

  • বাংলাকে 10টি এবং বিহারকে 8টি ফৌজদারি জেলায় বিভক্ত করা হয়। সেখানে একটি করে থানা ও একজন করে পুলিশ বা ফৌজদার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশকে সাহায্য করার জন্য হেস্টিংস 341 জন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করেন।
  • শহরের শান্তি রক্ষার দায়িত্ব অর্পিত হয় কোতোয়ালদের ওপর।

9. কর্নওয়ালিসের পুলিশি ব্যবস্থার পরিচয় দাও।

ভারতের বড়োলাট লর্ড কর্নওয়ালিস দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজান। যথা —

  1. জেলার শাসনভার দেখভালের জন্য তিনি ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি কালেক্টর প্রভৃতি শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ করেন।
  2. জেলাগুলিকে কতকগুলি থানায় বিভক্ত করেন। থানার দায়িত্বে থাকতেন একজন দারোগা। থানার কাজকর্মের বিষয়ে নজর রাখতেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
  3. আইনশৃঙ্খলা দেখাশোনার জন্য একজন পুলিশ কমিশনার নিয়োগ করেন।
  4. গ্রামের আইনশৃঙ্খলা দেখাশোনা করতেন চৌকিদারগণ এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা দেখাশোনা করতেন চৌকিদার ও কোতোয়ালগণ। কলকাতার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য তিনি সর্বপ্রথম সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ বা পুলিশের প্রধান নিয়োগ করেন। পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করার জন্য তিনি প্রথম পুলিশকে পুরস্কার দানের ব্যবস্থা করেন।

10. ভারতে আমলাতন্ত্র (বা সিভিল সার্ভিস) গড়ে তোলার পিছনে কর্নওয়ালিসের অবদান কী ছিল?

1765 খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর 1818 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ভারতে কোম্পানির সাম্রাজ্য ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। ফলে প্রয়োজন হয় প্রচুর দক্ষ প্রশাসনিক কর্মচারী। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সেই সংখ্যা ছিল খুবই কম। তাই ইংরেজ কোম্পানি এদেশের প্রশাসনিক পদে লোক নিয়োগের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

কর্নওয়ালিসের উদ্যোগ – ভারতে সিভিল সার্ভিসের জনক ছিলেন লর্ড কর্নওয়ালিস। এদেশে বড়োলাট নিযুক্ত হয়ে তিনি প্রথমেই আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজান। যেমন —

  1. কোম্পানির প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উদ্যোগী হন। তিনি মনে করতেন কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করলে তারা দুর্নীতির আশ্রয় নেবে না। এর জন্য তিনি ইউরোপীয় কর্মচারীদের বেতন গড়ে 300-400 টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন।
  2. তবে তিনি ভারতীয়দের উচ্চ সরকারি পদে নিয়োগ বন্ধ করেন, তিনি মনে করতেন হিন্দুস্থানের প্রতিটি লোকই দুর্নীতিপরায়ণ।
  3. তিনি কোম্পানির বাণিজ্য দপ্তর ও রাজস্ব দপ্তর পৃথক করেন এবং তাদের কর্মচারীদের প্রশাসনিক পদে দক্ষ করে তোলার জন্য বিশেষ ট্রেনিং-এর বন্দোবস্ত করেন।
  4. ইউরোপ থেকে নবাগত সিভিল সার্ভেন্টদের স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি জানানোর ব্যবস্থা নেন।

11. লর্ড কর্নওয়ালিসের বিচারবিভাগীয় সংস্কারগুলি উল্লেখ করো।

ভারতে শাসনসংস্কারের ইতিহাসে লর্ড কর্নওয়ালিসের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কারণ তিনি এদেশের বিচারব্যবস্থাকে উন্নত করতে কতকগুলি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

কর্নওয়ালিসের বিচার সংস্কার –

কর্নওয়ালিস বিচার বিভাগে নানা রদবদল করেন। তিনি সদর নিজামত আদালত মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। জেলার ফৌজদারি আদালত বাতিল করে তিনি কলকাতা, ঢাকা, মুর্শিদাবাদ ও পাটনায় ভ্রাম্যমান আদালত গড়ে তোলেন। জেলার দেওয়ানি আদালতে কালেক্টরদের পরিবর্তে জেলা জজ নিয়োগ করেন। এ ছাড়া তিনি চারটি প্রাদেশিক আদালত স্থাপন করেন। এই আদালতে বড়োলাট বিচার করতেন। সদর দেওয়ানি আদালতের অধীনে তিনি প্রাদেশিক, জেলা, সদর আমিন ও মুনসেফি আদালত স্থাপন করেন। তিনি নরহত্যাকে রাষ্ট্রীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করেন।

1793 খ্রিস্টাব্দে তিনি কর্নওয়ালিস কোড বা কর্নওয়ালিস আইন-সংহিতা দ্বারা আইন, শাসন ও বিচারবিভাগকে আলাদা করেন।

12. কলকাতা সুপ্রিমকোর্টের গঠন ও কাজ কী ছিল?

1773 খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী 1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় একটি সুপ্রিমকোর্ট গঠিত হয়। সেখানে একজন প্রধান বিচারপতি ও তিনজন বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছিল। ঠিক হয়েছিল যে, কেবল ভারতে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদেরই বিচার করবে সুপ্রিমকোর্ট। 1797 খ্রিস্টাব্দে কলকাতার সুপ্রিমকোর্টের বিচারক সংখ্যা চারের বদলে তিনজন করা হয়। বোম্বাই ও মাদ্রাজেও একটি করে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত হয়। সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে কোম্পানির বিরোধের কারণে এর ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কোম্পানির গভর্নর, গভর্নর জেনারেলের কাজ এবং রাজস্ব আদায় ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট বিচার করতে পারবে।

13. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের প্রশাসনিক সংস্কারগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করো।

ভারতে শাসন সংস্কারের ইতিহাসে বড়োলাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি মনে করতেন এদেশের মঙ্গলের জন্য একটি সুস্থ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার।

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের শাসনসংস্কার –

ভারতে শাসন সংস্কারের ইতিহাসে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অবদান স্মরণীয়, কারণ—

  1. তিনিই প্রথম এদেশের প্রশাসনিক পদে ভারতীয়দের নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
  2. শাসন ব্যবস্থার সুবিধার জন্য তিনি কয়েকটি জেলা নিয়ে একটি ডিভিশন বা প্রদেশ গঠন করেন। এই ডিভিশনগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিশনারদের হাতে।
  3. কমিশনারদের কাজ ছিল জেলা কালেক্টর, ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা জজ ও পুলিশের কাজের তদারকি করা।
  4. শাসন ব্যবস্থায় ভারতীয়দের নিয়োগের জন্য তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর নামক দুটি নতুন পদ সৃষ্টি করেন।

14. আইনের শাসন বলতে কী বোঝো? ইংরেজরা কী ভারতবর্ষে আইনের শাসন সঠিকভাবে অনুসরণ করেছিল?

বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতবর্ষে প্রথম আইনের শাসন (Rule of Law) প্রবর্তন করেন।

আইনের শাসন – আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের চোখে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে একটি দেশের সকল নাগরিকের সমানাধিকার। অন্যদিকে এই ধারণা অনুযায়ী শাসক ও শাসিতের মধ্যেও কোনো বৈষম্য থাকে না। শাসকের ইচ্ছা অনুসারে দেশের (উপনিবেশ) শাসনপ্রণালী গড়ে ওঠে না বা পরিচালিত হয় না। এক কথায় বলা যায় যে, এই ব্যবস্থা কতকটা গণতান্ত্রিক রীতি অনুসারে পরিচালিত হয়।

সমালোচনা – ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতবর্ষে আইনের শাসন প্রবর্তন করলেও তা সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি। এই শাসনব্যবস্থা ঘোষিত হলেও ইংরেজ কোম্পানি এবং পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সরকার এদেশে সবক্ষেত্রেই বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে চলেছিল।

  1. বিচারের ক্ষেত্রে ভারতীয়রা বৈষম্যের শিকার ছিল। ভারতীয় বিচারপতিরা 1873 খ্রিস্টাব্দের, ‘কোড অফ ক্রিমিন্যাল ল’ অনুসারে কোনো ইউরোপীয় আসামির বিচার করতে পারতেন না।
  2. ইউরোপীয়দের জন্য এখানে আলাদা আইন ও আদালত ছিল।
  3. হেস্টিংস স্বয়ং আইনের শাসন চালু করলেও, তিনি নিজে তা মেনে চলেননি। 1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা সুপ্রিমকোর্টে বাংলার দেওয়ান নন্দকুমারের বিচার ও ফাঁসির ঘটনা সেকথাই প্রমাণ করে।
  4. চাকরি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা বৈষম্যের শিকার হত।
  5. 1858 খ্রিস্টাব্দে মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে ভারতীয়দের জন্য যে সমস্ত শাসনতান্ত্রিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তাও পালন করা হয়নি।

15. ‘মেকলে মিনিটের’ প্রভাব/গুরুত্ব আলোচনা করো।

ইংরেজ-কোম্পানির শাসনের শেষদিকে ভারতে পাশ্চাত্যশিক্ষা বিস্তারের ঘটনা এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। 1835 খ্রিস্টাব্দে ঘোষিত ‘মেকলে মিনিট’ ছিল এই অধ্যায়ের এক স্মরণীয় পদক্ষেপ।

মেকলে প্রস্তাবের রূপ –

জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশনের সভাপতি টমাস ব্যাবিংটন মেকলে 1835 খ্রিস্টাব্দের 2 ফেব্রুয়ারি ভারতবর্ষে শিক্ষা সংক্রান্ত তাঁর বিখ্যাত প্রতিবেদন পেশ করেন। মেকলে তাঁর প্রস্তাবে ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেন।

মেকলের প্রস্তাব তৎকালীন বড়োলাট বেন্টিঙ্ককে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। ফলে—

  1. তিনি ইংরেজি ভাষাকে এদেশের সরকারি ভাষা বলে ঘোষণা (7 মার্চ, 1835) করেন।
  2. অফিস-আদালতে ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার প্রচলন করেন।
  3. প্রতিষ্ঠা করেন — কলকাতা মেডিকেল কলেজ, মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি হাইস্কুল, বোম্বাইয়ের এলফিনস্টোন ইনস্টিটিউট, রুরকি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ইত্যাদি।
  4. তবে বেন্টিঙ্ক মেকলের একটি বিতর্কিত সুপারিশ অর্থাৎ— সংস্কৃত কলেজ ও প্রাচ্য শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করার বিষয়টি সযত্নে এড়িয়ে যান। কারণ, দূরদর্শী বেন্টিঙ্ক অনুভব করেছিলেন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তীব্র বিরোধিতা দেখা দেবে।

মন্তব্য – দুঃখের বিষয় এই যে, মেকলের প্রস্তাব অনুযায়ী সরকার ইংরেজি ভাষা ও শিক্ষার ওপর জোর দিতে গিয়ে মাতৃভাষা অবহেলিত হয়। ফলে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি প্রায় ভেঙে পড়ে।

6. উডের ডেসপ্যাচ (1854 খ্রিস্টাব্দ) – টীকা লেখো।

ইংল্যান্ডের ‘বোর্ড অব কন্ট্রোলের’ সভাপতি চার্লস উড ভারতে শিক্ষা বিস্তার বিষয়ে যে সুপারিশ বা প্রতিবেদন পেশ করেন তাকেই বলা হয় ‘উডের ডেসপ্যাচ’।

উডের ডেসপ্যাচ বা নির্দেশনামা –

পটভূমি – ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের জন্য ব্রিটিশ সরকার একটি কমিটি তৈরি করে। এই কমিটির লক্ষ্য ছিল ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রসারের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো আছে কি না তা দেখা। এই কমিটির নেতৃত্ব দেন বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড। এই কমিটি 1854 খ্রিস্টাব্দে তার প্রতিবেদন পেশ করে।

কমিটির সুপারিশ – উডের প্রতিবেদনে যে সমস্ত প্রস্তাব রাখা হয়, তা হল—

  1. ভারতে শিক্ষা প্রসারের জন্য বেশি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
  2. ইংরেজি শিক্ষার জন্য আরও বেশি বিদ্যালয় গড়ে তোলা।
  3. বিদ্যালয়গুলি পরিচালনা করার জন্য পৃথক শিক্ষা দফতর গড়ে তোলা।
  4. বিদ্যালয়গুলির উন্নতির জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা।
  5. উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে ইংরেজি ভাষার উপর জোর দেওয়া।
  6. শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
  7. উচ্চ শিক্ষা প্রসারের জন্য কলকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বাইতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।উডের প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতবর্ষে শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো। এই সব কারণে উডের নির্দেশনামাকে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের মহাসনদ বলা হয়।

17. ভারতে পাশ্চাত্যশিক্ষা প্রসারে উডের নির্দেশনামার গুরুত্ব কী?

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার জন্য ব্রিটিশ সরকার 1854 খ্রিস্টাব্দে চার্লস উডের সভাপতিত্বে একটি কমিটি তৈরি করে। এই কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করে তাকে বলা হয় উডের প্রতিবেদন।

গুরুত্ব – উডের নির্দেশনামাকে ভারতে ইংরেজি শিক্ষার ‘মহাসনদ’ বলা হয়। কারণ —

  1. উডের সুপারিশক্রমে ভারতে প্রথম সরকারি শিক্ষা দফতর গড়ে ওঠে।
  2. অনেক বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়।
  3. 1857 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কলকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
  4. এ ছাড়া 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে ঘোষিত 1 লক্ষ টাকা ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের জন্য ব্যয় করার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়।

18. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব/গুরুত্ব কী?

উনিশ শতকে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব –

  1. কোম্পানির পাশ্চাত্য শিক্ষা নীতির হাত ধরে এদেশে বহু সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
  2. ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত যুবকরা সরকারি চাকরির সুযোগ পায়। ফলে দেশে বেকার সমস্যা দূর হয়।
  3. গড়ে ওঠে অসংখ্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (যেমন— বেথুন স্কুল, বেথুন কলেজ)। এর ফলে নারীশিক্ষা প্রসার লাভ করে।
  4. বলাই বাহুল্য যে, পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে এদেশীয়দের মধ্যে জাতীয়-চেতনার জাগরণ ঘটে।
  5. পাশ্চাত্য শিক্ষার সংস্পর্শে এসে ভারতে সমাজসংস্কার আন্দোলন জোরদার হয়।
  6. পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতীয় যুব সম্প্রদায়ই ছিল ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ধারক ও বাহক।

মন্তব্য – পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ফলেই ভারতের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে এক ইতিবাচক ও পরিবর্তনমূলক প্রভাব লক্ষ করা গিয়েছিল তা বলাই বাহুল্য।


আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা”-এর কিছু “বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নিষেক বলতে কী বোঝায়? নিষেকের প্রকারভেদ

নিষেক ও দ্বিনিষেক কী? নিষেক ও দ্বিনিষেক -এর মধ্যে পার্থক্য

সম্পূর্ণ ফুল এবং অসম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে? সম্পূর্ণ ফুল এবং অসম্পূর্ণ ফুলের মধ্যে পার্থক্য

সমাঙ্গ ফুল ও অসমাঙ্গ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর