আজকে আমরা এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষার জন্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অষ্টম শ্রেণির পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Unit Test) থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি কীভাবে গড়ে ওঠে?
সেন্ট জর্জ ও মাদ্রাজকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় সেন্ট জর্জ দুর্গ প্রেসিডেন্সি বা মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি। বোম্বাই প্রেসিডেন্সির সূচনা হয়েছিল সুরাটে। ধীরে ধীরে পশ্চিম ও মধ্যভারত এবং আরব সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলগুলি নিয়ে বোম্বাই প্রেসিডেন্সি তৈরি হয়।
কে, কবে এবং কী উদ্দেশ্যে কলকাতা সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
পণ্ডিত হ্যাম্যান হোরাস উইলসন 1824 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সংস্কৃত সাহিত্যের চর্চা।
কোম্পানির আমলে সেনাবাহিনীতে কাদের সামরিক জাতি বলে মনে করা হত?
ব্রিটিশ শাসকরা সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের তারতম্যের বিচার করত না। 1857 খ্রিস্টাব্দের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে পাঞ্জাবের জাঠ অধিবাসীদের নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি পাঠান, রাজপুত, নেপালি গোর্খাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। ব্রিটিশরা মনে করত এইসব সেনারা যুদ্ধে অনেক বেশি দক্ষ। এদেরকে ‘সামরিক জাতি’ বলা হত।
উইলিয়াম কেরি কে ছিলেন?
শ্রীরামপুর মিশনারিদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন উইলিয়াম কেরি। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে পড়াতেন। কেরি ভারতীয় মহাকাব্যগুলি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন। বাইবেলের একটি অংশকে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন কেরি। হ্যালহেডের লেখা ‘বাংলা ব্যাকরণ’ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছিলেন কেরি।
থানা ব্যবস্থা কীভাবে প্রবর্তিত হয়?
1793 খ্রিস্টাব্দের লর্ড কর্নওয়ালিস জেলাগুলির দেখভাল করার জন্য পুলিশ থানা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। প্রতিটি থানায় দায়িত্ব পায় দারোগা। তাদের নিয়ন্ত্রণ করত ম্যাজিস্ট্রেটরা।
ভারতের ব্রিটিশ প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য কর্নওয়ালিস কী করেছিলেন?
কর্নওয়ালিস আইন জারি করে কোম্পানি প্রশাসনের আধিকারিকদের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও কোনোরকম উপহার নেওয়া বন্ধ করে দেন। তার পাশাপাশি চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে সিভিল সার্ভেন্টদের পদোন্নতির ব্যবস্থাও তিনি চালু করেন। কর্মচারীদের বেতনও বাড়িয়ে দেন।
উডের প্রতিবেদন কী?
চার্লস উড ছিলেন কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি। তাঁর নেতৃত্বে 1854 খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে শিক্ষাসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পেশ হয়, যা ‘উডের প্রতিবেদন’ নামে পরিচিত। এই প্রতিবেদন ছিল আসলে একটি পরামর্শ। সেই পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত শিক্ষার কাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা কী?
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ভারতের শাসনকার্যের সুবিধার জন্য তারা তাদের অধিকৃত অঞ্চলগুলিকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করেছিল— মাদ্রাজ, বোম্বাই এবং কলকাতা। এই প্রশাসনিক বিভাগগুলিকেই প্রেসিডেন্সি বলা হতো।
কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট কবে গড়ে উঠেছিল?
1774 খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাশ হওয়ার পর কোম্পানি আইন, বিচার, ভূমিরাজস্ব ও প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে শুরু করে। 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং অ্যাক্টের সূত্র ধরে কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট গড়ে ওঠে। 1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হয়।
সুপ্রিমকোর্টে বিচারকের সংখ্যা কয়জন ছিল?
1774 খ্রিস্টাব্দে গঠিত সুপ্রিমকোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং তিনজন অন্য বিচারপতি থাকতেন। (কোম্পানি আইন ও বিচার ব্যবস্থার সংহতি সাধনের জন্য সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হয়।)
কত খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হয়? এর প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হয়। এর প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে।
‘এলিজা ইম্পে কোড’ বলতে কী বোঝো?
1774 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ কোম্পানি কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট স্থাপন করে। এই আদালতের প্রধান বিচারপতি স্যার এলিজা ইম্পে দেওয়ানি আদালতের বিচার কাজের জন্য যে বিধিগুলি সংকলিত করেন, তাকেই বলা হয় ‘এলিজা ইম্পে কোড’।
আইনের শাসন কী?
1793 খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস আইন অনুসারে শাসন পরিচালনা বা আইনের শাসন প্রবর্তন করেন। আইনের চোখে সকলেই সমান—এই নীতির ভিত্তিতেই তিনি বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কার করেন, একেই বলা হয় ‘আইনের শাসন’ (Rule of Law)।
কর্নওয়ালিস কোড কী?
1793 খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস আইন ও বিচার বিভাগের সংস্কার করে সেগুলিকে সংহতিবদ্ধ করেন। এই আইনসংগ্রহ ‘কর্নওয়ালিস কোড’ নামে পরিচিত।
কে, কবে ল’ কমিশন গঠন করেন? এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
1833 খ্রিস্টাব্দের চার্টার অ্যাক্ট অনুসারে মেকলে ল’ কমিশন বা বিধি কমিশন গঠন করেন। এই কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের আইন ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে একটি সুষ্ঠু সমন্বয় গড়ে তোলা।
‘আইনের শাসন’ বলতে কী বোঝো?
লর্ড কর্নওয়ালিস বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার করে আইনের শাসন বা ‘Rule of Law’ প্রবর্তন করেন। এর অর্থ— দেশের আইনের চোখে সকলেই সমান। অর্থাৎ আইনের চোখে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান।
ভারতে ইংরেজ কোম্পানির পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্য কী ছিল?
ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্য ছিল—
1. কোম্পানির সস্তায় কেরানি পাওয়ার জন্য এদেশের মানুষকে ইংরেজি ভাষা শিখিয়ে ওই সব দপ্তরে নিয়োগ করা।
2. ব্রিটিশ অনুগত একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে তোলা।
3. ইংরেজি পড়া মিশনারিদের দ্বারা এদেশের জনসমাজে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার করা।
কোন ঘোষণাকে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়? ‘উডের ডেসপ্যাচের’ দুটি শর্ত উল্লেখ করো।
1854 খ্রিস্টাব্দে চার্লস উডের ‘উডের ডেসপ্যাচ’-কে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ম্যাগনাকার্টা বলা হয়। উডের ডেসপ্যাচের দুটি শর্ত—
1. ইংরেজি ও দেশীয় ভাষায় শিক্ষা সম্প্রসারণ।
2. বেসরকারি বিদ্যালয়গুলিতে সরকারি অনুদান বা Grant-in-aid-এর ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
‘উডের ডেসপ্যাচ’ বলতে কী বোঝো?
1854 খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি স্যার চার্লস উড শিক্ষা সংক্রান্ত একটি নির্দেশনামা প্রকাশ করেন। এই নির্দেশনামায় ভারতে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে যে প্রস্তাব রেখেছিলেন তাকেই বলা হয় ‘উডের ডেসপ্যাচ’ বা উডের প্রস্তাব।
‘Downward filtration theory’ বা ‘চুঁইয়ে পড়া নীতি’ কী?
জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশনের সভাপতি টমাস ব্যাবিংটন মেকলের প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে চুঁইয়ে পড়া নীতি গ্রহণ করে। এই নীতি অনুসরণ করে বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক চেয়েছিলেন শিক্ষা সমাজের উপরতলা থেকে নীচের তলায় চুঁইয়ে পড়ুক। তাতে যেমন কোম্পানির ব্যয় কমবে, তেমনই ভারতীয় জনজীবনে দ্রুত পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটবে।
মেকলে মিনিট/প্রস্তাব কী?
1813 খ্রিস্টাব্দের সনদে ভারতবর্ষে শিক্ষাখাতে 1 লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু সেই টাকা প্রাচ্য না পাশ্চাত্য শিক্ষা কোন্ খাতে ব্যয় হবে, সেই বিষয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদীদের এই দ্বন্দ্ব নিরসনের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশনের সভাপতি টমাস ব্যাবিংটন মেকলের ওপর। তিনি এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের পক্ষে রায় জানিয়ে 1835 খ্রিস্টাব্দে যে প্রস্তাব পেশ করেন তাকেই বলা হয় মেকলে মিনিট বা মেকলের প্রস্তাব।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কেন স্থাপিত হয়? এই কলেজটিকে অন্য কী নামে ডাকা হত?
এদেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নবনিযুক্ত ইউরোপীয় কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করা হয়। এটিকে বলা হত ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে পুলিশি ব্যবস্থা সংস্কারের কারণ কী ছিল?
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়েছিল, তার কারণ —
1. আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি হয়েছিল তার উন্নতি করা।
2. ভারতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
বেন্টিঙ্কের আমলে প্রশাসনে ভারতীয়করণের কারণ কী ছিল?
ভারতের বড়োলাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে প্রশাসনে ভারতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর কারণ —
1. বেন্টিঙ্ক হিতবাদী দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
2. কোম্পানির প্রশাসনে ব্যয়সংকোচের জন্য তিনি প্রশাসনে ভারতীয়করণ করেছিলেন।
বোর্ড অব কন্ট্রোল কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
কোম্পানির ভারতীয় প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য 1784 খ্রিস্টাব্দে পিটের ভারত শাসন আইন অনুসারে বোর্ড অব কন্ট্রোল গঠিত হয়।
ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের কারণ কী ছিল?
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে। ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য ছিল—
1. ব্রিটিশ পদলেহনকারী কর্মচারী সৃষ্টি করা, যাতে প্রশাসনিক সুবিধা লাভ করা যায়।
2. খ্রিস্টধর্মের প্রসার ঘটানো।
পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের নেতিবাচক দিকগুলি সম্পর্কে লেখো।
ইংরেজ প্রবর্তিত পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থা ছিল ত্রুটিপূর্ণ—
1. এই শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু ব্রিটিশ পদলেহনকারী অনুগত সম্প্রদায় সৃষ্টি হয়েছিল।
2. সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তার লাভ করেনি।
3. ভারতীয় প্রথাগত শিক্ষাচর্চার বিলুপ্তিসাধন ঘটে।
4. এই শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিষয়টি ছিল অবহেলিত।
প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব কী?
1813 খ্রিস্টাব্দের চার্টার আইন অনুযায়ী কোম্পানি ভারতীয় শিক্ষাখাতে বার্ষিক 1 লক্ষ টাকা ব্যয় করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই অর্থ প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন্ শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রিন্সেপ, কোলব্রুক প্রমুখ প্রাচ্যশিক্ষার পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে রাজা রামমোহন রায়, রাধাকান্ত দেব, ডেভিড হেয়ার প্রমুখ পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন। এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বই প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব নামে পরিচিত।
জনশিক্ষা কমিটি বা জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কেন গঠিত হয়?
1823 খ্রিস্টাব্দে জনশিক্ষা কমিটি গঠিত হয়। কারণ—
1. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
2. শিক্ষার প্রসারের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া।
শিক্ষা সংক্রান্ত হান্টার কমিশনের সুপারিশগুলি কী ছিল?
1882 খ্রিস্টাব্দে হান্টার কমিশন উচ্চশিক্ষার সংস্কারে যেসব সুপারিশগুলি করে তা হলো—
1. প্রাথমিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া।
2. প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া।
3. বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দেওয়া।
4. কারিগরি শিক্ষার প্রচলন ঘটানো।
1813 খ্রিস্টাব্দে চার্টার আইনের দুটি ধারা উল্লেখ করো।
ভারতের ইতিহাসে 1813 খ্রিস্টাব্দে চার্টার আইন বা সনদ আইনের গুরুত্ব—
1. এই আইনে কোম্পানি ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য বার্ষিক 1 লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করে।
2. ভারতীয়দের শিক্ষার দায়িত্ব কোম্পানির এ দেশে ঘোষণা করা হয়।
ডেভিড হেয়ার স্মরণীয় কেন?
ভারতবর্ষের পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে ডেভিড হেয়ার-এর অবদান উল্লেখযোগ্য —
1. পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি হেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
2. 1817 খ্রিস্টাব্দে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠাতে তিনি সাহায্য করেন।
3. এছাড়া তিনি পটলডাঙা অ্যাকাডেমি বা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ কাদের বলা হয়? ভারতে শিক্ষাবিস্তারে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল?
কোম্পানির আমলে ভারতে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড এই তিন খ্রিস্টান মিশনারিকে একত্রে বলা হয় ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’। 1800 খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড শ্রীরামপুরে ‘ব্যাপটিস্ট মিশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এরা এদেশে উদ্যোগী হয়ে বহু বিদ্যালয় তৈরি করেছিলেন। এদের হাতে এবং উদ্যোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, মুদ্রণ, বাংলা ব্যাকরণ প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হত। 1818 খ্রিস্টাব্দে তাঁদের অন্যতম প্রয়াস ছিল ‘শ্রীরামপুর কলেজ’ প্রতিষ্ঠা।
উনিশ শতকে সমাজসংস্কারে ধর্ম প্রচারের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উনিশ শতকে সমাজসংস্কার আন্দোলনে মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা বিস্তারের আড়ালে ভারতীয়দের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া, কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে তাদের মুক্ত করা। ধর্মান্তরিত করে খ্রিস্টান ধর্ম ও যিশুর আদর্শ প্রচার করা।
সমাজসংস্কারে দুটি সমাজসংস্কার বিষয়ক আইনের উল্লেখ করো।
সমাজসংস্কারের দুটি সমাজসংস্কার—
1. রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় 1829 খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ প্রথা রদ বা নিবারণ আইন পাশ হয়।
2. 1856 খ্রিস্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ‘বিধবা বিবাহ’ আইন পাশ হয়।
‘আইনের শাসন’ ও ‘আইনের চোখে সাম্য’ বলতে কী বোঝো?
আইনের শাসন – আইনানুসারে ব্রিটিশ প্রশাসন আইন মেনে চলত। আইনের শাসন ও শাসিতের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ সৃষ্টি করা থাকে না। শাসকের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ এবং শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
আইনের চোখে সাম্য – জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে একই আইন হবে। কিন্তু বাস্তবে ইউরোপীয়দের জন্য আলাদা আইন, আদালত ও বিচার ব্যবস্থা ছিল।
আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা”-এর কিছু “সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই ধরনের প্রশ্নগুলো স্কুলের পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি তোমাদের/আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় টেলিগ্রামে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। এছাড়া, এই পোস্টটি সেইসব বন্ধু বা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন