আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়, ‘ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা’-এর ‘বিষয়সংক্ষেপ’ নিয়ে আলোচনা করব। এই অংশটি পড়ার ফলে অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়াবলি বুঝতে সুবিধা হবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা তোমাদের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।

প্রথমত, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বণিক সংস্থা। ভারতীয় উপমহাদেশে সুষ্ঠু বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তারা কতগুলি বাণিজ্য ঘাঁটি নির্মাণ করেছিল। বাণিজ্য ঘাঁটিগুলি মূলত মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এই তিনটি বাণিজ্য ঘাঁটিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা।
ব্রিটিশ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা –
- মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি (সেন্ট জর্জ দুর্গ প্রেসিডেন্সি)
- বোম্বাই প্রেসিডেন্সি (পশ্চিম প্রেসিডেন্সি)
- কলকাতা প্রেসিডেন্সি (ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ প্রেসিডেন্সি)
মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি –
সেন্ট জর্জ ও মাদ্রাজকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল ‘মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি’। বর্তমান তামিলনাড়ু, কেরালা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি কর্ণাটক ও দক্ষিণ ওড়িশার বেশ কিছু অঞ্চল মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ছিল।
বোম্বাই প্রেসিডেন্সি –
বোম্বাই প্রেসিডেন্সির গোড়াপত্তন হয়েছিল সুরাটে। ধীরে ধীরে পশ্চিম ও মধ্য ভারত এবং আরব সাগরের তীরবর্তী অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠে বোম্বাই প্রেসিডেন্সি।
বাংলা প্রেসিডেন্সি –
বাংলা, বিহার, ওড়িশা, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছিল বাংলা প্রেসিডেন্সি। মূলত এই তিনটি প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানির বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্য, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ওপর ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে 1773 খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং অ্যাক্ট ও 1784 খ্রিস্টাব্দে পিট প্রণীত ভারত শাসন আইন প্রবর্তিত হয়। রেগুলেটিং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রেসিডেন্সিগুলির কার্যকলাপের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়। এ ছাড়া গভর্নর জেনারেল নামে একটি নতুন পদ তৈরি হয়। ঠিক হয় যে, বাংলার গভর্নরই হবেন গভর্নর জেনারেল এবং তাঁর অধীনে থাকবেন মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের গভর্নররা। রেগুলেটিং আইনের বলেই কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানীতে পরিণত হয়। পিটের ভারতশাসন আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলির ওপর পার্লামেন্টের নজরদারি সুনিশ্চিত করা হয়। এই আইনে স্পষ্ট করে বলা হয় যে, ভারতে কোম্পানির সমস্ত প্রশাসকই গভর্নর জেনারেলের কর্তৃত্ব মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন। এ ছাড়া এই আইন অনুসারে ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ তৈরি করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে কোম্পানির শাসনকে স্থায়ী, নিশ্ছিদ্র সংগঠিত রূপদান করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিস। ঔপনিবেশিক শাসনে ব্রিটিশ শক্তির প্রধান হাতিয়ার আমলাতন্ত্রকে সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে লর্ড কর্নওয়ালিস সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্বার্থেই ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতবর্ষে এক বিশেষ শিক্ষা প্রচলনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে স্থাপিত হয় বেনারস হিন্দু কলেজ, কলকাতা মাদ্রাসা, এশিয়াটিক সোসাইটি, শ্রীরামপুর ব্যাপ্টিস্ট মিশন, হিন্দু কলেজ, বেথুন স্কুল প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা এবং জমি জরিপের মাধ্যমে রাজস্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়, “ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা”-এর “বিষয়সংক্ষেপ” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই আলোচনাটি অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়গুলো সহজে বুঝতে সাহায্য করবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও সহায়ক হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, মতামত জানাতে চাও বা আরও সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারো কিংবা আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারো—তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।





মন্তব্য করুন