অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ – বিষয়সংক্ষেপ

Rahul

আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের অষ্টম অধ্যায়, ‘সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ’-এর ‘বিষয়সংক্ষেপ’ নিয়ে আলোচনা করব। এই অংশটি পড়ার ফলে অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়াবলি বুঝতে সুবিধা হবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা তোমাদের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।

সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিষয়সংক্ষেপ

পরাধীন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক চেতনার অস্তিত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পিছনে ছিল নানা কারণ, যেমন— ভারতে ইংরেজ শাসকদের ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি। মুসলমানরা হিন্দুদের চেয়ে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল। পাশাপাশি শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণে চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমানদের চেয়ে হিন্দুরা অনেকটাই এগিয়ে ছিল। ফলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিপরীতধর্মী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ইংরেজ সরকারের ‘Divide and Rule’ নীতি তথা মুসলমান তোষণ নীতি ভারতে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে এক অদৃশ্য প্রাচীর গড়ে তোলে।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে সংখ্যালঘু মুসলমান সমাজের হীনম্মন্যতাও দায়ী। সমকালীন সংকীর্ণ ইতিহাস চর্চা এর জন্য কম দায়ী ছিল না। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের কলমে ভারতের প্রাচীন ও মধ্যযুগ হিন্দু ও মুসলমান যুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ফলে শাসক ও শাসিতের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিভেদ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও ভারতের রাজনীতির জাতীয় রাজনীতিতে হিন্দুয়ানির অবদানকেও দায়ী করা যেতে পারে। উনিশ শতকে ভারতের সমাজ সংস্কারক আন্দোলনের হাত ধরে উদ্ভব হয়েছিল দুটি স্পষ্ট ধারা; একটি হিন্দুয়ানি এবং অপরটি মুসলমানি।

প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতে হিন্দু জাগরণ শুরু হয়। অনেকে মনে করেন, হিন্দু জাগরণের পিছনে ছিল কয়েকটি কারণ, যথা— ভারতে মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার প্রসার, সরকারের মুসলমান তোষণ নীতি ইত্যাদি। 1906 খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম লিগের জন্মের পরের বছর পাঞ্জাবে গড়ে ওঠে ‘হিন্দু সভা’। 1915 খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন হিন্দু সভা মিলে গড়ে ওঠে ‘হিন্দু মহাসভা’।

উনিশ শতকের শেষ দিকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্ম দেন স্যার সৈয়দ আহমদ। তিনি ঘোষণা করেন যে, ভারতে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি; সুতরাং, তাদের স্বার্থও পৃথক। তিনি প্রচার করেন যে, জাতীয় কংগ্রেস হল আসলে হিন্দু সংগঠন এবং একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।

1906 খ্রিষ্টাব্দে 1লা অক্টোবর আগা খাঁর নেতৃত্বে একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাট মিন্টোর সঙ্গে দেখা করেন শিমলায়। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা করা। অন্যদিকে সরকারের প্রতি মুসলমানদের আনুগত্য সুদৃঢ় করা। তার ফল মুসলমানরা হাতে হাতে পায় 1909 খ্রিষ্টাব্দের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলমান সদস্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

এরপরে মুসলিম লিগের নেতৃত্ব দেন মহম্মদ আলি জিন্নাহ। তিনিও মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় মনোনিবেশ করেন।

ভারতীয় রাজনীতিতে মহম্মদ আলি জিন্নাহর অবতারণার পর বিশেষ করে 1930-এর দশক থেকেই তিনি কংগ্রেস বিরোধী কার্যকলাপ শুরু করেন। 1940 খ্রিষ্টাব্দে লিগের লাহোর অধিবেশনে তিনি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবি তোলেন। এতেই গৃহীত হয় লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাব। ইতঃপূর্বে (1933 খ্রিষ্টাব্দে) চৌধুরী রহমত আলি পৃথক রাষ্ট্রের ‘পাকিস্তান’ নাম প্রস্তাব করেন। যা আসলে স্যার সৈয়দ আহমদের ‘দ্বিজাতিতত্ত্বের’ চূড়ান্ত পরিণতি। 1946 খ্রিষ্টাব্দে (আগস্ট) জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে ভারতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে লিগ এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়। ফলে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। কলকাতা ও নোয়াখালিতে তা বীভৎস আকার ধারণ করে। এই অবস্থায় ভারতের বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলির নির্দেশে ভারতে বিভাজনের সমস্ত প্রক্রিয়া সেরে ফেলেন। কংগ্রেসও তখন ভারত বিভাজনের প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। অবশেষে 1947 খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারতের স্বাধীনতা বিল’ গৃহীত হয়। 18 জুলাই তা ‘ভারতের স্বাধীনতা আইন’-এ পরিণত হয়। ফলে ওই বছর 14 ও 15 আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।


আজকের আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের অষ্টম অধ্যায়, “সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ”-এর “বিষয়সংক্ষেপ” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই আলোচনাটি অধ্যায়টির মূল কাঠামো ও প্রধান বিষয়গুলো সহজে বুঝতে সাহায্য করবে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও সহায়ক হয়েছে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, মতামত জানাতে চাও বা আরও সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারো কিংবা আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারো—তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নিষেক বলতে কী বোঝায়? নিষেকের প্রকারভেদ

নিষেক ও দ্বিনিষেক কী? নিষেক ও দ্বিনিষেক -এর মধ্যে পার্থক্য

সম্পূর্ণ ফুল এবং অসম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে? সম্পূর্ণ ফুল এবং অসম্পূর্ণ ফুলের মধ্যে পার্থক্য

সমাঙ্গ ফুল ও অসমাঙ্গ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর