এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘রাধারাণী’ -এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করবো। এখানে লেখকের পরিচিতি, গল্পের উৎস, গল্পের পাঠপ্রসঙ্গ, গল্পের সারসংক্ষেপ, গল্পের নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘রাধারাণী’ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং গল্পটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, নবম শ্রেণীর পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘রাধারাণী’ গল্পের লেখক পরিচিতি
1838 খ্রিস্টাব্দের 26 জুন সাহিত্যস্রষ্টা, ঔপন্যাসিক, ‘বন্দেমাতরম্’ মন্ত্রের উদগাতা এবং বাংলার ‘নবজাগরণ যুগের’ অন্যতম প্রধান পুরুষ বঙ্কিমচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন উত্তর চব্বিশ পরগনার নৈহাটির জন্ম ও শিক্ষাজীবন কাঁঠালপাড়ায়। তিনি রামহরি চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র ও যাদবচন্দ্রের তৃতীয় পুত্র এবং তৎকালীন যুগের বিখ্যাত পণ্ডিত ভবানীচরণ বিদ্যাভূষণের দৌহিত্র। বঙ্কিমচন্দ্রের দুজন জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শ্যামাচরণ ও সঞ্জীবচন্দ্র এবং কনিষ্ঠ ভ্রাতা হলেন পূর্ণচন্দ্র। ছয় বছর বয়সে গ্রামের পাঠ শেষ করে পিতার কর্মস্থল মেদিনীপুরের এক ইংরেজি স্কুলে ভরতি হন তিনি। 1849 খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের পাঁচ বছরের একজন সুন্দরী বালিকার সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের বিবাহ হয়। সেই বছরেই তিনি হুগলি মহসিন কলেজে ভরতি হন এবং প্রায় সাত বছর সেখানে তিনি অধ্যয়ন করেন। এই কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি যশোহরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের পদ গ্রহণ করেন। বারো বছর পর চাকুরিরত অবস্থায় 1869 খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কর্মজীবন –
বঙ্কিমচন্দ্র প্রায় সুদীর্ঘ তেত্রিশ বছর সরকারি কর্মচারীরূপে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ইংরেজ সরকার কর্তৃক তিনি রায়বাহাদুর ও সিআইই উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর কর্মক্ষেত্র তৎকালীন অখণ্ড বাংলা ও বাংলাদেশের বাইরেও বিস্তৃত ছিল। কর্মসূত্রে তিনি রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় ও সমাজজীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষভাবে লাভ করেছিলেন এবং এই বিচিত্র ও বহুমুখী অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রতিফলিত হয়েছে বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন রূপে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যজীবন –
বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যরচনা শুরু চোদ্দো বছর বয়সে এবং সমাপ্তি মৃত্যুর একমাস পূর্বে ছাপ্পান্ন বছর বয়সে। তিনি যখন হুগলি কলেজের ছাত্র তখনই তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার উন্মেষ লক্ষ করা যায়। এইসময় ঈশ্বরগুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ -এর পৃষ্ঠায় তাঁর কয়েকটি রচনার উল্লেখ পাওয়া যায়। ইংরেজি ভাষায় লেখা ‘Rajmohan’s Wife’ ছাড়া সর্বসমেত চোদ্দোটি বিভিন্ন স্বাদের উপন্যাস লিখেছেন তিনি। তাঁর সম্পর্কে কবিগুরু যে প্রশস্তি করেছেন তা যথার্থই সত্য – ‘বঙ্কিম বঙ্গসাহিত্যে প্রভাতের সূর্যোদয় বিকাশ করিলেন।’
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা সম্ভার –
বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাসম্ভারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – ‘Rajmohan’s Wife’ (1864 খ্রিস্টাব্দ), ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (1965 খ্রিস্টাব্দ) ‘কপালকুণ্ডলা’ (1866 খ্রিস্টাব্দ), ‘মৃণালিনী’ (1869 খ্রিস্টাব্দ), ‘বিষবৃক্ষ’ (1873 খ্রিস্টাব্দ), ‘ইন্দিরা’ (1873 খ্রিস্টাব্দ), ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ (1874 খ্রিস্টাব্দ), ‘চন্দ্রশেখর’ (1875 খ্রিস্টাব্দ), ‘রজনী’ (1877 খ্রিস্টাব্দ), ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ (1878 খ্রিস্টাব্দ), ‘রাজসিংহ’ (1882 খ্রিস্টাব্দ), ‘আনন্দমঠ’ (1884 খ্রিস্টাব্দ), ‘দেবী চৌধুরাণী’ (1884 খ্রিস্টাব্দ) ‘রাধারাণী’ (1886 খ্রিস্টাব্দ), ‘সীতারাম’ (1887 খ্রিস্টাব্দ)।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু –
1894 খ্রিস্টাব্দের 8 এপ্রিল এই মহান মনীষী পরলোকগমন করেন।
‘রাধারাণী’ গল্পের উৎস
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সর্বমোট 14টি উপন্যাসের অন্যতম ‘রাধারাণী’ থেকে পাঠ্যাংশটি সংগৃহীত। উপন্যাসটির প্রথম পরিচ্ছেদটি পাঠ্যাংশ হিসেবে সংকলিত হয়েছে।
‘রাধারাণী’ গল্পের পাঠপ্রসঙ্গ
বাংলা ভাষা-সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখনী স্পর্শে বাংলা উপন্যাস প্রথম যথাযথ রূপলাভ করে। এ কথা বললে অত্যুক্তি হয় না যে, বঙ্কিমচন্দ্র ইউরোপীয় মনন ও ভাবধারার সঙ্গে বাঙালি মধ্যবিত্ত মানসিকতার পরিচয় ঘটান তাঁর উপন্যাসের মাধ্যমে। মাত্র সাতাশ বছর বয়সে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’-র মধ্য দিয়ে যে যাত্রার সূচনা করেছিলেন কালপর্যায়ে ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘বিষবৃক্ষ’, ‘রাধারাণী’, ‘রাজসিংহ’, ‘আনন্দমঠ’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ ও ‘সীতারাম’ ইত্যাদিতে তার পরিসমাপ্তি হয়েছিল। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রোমান্স, দেশাত্মবোধ, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং অষ্টাদশ শতকের সামাজিক চালচিত্র-সমস্তই তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু হিসেবে বিবৃত হয়েছে। ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্রের প্রেরণার মনোভূমে ছিল ইংরেজি সাহিত্য। স্কট, বায়রন, শেকসপিয়রের সাহিত্যকীর্তি তাঁকে উজ্জীবিত করেছিল। ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনায় তাঁর দক্ষতার দরুন তিনি ‘বাংলার স্কট’ নামেও অভিহিত হয়েছিলেন।
‘রাধারাণী’ উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা অন্যতম উপন্যাস। বাংলার সাধারণ জনজীবনের ছবি যেমন এই উপন্যাসে পাওয়া যায়; তেমনি রাধারাণী নামক এক বালিকার জীবনসংগ্রাম, দ্বন্দ্ব, প্রেমপ্রীতি ও শুভপরিণয়ের কথাও এখানে প্রকাশিত। সমাজজীবনে জটিল, কুটিল, খল, স্বার্থপর মানুষের পাশাপাশি পরোপকারী, নিঃস্বার্থ, উপকারী মানুষের উপস্থিতির কথাও ঔপন্যাসিক উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানের আত্মকেন্দ্রিক, অর্থলোলুপ, মানবিকতাহীন সমাজের সামনে ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশটি মানবিকতা ও নির্লোভ মননের জ্বলন্ত দৃষ্টান্তস্বরূপ।
‘রাধারাণী’ গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ নামক উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদটি নবম শ্রেণির পাঠ্যাংশ হিসেবে সংকলিত। উপন্যাসের সূচনাতেই দেখা যায় রাধারাণী নামে এক বালিকা মাহেশে রথ দেখতে গিয়েছিল। বাড়িতে অসুস্থ, রুগ্ন মা -এর জন্য পথ্য জোগাড় করবার উদ্দেশ্য নিয়েই মাহেশের রথের মেলায় বনফুলের মালা বিক্রি করার জন্য রাধারাণী যায়। বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় রাধারাণীর বনফুলের মালা কিনতে কেউই আসে না। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় অগত্যা রাধারাণী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির পথ ধরে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে রাধারাণীর যেতে খুবই অসুবিধা হতে থাকে। এমন সময়ে হঠাৎ করেই কে যেন রাধারাণীর ঘাড়ের উপর পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় একাদশ বর্ষীয়া বালিকা রাধারাণী সত্যিই ভীত হয়ে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে শুরু করে। যদিও তার ঘাড়ের উপর যে এসে পড়েছিল, সেই অচেনা পুরুষই। ঘন অন্ধকারে কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে রাধারাণীকে হাত ধরে বাড়ির দিকে নিয়ে যায়। আর এই যাত্রাপথেই সে রাধারাণীর কাছ থেকে বনফুলের মালার কথা জেনে মালা কেনে। রাধারাণী এমন উপকারী মানুষকে মালা বিক্রি করার কথা ভাবতে দ্বিধাবোধ করলেও, অসুস্থ মায়ের কথা ভেবে মালা বিক্রির চার পয়সা নিতে স্বীকৃত হয়। অপরিচিত ব্যক্তিটি মালার দাম হিসেবে পয়সার বদলে টাকা দিয়েছে এমন সন্দেহ হতে থাকে রাধারাণীর, কিন্তু ‘নূতন কলের পয়সা’ বলে রাধারাণীকে আশ্বস্ত করে আগন্তুক। বাড়ি পৌঁছে চকমকি ঠুকে আগুন জ্বালিয়ে রাধারাণী দ্যাখে যে, সেটি পয়সা নয় টাকাই – আর সেই টাকা ফেরত দেবার উদ্দেশ্য নিয়ে বাইরে এসে রাধারাণী দেখে যে, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা কোথাও নেই। রাধারাণীর কাছে সমস্ত শুনে রাধারাণীর মা জানান যে, তাদের দুঃখের কথা শুনে এবং অনুমান করেই ব্যক্তিটি তাদের এই অর্থ দান করেছেন। আর এখন সেই দানগ্রহণ করে খরচ করাই শ্রেয়। মা-মেয়ের এরূপ কথোপকথনের সময়েই পদ্মলোচন নামে এক কাপড়ের দোকানি রাধারাণীর জন্য একখানি নতুন কাপড় এনে হাজির হয়। কথাপ্রসঙ্গে জানা যায় যে, নগদ দাম দিয়ে সেই অপরিচিত ব্যক্তিই রাধারাণীর জন্য কাপড় কিনে পাঠিয়েছেন। পদ্মলোচন রাধারাণীর বাড়ির আত্মীয়কুটুম্ব বলে মনে করে কাপড়টি তাকে আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনায় বিক্রি করে খুশি হয়ে যায়। এইসব ঘটনার মাঝেই রাধারাণী লোকটির কাছ থেকে পাওয়া টাকায় বাজারে গিয়ে মায়ের জন্য পথ্য ও তেল এনে প্রদীপ জ্বালায় এবং মা -এর জন্য যৎসামান্য রান্না করার পর ঘর পরিষ্কার করার অভিপ্রায়ে ঝাঁট দিতে গিয়ে কাগজ হিসেবে কুড়িয়ে পায় একখানি নোট। এই নোটটিতে রাধারাণীর নাম লেখা ছিল এবং যে ব্যক্তি দিয়েছেন তাঁর নামও রুক্মিণীকুমার রায় বলে লেখা ছিল। পরদিন রাধারাণীর মা এবং রাধারাণী রুক্মিণীকুমার রায়ের অনেক অনুসন্ধান করলেও শ্রীরামপুর এবং তার নিকটবর্তী স্থানে ওই নামের কারোর সন্ধান না পেয়ে অবশেষে নোটখানি তারা সযত্নে তুলে রাখে।
‘রাধারাণী’ গল্পের নামকরণ
ভূমিকা –
‘নামকরণ’ সাহিত্যের আত্মা। নামকরণের মাধ্যমে পাঠক ও সাহিত্যের মধ্যে এক যোগসূত্র স্থাপিত হয়। সাহিত্যিক তাঁর সৃষ্ট রচনার মূল ভাবটির ধারণা প্রকাশ করেন নামকরণের মাধ্যমে। নামকরণ কখনও চরিত্রনির্ভর, কাহিনিনির্ভর, আবার কখনও ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে থাকে।
বঙ্কিমচন্দ্রের দেওয়া নামকরণ –
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একাধিক উপন্যাসে মূল নামকরণের পাশাপাশি বিবিধ পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত ঘটনাবলির পৃথক শিরোনাম দিয়েছেন। আলোচ্য ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশটি ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদ। আটটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত এই উপন্যাসে পরিচ্ছেদগুলির পৃথক নামকরণ করা হয়নি। মূল উপন্যাসের নামটিই পাঠ্যাংশে ব্যবহার করেছেন সংকলকগণ। আমাদের বিচার্য পাঠ্যাংশের নামকরণটি যথাযথ হয়েছে কি না।
নামকরণ ও কাহিনি –
‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশটি পড়েই বোঝা যায় নামকরণে ঘটনাব্যঞ্জনা নয়, চরিত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দশ-এগারো বছরের বালিকা রাধারাণীর জীবনকথাই আলোচ্য পাঠ্যাংশে প্রাধান্য পেয়েছে। ‘বড়ো মানুষের মেয়ে’ রাধারাণী জ্ঞাতি তথা প্রতিবেশীর ষড়যন্ত্রে আর ভাগ্যের বিড়ম্বনায় অসুস্থ মাকে নিয়ে বড়োই অসহায়। রুগ্ন মায়ের পথ্য জোগাড় করার উদ্দেশ্যে মাহেশের রথের মেলায় বনফুলের মালা গেঁথে বিক্রি করতে যায় সে। প্রবল বর্ষণে মেলা ভেঙে যাওয়ায় অন্ধকারের মধ্য দিয়ে সে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে হঠাৎই রাধারাণীর সংঘর্ষ হয় এক অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে। সেই ব্যক্তিই পরম স্নেহে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল রাধারাণীকে। রাধারাণী সেই ব্যক্তির কাছ থেকে বনফুলের মালার দামস্বরূপ পয়সা নিতে বাধ্য হয়েছিল। বুদ্ধিমতী রাধারাণী অন্ধকারেই অনুমান করে, আগন্তুক তাকে টাকা দিয়েছে। সে আগন্তুককে বাড়িতে অপেক্ষা করতে বলে আলো জ্বালিয়ে দেখেছে তার অনুমান সত্যি। বাইরে এসে আগন্তুকের খোঁজ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আগন্তুক রাধারাণীর জন্য কাপড় পাঠিয়েছিল এবং তার দেওয়া নোট থেকে রাধারাণী জানতে পারে আগন্তুকের নাম রুক্মিণীকুমার রায়। মালা বিক্রির টাকায় মায়ের পথ্য, প্রদীপ জ্বালানোর তেল কিনলেও আগন্তুকের ফেলে যাওয়া নোট সে তুলে রেখেছিল ফেরত দেওয়ার জন্য। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করতে আদর্শে বেধেছিল রাধারাণীর।
নামকরণের সার্থকতা –
সমগ্র পাঠ্যাংশে রাধারাণীর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। বালিকা রাধারাণীর সক্রিয় কর্মকাণ্ডে এ উপন্যাসের গতি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। সে এই পাঠ্যাংশের চালিকা শক্তি। তাই ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদ তথা আমাদের পাঠ্যাংশটির নাম যথার্থ ও শিল্পসার্থক হয়েছে।
এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘রাধারাণী’ -এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করবো। এখানে লেখকের পরিচিতি, গল্পের উৎস, গল্পের পাঠপ্রসঙ্গ, গল্পের সারসংক্ষেপ, গল্পের নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘রাধারাণী’ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দিয়েছে এবং গল্পটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, নবম শ্রেণীর পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক পরিচিতি, গল্পের নামকরণ ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন