নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী
Contents Show

বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে?

বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) – কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে যখন সজীব উপাদানগুলি নিজেদের মধ্যে এবং পরিবেশের জড় উপাদানের সঙ্গে আন্তঃক্রিয়া করে, যার ফলে জীবগোষ্ঠীর মধ্যে শক্তি প্রবাহিত হয় এবং প্রয়োজনীয় পদার্থের চক্রাকার আবর্তন ঘটে তখন জীব ও জড় উপাদানগুলি মিলিতভাবে যে ভারসাম্যযুক্ত বসবাসনীতি গঠন করে, তাকে বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম বলে।

বাস্তুতন্ত্রের গঠনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।

বাস্তুতন্ত্রের গঠনগত বৈশিষ্ট্য –

  • পরিবেশের যে-সমস্ত শর্ত বা উপাদানগুলি বাস্তুতান্ত্রিক স্তর গঠন করে তাদের বাস্তুতন্ত্রের গঠনগত বৈশিষ্ট্য বলে।
  • বাস্তুতন্ত্রের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের দুটি প্রধান উপাদান হল –
    • অজীবীয় উপাদান ও
    • জীবীয় বা সজীব উপাদান।

বায়োম (Biome) কাকে বলে?

কোনো একটি প্রাকৃতিক অঞ্চলের জলবায়ুর শর্ত অনুযায়ী যে-সমস্ত নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীগোষ্ঠী গঠিত হয়, তাকে বায়োম (Biome) বলে। যেমন – মরুভূমির বায়োম, তুন্দ্রা অঞ্চলের বায়োম।

কমিউনিটি বা সম্প্রদায় বলতে কী বোঝো?

কোনো বাস্তুতন্ত্রে একাধিক প্রজাতির অন্তর্গত বিভিন্ন জনসংখ্যার মিলিত বা একত্রিত গোষ্ঠীকে সম্প্রদায় বা কমিউনিটি (Community) বলে। যেমন – পুকুরের কমিউনিটি।

আলোর সঙ্গে অভিযোজিত দুটি উদ্ভিদ বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ দাও।

আলোর সঙ্গে উদ্ভিদের অভিযোজন –

  • ফটোট্যাকটিক চলন – ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স প্রভৃতি শৈবাল দুর্বল আলোর উৎসের দিকে গমন করে। একে অনুকূল ফটোট্যাক্সিস বলে। উদ্ভিদের তীব্র আলোক উৎস থেকে দূরে যাওয়াকে প্রতিকূল ফটোট্যাক্সিস বলে।
  • বীজের অঙ্কুরোদ্গম – পালংশাক, লেটুস প্রভৃতি উদ্ভিদের বীজ তীব্র আলোতে অঙ্কুরিত হয়।

দিবাচর ও নিশাচর প্রাণী বলতে কী বোঝো?

যে-সমস্ত প্রাণীর সক্রিয়তা দিনেরবেলা বেশি থাকে তাদের দিবাচর (Diurnal) প্রাণী বলে। যেমন – প্রজাপতি, পাখি, মানুষ।

যে-সমস্ত প্রাণীর সক্রিয়তা রাত্রিবেলা বেশি থাকে তাদের নিশাচর (Nocturnal) প্রাণী বলে। যেমন – আরশোলা, পেঁচা, ইঁদুর, বাদুড় প্রভৃতি।

শীতঘুম (Hibernation) কাকে বলে?

শীতঘুম (Hibernation) – এটি একপ্রকার তাপমাত্রার সঙ্গে প্রাণীর অভিযোজন। ব্যাং, সাপ প্রভৃতি প্রাণীরা ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য শীতকালে মাটির নীচে গর্তের ভিতর প্রায় নিষ্ক্রিয়ভাবে জীবনধারণ করে। এই প্রকার জীবনধারণকে শীতঘুম বলে।

গ্রীষ্মঘুম (Aestivation) কাকে বলে?

গ্রীষ্মঘুম (Aestivation) – এটি একপ্রকার তাপমাত্রার সঙ্গে প্রাণীর অভিযোজন। মরুভূমির গিরগিটি, ইঁদুর, সাপ প্রভৃতি প্রাণীরা তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচার জন্য বালির নীচে গর্তের মধ্যে প্রায় নিষ্ক্রিয়ভাবে জীবনধারণ করে, একে গ্রীষ্মঘুম বলে।

জনসংখ্যার (Population) সংজ্ঞা দাও।

জনসংখ্যা (Population) – কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে, নির্দিষ্ট সময়ে একই প্রজাতিভুক্ত সমস্ত জীবের সংখ্যাকে জনসংখ্যা বলে। জনসংখ্যা হল কোনো প্রজাতির ক্রিয়াশীল (Dynamic) একক।

জনসংখ্যার নির্ধারক শর্তগুলি কী কী?

জনসংখ্যা নির্ধারক শর্ত –

  • জীবসদস্যের সংখ্যা ও প্রকার,
  • নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থান এবং
  • নির্দিষ্ট সময়।

জনসংখ্যা ঘনত্ব বলতে কী বোঝো?

জনসংখ্যা ঘনত্ব (Population Density) – একক আয়তনযুক্ত স্থানে একক সময়ে বসবাসকারী কোনো প্রজাতিভুক্ত জীবের সদস্য সংখ্যাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।

জনসংখ্যা ঘনত্বের সমীকরণ হল –

জনসংখ্যা ঘনত্ব=নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা দেশের জনসংখ্যামোট দেশের আয়তন

অর্থাৎ, D=NS

জন্মহার (Natality) কাকে বলে?

জন্মহার (Natality) – কোনো একক জনসংখ্যায় একক সময়ে যত সংখ্যক নতুন সদস্য জন্মায় (প্রজননের দ্বারা, ডিম ফুটে, বীজের অঙ্কুরোদ্গমের দ্বারা বা রেণুর সাহায্যে) তাকে জন্মহার বা ন্যাটালিটি (Natality) বলে।

জন্মহার (B)=Nnt [যেখানে, B = জন্মের হার, Nn = নবজাতকের সংখ্যা, একক সময় (বছর)]

1000 জন সদস্যযুক্ত মানুষের জনসংখ্যায় এক বছরে যত সংখ্যক নবজাতকের জন্ম হয়, তাকে মানুষের জনসংখ্যার জন্মহার বলে।

মৃত্যুহার (Mortality) কাকে বলে? অথবা, মৃত্যুহার নির্ণয় করার সূত্রটি লেখো।

মৃত্যুহার (Mortality) – একক জনসংখ্যায় একক সময়ে যত সংখ্যক সদস্য মারা যায়, তাকে মৃত্যুহার বা মর্টালিটি (Mortality) বলে।

মৃত্যুহার (D)=Ndt [যেখানে, Nd = মৃত সদস্যের সংখ্যা, সময়]

1000 জন সদস্যযুক্ত মানুষের জনসংখ্যায় এক বছরে যত সংখ্যক সদস্য মারা যায়, তাকে মানুষের জনসংখ্যার মৃত্যুহার বলে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি কাকে বলে?

কোনো নির্দিষ্ট জনসংখ্যায় নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যুহার ও দেশত্যাগের তুলনায় জন্মহার ও অভিবাসন বেশি হলে জীবসদস্যের সংখ্যা সংযোজনকেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি (Population Growth) বলে। অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট জনসংখ্যায় শুরুতে জীব সংখ্যা N0 হয় এবং সময় পর জীবসংখ্যা যদি Nt হয় তাহলে – Nt = N0 + B + I – (D + E) [যেখানে, B = জন্মহার বা Birth rate, I = অভিবাসন বা Immigration, D = মৃত্যুহার বা Death rate, E = প্রবাসন বা Emigration]

পরিযান বা Migration কাকে বলে?

প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কারণে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া বা আসাকে পরিযান বলে। পরিযানের ফলে জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।

পরিযানের কারণ কী?

কোনো জীবগোষ্ঠী যে বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশের আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে (যেমন – উষ্ণতার হ্রাসবৃদ্ধি, বৃষ্টিপাত), খাদ্যের অভাব ঘটলে, বাসস্থানের অভাব হলে, উপযুক্ত প্রজনন সঙ্গী খোঁজার জন্য, শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য জীব পরিযান করে থাকে।

পরিযান

অভিবাসন বা Immigration কী?

যে পরিযান পদ্ধতিতে স্থানীয় জনসংখ্যায় স্থায়ীভাবে নতুন সদস্যসংখ্যা বাইরে থেকে এসে যুক্ত হয়, তাকে অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন বলে। অভিবাসনের ফলে স্থানীয় জনসংখ্যা এবং জিনপুলের আকার বৃদ্ধি পায়।

দেশত্যাগ বা প্রবাসন (Emigration) বলতে কী বোঝো?

যে পরিযান পদ্ধতিতে স্থানীয় জনসংখ্যা ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে কিছু সদস্য সংখ্যা অন্যত্র চলে যায়, তাকে দেশত্যাগ বা এমিগ্রেশন বলে। দেশত্যাগের ফলে স্থানীয় জনসংখ্যার ও জিনপুলের আকার হ্রাস পায়।

নিউট্রালিজম (Neutralism) কাকে বলে?*

কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের আন্তঃক্রিয়া এমন হয় যে, সরাসরি কেউ কারোও কোনো ক্ষতি না করে একই স্থানে বসবাস করে, তাকে নিউট্রালিজম বলে। যেমন – কাঠবেড়ালি ও রবিন পাখি একই গাছে কারোও কোনো ক্ষতি না করে বসবাস করে।

উদ্ভিদ জগতের একটি খাদ্য-খাদক সম্পর্কের উদাহরণ দাও।

উদ্ভিদজগতে একটি খাদ্য-খাদক সম্পর্ক হল পতঙ্গভুক উদ্ভিদের পতঙ্গ শিকার করা। ইউট্রিকুলেরিয়া, ডায়োনিয়া, সূর্যশিশির, কলশপত্রী প্রভৃতি উদ্ভিদেরা পতঙ্গ শিকার করে তাদের দেহ থেকে প্রোটিন নির্যাস শোষণ করে পুষ্টি সম্পন্ন করে। এদের পতঙ্গভুক উদ্ভিদ বলে।

প্রাথমিক খাদক বা প্রথম শ্রেণির খাদক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যেসব তৃণভোজী জীব সরাসরি উৎপাদককে খেয়ে বেঁচে থাকে, তাদের প্রাথমিক খাদক বা প্রথম শ্রেণির খাদক বলে। যেমন – গোরু, ছাগল, খরগোশ, গিনিপিগ, হরিণ, ঘাসফড়িং প্রভৃতি।

গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও। 

যেসব জীব সরাসরি প্রথম শ্রেণির খাদক বা প্রাথমিক খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে, তাদের গৌণ খাদক বলে। যেমন – ব্যাং।

প্রগৌণ খাদক বা তৃতীয় শ্রেণির খাদক বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

যেসব জীব সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেণির খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে, তাদের তৃতীয় শ্রেণির খাদক বা প্রগৌণ খাদক বলে। যেমন – সাপ।

বাস্তুতন্ত্র কতপ্রকার ও কী কী?

বাস্তুতন্ত্র দুপ্রকার। যথা –

  1. প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র (এটি আবার দুপ্রকার – a. স্থলজ বাস্তুতন্ত্র b. জলজ বাস্তুতন্ত্র) এবং
  2. কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র।

উদাহরণ –

  • প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র – বনভূমি, ঘাসজমি,
  • কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র – বাগান, অ্যাকোয়ারিয়াম।

একটি স্থলের ও একটি জলের খাদ্যশৃঙ্খলের উদাহরণ দাও। 

স্থলের খাদ্যশৃঙ্খল (তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল) – ঘাস → ঘাসফড়িং → ব্যাং → সাপ → ময়ূর/বাজপাখি।

জলের খাদ্যশৃঙ্খল – ফাইটোপ্ল্যাংকটন → জুপ্ল্যাংকটন → ছোটো ক্রাস্টেশিয়ান প্রাণী → ছোটো মাছ → বড়ো মাছ → কুমির।

একটি বাস্তুতন্ত্রে সব সবুজ উদ্ভিদ নষ্ট হলে কী হবে?

একটি বাস্তুতন্ত্রে সব উদ্ভিদ নষ্ট হয়ে গেলে খাদক গোষ্ঠী ও বিয়োজক গোষ্ঠী খাদ্যশক্তির অভাবে মারা যাবে। শেষে গোটা বাস্তুতন্ত্রই ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ সবুজ উদ্ভিদরা খাদ্য উৎপাদন ছাড়াও পরিবেশে O₂ ও CO₂ -এর ভারসাম্য বজায় রাখে। সেটিও ব্যাহত হবে। পরিবেশ দূষিত হবে, আবহাওয়ার পরিবর্তন তথা উন্নতা বৃদ্ধি পাবে। অবশেষে বাস্তুতন্ত্রের প্রত্যেকটি উপাদান বিনষ্ট হবে।

সবুজ উদ্ভিদকে উৎপাদক বলা হয় কেন?

সবুজ উদ্ভিদ প্রকৃতি থেকে অজৈব উপাদান সংগ্রহ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে জৈব খাদ্যবস্তু সমূহ উৎপাদন করে। এই খাদ্যবস্তুই বাস্তুতন্ত্রে প্রধান খাদ্যশক্তির উৎস। তাই সমগ্র পরভোজী খাদক গোষ্ঠী এই খাদ্যবস্তুর শক্তির উপরই নির্ভর করে বেঁচে থাকে। তাই একটি বাস্তুতন্ত্র সজীব ও সচল থাকে। সুতরাং, উৎপাদকের খাদ্যশক্তি বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতার মূল নিয়ামক। তাই সবুজ উদ্ভিদকে উৎপাদক বলে।

নীচ্ (Niche) কাকে বলে?

বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত জীবগোষ্ঠীর কোনো জীবের অবস্থান এবং পারিপার্শ্বিক ভৌত শর্তের সঙ্গে মিথোস্ক্রিয়া ও ভূমিকাকে নীচ্ (Niche) বলে।

শক্তিপ্রবাহ (Energy flow) কাকে বলে?

কোনো বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের উৎপাদক থেকে শুরু করে ক্রম পর্যায়ের বিভিন্ন খাদ্যস্তরের (Trophic Level) খাদ্য-খাদক সম্পর্ক যুক্ত প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে খাদ্যশক্তির (রূপান্তরিত সৌরশক্তি) একমুখী প্রবাহকে শক্তিপ্রবাহ (Energy Flow) বলে।

শক্তিপ্রবাহ একমুখী কেন?

শক্তিপ্রবাহ সর্বদা একমুখী (Unidirectional), কারণ উৎপাদক দ্বারা আবদ্ধ শক্তি কখনও সৌরজগতে ফিরে যেতে পারে না। আবার খাদকের দেহে সঞ্চিত শক্তি কোনোভাবেই বিপরীতক্রমে খাদক থেকে উৎপাদকের দেহে ফিরে যেতে পারে না। বাস্তুতন্ত্রে জীবগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্ক বর্তমান। এই সম্পর্কযুক্ত জীবেরা একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল। যেহেতু এই খাদ্য-খাদক সম্পর্ক উভমুখী নয়, তাই উৎপাদক থেকে খাদ্যশক্তি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির খাদকের দেহে স্থানান্তরিত হয়।

আসল অর্জিত শক্তি কাকে বলে?

আসল অর্জিত শক্তি – বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদকের উৎপাদিত শক্তিই প্রাথমিক খাদকেরা গ্রহণ করে। এই শক্তি গৌণ খাদক এবং ক্রমান্বয়ে প্রগৌণ খাদকের দেহে আসল উৎপাদিত শক্তি হিসেবে সঞ্চিত হয়। প্রতিটি পুষ্টিস্তরেই শক্তির ব্যবহার ও সঞ্চয় হয়। এইভাবে যে শক্তি অর্জিত বা সঞ্চিত হয়, তাকে আসল অর্জিত শক্তি বলে।

কোন্ প্রকার খাদ্যশৃঙ্খল সবুজ উদ্ভিদের পরিবর্তে পচনশীল জৈব বস্তুর দ্বারা আরম্ভ হয়? উদাহরণ দাও।

কর্কর খাদ্যশৃঙ্খল বা ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল সবুজ উদ্ভিদের পরিবর্তে পচনশীল জৈববস্তু দ্বারা সূচিত হয়। উদাহরণ –

সবুজ উদ্ভিদের পরিবর্তে পচনশীল জৈব বস্তু

রূপান্তরক (Transformer) কাকে বলে?

বাস্তুতন্ত্রের যে সমস্ত সজীব উপাদান বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত ও পরিবর্তিত সরল জৈব যৌগের আরও ভাঙনের মাধ্যমে তাদের অজৈব যৌগ ও মৌলে পরিণত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয় এবং উৎপাদকের গ্রহণযোগ্য করে তোলে, তাদের রূপান্তরক বা পরিবর্তক (Transformer) বলে। যেমন – ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস, নাইট্রোব্যাকটার, নাইট্রোসোমোনাস, সিউডোমোনাস প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া।

বিয়োজক ও পরিবর্তকের একটি পার্থক্য লেখো।

বিয়োজক মৃত জীবদেহ বা দেহাংশ বা বর্জ্য পদার্থের জটিল জৈব যৌগগুলিকে বিশ্লিষ্ট করে সরল জৈবযৌগে পরিণত করে। যেমন – ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক। অন্যদিকে, পরিবর্তক সরল জৈবযৌগকে শঠিত করে, যা প্রকৃতিতে ফিরে গিয়ে জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। যেমন – অ্যাকটিনোমাইসিটিস সহ কিছু অণুজীব।

পুষ্টিস্তর বা ট্রফিক লেভেল কাকে বলে?

কোনো বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত পুষ্টির ক্রমপর্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত প্রতিটি স্তরকে পুষ্টিস্তর বা খাদ্যস্তর বা ট্রফিক লেভেল বলা হয়।

বাস্তুতন্ত্রের পুষ্টিস্তরগুলি যথা –

  • উৎপাদক স্তর (সবুজ উদ্ভিদ),
  • প্রাথমিক খাদক (যেমন – ফড়িং, খরগোশ, হরিণ প্রভৃতি),
  • গৌণ খাদক (যেমন – ব্যাং, শেয়াল, বাঘ প্রভৃতি),
  • প্রগৌণ খাদক (যেমন – সাপ, ময়ূর, মানুষ প্রভৃতি)।

পরজীবী বা প্যারাসাইটিক খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?

যে খাদ্যশৃঙ্খলে খাদ্যশক্তি কোনো বৃহৎ খাদক প্রাণী বা উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ক্রমপর্যায়ে ছোটো পরজীবী জীবে বিস্তৃত হয়, তাকে পরজীবী বা প্যারাসাইটিক খাদ্যশৃঙ্খল বলে। উদাহরণ –

স্তন্যপায়ী প্রাণী (ইঁদুর) → পরজীবী মাছি (র‍্যাট ফ্রি) → মাছির প্রোটোজোয়া (লেপ্টোমোনাস)

লিন্ডেম্যানের দশ শতাংশের সূত্র কাকে বলে?

লিন্ডেম্যানের দশ শতাংশ সূত্র – বিজ্ঞানী রেমন্ড লিন্ডেম্যান (R. Lindemann, 1942) -এর মতে, বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলের মধ্যে দিয়ে শক্তিপ্রবাহের সময় একটি পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী পুষ্টিস্তরে মাত্র 10% শক্তি স্থানান্তরিত হয়, বাকি 90% শক্তির রূপান্তর ঘটে অর্থাৎ, পুষ্টিস্তরের জীব কর্তৃক জীবনধারণের জন্য ব্যয়িত হয়ে যায়।

যেমন –

উৎপাদক (উদ্ভিদ) 1000 জুল → 1ম শ্রেণির খাদক (ঘাসফড়িং) 100 জুল → 2য় শ্রেণির খাদক (ব্যাং) 10 জুল → 3য় শ্রেণির খাদক (সাপ) 1 জুল

প্ল্যাংকটন বলতে কী বোঝো?

জলজ বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী এককোশী আণুবীক্ষণিক জীবগোষ্ঠীকে প্ল্যাংকটন বলে। প্ল্যাংকটন দুপ্রকার। যথা –

  • ফাইটোপ্ল্যাংকটন (আণুবীক্ষণিক জলে ভাসমান উদ্ভিদ, যেমন – ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স প্রভৃতি) এবং
  • জুপ্ল্যাংকটন (আণুবীক্ষণিক জলে ভাসমান প্রাণী, যেমন – ডাফনিয়া, সাইক্লপস প্রভৃতি)।

নেকটন ও বেনথস কী?

নেকটন – যে সমস্ত প্রাণী জলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে বেড়ায়, তাদের নেকটন বলে। উদাহরণ – মাছ, চিংড়ি প্রভৃতি।

বেনথস – যে সমস্ত প্রাণী জলাশয়ের নীচে কাদায় বসবাস করে তাদের বেনথস বলে। উদাহরণ – শামুক, ঝিনুক, স্পঞ্জ প্রভৃতি।

মাঠের বাস্তুতন্ত্রে অত্যধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে বাস্তুতন্ত্র কীভাবে বিপর্যস্ত হবে?

মাঠের বাস্তুতন্ত্রে অত্যধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে বাস্তুতন্ত্র দুভাবে বিপর্যস্ত হবে। যথা –

  • কীটনাশকের প্রভাবে কীটপতঙ্গ মারা পড়বে ফলে বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টিস্তর ধ্বংস হবে এবং পরবর্তী পুষ্টিস্তরের প্রাণী খাদ্যের অভাবে মারা যাবে।
  • কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের প্রভাবে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি বিয়োজকগোষ্ঠী নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে মাঠের জৈবপদার্থ ও মৃত জীবদেহের বিশ্লেষণ ব্যাহত হবে ও মাটির উর্বরতা কমে যাবে।

মানুষ ও পিঁপড়ের পপুলেশন বৃদ্ধি হারের লেখচিত্রের আকৃতি কীরূপ?

মানুষের পপুলেশনের বৃদ্ধি হারের লেখচিত্র S আকৃতি বা লজিস্টিক ধরনের।

পিঁপড়ের পপুলেশন বৃদ্ধি হারের লেখচিত্র J-আকৃতির লেখচিত্রের ন্যায়।

ইনভার্টেড সংখ্যা পিরামিডের উদাহরণ দাও।

ইনভার্টেড সংখ্যা পিরামিডের উদাহরণ – পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খলের পিরামিড একটি ইনভার্টেড সংখ্যা পিরামিড। কারণ এই প্রকার খাদ্য পিরামিডে উৎপাদকের সংখ্যা সব থেকে কম। উৎপাদক থেকে যত উপরের স্তরে যাওয়া যায় তত প্রাথমিক, গৌণ, প্রগৌণ খাদকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বৃক্ষ → ফল ভক্ষণকারী পাখি → পাখির দেহে অবস্থিত পরজীবী → পরজীবীগুলির দেহে অবস্থিত অণুবীক্ষণিক অধিপরজীবী জাতীয় জীব

নাইট্রোজেনের জৈবিক সংবন্ধন বলতে কী বোঝো?

নাইট্রোজেনের জৈবিক সংবন্ধন – বাস্তুতন্ত্রের সজীব অণুজীব, [যেমন – অ্যাজোটোব্যাকটর (বায়ুজীবী), ক্লসট্রিডিয়াম (অবায়ুজীবী), রাইজোবিয়াম (মিথোজীবী) প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া এবং অ্যানাবিনা, নস্টক প্রভৃতি সায়ানোব্যাকটেরিয়া] যে পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেনকে আবদ্ধ করে নাইট্রাইট (NO2) ও নাইট্রেট (NO3) লবণে পরিণত করে, তাকে নাইট্রোজেনের জৈবিক সংবন্ধন বলে।

বার্ষিক নাইট্রোজেন সংবন্ধনের পরিমাণ প্রায় 140 – 700 mg/m²/yr বা 175 মিলিয়ন টন হয়।

বাস্তুতন্ত্রের ফ্লোরা ও ফনা বলতে কী বোঝো?

বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত সমস্ত উদ্ভিদগোষ্ঠীকে ফ্লোরা এবং সমস্ত প্রাণীগোষ্ঠীকে ফনা বলে।

বায়োস্ফিয়ার (Biosphere) কাকে বলে?

পৃথিবীর যে অংশে বাস্তুতন্ত্র ক্রিয়াশীল হয়, সেই স্থলভাগ, বাতাস এবং জলভাগকে বায়োস্ফিয়ার বা জীবমণ্ডল বলে। ইহা তিনটি জড় উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা – হাইড্রোস্ফিয়ার (জলস্তর), লিথোস্ফিয়ার (অশ্মস্তর) এবং বায়ুস্তর (গ্যাসীয় স্তর)। সাধারণত সমুদ্রের গভীরে 7 km ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে 6 km পর্যন্ত মোট 13 km স্থান জীবস্তর বা বায়োস্ফিয়ার।

পরিপোষক চক্র কী?

জীবের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব এবং অজৈব উপাদানগুলি যে চক্রাকার পদ্ধতিতে পরিবেশ থেকে জীবদেহে (উৎপাদকের মাধ্যমে), জীবদেহ থেকে অপর জীবদেহে (খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে) এবং পুনরায় জীবদেহ থেকে পরিবেশে (বিয়োজকের মাধ্যমে) যুক্ত হয় এবং মৌলিক উপাদানগুলির ভারসাম্য বজায় রাখে, তাকে পরিপোষক চক্র (Nutrient Cycle) বলে। যেমন – নাইট্রোজেন চক্র, অক্সিজেন চক্র, কার্বন চক্র ইত্যাদি।

পরিপোষক চক্রের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব কী?

পরিপোষক চক্রের প্রয়োজনীয়তা –

  • কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, ক্যালশিয়াম, সালফার প্রভৃতি মৌলগুলি জীবকোশের প্রাথমিক সাংগঠনিক উপাদান। এই সমস্ত মৌলের অভাবে জীবকোশের তথা প্রোটোপ্লাজমের গঠন ও কাজ ব্যাহত হয়।
  • জীব প্রয়োজনীয় মৌলগুলি পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করে এবং পুনরায় বিয়োজক -এর সাহায্যে মৌলগুলি জীবদেহ থেকে পরিবেশে প্রবেশ করে।
  • পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে পুষ্টি উপাদানের এই চক্রাকার আবর্তন বা পরিপোষক চক্রের মাধ্যমেই বাস্তুতন্ত্রে সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

আলোকপর্যায়বৃত্তি কাকে বলে? দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ ও হ্রস্ব দিবা উদ্ভিদ কাকে বলে?

আলোকপর্যায়বৃত্তি (Photoperiodism) – আপেক্ষিক দিবাদৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ফুল ফোটার ঘটনাকে আলোকপর্যায়বৃত্তি বলে।

নির্দিষ্ট সময়কালের বেশি আলো থাকলে যে গাছে ফুল ফোটে, তাকে দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ বলে। যেমন – সরষে, মুলো, পালং, ভুট্টা, গম প্রভৃতি।

নির্দিষ্ট সময়কালের কম আলো থাকলে যে গাছে ফুল ফোটে, তাকে হ্রস্ব দিবা উদ্ভিদ বলে। যেমন – ধুতুরা, তামাক, সয়াবিন, আলু প্রভৃতি।

সানপ্ল্যান্ট কাকে বলে? দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

সানপ্ল্যান্ট – যে-সমস্ত উদ্ভিদ উজ্জ্বল আলোকে জন্মায় এবং উজ্জ্বল আলোকের সাপেক্ষে বিভিন্নভাবে অভিযোজিত হয়, তাদের সানপ্ল্যান্ট বলে।

সানপ্ল্যান্টের বৈশিষ্ট্য –

  • সানপ্ল্যান্টের পাতাগুলি পুরু কিউটিকল যুক্ত।
  • পাতার প্যালিসেড প্যারেনকাইমা কলা উন্নত। উদাহরণ – সূর্যমুখী, ধান, নারকেল ইত্যাদি।

বার্গম্যান নীতি (Bergman’s Rule) কাকে বলে?

বার্গম্যান নীতি হল প্রাণীদের তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোজন। বিজ্ঞানী বার্গম্যান লক্ষ করেন যে, ঠান্ডার দেশের প্রাণীদের দেহের আয়তন ও অন্যান্য দেহাংশের আপেক্ষিক আয়তন ও আকার গ্রীষ্মপ্রধান দেশের প্রাণীদের তুলনায় বেশি হয়। দেহতল নিম্ন তাপমাত্রার সঙ্গে অভিযোজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জৈবিক ক্ষমতা কাকে বলে?

জৈবিক ক্ষমতা – কোনো আদর্শ পরিবেশে (যেখানে বাসস্থান ও খাদ্যের অভাব বা শিকারী প্রাণীর, পরজীবীর আক্রমণ নেই) জীবের সর্বাধিক প্রজনন ক্ষমতাকে জৈবিক ক্ষমতা বলে। এই সময় জীবের সহজাত সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে।

বাস্তুবিদ্যা কাকে বলে? বাস্তুবিদ্যা অধ্যয়নের স্তরগুলি ছকের মাধ্যমে উল্লেখ করো।

বাস্তুবিদ্যা (Ecology – Oikos = বসতিস্থান এবং logos = জ্ঞানলাভ) – জীববিজ্ঞানের যে শাখায় নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠীর পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক এবং তাদের সঙ্গে বসতিস্থানের ভৌত বা অজৈব ও জৈব পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।

বিজ্ঞানী হেকেল (Ernst Haeckel, 1866) প্রথম ‘Ecology’ শব্দটি প্রবর্তন করেন।

বাস্তুবিদ্যা অধ্যায়নের স্তর

অটইকোলজি ও সিনইকোলজি বলতে কী বোঝো?

অটইকোলজি (Autecology) – বাস্তুতন্ত্রের কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বসবাসকারী কোনো একটি প্রজাতির অন্তর্গত সমস্ত জীবের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পরিবেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্বন্ধে আলোচনাকে অটইকোলজি বলে।

উদাহরণ – সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রে সমস্ত সুন্দরীগাছ সম্পর্কিত অধ্যয়ন।

সিলইকোলজি (Synecology) – বাস্তুতন্ত্রের কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বসবাসকারী সমস্ত প্রজাতির অন্তর্গত জীবসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক সম্বন্ধে অধ্যয়নকে সিনইকোলজি বলে।

উদাহরণ – সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত উদ্ভিদ প্রজাতি সম্পর্কিত অধ্যয়ন।

একক জীবস্তর কাকে বলে? বাস্তুতন্ত্রে একক জীবস্তরের গুরুত্ব কী?

একক জীবস্তর (Individual Level) – জীব হল বাস্তুতন্ত্রের প্রাথমিক একক, একে একক জীবস্তর বলে।

একক জীবস্তরের গুরুত্ব –

  • একক জীবস্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন জীব কীভাবে অভিযোজিত হয়ে বেঁচে আছে, সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
  • পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে জীবের গঠন, শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ, আচরণ, বিস্তার, জনন ও বংশবিস্তারের ধরন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়।

হেলিওফাইট কাকে বলে? এদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

হেলিওফাইট (Heleophyte) – যে-সমস্ত উদ্ভিদ উজ্জ্বল আলোতে জন্মায়, তাদের হেলিওফাইট বা সানপ্ল্যান্ট (Sunplant) বলে। যেমন – সূর্যমুখী, নারকেল।

হেলিওফাইট উদ্ভিদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য –

  • মূল – মূলতন্ত্র উন্নত এবং সুগঠিত।
  • কাণ্ড – কাণ্ড সাধারণত দীর্ঘ ও অশাখ হয়। পর্বমধ্য সংক্ষিপ্ত ও পুরু, যান্ত্রিক কলা ও সংবহনকলা সুগঠিত থাকে। কোশরসের অভিস্রবণ চাপ অধিক হওয়ায় দীর্ঘ কাণ্ডের সুউচ্চতায় পরিবহণ সহজ হয়।
  • পাতা – পাতাগুলি পুরু কিউটিকলযুক্ত, দীর্ঘ শক্ত চামড়ার মতো। অপরিণত পাতা হালকা সবুজ বর্ণের হয় পরিণত পাতা কখনো কখনো বাদামি বর্ণের হয়। পাতার অন্তর্গঠন প্যালিসেড প্যারেনকাইমা সমৃদ্ধ, পত্ররন্ধ্র গভীরে অবস্থান করে।

জেরোফাইট কাকে বলে? এদের অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

জেরোফাইট (Xerophyte) – যে-সমস্ত উদ্ভিদ শুষ্ক, জলশূন্য, উচ্চ তাপমাত্রাযুক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকে, তাদের জেরোফাইট বা জাঙ্গল উদ্ভিদ বলে। যেমন – ফণীমনসা, ইউফরবিয়া প্রভৃতি।

জেরোফাইটের অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য –

  • মূল – প্রধান মূল দীর্ঘ, সুগঠিত যান্ত্রিক ও সংবহন কলা যুক্ত, শাখাপ্রশাখা মূলগুলি মাটির। নীচের জালের মতো ছড়িয়ে থাকে। ফলে মাটির গভীর থেকে জলশোষণ করতে পারে।
  • কাণ্ড – সাধারণত কাণ্ড চ্যাপটা, সবুজ, রসালো প্রকৃতির। প্রসারিত পাতার মতো এবং মিউসিলেজ ও পুরু কিউটিকলযুক্ত, যা জলধারণ। করে রাখে, খাদ্য সংশ্লেষে সক্ষম।
  • পাতা – সাধারণত কাঁটায় রূপান্তরিত হয় অথবা ক্ষুদ্রাকার পুরু কিউটিকলযুক্ত ও ঘনরোম দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। বাষ্পমোচন এড়ানোর জন্যই এই পত্রকন্টক গঠিত হয়। এরা সবুজ হওয়ায় খাদ্য সংশ্লেষ করতে পারে।
জেরোফাইট (ক্যাকটাস)

হ্যালোফাইট কাকে বলে? হ্যালোফাইটের অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

হ্যালোফাইট (Halophyte) বা লবণাম্বু উদ্ভিদ – যে-সমস্ত উদ্ভিদ কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়, তাদের হ্যালোফাইট বা লবণাম্বু উদ্ভিদ বলে। যেমন – সুন্দরী, গরাণ, রাইজোপাস, হেতাল।

হ্যালোফাইটের অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য –

  • মূল – প্রধান মূল দীর্ঘ ও সুগঠিত। শাখামূল শ্বাসকার্যের জন্য মাটির ওপরে উঠে আসে, একে শ্বাসমূল বলে। কাণ্ডের গোড়া থেকে অস্থানিক ঠেসমূল নির্গত হয়। বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালাতে পারে।
  • কাণ্ড – খর্বাকার ও গম্বুজাকার এবং পুরু কিউটিকলযুক্ত।
  • পাতা – ছোটো, স্থূল, পুরু কিউটিকলযুক্ত এবং পত্ররন্ধ্র নিবেশিত প্রকৃতির হয়।
হ্যালোফাইট (রাইজোপাস)

হাইড্রোফাইট কাকে বলে? এদের অভিযোজনমূলক গুরুত্বগুলি লেখো।

হাইড্রোফাইট (Hydrophyte) বা জলজ উদ্ভিদ – যে সমস্ত উদ্ভিদ জলে জন্মায়, তাদের হাইড্রোফাইট বা জলজ উদ্ভিদ বলে। যেমন – পদ্ম, শালুক, কচুরিপানা প্রভৃতি।

হাইড্রোফাইটের বৈশিষ্ট্য –

  • মূল – অস্থানিক প্রকৃতির, মূলত্র ও মূলরোমবিহীন হয়।
  • কাণ্ড – নরম, রসালো বা গ্রন্থিকাণ্ড প্রকৃতির, দুর্বল যান্ত্রিক কলা ও সংবহন কলা যুক্ত।
  • পাতা – বৃহদাকার, দীর্ঘ পত্রবৃন্তযুক্ত বা ক্ষুদ্রাকার ছুঁচোলো, পত্ররন্ধ্র উপরিতলে অবস্থিত, ফলে বাষ্পমোচন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় ও দেহের অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে নির্গত হতে পারে।
হাইড্রোফাইট (কচুরিপানা)

মরুভূমির প্রাণীদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।

মরুভূমি অঞ্চলের প্রধান সমস্যা জলের অপ্রতুলতা, তাপমাত্রার বৈপরীত্য, বালিঝড় এবং শত্রুর আক্রমণ। এই সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে মরু অঞ্চলের প্রাণীদের অভিযোজন কৌশল লক্ষ করা যায়।

মরুজ প্রাণীদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য –

  • কাঁকড়াবিছে, মাকড়সা এবং অন্যান্য পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণীর দেহের বাইরে শক্ত, পুরু, আবরণ অথবা মোমের ন্যায় আবরণ থাকে যা জলের নির্গমন রোধ করে দেহে, আর্দ্রতা ধরে রাখে। কখনো-কখনো দিনের প্রচণ্ড দাবদাহে গর্তের মধ্যে আত্মগোপন করে দেহের আর্দ্রতা রক্ষা করে।
  • বহু মরুজ প্রাণীরা দেহে উপস্থিত চামড়ার পুরু স্তর, স্কিউট বা লোম, কাঁটার সাহায্যে তাপমাত্রা প্রতিহত করে। চামড়ার নীচে পুরু চর্বির স্তর থাকে। বহু প্রাণী মল ও মূত্র থেকে জল শোষণ করেও জলের ঘাটতি উট পূরণ করে। ফলে মরুজ প্রাণীদের মল-মূত্র গাঢ় হয়। যেমন – মোলোক হরিদাস নামক গিরগিটি চামড়া দিয়ে সামান্য পরিমাণ জলও ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নেয়। দেহে অবস্থিত হাইগ্রোস্কোপিক গ্রন্থির সাহায্যে শিশির থেকেও এরা জল সংরক্ষণ করে।
  • স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা কম থাকায় ঘামের মধ্যে দিয়ে জল বের হওয়া রোধ হয়। বিপাকীয় জলই হল মরু অঞ্চলের প্রাত্যহিক জলের উৎস। যেমন – উটের কুঁজে থাকা চর্বির জারণে জল উৎপন্ন হয় যা জলের চাহিদা মেটায়। উট সহ অনেক প্রাণীদের পায়ে পুরু প্যাড থাকায় তপ্ত বালির ওপর দিয়ে এরা স্বচ্ছন্দে হাটাচলা করতে পারে। এদের বহিঃনাসারন্ধ্রকে এরা কপাটিকার মত বন্ধ করে বালিঝড় থেকে রক্ষা পায়। উটের চোখের বড় লোম চোখগুলিকে বালির হাত থেকে বাঁচায়।
উট

মেরুপ্রদেশের প্রাণীদের তিনটি অভিযোজন লেখো।

মেরুপ্রদেশের প্রাণীদের অভিযোজন –

  • দেহের আকার সাধারণত বড়ো এবং কান, মুখ, লেজ প্রভৃতি অঙ্গের আকৃতি ছোটো হয়।
  • চামড়ার নীচে পুরু চর্বির স্তর বা ব্লাবার থাকে, যা এদের দেহের তাপমাত্রা ধরে রাখে।
  • সামুদ্রিক মাছের দেহে অ্যান্টি-ফ্রিজিং প্রোটিন থাকে। এর ফলে এদের দেহের ভিতরের কলারসের জলীয় অংশ জমে বরফ হয়ে যায় না।

একটি জলজ প্রাণীর তিনটি অভিযোজন লেখো।

একটি জলজ প্রাণীর (রুইমাছের) অভিযোজন –

  • দেহ মাকু আকৃতির, ত্বক পিচ্ছিল ডারমাল আঁশ দ্বারা আবৃত থাকে।
  • গমন অঙ্গ হিসেবে জোড়-বিজোড় পাখনা উপস্থিত থাকে।
  • শ্বাসঅঙ্গ ফুলকা, কানকো দ্বারা আবৃত থাকে।

জীবের উপর পরিবেশের তাপমাত্রার প্রভাব উল্লেখ করো।

পরিবেশে তাপমাত্রার তারতম্য উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের দেহের বিশেষ প্রভাব ফেলে।

উদ্ভিদের অভিযোজন –

  • উষ্ণতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদেরা অভিযোজিত হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় উদ্ভিদের ত্বকের গঠন পুরু হয়, ঘন রোম দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। কিছু কিছু উদ্ভিদে পুরু মিউসিলেজের আবরণ থাকে এবং ত্বক কিউটিন নির্মিত হয়।
  • স্বল্প তাপমাত্রায় বসবাসকারী উদ্ভিদের পাতায় স্নেহপদার্থ সঞ্চিত থাকে।

প্রাণীদের অভিযোজন –

  • শীতল আবহাওয়ায় বসবাসকারী প্রাণীদের দেহের আকৃতি ও গঠন উষ্ণ আবহাওয়ায় বসবাসকারী প্রাণীদের তুলনায় বড়ো হয়।
  • কিছু কিছু প্রাণী ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসকালে শীতঘুমে দিন কাটিয়ে দেহের তাপমাত্রা প্রতিরোধ করে।
  • মেরু অঞ্চলের কিছু কিছু প্রাণীর ত্বকের নীচে চর্বির পুরু স্তর বা ব্লাবার থাকে এবং দেহে অধিক ঘন লোম থাকে।
  • প্রচণ্ড দাবদাহে মরু অঞ্চলের প্রাণীরা বালির নীচে গর্তের মধ্যে বসবাস করে গ্রীষ্মঘুমে দিন কাটায়। উটের নেত্রপল্লব অনেক বড়ো হয়, ফলে মরুঝড়ে চোখের মধ্যে বালির প্রবেশে বাধাদান করে।

খাদ্য-খাদক সম্পর্ক বলতে কী বোঝো? উপযুক্ত উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো।

খাদ্য-খাদক সম্পর্ক (Prey-Predator Relationship) – যে আন্তঃক্রিয়ায় দুটি প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে একটি প্রজাতি (খাদক) অপর প্রজাতিকে (খাদ্য) মেরে ফেলে ও তার মৃতদেহ ভক্ষণ করে তাকে খাদ্য-খাদক সম্পর্ক বলে।

খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে বাস্তুতন্ত্রে জীবভরের ভারসাম্য বজায় থাকে। খাদ্য-খাদক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে পেস্টের জৈবিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

উদাহরণ –

  • গঙ্গাফড়িং এর খাদক হল ময়নাপাখি, গাম্বুসিয়া মাছ, মশার লার্ভা খায়। সুতরাং ময়নাপাখি, গাম্বুসিয়া মাছ জৈবিক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • হরিণকে বাঘ খায়, ফড়িংকে ব্যাং খায়।
  • কলসপত্রী, সূর্যশিশির প্রভৃতি পতঙ্গভুক উদ্ভিদ ছোটো ছোটো কীটপতঙ্গ শিকার করে তাদের দেহ থেকে দেহরস শোষণ করে।
খাদ্য-খাদক সম্পর্ক

প্রতিযোগিতা কয়প্রকার ও কী কী?

প্রতিযোগিতা দুপ্রকার। যথা –

  • অন্তঃপ্রজাতি প্রতিযোগিতা – একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যে খাদ্য, বাসস্থান প্রভৃতির জন্য যে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। উদাহরণ – বড়ো মাছেরা ছোটো মাছদের ধরে খায়।
  • প্রতিযোগিতা আন্তঃপ্রজাতি – ভিন্ন প্রজাতি জীবদের মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের জন্য যে প্রতিযোগিতা ঘটে। উদাহরণ – সাপ, ইঁদুর ধরে খায়।

মিউচুয়ালিজম কাকে বলে? মিউচুয়ালি জমের দুটি উদাহরণ দাও।

মিউচুয়ালিজম (Mutualism) – যে আন্তঃক্রিয়া বা মিথোস্ক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব এমনভাবে স্থায়ী সহাবস্থান করে যে উভয় প্রজাতিই লাভবান হয় এবং উভয় প্রজাতিই এককভাবে বেঁচে থাকতে পারে না, তাকে মিউচুয়ালিজম বা সিমবায়োসিস বলে।

উদাহরণ –

  • উদ্ভিদ মিথোজীবিতা – লাইকেন – শৈবাল ও ছত্রাকের সমন্বয়ে গঠিত স্থায়ী মিথোজীবী সম্পর্ক। এক্ষেত্রে ছত্রাক প্রধানত দেহ গঠন করে এবং শৈবালকে জল ও খনিজ লবণ সরবরাহ করে এবং শৈবাল সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় যে খাদ্য তৈরি করে তা ছত্রাক গ্রহণ করে।
  • প্রাণী মিথোজীবিতা – উইপোকা সেলুলোজকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে। এই সেলুলোজ হজমে সাহায্য করে ট্রাইকোনিম্ফা (Trichonympha sp.) নামক প্রোটোজোয়া। এক্ষেত্রে প্রোটোজোয়া এককভাবে জীবনধারণে অক্ষম এবং প্রোটোজোয়ার সাহায্য ছাড়া উইপোকাও সেলুলোজ হজম বা পরিপাক করতে পারে না।
লাইকেন (শৈবাল ও ছত্রাকের মিথোজীবিতা) এবং ট্রাইকোনিম্ফা

কমেনসালিজম কাকে বলে? উদাহরণ দিয়ে ঘটনাটি বুঝিয়ে দাও।

কামনসালিজম (Commensalism; com = with, mensa = table, eating at the same table) – যে আন্তঃক্রিয়া বা মিথোস্ক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব এমনভাবে সহাবস্থান করে যে, একটি জীব সর্বদাই উপকৃত হয় এবং অপর জীবটি উপকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত কোনোটিই হয় না। এক্ষেত্রে উপকৃত জীবকে কমেনসাল এবং অপর জীবকে আশ্রয়দাতা বা হোস্ট বলা হয়।

উদাহরণ –

  • ই. কোলাই (Escherichia coli) নামক ব্যাকটেরিয়া মানুষের কোলনে বসবাস করে। ব্যাকটেরিয়া মানুষের কোলন থেকে অপাচ্য খাদ্য সংগ্রহ করে এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং ভিটামিন B12 সংশ্লেষে সাহায্য করে।
  • চোষক মাছ (Sucker fish; Echeneis or Remora) হাঙরের দেহতলের নীচে চোষকের (মাথায় অবস্থিত পৃষ্ঠীয় পাখনার রূপান্তর) সাহায্যে আটকে থাকে এবং বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়ে খাদ্য সংগ্রহ করার সুযোগ পায়।
চোষক মাছ ও হাঙরের সম্পর্ক

প্রোটো-কোঅপারেশন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

প্রোটো-কোঅপারেশন – যে আন্তঃক্রিয়া বা মিথোস্ক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব অস্থায়ী সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে উভয়েই উপকৃত হয়, তাকে প্রোটো-কোঅপারেশন বলে।

উদাহরণ –

1. লাল ঠোঁটযুক্ত অক্স পেকার (Buphagus erythrorynchus) এবং হলুদ ঠোঁটযুক্ত অক্স পেকার (Buphagus africanus) কালো গন্ডারের (Diceros dicornis) সঙ্গে প্রোটো-কোঅপারেশন সম্পর্ক স্থাপন করে।

রেডবিলড অক্স পেকার ও গন্ডারের সম্পর্ক

2. সন্ন্যাসী কাঁকড়া (Eupagurus prideauxi) ও সি-অ্যানিমোনের (Adamsia pallicata) সম্পর্ক।

সন্ন্যাসী কাঁকড়া ও সি-অ্যানিমোনের সম্পর্ক

দুটি ক্ষেত্রেই সম্পর্কগুলি অস্থায়ী এবং মিথোজীবী। অক্স পেকার গন্ডারের গায়ে থাকা উকুনজাতীয় কীট ও অন্যান্য প্যারাসাইট খেয়ে গন্ডারকে রোগ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, সি-অ্যানিমোন গমনে অক্ষম হওয়ায় কাঁকড়ার খোলকের সঙ্গে আবদ্ধ থেকে স্থানান্তরে যায় ও খাদ্য সংগ্রহ করে এবং সি-অ্যানিমোনের বিষাক্ত নিডোব্লাস্ট কোশের নিমাটোসিস্টের আন্দোলন দ্বারা কাঁকড়া শত্রু প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পায়।

অ্যামেনসালিজম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

অ্যামেনসালিজম (Ammensalism) – যে আন্তঃক্রিয়া বা মিথোস্ক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব এমনভাবে সহাবস্থান করে যে, একটি জীব অপর জীবটির বৃদ্ধি ব্যাহত করে বা কাছাকাছি জন্মাতে বাধা দেয়, তাকে অ্যামেনসালিজম বলে। একটি জীব যা ক্ষরণ করে অপর জীবের বৃদ্ধি ব্যাহত করে, তাকে অ্যালোকেমিকস (Allochemics) বলে।

উদাহরণ –

  • পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
  • আখরোটের মূল ‘জাগলোন’ (Juglone) নামক যে রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে তা আপেল, টম্যাটো, আলফা আলফা শাকের বৃদ্ধি ব্যাহত করে।

অন্তঃপ্রজাতি পজিটিভ মিথোস্ক্রিয়ার প্রকারভেদগুলি উদাহরণসহ আলোচনা করো।

অন্তঃপ্রজাতি পজিটিভ মিথোস্ক্রিয়া তিনপ্রকার। যথা –

  • কলোনাইজেশন (Colonization) – খাদ্য সংগ্রহ, আত্মরক্ষা, উষ্ণতাপ্রাপ্তি প্রভৃতি কারণে প্রাণীরা দলবদ্ধভাবে বাস করে। যেমন – খাদ্য সংগ্রহের জন্য পিঁপড়েরা দলবদ্ধভাবে বাস করে।
  • অ্যাগ্রিগেশন (Aggregation) – স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। যেমন – পরিযায়ী পাখিরা পরিযানের সময় দলবদ্ধভাবে থাকে।
  • সোস্যাল অ্যাগ্রিগেশন (Social Aggregation) – শ্রমবিভাজনের মাধ্যমে দলবদ্ধভাবে থেকে সমাজ তৈরি করে। যেমন – বোলতা, মৌমাছি প্রভৃতি পতঙ্গ।

পরজীবিতা বা প্যারাসিটিজম কাকে বলে? পরজীবিতার প্রকারভেদগুলি লেখো।

পরজীবিতা (Parasitism) – যে ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়ায় বা মিথোস্ক্রিয়ায় আবদ্ধ দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে একটি জীব অপর জীবের দেহে যুক্ত (আশ্রয়দাতা) থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে এবং আশ্রয়দাতার ক্ষতিসাধন করে, তাকে পরজীবিতা বলে।

পরজীবিতার প্রকারভেদ –

পরজীবিতা

  • বহিঃপরজীবী → মাথার উকুন, ছারপোকা প্রভৃতি
  • অন্তঃপরজীবী → গোলকৃমি মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে বাস করে
  • স্থায়ী পরজীবী → মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী এন্টামিবা
  • অস্থায়ী পরজীবী → জোঁক, স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা
  • সম্পূর্ণ পরজীবী বা হোলোপ্যারাসাইট → র‍্যাফ্লেসিয়া
  • আংশিক পরজীবী → লোরানথাস
  • হাইপার পরজীবী → ব্যাকটেরিওফাজ

বাস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

বাস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য –

  • উপাদান – বাস্তুতন্ত্র জীব, জড় এবং ভৌত উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কার্যকরী একক পরিবেশ।
  • শক্তিপ্রবাহ – বাস্তুতন্ত্র একমুখী শক্তিপ্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সমস্ত বাস্তুতন্ত্রে স্বভোজী জীব এই শক্তি সূর্য থেকে লাভ করে। ব্যতিক্রম – রসায়নভোজী ব্যাকটেরিয়া।
  • পুষ্টিচক্র – বাস্তুতন্ত্রে জীবজগৎ ও জড়জগতের মধ্যে পুষ্টি উপাদানগুলির প্রতিনিয়ত চক্রাকার আবর্তন চলে।
  • হোমিওস্ট্যাসিস – বাস্তুতন্ত্র সর্বদাই সাংগঠনিক উপাদানগুলির মধ্যে পারস্পরিক এবং আপেক্ষিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।
  • নির্ভরশীলতা – বাস্তুতন্ত্রের উপাদানগুলি একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল। কোনো একটি উপাদানের অভাবে বাস্তুতন্ত্রের সকল জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।

বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বগুলি লেখো।

বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব –

  • বাস্তুতন্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট জীবপ্রজাতি সম্পর্কে ধারণালাভ করা যায়।
  • সজীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও আন্তঃক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়।
  • আদর্শ বাস্তুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণের দ্বারা খরা, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ করা সম্ভব হয়।
  • বাস্তুতন্ত্রের জ্ঞান দ্বারা জল, মাটি, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করা যায়।
  • বহু লুপ্তপ্রায় জীবকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
  • বাস্তুতন্ত্র অধ্যায়নের মাধ্যমে ভূ-রাসায়নিক চক্রের নানা মৌলের উপযোগিতা বোঝা যায়।

উৎপাদক কাকে বলে? বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদকের গুরুত্ব কী?

উৎপাদক (Producers) – বাস্তুতন্ত্রের ক্লোরোফিলযুক্ত যে সজীব উপাদান সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO₂ ও H₂O -এর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে শর্করাজাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং উপজাত পদার্থরূপে O₂ পরিবেশে ত্যাগ করে, তাকে উৎপাদক বলে। নিজেদের দেহে উৎপন্ন খাদ্য থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে বলে, এদের স্বভোজী বা অটোট্রফ (Autotroph)-ও বলা হয়।

6CO2(কার্বন ডাইঅক্সাইড)+12H2O(জল)ক্লোরোফিলসূর্যালোকC6H12O6(শর্করা)+6H2O(জল)+6O2(অক্সিজেন)

উৎপাদকের গুরুত্ব –

  • খাদ্য উৎপাদন – অজৈব যৌগের (CO₂ ও H₂O) মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে উৎপাদক যে জৈবযৌগ বা শর্করাজাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তা সমস্ত জীবজগতে খাদ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • সৌরশক্তি আবদ্ধকরণ – উৎপাদক ক্লোরোফিলের সাহায্যে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই শক্তিই বাস্তুতন্ত্রে প্রবাহিত হয় এবং জীবজগৎকে সক্রিয় রাখে।
  • পরিবেশ দূষণ রোধ – উৎপাদক পরিবেশ থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং বাতাসে O₂ মুক্ত করে এবং এর দ্বারা পরিবেশে O₂ – CO₂ ভারসাম্য রক্ষিত হয় ও পরিবেশ দূষণ রোধ হয়।

বাস্তুতন্ত্রে খাদক গোষ্ঠী কাদের বলে? খাদকের খাদ্য প্রকৃতি অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ করো।

খাদক (Consumers) – বাস্তুতন্ত্রের যে-সমস্ত সজীব উপাদান নিজদেহে খাদ্য সংশ্লেষ করতে পারে না, উৎপাদক দ্বারা সংশ্লেষিত খাদ্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে, তাদের খাদক গোষ্ঠী বলে।

খাদক -এর শ্রেণিবিভাগ –

খাদক -এর শ্রেণিবিভাগ

বাস্তুতন্ত্রে বৃহৎ খাদকের ভূমিকা আলোচনা করো।

বাস্তুতন্ত্রে বৃহৎ খাদকগোষ্ঠী বা ম্যাক্রোকনজিউমার তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা – প্রাথমিক খাদক, গৌণ খাদক, প্রগৌণ খাদক। এছাড়াও আছে সর্বভুক বা সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদক।

বাস্তুতন্ত্রে বৃহৎ খাদকের ভূমিকা –

  • বাস্তুতন্ত্রে প্রথম শ্রেণির খাদকরা উৎপাদক গোষ্ঠীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, এর ফলে সবুজ উদ্ভিদের তৈরি খাদ্যশক্তি তাদের দেহে আবদ্ধ হয়। এরপর গৌণ খাদক, প্রগৌণ খাদকরা খাদ্য গ্রহণ করার ফলে, খাদ্য-খাদকের সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শ্রেণির মাংসাশী প্রাণীর দেহে খাদ্যশক্তি সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ, বৃহৎ খাদক গোষ্ঠী বাস্তুতন্ত্রে শক্তির পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • ম্যাক্রোকনজিউমারের ভূমিকায় বাস্তুতন্ত্রের অন্তগর্ত বিভিন্ন জীবের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, খাদ্যশৃঙ্খল রচিত হয়।
  • বৃহৎ খাদকদের খাদ্য-খাদকের সম্পর্কের মাধ্যমে বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষিত হয়। নতুবা, কোনো এক খাদককুলের অতিপ্রজতায় সমস্ত খাদককুল ধ্বংসের পথে এগিয়ে যেত এবং বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হত।

বাস্তুতন্ত্রে অণুখাদকের ভূমিকা আলোচনা করো।

বাস্তুতন্ত্রে অণুখাদকের ভূমিকা –

  • বাস্তুতন্ত্রে অণুখাদক কুলই ভূজৈব রাসায়নিক চক্র বা Biogeo-chemical cycle অব্যাহত রাখে। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক উপাদানগুলি জীবদেহ প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়।
  • অণুখাদক গোষ্ঠী বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টিচক্র বা পরিপোষক গতি অব্যাহত রাখে।
  • জীবের প্রয়োজনীয় পরিপোষক উপাদানগুলি জীব আবার পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করতে পারে অণুখাদকের সক্রিয় কার্যকারিতায়।
  • পরিবেশ ও জীবের মধ্যে উপাদান মৌলগুলির ভারসাম্য রক্ষিত হয় বিয়োজক বা অণুখাদকের প্রত্যক্ষ ভূমিকায়।
  • পরিবেশের গতিশীলতা বজায় থাকে অণুখাদকের আন্তঃস্ক্রিয়ায়।

বিয়োজক কাকে বলে? বাস্তুতন্ত্রে এদের গুরুত্ব কী? অথবা, পরিপোষক চক্রে বিয়োজোকের ভূমিকা উল্লেখ করো।

বিয়োজক (Decomposer) – বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী যে-সমস্ত অণুজীব মৃত জীবদেহ বা জীববর্জিত পদার্থের বিশ্লেষণ ঘটিয়ে সরল অজৈব ও জৈব অণু সৃষ্টির মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রে পরিপোষকের (nutrients) চক্রাকার আবর্তনে সাহায্য করে, তাদের বিয়োজক বলে। উদাহরণ – ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক।

বাস্তুতন্ত্রে বিয়োজোকের ভূমিকা –

  • বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক ও খাদক বর্জিত রেচন পদার্থ, বর্জ্যপদার্থ এবং মৃত জীবদেহের ওপর উৎসেচক ক্ষরণ করে বিয়োজকরা জটিল জৈবযৌগের পচন ও শঠন ঘটায়।
  • বিয়োজকের বিশ্লেষণ ক্রিয়ায় জটিল জৈব যৌগ সরল অজৈব ও জৈব পদার্থে পরিণত হয় ফলে মাটিতে পুষ্টি পদার্থের সংযোজন ঘটে এবং পুনরায় উদ্ভিদ দ্বারা গ্রহণের উপযোগী হয়ে ওঠে। এইভাবে বিয়োজোকরা পরিপোষক চক্রে মৌলগুলির সমতা বজায় রাখে।

বাস্তুতন্ত্রের কার্যগত বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

বাস্তুতন্ত্রের কার্যগত বৈশিষ্ট্য –

  • কার্যগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাস্তুতন্ত্রের স্তরগুলি হল – খাদ্যশৃঙ্খল, খাদ্যজাল, শক্তিপ্রবাহ, পরিপোষক চক্র।
  • একটি নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে উপস্থিত বিভিন্ন জীবগোষ্ঠী ও জড় উপাদান কীভাবে কাজ করে, তার দ্বারা বাস্তুতন্ত্রের কার্যগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়।
  • বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদক গোষ্ঠী বিভিন্ন অজৈব উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে জৈব যৌগ বা খাদ্য উৎপন্ন করে।
  • বিভিন্ন শ্রেণির খাদক গোষ্ঠী সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে উৎপাদকের কাছ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে এবং একটি নির্দিষ্ট খাদ্য-খাদক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে।
  • বাস্তুতন্ত্রের বিয়োজক গোষ্ঠীর বিয়োজন ক্রিয়া দ্বারা জটিল জৈব যৌগের ভাঙন ঘটে এবং সরল উপাদান তৈরি হয়, যেগুলি পুনরায় পরিবেশে মুক্ত হয়।

বাস্তুতন্ত্রের সজীব উপাদানগুলির পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সম্পর্কে ধারণা দাও।

বাস্তুতন্ত্রের সজীব উপাদানগুলির পারস্পরিক নির্ভরশীলতা –

  • খাদ্য, শক্তি ও অক্সিজেন নির্ভরশীলতা –
    • বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক বা ক্লোরোফিলযুক্ত সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে এবং পরিবেশে অক্সিজেন ত্যাগ করে।
    • উদ্ভিদ দ্বারা উৎপাদিত খাদ্য তথা খাদ্যে আবদ্ধ শক্তি বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে ক্রমপর্যায়ে বিভিন্ন পুষ্টিস্তরে প্রবাহিত হয়।
    • বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত বায়ুজীবী সজীব উপাদান উদ্ভিদ দ্বারা নির্গত অক্সিজেন গ্রহণ করে খাদ্যের জারণ ঘটায়।
    • জীবদেহ থেকে পরিবেশ এবং পরিবেশ থেকে জীবদেহে বিভিন্ন পরিপোষকের চক্রাকার আবর্তনে বিয়োজক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে।
  • প্রজনন ও বংশবিস্তারের জন্য নির্ভরশীলতা – উদ্ভিদের পরাগসংযোগ, ফল ও বীজের বিস্তারে বিভিন্ন পতঙ্গ, পাখি, প্রাণী এবং মানুষ সাহায্য করে।
  • বাসস্থানের জন্য নির্ভরশীলতা – বিভিন্ন পতঙ্গ, পাখি, প্রাণী গাছে বাসা বাঁধে এবং আশ্রয় গ্রহণ করে। মানুষ বাড়িঘর নির্মাণের জন্য বিভিন্ন উপাদান উদ্ভিদদেহ থেকে সংগ্রহ করে।
  • দৈনন্দিন সামগ্রী নির্ভরশীলতা – মানুষ দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন – গঁদ, রজন, রবার, উপক্ষার, তুলো প্রভৃতি এবং প্রাণীজাত মধু, মোম, লাক্ষা, রেশম প্রভৃতি) উদ্ভিদ থেকে সংগ্রহ করে।

বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন উপাদানগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।

বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন উপাদানগুলির মাধ্য পারস্পরিক সম্পর্ক –

  • জড় উপাদানের সঙ্গে উৎপাদকের সম্পর্ক – বাস্তুতন্ত্রে সবুজ উদ্ভিদগোষ্ঠী হল উৎপাদক। উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে জল, জলে দ্রবীভূ ত খনিজ আয়ন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, সূর্যালোক প্রভৃতি জড় উপাদান গ্রহণ করে নিজদেহে ক্লোরোফিলের সাহায্যে খাদ্য সংশ্লেষ করে এবং পরিবেশে অক্সিজেন পরিত্যাগ করে।
  • উৎপাদক ও খাদকের সম্পর্ক – খাদকগোষ্ঠী (প্রাণী) খাদ্য, শক্তি ও অক্সিজেনের জন্য সম্পূর্ণভাবে উৎপাদকের ওপর নির্ভরশীল। খাদক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্ত উপাদান উদ্ভিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে। খাদক শ্বসনক্রিয়ায় উৎপন্ন CO₂ পরিবেশে ত্যাগ করে এবং এই CO₂ উৎপাদক খাদ্য তৈরির জন্য পরিবেশ থেকে গ্রহণ করে।
  • উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজকের সম্পর্ক – উৎপাদক এবং খাদকগোষ্ঠীর মৃতদেহ এবং বর্জ্যপদার্থ বিয়োজকের বিয়োজন ক্রিয়ার দ্বারা সরল যৌগে পরিণত হয়। এই সমস্ত সরল উপাদান মাটিতে মিশে যায় এবং পুনরায় উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত হয়।

খাদ্যশৃঙ্খল (Food chain) কাকে বলে? খাদ্যশৃঙ্খলের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

খাদ্যশৃঙ্খল – বিজ্ঞানী ওডাম (Odum, 1966) -এর মতে, বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক থেকে শুরু করে খাদ্য-খাদক সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে দিয়ে ক্রমপর্যায়ে খাদ্যশক্তি প্রবাহিত হওয়ার ক্রমিক পর্যায়কে খাদ্যশৃঙ্খল (Food chain) বলে।

যেমন –

উদ্ভিদ (উৎপাদক) → ফড়িং (প্রাথমিক খাদক) → ব্যাং (গৌণ খাদক) → সাপ (প্রগৌণ খাদক) → ময়ূর (সর্বোচ্চ খাদক) → বিয়োজক

ব্যাখ্যা – বাস্তুতন্ত্রে সমস্ত শক্তির উৎস সূর্য। উদ্ভিদ সূর্য থেকে আগত সৌরশক্তি শোষণ করে খাদ্য সংশ্লেষ করে এবং খাদ্যের মধ্যে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিরূপে আবদ্ধ করে। বাস্তুতন্ত্রের পরবর্তী পুষ্টিস্তরে তৃণভোজী প্রাণীরা উদ্ভিদকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং পুষ্টিশক্তি সংগ্রহ করে। পরবর্তী পুষ্টিস্তরে মাংসাশী প্রাণীরা তৃণভোজী প্রাণীকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং এই খাদ্যশক্তি পেয়ে থাকে। সুতরাং, খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে খাদ্যশক্তি বাস্তুতন্ত্রের এক পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী পুষ্টিস্তরে প্রবাহিত হয় এবং খাদ্যশৃঙ্খল গঠন করে।

খাদ্যশৃঙ্খলের বৈশিষ্ট্য –

  • সবুজ উদ্ভিদ উৎপাদকরূপে বাস্তুতন্ত্রের প্রাথমিক পুষ্টিস্তর গঠন করে।
  • খাদ্যশৃঙ্খলে পুষ্টি বা খাদ্যস্তরের সংখ্যা 2-6 পর্যন্ত হয়ে থাকে। যেমন –
  • খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তির উৎস সূর্য।
খাদ্যশৃঙ্খল

খাদ্যশৃঙ্খল কয়প্রকার ও কী কী? প্রতি প্রকারের উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।

খাদ্যশৃঙ্খল তিন প্রকার। যথা –

  1. গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল এবং
  2. জলের বা পুকুরের খাদ্যশৃঙ্খল,
  3. ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল।

1. গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল বা চারণভূমি খাদ্যশৃঙ্খল – যে খাদ্যশৃঙ্খল সবুজ উদ্ভিদ (উৎপাদক) থেকে শুরু হয়ে খাদ্য-খাদক সম্পর্ক অনুযায়ী পরবর্তী খাদকস্তর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাকে গ্রেজিং বা চারণভূমি খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

যেমন –

ঘাস (উৎপাদক) → ফড়িং (1ম শ্রেণির খাদক) → ব্যাং (2য় শ্রেণির খাদক) → সাপ (3য় শ্রেণির খাদক) → ময়ূর (সর্বভুক খাদক) → ব্যাকটেরিয়া (বিয়োজক)

2. জলের বা পুকুরের খাদ্যশৃঙ্খল – যে খাদ্যশৃঙ্খল জলজ ভাসমান উদ্ভিদ বা ফাইটোপ্ল্যাংটনের থেকে শুরু হয়ে জুপ্ল্যাংটনের মাধ্যমে অন্যান্য খাদকস্তর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাকে জলের বা পুকুরের খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

যেমন –

ফাইটোপ্ল্যাংকটন ও ভাসমান উদ্ভিদ (উৎপাদক) → জুপ্ল্যাংকটন, মশার লার্ভা (1ম শ্রেণির খাদক) → ছোটো মাছ (2য় শ্রেণির খাদক) → বড়ো মাছ, বক (3য় শ্রেণির খাদক)

3. ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল বা কর্কর খাদ্যশৃঙ্খল – যে খাদ্যশৃঙ্খল পচাগলা জৈবপদার্থ থেকে শুরু হয়ে বিয়োজক খাদকস্তর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাকে ডেট্রিটাস বা কর্কর খাদ্যশৃঙ্খল বলে। অণুজীবের মাধ্যমে অন্যান্য

যেমন –

পচনশীল জৈবপদার্থ (ম্যানগ্রোভ অরণ্যে পচা পাতা + ব্যাকটেরিয়া) → ডেট্রিটাস খাদক (পতঙ্গের লার্ভা, নিমাটোডস, কোপিপডস প্রভৃতি) → ছোটো মাংসাশী প্রাণী (ছোটো মাছ) → বড়ো মাংসাশী প্রাণী (বড়ো মাছ ও পাখি)

একটি তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল বর্ণনা করো।

তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল – যে ধরনের খাদ্যশৃঙ্খল তৃণভূমির সবুজ উদ্ভিদ বা উৎপাদক থেকে শুরু হয় এবং খাদ্যশক্তি ক্রমান্বয়ে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণির খাদক হয়ে সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদকে পৌঁছায়, সেই খাদ্যশৃঙ্খলকে তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খলের বৈশিষ্ট্য –

  • তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক গোষ্ঠী অর্থাৎ সালোক-সংশ্লেষকারী উদ্ভিদই হল খাদ্যশক্তির প্রধান উৎস। যদিও উদ্ভিদকুল সূর্যকিরণ শোষণ করে খাদ্য প্রস্তুত করে।
  • প্রাথমিক খাদক বা প্রাণীরা সরাসরি উৎপাদক শ্রেণিকে ভক্ষণ করে পুষ্টি লাভ করে।
  • দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদককুল মাংসাশী প্রকৃতির হয়। এরা একে অপরের সঞ্চিত খাদ্যশক্তি শোষণ করে পুষ্টি লাভ করে।
  • এই প্রকার খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদকের সংখ্যা সব থেকে বেশি হয়।
  • খাদ্যশৃঙ্খলে জড়িত উপরের পুষ্টি স্তর/ট্রফিক লেভেলের জীবের আকার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবের সংখ্যাও ক্রমশ কমতে থাকে।

উদাহরণ –

তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খল

একটি জলাভূমির (পুকুরের) খাদ্যশৃঙ্খল লেখো।

জলাভূমির খাদ্যশৃঙ্খল – যে ধরনের খাদ্যশৃঙ্খল জলাভূমির ভাসমান প্ল্যাঙ্কটনিক সবুজ উদ্ভিদ ও ভাসমান বড়ো উদ্ভিদ (খুদে পানা, শ্যাওলা) কর্তৃক উৎপাদিত খাদ্যশক্তি ক্রমান্বয়ে প্রথম শ্রেণির খাদক হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি ও তৃতীয় শ্রেণির খাদকে পৌঁছায়, সেই খাদ্যশৃঙ্খলকে জলাভূমির খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

  • এই প্রকার খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক তিন ধরনের হয়। আণুবীক্ষণিক ফাইটোপ্ল্যাংকটন, ভাসমান মূলযুক্ত উদ্ভিদ (কচুরিপানা) ও জলজ উদ্ভিদ (শালুক, পদ্ম)।
  • জলাভূমির প্রাথমিক খাদককুল দুটি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। লিমনোটিক অঞ্চলে থাকে জুপ্ল্যাংকটন, যেমন- জলজ পতঙ্গ, পতঙ্গের লার্ভা এবং প্রোফান্ডাল অঞ্চলে থাকে শামুক, গুগলি ঝিনুক। এরা সকলেই শাকাশী। অর্থাৎ, প্ল্যাংকটনকে ভক্ষণ করে পুষ্টি সম্পন্ন করে।
  • গৌণ খাদক হল ছোটো মাছ (পুঁটি, মৌরলা), ব্যাং ইত্যাদি এবং প্রগৌণ বা তৃতীয় সারির খাদক হল বড়োমাছ (যেমন – শোল, বোয়াল), সাপ ও বক ইত্যাদি। এরা গৌণ খাদকের ওপর খাদ্যশক্তির জন্য নির্ভরশীল।
  • এই প্রকার খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদকের সংখ্যা সবথেকে বেশি।
  • খাদ্যশৃঙ্খলে জড়িত উপরের ট্রফিক লেভেলে অবস্থিত জীবের আকার ক্রমশ বাড়তে থাকায় এরা সংখ্যায় কম হয়।
পুকুরের বাস্তুতন্ত্র

উদাহরণ –

ফাইটোপ্ল্যাংকটন (উৎপাদক) → জুপ্ল্যাংকটন (প্রাথমিক খাদক) → ছোটোমাছ (গৌণ খাদক) → সাপ (প্রগৌণ খাদক বা তৃতীয় শ্রেণির খাদক)

খাদ্যজাল (Food web) কাকে বলে? খাদ্যজালের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

খাদ্যজাল (Food web) – কোনো বাস্তুতন্ত্রে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত একাধিক আন্তঃসম্পর্কযুক্ত খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে যে জটিল জালকাকার গঠন তৈরি করে, তাকে খাদ্যজাল বলে।

যেমন –

খাদ্যজাল

খাদ্যজালের বৈশিষ্ট্য –

  • খাদ্যজালের অন্তর্গত কোনো খাদ্যশৃঙ্খল স্বাধীন নয়।
  • তিনপ্রকার আন্তঃসম্পর্কযুক্ত খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। যথা –
  • প্রিডেটরি খাদ্যশৃঙ্খল,
  • প্যারাসাইট খাদ্যশৃঙ্খল এবং
  • স্যাপ্রোফাইটিক বা মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল।
  • খাদ্যজাল একাধিক খাদ্য উৎসের সন্ধান দেয়।
  • খাদ্যজাল কোনো বাস্তুতন্ত্রে কোনো প্রজাতির জনসংখ্যা বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝিয়ে লেখো।

বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির খাদকের মধ্যে খাদ্য-খাদকের সম্পর্কের ভিত্তিতে খাদ্যশক্তির পরিবহণ বা স্থানান্তরকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে। অর্থাৎ, খাদ্যশৃঙ্খল হল বাস্তুতন্ত্রে খাদ্য শক্তির একক বা একমুখী স্থানান্তর। পরিবেশে নানা ধরনের খাদ্যশৃঙ্খল দেখা যায়। যেমন – গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল, ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল, পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল ইত্যাদি। বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যশৃঙ্খল যখন খাদ্যের উৎসের ভিত্তিতে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে আন্তঃসম্পকিত হয়ে পড়ে, তখন সেই জালকাকার গঠন সম্বলিত অনেকগুলি খাদ্যশৃঙ্খলের সম্পর্ককে খাদ্যজাল বলে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, অনেকগুলি খাদ্যশৃঙ্খল মিলেই একটি খাদ্যজালক গঠন করে। অর্থাৎ, খাদ্যজাল হল খাদ্যশক্তির বহুমুখী প্রবাহ। তাই একথা বলা যায় যে, খাদ্যজাল খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিপরীত ক্রমে নয়। যেমন-একটি স্থলজ বাস্তুতন্ত্রে সবুজ উদ্ভিদের উৎপাদিত খাদ্যশক্তি একই সঙ্গে খরগোশ, ইঁদুর, গবাদি পশু, হরিণ ভক্ষণ করে। এরা প্রত্যেকই ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খলের খাদক। আবার ইঁদুরকে সাপ বা বাজপাখি খায়। ঘাসফড়িংকে ব্যাং খায় এবং ব্যাংকে সাপ খায়। ঘাসফড়িংকে কখনো কখনো সরাসরি বাজপাখি খায় অথবা সময় বিশেষে গিরগিটির মাধ্যমে বাজপাখি খায়। এইভাবে পৃথক পৃথক একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর আন্তঃসম্পর্কিত হয়ে খাদ্যজাল সৃষ্টি করে।

খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের পারস্পরিক সম্পর্ক

কোনো বাস্তুতন্ত্র কী ধরনের হবে তা কীসের ওপর নির্ভর করে ব্যাখ্যা করো।

কোনো বাস্তুতন্ত্র কী ধরনের হবে তা একাধিক পরিবেশগত শর্ত এবং উক্ত স্থানে বসবাসরত জীবের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। যেমন – পরিবেশগত শর্তের প্রেক্ষিতে যদি মাটিতে বিভিন্ন ধরনের অজৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে সেখানে প্রচুর সংখ্যায় উৎপাদকের উৎপত্তি ঘটবে এবং একটি স্থিতিশীল বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠবে। একই ভাবে যদি মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে পরভোজী বা হেটেরোট্রফিক পর্যায়ক্রম সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসেটিস ও নিম্নশ্রেণির কিছু প্রাণীর প্রকটতা দেখা যায়।

এছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসরত একাধিক প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিউনিটি স্তরই বাস্তুতন্ত্রের প্রকৃতি নির্ধারণ করে। একটি কমিউনিটি স্থিতিশীল হয় একক জীবস্তর এবং পপুলেশন স্তরে সক্রিয় সব শর্তগুলির প্রভাবে। বাস্তুতান্ত্রিক জীব ও জড়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ আন্তঃসম্পর্কই স্থিতিশীল বাস্তুতন্ত্রের প্রধান হাতিয়ার। প্রতিযোগিতা, খাদ্য-খাদক সম্পর্ক, পরজীবিতা, সহযোগিতা বিষয়গুলি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এই সব আন্তঃসম্পর্কের সফলতা, বিফলতার মধ্যে দিয়ে কোনো বাস্তুতন্ত্রের প্রকৃতি কীরূপ হবে তা নির্ণীত হয়। অর্থাৎ, বাস্তুতন্ত্র শিকারজীবী অথবা পরজীবী কিংবা গ্রেজিং কোনটি হবে তা পরিবেশের সজীব উপাদানগুলির পারস্পরিক মিথোস্ক্রিয়া বা আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ণীত হবে। শেষে এই সব বিষয়গুলির সফলতা বা বিফলতার ওপর নির্ভর করে বাস্তুতান্ত্রিক স্থায়িত্ব আসবে।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ কাকে বলে? শক্তিপ্রবাহের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

শক্তিপ্রবাহ (Energy Flow) – বাস্তুতন্ত্রে সৌরশক্তির রাসায়নিক শক্তিরূপে নিম্নতম খাদ্যস্তর থেকে সর্বোচ্চ খাদ্যস্তরে পৌঁছানোর ঘটনাকে শক্তিপ্রবাহ বলে।

শক্তিপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য –

  • বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহের শক্তির প্রধান উৎস হল সূর্য।
  • বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ সর্বদা একমুখী। অর্থাৎ, উৎপাদক → প্রগৌণ প্রাথমিক → খাদক গৌণ → খাদক খাদক।
  • বাস্তুতন্ত্রে শক্তি কখনও ধ্বংস হয় না, শক্তির রূপান্তর ঘটে মাত্র।
  • বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যস্তরগুলির ক্রমিক পর্যায়ে শক্তিপ্রবাহে শক্তির পরিমাণের হ্রাস ঘটে।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহের পর্যায় তিনটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। যথা –

  1. শক্তি অর্জন,
  2. শক্তির ব্যবহার
  3. শক্তির স্থানান্তরণ।

শক্তি অর্জন – বাস্তুতন্ত্রে মূল শক্তির উৎস হল সৌরশক্তি। প্রতিবছর সূর্য থেকে 12.3 × 1022 Kcal সৌরশক্তি ভূপৃষ্টে নেমে আসে। এর মাত্র 0.02% সবুজ উদ্ভিদ শোষণ করে। কিন্তু, শোষিত আলোকশক্তির মাত্র 0.01% শক্তি সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের ফলে উৎপাদিত খাদ্যের মধ্যে স্থৈতিক শক্তিরূপে জমা রাখে। এইভাবে সালোকসংশ্লেষের ফলে যে পরিমাণ স্থৈতিক শক্তি উদ্ভিদদেহে আবদ্ধ হয় তাকে মোট উৎপাদন বা সর্বাধিক উৎপাদন (Gross Production/GP) বলে।

শক্তির ব্যবহার – মোট উৎপাদনের কিছুটা শক্তি জীবের শ্বসনে ব্যয় হয়। বিপাকীয় কাজে ব্যয়িত শক্তিকে শ্বসন শক্তি বা R বলা হয়। অবশিষ্ট মোট উৎপাদন (GPR) উৎপাদকের দেহে সঞ্চিত থাকে। এই উৎপাদনকে প্রকৃত উৎপাদন বা (Net Production/NP) বলে। অর্থাৎ, গাণিতিক হিসেবে GP – R = NP। বাস্তুতন্ত্রে প্রতিটি ট্রফিক লেভেলে শক্তির ব্যবহার ও শক্তির সঞ্চয় হয়ে থাকে। এইভাবে যে শক্তি অর্জিত হয় তাকে মোট অর্জিত শক্তি বা Gross Energy Intake বলে।

শক্তির স্থানান্তরণ – সবুজ উদ্ভিদে আবদ্ধ শক্তি বা প্রকৃত শক্তি খাদ্য-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিটি ট্রফিক লেভেলে স্থানান্তরিত হয়। প্রথমে উৎপাদকের দেহ থেকে প্রাথমিক খাদক বা তৃণভোজীর দেহে এই শক্তি স্থানান্তরিত হয়। পরে এই শক্তি গৌণ খাদক বা মাংসাশী প্রাণীর দেহে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখান থেকে পরবর্তী খাদকস্তর প্রগৌণ বা সর্বোচ্চ শ্রেণির প্রাণীর দেহে এই শক্তি স্থানান্তরিত হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই খাদক প্রাণীর বিপাকীয় কাজে কিছু পরিমাণ শক্তি ব্যয়িত হয় এবং কিছু পরিমাণ শক্তি অপচয় হয় ও কিছু শক্তি তাপশক্তি রূপে নির্গত হয়। অর্থাৎ এক ট্রফিক লেভেল থেকে পরবর্তী ট্রফিক লেভেলে শক্তি স্থানান্তরের সময় 100% শক্তির স্থানান্তরণ হয় না। বেশ কিছুটা শক্তি অধরা থাকে বা ব্যয়িত হয়। মাত্র 10% শক্তি পূর্ব ট্রফিক লেভেল থেকে পরবর্তী ট্রফিক লেভেলে যায়।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ তিনটি পর্যায়

জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্র বা পরিপোষক চক্র বলতে কী বোঝো? এই চক্রের গঠন সম্পর্কে ধারণা দাও।

জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্র বা পরিপোষক চক্র (Biogeochemical Cycle or Nutrients cycle) – যে প্রক্রিয়ায় জীবের দেহগঠন ও অন্যান্য জৈবনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান মৌলগুলি বা পরিপোষকগুলি পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে চক্রাকার পথে আবর্তিত হয়, তাকে জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্র বা পরিপোষক চক্র বলে।

জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্রের গঠন –

দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। যথা –

  1. সঞ্চিত ভাণ্ডার (Reservoir Pool) এবং
  2. আবর্তন ভাণ্ডার (Cyclic Pool)।

সঞ্চিত ভাণ্ডার – পরিপোষক চক্রের এটি বৃহত্তর অংশ। বিভিন্ন পরিপোষক মৌল প্রকৃতিতে সঞ্চিত থাকে। যেমন – কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)-র সঞ্চিত ভাণ্ডার হল বায়ুমণ্ডল।

আবর্তন ভাণ্ডার – এটি পরিপোষক চক্রের ক্ষুদ্রতর এবং সক্রিয় অংশ। এই অংশের পরিপোষকগুলি জীব ও পরিবেশের মধ্যে চক্রাকারে আবর্তিত হয়। যেমন – অক্সিজেন (O₂), নাইট্রোজেন (N₂) প্রভৃতি মৌলের চক্রাকার আবর্তন।

বাস্তুতন্ত্রে তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি পেলে কী সমস্যা হবে?

বাস্তুতন্ত্রে তৃণভোজী প্রাণীরা হল প্রাথমিক খাদক বা প্রথম শ্রেণির খাদক। এরা উৎপাদকদের সরাসরি ভক্ষণ করে উৎপাদকদের সঞ্চিত খাদ্যশক্তি আহরণ করে। কোনো কারণে বাস্তুতন্ত্রে তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উৎপাদকদের অতিব্যবহার -এর ফলে একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে। ফলস্বরূপ বাস্তুতন্ত্রে কোনো উৎপাদক গোষ্ঠী থাকবে না। যেহেতু উৎপাদকরাই বাস্তুতন্ত্রের মূল শক্তির সরবরাহকারী জীব তাই বাস্তুতন্ত্রে শক্তির জোগান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে ম্যাক্রোকনজিউমার বা খাদককূল খাদ্যাভাবে মারা যাবে। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক, তৃতীয় শ্রেণির খাদক বা সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদকের ক্রমান্বয় খাদ্যের জোগানে ঘাটতি ঘটবে এবং খাদকগোষ্ঠী নিঃশেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ একটি বাস্তুতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে প্রকৃতিতে সালোকসংশ্লেষ বন্ধ হওয়ার ফলে CO₂ -এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়বে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, আবহাওয়া পরিবর্তিত হবে, জলচক্রের ব্যাঘাত ঘটবে। বনজ সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যাবে। জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে। শেষে এই বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।

বনভূমি বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত সিংহ বা হরিণকে বা সমস্ত গাছকে দূর করলে বাস্তুতন্ত্রে কী প্রভাব পড়বে?

বনভূমি বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত সিংহকে শিকার করলে বা ধরে নিয়ে গেলে কোনো শিকারি প্রাণী থাকে না বলে হরিণের সংখ্যা খুব বেড়ে যাবে। হরিণ তৃণভোজী বলে ঘাসের ঘনত্ব খুব কমে যাবে। এইভাবে ঘাস বা গাছের সংখ্যা কমতে কমতে বনভূমি কালক্রমে মরুভূমিতে পরিণত হবে।

যদি সব হরিণ না থাকে, তবে সিংহ খাবার পাবে না। কিছু সিংহ উপোসি থাকতে থাকতে মারা যাবে। সিংহের সংখ্যা কমলে অন্যান্য খাদ্যশৃঙ্খল (যেগুলি সিংহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত) ব্যাহত হবে। ফলে, যে কটা সিংহ বেঁচে থাকবে, তারা খাবারের খোঁজে বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে ছাগল, গোরু এমনকি মানুষ পর্যন্ত মারবে। হরিণ ও সিংহের সংখ্যা কমার ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে।

যদি বনভূমিতে কোনো গাছ না থাকে, তবে খাদ্য ও শক্তির অভাবে কোনো জীব-ই বাঁচবে না। কাজেই, যে কোনো একটি পুষ্টিস্তরের সমস্ত জীবকে দূর করলে বা মেরে ফেললে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রই ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – টীকা

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর