নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী
Contents Show

বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে? বাস্তুতন্ত্রের সাংগঠনিক স্তরগুলি সম্পর্কে ধারণা দাও।

বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) – কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিবেশে বসবাসকারী জীবদের সঙ্গে ওই বাসস্থানের জড় উপাদানগুলির আন্তঃক্রিয়ার ফলে যে সুনির্দিষ্ট বসবাস রীতি ও পারস্পরিক নির্ভরশীল এবং গতিশীল সংগঠন গড়ে ওঠে, তাকে বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম বলে।

বিজ্ঞানী ট্যান্সলে প্রথম ‘Ecosystem’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

বাস্তুতন্ত্রের সাংগঠনিক স্তর – বাস্তুতন্ত্রের যে-সমস্ত উপাদানগুলি ছোটো বা ক্ষুদ্র স্তর থেকে ক্রমশ একত্রিতকরণের মাধ্যমে বৃহৎ স্তরে উপনীত হয় এবং যাদের সাহায্যে বাস্তুসংস্থানিক শ্রেণিভুক্তকরণ সম্ভব হয়, তাদের বাস্তুতন্ত্রের সাংগঠনিক স্তর বলে।

বাস্তুতান্ত্রিক সংগঠনের বিভিন্ন স্তর –

  • একক স্তর (Individual level) – বাস্তুতান্ত্রিক সংগঠনের যে ক্ষুদ্রতম সজীব গোষ্ঠী জীবনের সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলি বহন ও প্রকাশ করে এবং অন্য গোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখে, তাকে জীবস্তর বা একক স্তররূপে গণ্য করা হয়। এই স্তরকে বাস্তুতান্ত্রিক সংগঠনের প্রাথমিক একক বলা হয়।
  • জনসংখ্যা স্তর (Population level) – একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো প্রজাতিভুক্ত সমস্ত জীব সংখ্যাকে ওই প্রজাতির জনসংখ্যা বলে।
  • কমিউনিটি স্তর (Community level) – একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতিভুক্ত জনসংখ্যা (যেমন – উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি) সম্মিলিতভাবে এবং আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমে যে সংগঠন তৈরি করে, তাকে কমিউনিটি স্তর বলে। প্রতিটি কমিউনিটি স্তরের একটি নির্দিষ্ট উপাদান ও গঠন বর্তমান। যেমন – বনভূমির কমিউনিটি, পুকুরের কমিউনিটি প্রভৃতি।
  • বাস্তুতান্ত্রিক স্তর (Ecosystem level) – প্রকৃতির একটি ক্রিয়াশীল খণ্ড যেখানে সজীব উপাদান ও জড় উপাদান পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া ও আদানপ্রদানের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বসবাসরীতি গড়ে তোলে। যেমন – পুকুরের বাস্তুতন্ত্র।

আলো, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্ভিদের অভিযোজনগুলি লেখো।

আলোর সঙ্গে উদ্ভিদের অভিযোজন –

  • উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার জন্য আলো অপরিহার্য। বেশি সূর্যালোক পাওয়ার জন্য বহু উদ্ভিদের পাতা চ্যাপটা ও প্রসারিত হয়।
  • অধিক আলো পাওয়ার জন্য বহু উদ্ভিদের পাতা ও শাখা-প্রশাখা আলোক উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায়।
  • পূর্ণ সূর্যালোকে অভিযোজিত উদ্ভিদকে হেলিওফাইট (সূর্যমুখী, টম্যাটো প্রভৃতি) ও কম সূর্যালোকে ছায়াচ্ছন্ন স্থানে অভিযোজিত উদ্ভিদকে সিওফাইট (কচু, মস প্রভৃতি) বলে।
হেলিওফাইট

আর্দ্রতার সঙ্গে উদ্ভিদের অভিযোজন –

  • আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে অরণ্য, তৃণভূমি বা মরুভূমি গড়ে ওঠে, যে অঞ্চলে উপযুক্ত বৃষ্টিপাত হয় সেখানে উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা যায়। যেমন – ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অরণ্যভূমি।
  • কম আর্দ্রতাযুক্ত স্থানের উদ্ভিদগুলি বড়ো পাতাবিশিষ্ট হয় যা শীতকালে ঝরে যায়।
  • তুন্দ্রা ও শীতল মরুভূমি অঞ্চলে আর্দ্রতা কম হয় এবং উদ্ভিদ স্বল্প জীবনচক্রবিশিষ্ট হয়।

তাপমাত্রার সঙ্গে উদ্ভিদের অভিযোজন –

  • যেসব স্থানে তাপমাত্রার চূড়ান্ত পরিবর্তন হয়, সেইসকল স্থানের উদ্ভিদদের ত্বকের গঠন পুরু হয়, ঘন রোম দেখা যায় মিউসিলেজ গঠিত হয়।
  • কম উষ্ণতায় বসবাসকারী উদ্ভিদের পাতায় স্নেহপদার্থ সঞ্চিত হয়।

আলো, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাণী অভিযোজনগুলি লেখো।

আলোর সঙ্গে প্রাণীর অভিযোজন –

চোখের আকার – যেসব সামুদ্রিক প্রাণীরা সমুদ্রের অধিক গভীরতায় কম আলোকযুক্ত স্থানে থাকে, তাদের চোখের আকার বড়ো হয়।

  • রঞ্জক উৎপাদন – যেসব প্রাণী অধিক আলোকযুক্ত স্থানে থাকে, তাদের ত্বকে বেশি পরিমাণে মেলানিন রঞ্জক উৎপন্ন হয় ও তাদের গায়ের রং গাঢ় হয়।
  • উৎসেচক ও ভিটামিনের সক্রিয়তা – আলো উৎসেচকের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে ও সূর্যালোকের উপস্থিতিতে প্রাণীদেহে ভিটামিন-D সংশ্লেষিত হয়।

আর্দ্রতার সঙ্গে প্রাণীর অভিযোজন –

  • মোমজাতীয় পদার্থের আবরণ – সৃষ্টি কম আর্দ্রতাযুক্ত স্থানে থাকার জন্য মরুভূমির প্রাণীদের দেহে মোমজাতীয় পদার্থের আবরণ সৃষ্টি হয়।
  • ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা হ্রাস – আর্দ্রতা কম থাকার জন্য মরুভূমির স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দেহে ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা কম হয়।
  • কণ্টকময় ত্বক – মরুভূমির প্রাণীদের ক্ষেত্রে জলের বাষ্পীভবন রোধ ও দেহের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য ত্বক কণ্টকময় হয়। যেমন – মোলোক হরিদাস (Moloch horridus)।

তাপমাত্রার সঙ্গে প্রাণীর অভিযোজন –

শীতঘুম বা হাইবারনেশন – উত্তর মেরুর প্রচণ্ড ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসকারী মেরুভালুক শীতকালে গুহা বা বড়ো গর্তের মধ্যে আশ্রয় নেয় এবং শীতঘুমে (হাইবারনেশন) দিন কাটায়। মরুভূমির প্রাণীরাও প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্য মাটিতে গর্ত করে আশ্রয় নেয়।

মেরুভাল্লুকের শীতঘুম
  • ব্লাবার সৃষ্টি – মেরু অঞ্চলে দেহ থেকে তাপক্ষয় প্রতিরোধ করার জন্য প্রাণীদের ত্বকের নীচে ব্লাবার (চর্বির স্তর) থাকে।
  • আকৃতি ও গঠনগত পরিবর্তন –
    • ঠান্ডা আবহাওয়াযুক্ত অঞ্চলের (মেরুপ্রদেশ) প্রাণীদের দেহের আকার উয় অঞ্চলের (মরু অঞ্চল) প্রাণীদের দেহের তুলনায় বড়ো হয়। যেমন – মেরু অঞ্চলের শ্বেত ভালুকের আকার আফ্রিকার কালো ভালুকের তুলনায় বড়ো হয়।
    • অ্যালেনের সূত্র (Allen’s Rule) অনুযায়ী ঠান্ডা অঞ্চলের প্রাণীর কান, লেজ, মুখ, গ্রীবা প্রভৃতির দৈর্ঘ্য উষ্ণ অঞ্চলের প্রাণীদের তুলনায় ছোটো হয়। যেমন – আর্কটিক ফক্স -এর কানের দৈর্ঘ্য মরু অঞ্চলের ডেজার্ট ফক্সের তুলনায় অনেক ছোটো হয়।
  • গ্রীষ্মঘুম বা এস্টিভেশন – প্রচণ্ড দাবদাহে জলাশয় শুকিয়ে গেলে কিছু প্রাণী তাদের দেহ মিউকাস দ্বারা আবৃত করে মাটির গভীরে অবস্থান করে। মরুভূমিতে তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণীরা বালির নীচে গর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকে। এই সময় এদের শ্বাসক্রিয়া ও হৃৎস্পন্দনের হার কম থাকে। এই অবস্থাকে গ্রীষ্মঘুম বা এস্টিভেশন বলে।

জনসংখ্যা বা পপুলেশন কাকে বলে? জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক শর্তগুলি সম্পর্কে ধারণা দাও।

জনসংখ্যা বা পপুলেশন (Population) – কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে, নির্দিষ্ট সময়ে কোনো প্রজাতির অন্তর্গত সমস্ত জীবের সংখ্যাকে ওই প্রজাতির জনসংখ্যা বলে।

জনসংখ্যা বা পপুলেশন

জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি –

জনসংখ্যার ঘনত্ব বা পপুলেশন ডেনসিটি (Population Density) – কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের একক আয়তনে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো প্রজাতির যে সংখ্যক জীব বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।

জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়কারী সূত্র –

\(D=\frac NS\) (D = জনসংখ্যা ঘনত্ব, N = সদস্য সংখ্যা, S = একক স্থান)

জন্মহার বা ন্যাটালিটি (Natality) – সন্তান-সন্ততি উৎপাদনের দ্বারা যে হারে নতুন সদস্য কোনো জনসংখ্যায় যুক্ত হয়, তাকে জন্মহার বা ন্যাটালিটি বলে।

জন্মহার নির্ণয়কারী সূত্র –

\(B=\frac{Nn}t\) (যেখানে, B = জন্মহার, Nn = নবজাত সদস্যের সংখ্যা, t = সময়)

মৃত্যুহার বা মর্টালিটি (Mortality) – জীবের মৃত্যুর জন্য একক সময়ে জনসংখ্যায় যে হারে সদস্য সংখ্যা কমে যায়, তাকে মৃত্যুহার বা মর্টালিটি বলে।

মৃত্যুহার নির্ণয়কারী সূত্র –

\(D=\frac{Nd}t\) (যেখানে, D = মৃত্যুহার, Nd = মৃত সদস্যের সংখ্যা, t = সময়)

পরিযান (Migration) – স্থানীয় অসুবিধাজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হলে জীবরা সেই জায়গা ছেড়ে নতুন সুবিধাজনক জায়গায় চলে যায়, একে পরিযান বা Migration বলে। ফলে, নতুন জায়গায় জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে এবং পুরোনো জায়গায় জনসংখ্যার হ্রাস ঘটে। যেমন- সাইবেরিয়ার প্রচন্ড ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে পরিযায়ী পাখিরা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বসবাস করে। আবার, শীতের শেষে তারা নিজেদের জায়গায় ফিরে যায়। এটি দু-ভাবে ঘটে – 1. প্রবাসন (Emigration) এবং 2. অভিবাসন (Immigration)। প্রবাসনের ফলে জনসংখ্যার হ্রাস ঘটে এবং অভিবাসনের ফলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।

লিঙ্গ অনুপাত (Sex Ratio) – কোনো জনসংখ্যায় স্ত্রী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাতের ওপর জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি নির্ভর করে।

লিঙ্গ অনুপাত

পপুলেশনের ঘনত্বের পরিবর্তন = (জন্ম ইমিগ্রেশন) – (মৃত্যু + এমিগ্রেশন)

জনসংখ্যা বৃদ্ধি সম্পর্কে আলোচনা করো।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি (Population Growth) – কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো জনসংখ্যার আকার বৃদ্ধি বা সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিকেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি বলে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রকারভেদ – জনসংখ্যা বৃদ্ধি দুই প্রকার। যথা –

  1. এক্সপোনেনশিয়াল বৃদ্ধি এবং
  2. লজিস্টিক বৃদ্ধি।

এক্সপোনেনশিয়াল বৃদ্ধি বা ‘J’ আকৃতির বৃদ্ধি – পরিবেশগত বাধা বা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হলে জনসংখ্যা প্রথমে ধীরে এবং পরে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা দ্রুত ধারণক্ষমতা অতিক্রম করে যায় ফলে জনসংখ্যা হঠাৎ কমতে শুরু করে। যেমন – এই ধরনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির লেখচিত্র পিঁপড়ের জনসংখ্যায় দেখা যায়।

'J' আকৃতির বৃদ্ধির লেখচিত্র

লজিস্টিক বৃদ্ধি বা ‘S’ আকৃতির বৃদ্ধি –

লজিস্টিক বৃদ্ধিতে জীবের বৃদ্ধির হার ‘S’ আকৃতির লেখচিত্র দ্বারা নির্দেশিত হয়। এইরূপ লেখচিত্রে তিনটি দশা থাকে। যথা –

  1. ল্যাগ দশা – ধীর বৃদ্ধি দশা,
  2. লগ দশা – দ্রুত বৃদ্ধি দশা এবং
  3. স্থিতিশীল দশা – বৃদ্ধির হার কমে একটি স্থিতাবস্থায় আসে। এটি সর্বাধিক ধারণক্ষমতাকে বোঝায়।
'S' আকৃতির বৃদ্ধির লেখচিত্র

কমিউনিটি কাকে বলে? কমিউনিটি আন্তঃক্রিয়া কী? কমিউনিটি আন্তঃক্রিয়ার প্রকারভেদগুলি লেখো।

কমিউনিটি (Community) – একটি নির্দিষ্ট বাসস্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির অন্তর্গত পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত একাধিক বিভিন্ন জনসংখ্যার সমন্বয় বা একত্রিতকরণকে কমিউনিটি বলে।

কমিউনিটি আন্তঃক্রিয়া (Community Interactions) – একটি সজীব পরিবেশে কোনো প্রজাতিভুক্ত জীবদের নিজেদের মধ্যে এবং বিভিন্ন প্রজাতিভুক্ত বিভিন্ন জনসংখ্যার জীবদের মধ্যে যে পারস্পরিক আদানপ্রদানের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়, তাকে কমিউনিটি আন্তঃক্রিয়া বলে।

কমিউনিটি আন্তঃক্রিয়ার প্রকারভেদ – বিজ্ঞানী ওডাম (Odum, 1971) -এর ধারণা অনুযায়ী –

কমিউনিটি আন্তঃক্রিয়া

বিভিন্ন প্রকার আন্তঃপ্রজাতি মিথোস্ক্রিয়ার প্রকৃতি, প্রকারভেদ, উদাহরণ ও সম্পর্কের গুরুত্ব সারণি আকারে উপস্থাপন করো।

মিথস্ক্রিয়ার প্রকৃতিপ্রকারভেদমিথস্ক্রিয়ার গুরুত্বউদাহরণ
ধনাত্মক বা পজিটিভ মিথস্ক্রিয়া1. নিউট্রালিজম বা নিরপেক্ষতাএকই বাসস্থানে বসবাস করেও কেউ কারোর দ্বারা উপকৃতও হয় না, ক্ষতিগ্রস্তও হয় না।একই গাছে বসবাসকারী কাঠবিড়ালি ও পাখির সম্পর্ক।
2. মিউচুয়ালিজম বা সিমবায়োসিস বা ব্যতিহারীস্থায়ী সম্পর্কে আবদ্ধ দুটি ভিন্ন জীবই উপকৃত হয়।লাইকেনের অন্তর্গত শৈবাল ও ছত্রাক পরস্পরকে পুষ্টি লাভে সাহায্য করে।
3. প্রোটোকোঅপারেশন বা সহযোগিতাঅস্থায়ী সম্পর্কে আবদ্ধ দুটি ভিন্ন জীব উপকৃত হয়।সি অ্যানিমোনের গমনে ও হারমিট কাঁকড়ার আত্মরক্ষায় একে অপরকে সাহায্য করে।
4. কমেনসালিজম বা সহভোক্তাসম্পর্কিত দুটি জীবের মধ্যে একটি উপকৃত হয়, অন্যটি উপকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত কিছুই হয় না।রেমোরা মাছ চোষক দ্বারা হাঙরের দেহে আটকে থেকে গমন করে।
ঋণাত্মক বা নেগেটিভ মিথস্ক্রিয়া1. কমপিটিশন বা প্রতিযোগিতাউভয় জীবই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।খাদ্য, বাসস্থান প্রভৃতির জন্য প্রতিযোগিতা।
2. প্রিডেশন বা শিকারএকটি জীব খাদ্য ব্যবহার করে উপকৃত হয়, কিন্তু অপর জীবটি মারা পড়ে।উদ্ভিদকে গোরু খায়, হরিণকে বাঘ খায়।
3. প্যারাসিটিজম বা পরজীবিতাসম্পর্কিত একটি জীব উপকৃত হয় এবং অন্য জীবটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী গোলকৃমি মানুষের দেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে।
4. অ্যামেনসালিজমএকটি জীব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপর জীবটির কোনো প্রভাব পড়ে না বা ক্ষতি হয় না।পেনিসিলিন প্রয়োগ করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা হয়।

ছকের সাহায্যে জীবসম্প্রদায়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক দেখাও।

মিথস্ক্রিয়ার প্রকৃতিপ্রজাতি Aপ্রজাতি Bআন্তঃসম্পর্কের প্রকৃতি
নিরপেক্ষতা (কমিউনিটিতে বিভিন্ন জীবের বাস)00একটি প্রজাতির বৃদ্ধি অপর প্রজাতি দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
প্রতিযোগিতা (বাঘ ও হরিণের সম্পর্ক, খাদ্য-বাসস্থানের জন্য লড়াই)প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একটি প্রজাতি অপর প্রজাতির বৃদ্ধিকে বাধা প্রদান করে। উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অ্যামেনসালিজম (পার্থেনিয়াম আগাছা ফেনল ক্ষরণ করে এবং বাকি গাছের বৃদ্ধি রোধ করে)0B প্রজাতির উপস্থিতিতে A প্রজাতির ক্ষতিসাধন। কিন্তু B প্রজাতির ক্ষতিসাধন হয় না।
পরজীবিত্ব (প্লাসমোডিয়াম রক্তে বংশবিস্তার করে)+পরজীবী A পোষকদেহ B থেকে পুষ্টি ও আশ্রয় লাভ করে। ফলে A উপকৃত হয় ও B ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিকারজীবিতা (ব্যাঙ পতঙ্গদের ধরে ভক্ষণ করে)+শিকারি আকারে বড়ো ও শক্তিশালী হওয়ার জন্য A প্রজাতি শিকার B-কে ভক্ষণ করে। A লাভবান, B ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কমেনসালিজম (রেমোরা মাছ, হাঙরের চোয়ালের নিচে আটকে থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে)+0A প্রজাতি নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে লাভবান হয়। কিন্তু B প্রজাতির কোনো ক্ষতি হয় না।
প্রোটোকোঅপারেশন (অজপেকার পাখি গন্ডারের পরজীবী ভক্ষণ করে)++পৃথক পৃথক ভাবে জীবনযাপন করলেও এক অপরের দ্বারা উপকৃত হয়।
মিথোজীবিত্ব – লাইকেন (ছত্রাক + শৈবাল), মাইক্রোরাইজা – (পাইন + ছত্রাক)++A ও B উভয় প্রজাতি বাধ্যতামূলকভাবে সহাবস্থান করে এবং একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়।

বাস্তুতন্ত্রের গঠনগত উপাদান বলতে কী বোঝো? উপাদানগুলি ছকের মাধ্যমে উল্লেখ করো। 

বাস্তুতন্ত্রের গঠনগত উপাদান হল দুপ্রকার, যথা –

  1. অজীবীয় বা জড় উপাদান এবং
  2. জীবজ বা সজীব উপাদান।

বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহ –

বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহ

বাস্তুতন্ত্রের পাঁচটি অজীবীয় শর্তাবলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

বাস্তুতন্ত্রের প্রধান পাঁচটি অজীবীয় শর্ত হল –

  1. আলো,
  2. জল,
  3. বায়ুমণ্ডল,
  4. উষ্ণতা,
  5. ভূপ্রাকৃতিক গঠন।

আলো – বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত নানা জীবের ওপর আলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। সকল সবুজ উদ্ভিদ আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষ ঘটায়। অপরদিকে আরশোলা, বাদুড় প্রভৃতি প্রাণী আলোর অনুপস্থিতিতে সক্রিয় হয়। কিছু কিছু জলজ প্রাণীর গমনে, দেহের বর্ণ গঠনে বা পরিণতিতে আলো সাহায্য করে।

জল – প্রতিটি জীবের ক্ষেত্রেই জল অতিপ্রয়োজনীয় একটি উপাদান। উদ্ভিদদেহের সংবহনে, বীজের অঙ্কুরোদ্গমে, বাষ্পমোচনে, প্রোটোপ্লাজমের সিক্ততার জন্য ও নানা বিপাকীয় কাজে জল প্রয়োজন হয়। একইরকম ভাবে প্রাণীদেহের রক্তকে তরল রাখতে, খাদ্যবস্তুর পরিপাকের জন্য, দূষিত পদার্থের নির্গমনের জন্য জল প্রয়োজন।

বায়ুমণ্ডল – বায়ুমণ্ডলের দুটি গ্যাসীয় উপাদান জীবদেহে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। বাতাসের অক্সিজেন জীবদেহের কোশে খাদ্যের জারণ ঘটায়, জীবের অঙ্কুরোদ্গম ঘটায়। বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার একটি প্রধান উপাদান। এছাড়াও বাতাস ফল, বীজ ও পরাগরেণুর বিস্তারে সাহায্য করে।

উষ্ণতা – প্রতিটি জীবদেহের কার্যকারিতা নির্দিষ্ট উষ্ণতার ওপর নির্ভরশীল। প্রায় সকল জীবের বিপাকীয় ক্রিয়া 5°C – 38°C উষ্ণতার মধ্যে ঘটে থাকে। তবে বেশ কিছু জীব (যেমন – মরুভূমির জীব) অতি উষ্ণতা (প্রায় 50°C এর বেশি) সহ্য করতে পারে, আবার কিছু কিছু জীব খুব কম উষ্ণতা সহ্য করতে পারে।

ভূপ্রাকৃতিক গঠন – ভূপ্রকৃতিগত নানা অবস্থা যেমন – উচ্চতা, পর্বতের ঢাল প্রভৃতি সেই অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতকে প্রভাবিত করে। ভূপ্রাকৃতিক গঠনের সঙ্গে সেই স্থানে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, উষ্ণতা, আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটে।

বাস্তুতন্ত্রের জীবজ শর্তগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।

বাস্তুতন্ত্রের জীবজ শর্তগুলিকে প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা – উৎপাদক বা স্বভোজী এবং খাদক বা পরভোজী।

উৎপাদক বা স্বভোজী –

বাস্তুতন্ত্রের অর্ন্তগত যে-সমস্ত জীবেরা ক্লোরোফিলযুক্ত এবং সালোকসংশ্লেষে সক্ষম, তাদেরকে উৎপাদক বলে। এরা খাদ্যের জন্য অন্যদের ওপর নির্ভরশীল নয় বলে এদেরকে স্বভোজী বলে। বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক বা স্বভোজী হল সকল সবুজ উদ্ভিদ, সালোকসংশ্লেষকারী ব্যাকটেরিয়া, সালোকসংশ্লেষকারী প্রোটিস্টান (যেমন – ইউগ্লিনা, ক্রাইস্যামিবা)।

খাদক বা পরভোজী –

বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত যে সকল জীবেরা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদকের ওপর নির্ভরশীল তাদের খাদক বা পরভোজী বলে। আকৃতিগতভাবে খাদক দু’প্রকার। যথা –

  1. বৃহৎ খাদক (ম্যাক্রোকনজিউমার) এবং
  2. অণুখাদক (মাইক্রোকনজিউমার)

বৃহৎ খাদক বা ম্যাক্রোকনজিউমার (Macro Consumer) –

খালি চোখে দেখা যায় এমন বৃহৎ আকৃতির খাদককে বৃহৎ খাদক বা ম্যাক্রোকনজিউমার বলে।

সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বৃহৎ খাদকের তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা –

  1. প্রাথমিক খাদক,
  2. গৌণ খাদক,
  3. প্রগৌণ খাদক।

প্রাথমিক খাদক (Primary Consumer) – যারা উৎপাদককে সরাসরি খাদ্য হিসেবে ভক্ষণ করে, তাদের প্রাথমিক খাদক বলে। উদাহরণ – পতঙ্গ, খরগোশ, ছাগল, গোরু ইত্যাদি সকল তৃণভোজী প্রাণী।

গৌণ খাদক (Secondary Consumer) – যারা প্রাথমিক খাদকদের খাদ্য হিসেবে ভক্ষণ করে, তাদের গৌণ খাদক বলে। উদাহরণ – পতঙ্গভুক্ত প্রাণী, ছোটো মাছ, ব্যাং, সারস, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি।

প্রগৌণ খাদক (Tentiary Consumer) – যারা গৌণ খাদকদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের প্রগৌণ খাদক বলে। উদাহরণ – বাজপাখি, সাপ, বাঘ, সিংহ ইত্যাদি।

এছাড়াও, যারা উৎপাদক ও খাদক উভয় গোষ্ঠীকেই খাদ্যরূপে গ্রহণের মাধ্যমে পুষ্টিলাভ করে, তাদের সর্বভূক শ্রেণির খাদক বলে। যেমন – ময়ূর, ভালুক, মানুষ প্রভৃতি।

অণুখাদক বা মাইক্রোকনজিউমার (Micro Consumer) –

খালি চোখে যে সকল খাদকদের দেখা যায় না তাদের অনুখাদক বা মাইক্রোকনজিউমার বলে। মাইক্রোকনজিউমার দু’প্রকার যথা –

  1. বিয়োজক ও
  2. রূপান্তরক।

বিয়োজক (Decomposer) – যে সকল অণুখাদকরা কোনো মৃত বস্তুর জটিল যৌগকে বিয়োজিত করে অপেক্ষাকৃত সরল যৌগে পরিণত করে, তাদের বিয়োজক বলে। উদাহরণ – বিভিন্ন প্রকার অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া।

রূপান্তরক (Transformer) – যে সকল অণুখাদকরা কোনো বিয়োজক দ্বারা উৎপন্ন সরল যৌগগুলিকে অজৈব যৌগ বা মৌলে পরিণত করে, তাদের রূপান্তরক বলে। উদাহরণ – বিভিন্ন প্রকার ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া, নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া প্রভৃতি।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় পরিবেশ ও তার সম্পদ’ -এর অন্তর্গত ‘বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন’ অংশের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – টীকা

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

পরিবেশ ও তার সম্পদ-বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – বাস্তুবিদ্যা ও বাস্তুবিদ্যার সংগঠন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর