এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব, “‘দুর্গা তাহাকে আরও কাছে টানিয়া আনিয়া শেষ আশ্রয়ের সাহসে বারবার দ্রুত আবৃত্তি করিতে লাগিল’— দুর্গা কখন এমন করেছিল নিজের ভাষায় লেখো।” — এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘দুর্গা তাহাকে আরও কাছে টানিয়া আনিয়া শেষ আশ্রয়ের সাহসে বারবার দ্রুত আবৃত্তি করিতে লাগিল’— দুর্গা কখন এমন করেছিল নিজের ভাষায় লেখো।
এক কালবৈশাখীর বিকেলে দুর্গা-অপু সোনামুখীতলায় আম কুড়োতে যায়, কিন্তু সতুরা সেখান থেকে অপু-দুর্গাকে তাড়িয়ে দিলে দুই ভাই-বোন এক বহুপ্রাচীন বাগানে যায় আম কুড়োনোর নেশায়। বহুকালের প্রাচীন জঙ্গলময় সে স্থানে মানুষ বড়ো একটা যায় না। কাছির মতো মোটা মোটা অনেক গুলঞ্চলতা এ গাছে-ও গাছে দুলছে। বড়ো বড়ো প্রাচীন গাছের তলা আর কাঁটাভরা ঘন ঝোপজঙ্গলের মধ্যে আম খোঁজা দুষ্কর; তার উপর কালো ঝোড়ো মেঘে বাগানের মধ্যে অন্ধকার নেমে এসেছে। এরই মধ্যে দুর্গা আট-দশটা আম কুড়িয়ে পেয়েছে।
দেখতে দেখতে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল, বৃষ্টির ফোঁটার জোরে গাছের পাতা ছিঁড়ে পড়তে লাগল। বাড়ি থেকে বহুদূর চলে আসা অপুর মনে ভয়ের সঞ্চার হল। দিদি তাকে আঁচলের তলায় নিয়ে সাহস দিয়ে যাচ্ছিল। দুজনেই চিৎকার করে বৃষ্টি থামানোর উদ্দেশ্যে ‘নেবুর পাতায় করমচা, হে বৃষ্টি ধরে যা’— ছড়াটি আবৃত্তি করতে শুরু করেছিল।
হঠাৎ আকাশকে চিরে ফেলে বিদ্যুতের শিখা ক্ষণিকের জন্য বনভূমিকে আলোকিত করে তুলল। দুর্গার মনে হল, সমস্ত বাগানখানা ভেঙে পড়ে তাদের বুঝি চাপা দিয়ে দেয়। ভাইকে সে আরও কাছে টেনে নেয়, বাজের শব্দে দুই ভাই-বোন চমকে ওঠে। দুর্গারও ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল, আর অপু শীতে ও ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছিল। এমন সময়েই দুর্গা ভাইকে আরও কাছে টেনে, শেষ আশ্রয়ের সাহসে বারবার দ্রুত আবৃত্তি করছিল বৃষ্টি থামানোর ছড়াটি।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “‘দুর্গা তাহাকে আরও কাছে টানিয়া আনিয়া শেষ আশ্রয়ের সাহসে বারবার দ্রুত আবৃত্তি করিতে লাগিল’— দুর্গা কখন এমন করেছিল নিজের ভাষায় লেখো।” — নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment