একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে? একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে? একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টি  কাকে বলে? একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
Contents Show

একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে?

একনেত্র দৃষ্টি –

যখন একইসঙ্গে দুটি চোখে দুটি আলাদা বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয় অর্থাৎ, দুটি আলাদা বস্তু দেখা যায়, তখন সেই দৃষ্টিকে একনেত্র দৃষ্টি বলে।

উদাহরণ – ব্যাং, ঘোড়া, গোরু ইত্যাদি প্রাণীর দৃষ্টি।

দ্বিনেত্র দৃষ্টি –

একই সঙ্গে দুটি চোখ দিয়ে একটি বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হলে অর্থাৎ, দুটি চোখ দিয়ে একটিমাত্র বস্তুকে সুস্পষ্ট দেখা গেলে সেই দৃষ্টিকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে।

উদাহরণ – মানুষ, বাঘ প্রভৃতি প্রাণীর দৃষ্টি।

একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়একনেত্র দৃষ্টিদ্বিনেত্র দৃষ্টি
প্রতিবিম্বের গঠনএকইসঙ্গে দুটি চোখ দিয়ে একটি বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।একইসঙ্গে দুটি চোখে দুটি আলাদা বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
প্রাণীদেহে চোখের অবস্থানএকনেত্র দৃষ্টিভুক্ত প্রাণীদের মাথার দুপাশে দুটি চোখ অবস্থিত। যেমন – ব্যাং, ঘোড়া, কুকুর ইত্যাদি।দ্বিনেত্র দৃষ্টিভুক্ত প্রাণীদের মাথার সামনে দুটি চোখ অবস্থিত। যেমন – মানুষ, বাঘ ইত্যাদি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

কোন ধরনের প্রাণীরা দ্বিনেত্র দৃষ্টি ব্যবহার করে?

মানুষ, বাঘ, ঈগল, বানর প্রভৃতি শিকারী বা উচ্চবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণীদের সাধারণত দ্বিনেত্র দৃষ্টি থাকে। এতে তারা শিকার বা বস্তুর দূরত্ব সঠিকভাবে মাপতে পারে।

কোন প্রাণীদের একনেত্র দৃষ্টি দেখা যায়?

ঘোড়া, গরু, খরগোশ, ব্যাং, মাছ, পাখির একটি বড় অংশ (যেমন কবুতর) ইত্যাদি প্রাণীর সাধারণত একনেত্র দৃষ্টি থাকে। এরা প্রায় 360° কাছাকাছি দৃশ্য দেখতে পায়, যা শিকারি থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।

দ্বিনেত্র দৃষ্টির সুবিধা কী?

দ্বিনেত্র দৃষ্টির সুবিধা –
1. ভীরতা বা দূরত্ব নির্ণয়ের ক্ষমতা,
2. বস্তুর অবস্থান ও গতিপথ সঠিকভাবে নির্ণয়,
3. ত্রিমাত্রিক দৃষ্টি (3D Vision) যা কাজের সূক্ষ্মতা বাড়ায় (যেমন – হাত দিয়ে কিছু ধরার সময়)।

একনেত্র দৃষ্টির সুবিধা কী?

একনেত্র দৃষ্টির সুবিধা –
1. চারপাশের বৃহত্তর এলাকা দেখা যায়,
2. শত্রু বা শিকারের আগমন দ্রুত শনাক্ত করা,
3. নিরাপত্তা বৃদ্ধি (বিশেষত শিকার হওয়া প্রাণীদের ক্ষেত্রে)।

চোখের অবস্থান দৃষ্টির ধরনকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

মাথার দুপাশে চোখ – একনেত্র দৃষ্টি, দৃষ্টিক্ষেত্র বেশি কিন্তু চোখের দৃশ্যক্ষেত্র কম ওভারল্যাপ করে।
মাথার সামনে চোখ – দ্বিনেত্র দৃষ্টি, চোখের দৃশ্যক্ষেত্র বেশি ওভারল্যাপ করে, ফলে গভীরতা বোঝা সহজ হয়।

মানুষ কি একনেত্র ও দ্বিনেত্র উভয় দৃষ্টি ব্যবহার করে?

মানুষ প্রধানত দ্বিনেত্র দৃষ্টি ব্যবহার করে, তবে পার্শ্বীয় দৃষ্টি (Peripheral Vision) একনেত্র দৃষ্টির মতো কাজ করে, অর্থাৎ দুপাশের বিস্তৃত এলাকা দেখা যায় কিন্তু সেসব এলাকায় গভীরতা কম বোঝা যায়।

দ্বিনেত্র দৃষ্টি থাকলে কি সব সময় দুটি চোখ একসাথে কাজ করে?

হ্যাঁ, স্বাভাবিক দ্বিনেত্র দৃষ্টিতে দুটি চোখের ছবি মস্তিষ্ক একীভূত করে একটি ত্রিমাত্রিক চিত্র তৈরি করে। যদি চোখ দুটি সমন্বয় করে না কাজ করে (যেমন – ট্যারা চোখ), তখন দ্বিনেত্র দৃষ্টি বিঘ্নিত হয়।

কোন দৃষ্টি বেশি উন্নত – একনেত্র না দ্বিনেত্র?

উভয়ই নিজ নিজ পরিবেশ ও প্রয়োজনের জন্য উন্নত। দ্বিনেত্র দৃষ্টি শিকার বা সূক্ষ্ম কাজের জন্য উন্নত। একনেত্র দৃষ্টি পরিবেশের বৃহত্তর অংশ পর্যবেক্ষণ ও আত্মরক্ষার জন্য উন্নত।

পাখিদের ক্ষেত্রে দৃষ্টির ধরন কীভাবে ভিন্ন হয়?

শিকারী পাখি (ঈগল, প্যাঁচা) – দ্বিনেত্র দৃষ্টি, দূরের শিকার সঠিকভাবে ধরতে পারে।
শিকার হওয়া পাখি (কবুতর, মুরগি) – একনেত্র দৃষ্টি, প্রায় 300° দৃষ্টিক্ষেত্র, শিকারি থেকে বাঁচতে পারে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে? একনেত্র দৃষ্টি এবং দ্বিনেত্র দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন এবং আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের পার্থক্য

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) কী? গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) ও লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক কী? গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য – জীবনের প্রধান/মূল বৈশিষ্ট্য – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য – জীবনের প্রধান/মূল বৈশিষ্ট্য – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোন কাকে বলে? সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের পার্থক্য

হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে? হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে কার্যপদ্ধতির পার্থক্য লেখো।

গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক কী? গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।