এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হিমবাহ কী? হিমবাহের শ্রেণিবিভাগ করো” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “হিমবাহ কী? হিমবাহের শ্রেণিবিভাগ করো” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – হিমবাহের বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

হিমবাহ কী? হিমবাহের শ্রেণিবিভাগ করো।
অথবা, গ্রাবরেখা সম্পর্কে যা জানো লেখো।
হিমবাহ –
কোনো সুনির্দিষ্ট খাত বা উপত্যকা বরাবর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে খুব ধীরে চলনশীল সুবৃহৎ বরফের স্তূপ হল হিমবাহ। ভূবিজ্ঞানী ফ্লিন্টের মতে, “হিমবাহ হল এক বিশালাকার বরফের স্তূপ যা প্রধানত তুষার জমে সৃষ্টি হয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করছে এবং এটি বর্তমানে গতিশীল অবস্থায় রয়েছে বা অতীতে এক সময় গতিশীল ছিল।”
হিমবাহের শ্রেণিবিভাগ –
হিমবাহের অবস্থান ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানী অ্যালম্যান হিমবাহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা –
পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ –
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে হিমবাহ পর্বতের বিভিন্ন উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বলে তাকে পার্বত্য হিমবাহ বা উপত্যকা হিমবাহ বলে।
উদাহরণ – আলাস্কার হুবার্ড পৃথিবীর বৃহত্তম (115 × 10 বর্গ কিমি) উপত্যকা হিমবাহ।
মহাদেশীয় হিমবাহ –
উত্তর ও দক্ষিণমেরু অঞ্চলে ভূমিভাগের একটি বিশাল অঞ্চল জুড়ে যে হিমবাহ অবস্থান করতে দেখা যায়, তাকে মহাদেশীয় হিমবাহ বলে।
উদাহরণ – অ্যান্টার্কটিকার ল্যাম্বার্ট পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ।
পর্বতের পাদদেশীয় বা পিডমন্ট হিমবাহ –
হিমরেখার নীচে পর্বতের পাদদেশে একাধিক পার্বত্য হিমবাহ একত্রিত হয়ে যে বরফের স্তর সৃষ্টি করে, তাকে পর্বতের পাদদেশীয় বা পিডমন্ট হিমবাহ বলে।
উদাহরণ – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মালাসপিনা পৃথিবীর বৃহত্তম পাদদেশীয় হিমবাহ।
গ্রাবরেখা –
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে ক্ষয়জাত নুড়ি, পাথর, শিলাখণ্ড প্রভৃতি হিমবাহ দ্বারা বাহিত হয়ে বিভিন্নভাবে সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে তাকে গ্রাবরেখা বলে। অবস্থান ও প্রকৃতি অনুসারে গ্রাবরেখাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা –
- পার্শ্ব গ্রাবরেখা।
- মধ্য গ্রাবরেখা।
- প্রান্ত গ্রাবরেখা।
- আবদ্ধ গ্রাবরেখা।
- তলদেশ গ্রাবরেখা প্রভৃতি।
পার্শ্ব গ্রাবরেখা –
হিমবাহের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ঢাল থেকে আবহবিকারজাত পদার্থ, তুষারপাতজাত পদার্থ প্রভৃতি হিমবাহের দু-পাশে সঞ্চিত হয়ে পার্শ্ব গ্রাবরেখার সৃষ্টি করে।
মধ্য গ্রাবরেখা –
দুটি পার্শ্ব গ্রাবরেখা পরস্পর সংযুক্ত হয়ে মধ্য গ্রাবরেখা গঠন করে।
প্রান্ত গ্রাবরেখা –
হিমবাহের সম্মুখভাবে সঞ্চিত গ্রাবরেখাকে প্রান্ত গ্রাবরেখা বলে।
আবদ্ধ গ্রাবরেখা –
হিমবাহের ফাটলের মধ্য দিয়ে প্রস্তরখণ্ড অনেক সময় হিমবাহের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। একে আবদ্ধ গ্রাবরেখা বলে।
তলদেশ গ্রাবরেখা –
প্রস্তরখণ্ড পর্বতগাত্র ও হিমবাহের ফাটলের তলদেশে পৌঁছোলে, তাকে তলদেশ গ্রাবরেখা বলে।

উদাহরণ – তিস্তা নদীর উচ্চ অববাহিকায় লাচুং ও লাচেন নামক স্থানে বিভিন্ন প্রকার গ্রাবরেখা লক্ষ করা যায়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
হিমবাহ কী?
হিমবাহ হলো একটি বিশাল বরফের স্তূপ, যা মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে ধীরে ধীরে কোনো নির্দিষ্ট খাত বা উপত্যকা বরাবর চলমান। এটি প্রধানত তুষার জমে সৃষ্টি হয় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করে। ভূবিজ্ঞানী ফ্লিন্টের মতে, হিমবাহ অতীতে বা বর্তমানে গতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে।
হিমবাহের শ্রেণিবিভাগ কী?
হিমবাহকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয় –
1. পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ – উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হিমবাহ। উদাহরণ – আলাস্কার হুবার্ড হিমবাহ।
2. মহাদেশীয় হিমবাহ – উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বিশাল অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত হিমবাহ। উদাহরণ – অ্যান্টার্কটিকার ল্যাম্বার্ট হিমবাহ।
3. পর্বতের পাদদেশীয় বা পিডমন্ট হিমবাহ – একাধিক পার্বত্য হিমবাহ পর্বতের পাদদেশে একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয়। উদাহরণ – মালাসপিনা হিমবাহ।
গ্রাবরেখা কী?
হিমবাহ দ্বারা বাহিত নুড়ি, পাথর, শিলাখণ্ড প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে গ্রাবরেখা বলে। এটি হিমবাহের ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের ফলে গঠিত হয়।
গ্রাবরেখার প্রকারভেদ কী?
গ্রাবরেখাকে নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত করা যায় –
1. পার্শ্ব গ্রাবরেখা – হিমবাহের দু-পাশে সঞ্চিত পদার্থ দ্বারা গঠিত।
2. মধ্য গ্রাবরেখা – দুটি পার্শ্ব গ্রাবরেখা সংযুক্ত হয়ে গঠিত।
3. প্রান্ত গ্রাবরেখা – হিমবাহের সম্মুখভাগে সঞ্চিত পদার্থ দ্বারা গঠিত।
4. আবদ্ধ গ্রাবরেখা – হিমবাহের ফাটলে আবদ্ধ প্রস্তরখণ্ড দ্বারা গঠিত।
5. তলদেশ গ্রাবরেখা – হিমবাহের তলদেশে সঞ্চিত পদার্থ দ্বারা গঠিত।
পার্বত্য হিমবাহ ও মহাদেশীয় হিমবাহের মধ্যে পার্থক্য কী?
পার্বত্য হিমবাহ – উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের হয়।
মহাদেশীয় হিমবাহ – মেরু অঞ্চলে বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি পার্বত্য হিমবাহের তুলনায় অনেক বড়।
গ্রাবরেখার উদাহরণ দাও।
তিস্তা নদীর উচ্চ অববাহিকায় লাচুং ও লাচেন নামক স্থানে বিভিন্ন প্রকার গ্রাবরেখা দেখা যায়।
হিমবাহের গতিশীলতা কীভাবে নির্ধারিত হয়?
হিমবাহের গতিশীলতা নির্ভর করে মাধ্যাকর্ষণ বল, বরফের চাপ, এবং ভূমির ঢালের উপর। হিমবাহ ধীরে ধীরে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়।
গ্রাবরেখা কীভাবে সৃষ্টি হয়?
হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে নুড়ি, পাথর, শিলাখণ্ড প্রভৃতি বাহিত হয়ে সঞ্চিত হয় এবং গ্রাবরেখা গঠন করে।
হিমবাহের গুরুত্ব কী?
হিমবাহ পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, নদীর উৎস, এবং ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গ্রাবরেখা ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য কী?
গ্রাবরেখা সাধারণত অসমতল, নুড়ি ও পাথরে পরিপূর্ণ এবং হিমবাহের গতিপথ অনুসারে বিস্তৃত হয়। এটি হিমবাহের সঞ্চয় কাজের একটি প্রধান উদাহরণ।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হিমবাহ কী? হিমবাহের শ্রেণিবিভাগ করো” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “হিমবাহ কী? হিমবাহের শ্রেণিবিভাগ করো” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – হিমবাহের বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।