অষ্টম শ্রেণি বাংলা – কী করে বুঝব – বিষয়সংক্ষেপ

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘কী করে বুঝব’ -এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করবো। এখানে লেখকের পরিচিতি, গল্পের উৎস, গল্পের পাঠপ্রসঙ্গ, গল্পের সারসংক্ষেপ, গল্পের নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘কী করে বুঝব’ গল্প সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং গল্পটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কী করে বুঝব - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - লেখক পরিচিতি

লেখক পরিচিতি

বাংলা সাহিত্যের সুবিখ্যাত লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম 1909 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায়। অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় কোনোদিন স্কুল-কলেজে পড়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু নিজের আগ্রহে বাড়িতেই লেখাপড়া শেখেন। বাল্যকাল থেকেই তাঁর মধ্যে সাহিত্যিক প্রতিভার প্রকাশ দেখা যায়। মাত্র 13 বছর বয়সে ‘বাইরের ডাক’ নামক একটি কবিতা প্রকাশিত হয় ‘শিশুসাথী’ পত্রিকায়। এরপর ওই পত্রিকাতেই প্রকাশিত হয় ‘পাশাপাশি’ নামক তাঁর একটি গল্প। অতি অল্প বয়সেই বিবাহ হলেও আজীবন অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে সংসার এবং সাহিত্যজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে গেছেন।

1922 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শুধুই শিশুসাহিত্য রচনা করলেও পরবর্তীকালে বড়োদের জন্য লেখাতেও তিনি অসামান্য পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। অজস্র গল্প ও উপন্যাসে তিনি মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের ছবি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন; তার থেকে তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টি, সংবেদনশীলতা ও সামাজিক অভিজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাসের জন্য তিনি ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ এবং ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি ‘লীলা পুরস্কার’, ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধিও লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু বই হল – ‘ছোটো ঠাকুরদার কাশীযাত্রা’, ‘রাজকুমারের পোশাকে’, ‘গজ উকিলের হত্যা রহস্য’, ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’, ‘শশীবাবুর সংসার’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সোনার হরিণ’ ইত্যাদি। তাঁর বিভিন্ন বই অন্তত 63টি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 1995 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান হয়।

পাঠপ্রসঙ্গ

আলোচ্য গল্পটি শুধুমাত্র ছোটোদের নয়, বড়োদের সচেতনতা জাগ্রত করার জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বাড়ির ছোটো সদস্যদের কথাবার্তা ও আচার-ব্যবহার কেমন হবে, তার পিছনে বাড়ির বড়োদের আচরণের গুরুত্ব যে কতখানি এবং বড়োরা নিজেদের আচরণ সম্বন্ধে সচেতন না হয়েই সাধারণত ছোটোদের শাসন করে থাকেন – এই গল্পে তা চমৎকার কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বিষয়সংক্ষেপ

ছয় বছরের ছেলে বুকু নিজের বাড়ির বাইরের রোয়াকে বসে খেলার সময় দুজন অত্যন্ত মোটা মহিলা ও বুকুরই বয়সি একটি মোটাসোটা ছেলে রিকশা চেপে এসে হাজির হন। তাঁরা নিজেদের বুকুর মা নির্মলার ‘ছেনুমাসি’ ও ‘বেণুমাসি’ বলে পরিচয় দেন ও তিনতলার রান্নাঘর থেকে নির্মলাকে ডাকতে বলেন। বুকু মা-কে খবর দিয়ে এসে দেখে যে মোটাসোটা ছেলেটি, যার নাম ডাম্বল, আলমারির তালা উপড়ে ফেলে বেশ কিছু বই মাটিতে ছড়িয়েছে। বুকু জানিয়ে দেয় যে ওগুলি তার রাগি সেজোকাকার বই এবং তিনি এসে এর জন্য প্রহারও করতে পারেন। ডাম্বলের মা ছেলেকে নামমাত্র ধমক দেন এবং বুকুর উপরেই মনে মনে অসন্তুষ্ট হন।

এই সময়ে বুকুর মা এসে এঁদের সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন যে, মাসিরা আসায় তিনি খুব খুশি হয়েছেন। কিন্তু বুকু ফাঁস করে দেয় যে, এই পাতানো মাসিদের খবর না দিয়ে অসময়ে আসার খবর শুনে তিনি অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশই করেছিলেন। সে আরও জানিয়ে দেয় যে তাদের সিনেমার টিকিট কেনা আছে, বাবা ফিরলেই তাদের সেখানে যাওয়ার কথা। তাই মা তাড়াতাড়ি রান্না সেরে নিচ্ছিলেন। বুকুর মা অত্যন্ত অপ্রতিভ হয়ে বুকুর কান মলে দেন এবং তার কথা অস্বীকার করে বলেন যে ওগুলি বুকু বানিয়ে বলছে। এরপর প্রসঙ্গ পালটানোর জন্য তিনি ডাম্বলের প্রশংসা শুরু করেন এবং তার পড়াশোনার খবর নেন। কিন্তু ডাম্বল সটান জানিয়ে দেয় যে ইস্কুলের মাইনে দিতে হবে বলে তার বাবা বলেছেন পড়ার দরকার নেই। ডাম্বলের মা-ও কথা ঘোরানোর জন্য বুকু যে বই-এ হাত দেওয়ার জন্য ডাম্বলকে শাসিয়েছে, এ কথা জানিয়ে দেন। ছেলের আচরণে নির্মলা লজ্জিত, কাঁদো কাঁদো হয়ে ওঠেন। ইতিমধ্যে ডাম্বল টেবিলল্যাম্প ভাঙে এবং চা-জলখাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। এরপর বুকু বলে দেয় যে তার বাবা বাড়ি ফিরে এই মাসিদের আসার খবর শুনে রেগে গেছেন, কারণ সিনেমার টিকিটগুলো নষ্ট হবে। বুকু অতিথিদের জানায় যে তারা তাড়াতাড়ি চলে না গেলে মা রান্না করা ও অতিথিদের নিন্দে করার সময় পাবেন না। এ কথা শুনে ক্রুদ্ধ অতিথিরা চলে গেলে মা বুকুকে প্রচণ্ড মারতে থাকেন। মারার কারণ জেনে বাবাও বুকুকে মারতে শুরু করেন। তাদের মতে, বুকু বাইরের লোকের কাছে বাবা-মাকে অপদস্থ করেছে। কিন্তু ছোটো বুকু বোঝে না কী তার অপরাধ। বাবা-মা তো তাকে সর্বদা সত্যি কথা বলতে এবং কোনো কথা কারুর কাছে না লুকোতে বলেছেন। কিন্তু সেটা সে করেছে বলেই তারা তাকে মারছেন। তাহলে কী করতে হবে সেটা সে কী করে বুঝবে?

নামকরণ

নামকরণ সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নামকরণের মধ্য দিয়ে পাঠক বিন্দুতে সিন্ধু দর্শনের মতো সাহিত্য-বিষয়টি পাঠ করার আগে সাহিত্য-বিষয়টি সম্পর্কে খানিক ধারণা লাভ করতে পারেন। সাহিত্যে নামকরণ নানা উপায়ে হতে পারে। যথা – চরিত্রকেন্দ্রিক, ঘটনাকেন্দ্রিক, ব্যঞ্জনাধর্মী ইত্যাদি।

আগাগোড়া কৌতুকের মোড়কে এই গল্পে ছোটোদের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ছয় বছরের শিশু বুকু বাইরের লোকেদের সামনে মা-বাবার আড়ালে বলা নানা কথা ফাঁস করে দিয়ে তাদের চরম অপদস্থ করেছে। মা-বাবা ছেলের এই সহবতহীন আচরণে ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে মারতে থাকেন। তাঁরা বুঝতেই পারেন না কেন সে এমন করেছে। কিন্তু বুকু জানায় যে তারাই তাকে বলেছেন সর্বদা সত্যি কথা বলতে এবং কারুর কাছে কোনো কথা না লুকোতে। অথচ সেটা করেছে বলে তারাই তাকে এখন মারছেন। তাই সব শেষে তার প্রশ্ন –  ‘কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে?’ ছোটো বুকুর এই বুঝতে না-পারা অসহায় অবস্থাই এই গল্পের মূল কথা। তাই ‘কী করে বুঝব’ শিরোনামটি এই গল্পের জন্য সুপ্রযুক্ত হয়েছে।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের অন্তর্গত ‘কী করে বুঝব’ -এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

বোঝাপড়া - অষ্টম শ্রেণী-বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বোঝাপড়া – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

বোঝাপড়া-অষ্টম শ্রেণী-বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বোঝাপড়া – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

বোঝাপড়া-অষ্টম শ্রেণী-বাংলা

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বোঝাপড়া – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বোঝাপড়া – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বোঝাপড়া – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বোঝাপড়া – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বোঝাপড়া – বিষয়সংক্ষেপ

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – কী করে বুঝব – বিষয়সংক্ষেপ