এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জীবদেহে কোশ বিভাজনের গুরুত্বগুলি উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জীবদেহে কোশ বিভাজনের গুরুত্বগুলি উল্লেখ করো।
কোশ বিভাজনের গুরুত্ব –
জীবদেহে কোশ বিভাজনের গুরুত্বগুলি হল –
- সামগ্রিক বৃদ্ধি – এককোশী ও বহুকোশী জীবের সংখ্যা, আকার ও আয়তন বৃদ্ধিতে কোশ বিভাজনের গুরুত্ব অপরিসীম।
- বিভিন্ন অঙ্গের প্রভেদন – একটিমাত্র কোশ থেকে বহুকোশী জীবের সৃষ্টি হয়। একটিমাত্র কোশ ক্রমশ কোশ বিভাজনের মাধ্যমেই বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় অঙ্গে বিভেদিত হয়। উন্নত জীবদেহে জনন অঙ্গের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুরণ কোশ বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে। উদ্ভিদের ভ্রূণ কোশ বিভাজন দ্বারা মূল কাণ্ড, পাতা সৃষ্টির মাধ্যমে চারাগাছ সৃষ্টি করে। প্রাণীদের জাইগোট কোশ বিভাজনের মাধ্যমে মরুলা, ব্লাস্টুলা, গ্যাস্ট্রুলা সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুপ্রাণীতে পরিণত হয়।
- প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা – মিয়োসিস কোশ বিভাজনের ফলে উৎপন্ন দুটি ভিন্নধর্মী হ্যাপ্লয়েড জননকোশে (n) ক্রোমোজোম সংখ্যা জনন মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। তারা আবার মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) সৃষ্টি করে, যাতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোশের সমান হয়। এভাবে জনিতৃ জীব এবং অপত্য জীবে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখতে কোশ বিভাজন অপরিহার্য।
- ক্ষতস্থান পূরণ ও প্রতিস্থাপন – জীবদেহের পুরোনো, ক্ষয়িষ্ণু ও মৃতকোশের সজীব কোশ দ্বারা প্রতিস্থাপন ও ক্ষতস্থান পূরণে কোশ বিভাজনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
- পুনরুৎপাদন – কিছুকিছু জীব তার দেহের কোনো নষ্ট অঙ্গকে কোশ বিভাজনের মাধ্যমেই পুনরুদ্ধার করে, একে পুনরুৎপাদন বলে। যেমন-তারামাছ তার হারানো বাহু, কবচী প্রাণীরা তাদের হারানো পদ মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে ফিরে পায়।
- অভিব্যক্তি ও অভিযোজনে ভূমিকা – মিয়োসিস কোশ বিভাজনের সময় ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে উৎপন্ন অপত্য কোশে জিনের সজ্জারীতির পরিবর্তন হয়, ফলে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণের আবির্ভাব ঘটে। এই প্রকরণ বা ভেদ জীবকে নতুন পরিবেশে অভিযোজিত হতে সাহায্য করে, ফলে অভিব্যক্তির পথ সুগম হয়।
- জনুক্রমের আবর্তন – জীবের জনুক্রমে অযৌন জননকারী রেণুধর দশা (2n) ও যৌন জননকারী লিঙ্গধর দশার (n) পর্যায়ক্রমিক আবর্তন কোশ বিভাজনের মাধ্যমেই ঘটে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জীবদেহে কোশ বিভাজনের গুরুত্বগুলি উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment