এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Madhyamik Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব। প্রশ্নটি হলো — “যে দুটি অন্তর্গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ‘তিমির ফ্লিপার’ ও ‘পাখির ডানা’-কে সমসংস্থ অঙ্গ বলে বিবেচনা করা হয়, তা উল্লেখ করো। জিরাফের গলা লম্বা হওয়া সম্পর্কে ল্যামার্কের মতবাদ ব্যাখ্যা করো।” এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন”-এর অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানা এবং ল্যামার্কের মতবাদ
‘তিমির ফ্লিপার’ ও ‘পাখির ডানা’-কে সমসংস্থ অঙ্গ বলে বিবেচনা করার কারণ
তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানাকে সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous Organs) বলে বিবেচনা করা হয়, কারণ এদের অন্তর্গঠনগত বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম। নিচে তা আলোচনা করা হলো –
- তিমির ফ্লিপারের গঠন – তিমির ফ্লিপারের ক্ষেত্রে গঠনগত হাড়গুলি হলো – হিউমেরাস, রেডিয়াস, আলনা, কারপাল, মেটাকারপাল এবং ফ্যালানজেস।
- পাখির ডানার গঠন – অপরদিকে, পাখির ডানা পেক্টোরাল গার্ডেল-এর সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকে। পাখির পেক্টোরাল গার্ডেল উইশবোন, কোরাকয়েড এবং স্ক্যাপুলা নিয়ে গঠিত। এই স্ক্যাপুলা হিউমেরাসের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং হিউমেরাস পরবর্তীতে রেডিয়াস, আলনা, কারপাল, মেটাকারপাল ও ফ্যালানজেস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
সিদ্ধান্ত – তিমি এবং পাখি উভয়ই মেরুদণ্ডী প্রাণী। তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানার গঠনগত এবং উৎপত্তিগত দিক এক হলেও, কার্যগত দিক থেকে এরা সম্পূর্ণ আলাদা (তিমি সাঁতার কাটে এবং পাখি ওড়ে)। তাই এগুলিকে সমসংস্থ অঙ্গ বলে বিবেচনা করা হয়।
জিরাফের গলা লম্বা হওয়া সম্পর্কে ল্যামার্কের মতবাদ
ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যামার্কের ‘ব্যবহার ও অব্যবহার’-এর তত্ত্ব (Theory of Use and Disuse) অনুযায়ী— যেসব অঙ্গের ব্যবহার বেশি হয় সেগুলি ক্রমশ সবল, সুদৃঢ় ও উন্নত হয় এবং যেসব অঙ্গের ব্যবহার কম হয়, সেগুলি ক্রমশ ক্ষীণ, দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
ল্যামার্কের মতে –
- জিরাফের উদ্বংশীয় প্রাণীরা (পূর্বপুরুষ) মূলত ছোট গলাযুক্ত ও তৃণভোজী ছিল।
- পৃথিবীতে কোনো প্রাকৃতিক কারণে ভূ-সংলগ্ন তৃণের অভাব দেখা দেওয়ায় তারা উঁচু ডালের পাতা খেতে শুরু করে।
- এর ফলে, পাতার নাগাল পাওয়ার নিরন্তর চেষ্টায় জিরাফের গলার ব্যবহার বেশি হতে থাকে।
- বংশপরম্পরায় গলার এই অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে গ্রীবা দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অবশেষে বর্তমানকালের লম্বা গলা বা গ্রীবাযুক্ত জিরাফের আবির্ভাব ঘটে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “যে দুটি অন্তর্গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ‘তিমির ফ্লিপার’ ও ‘পাখির ডানা’-কে সমসংস্থ অঙ্গ বলে বিবেচনা করা হয়, তা উল্লেখ করো। জিরাফের গলা লম্বা হওয়া সম্পর্কে ল্যামার্কের মতবাদ ব্যাখ্যা করো।” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, অভিব্যক্তি ও অভিযোজন অধ্যায়ের এই আর্টিকেলটি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে।





Leave a Comment