এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানবচক্ষুতে রেটিনার অবস্থান ও কাজ লেখো। মানবচক্ষুর অক্ষিগোলকের স্ক্লেরা, কোরয়েড ও রেটিনার একটি করে গঠনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মানবচক্ষুতে রেটিনার অবস্থান ও কাজ লেখো।
মানবচক্ষুতে রেটিনার অবস্থান – রেটিনা হল চক্ষুগোলকের সবচেয়ে ভিতরের তৃতীয় স্তর যা অপটিক স্নায়ুর কাছে অবস্থিত। এটি রড এবং কোণ কোশ দ্বারা গঠিত।
মানবচক্ষুতে রেটিনার কাজ –
- বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করে।
- আলোক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে উজ্জ্বল আলোকে দেখতে সাহায্য করে।
মানবচক্ষুর অক্ষিগোলকের স্ক্লেরা, কোরয়েড ও রেটিনার একটি করে গঠনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
গঠনগত বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
- স্ক্লেরা – সাদা, অস্বচ্ছ, তন্তুময় বহিরাবক।
- কোরয়েড – কালো, রক্তবাহসমৃদ্ধ মধ্যস্তর।
- রেটিনা – রড ও কোণ কোশযুক্ত অন্তঃআবরক।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মানবচক্ষুতে রেটিনার অবস্থান কোথায়?
রেটিনা চক্ষুগোলকের সবচেয়ে ভিতরের স্তর হিসেবে অবস্থিত। এটি অপটিক স্নায়ুর (দৃষ্টিস্নায়ুর) প্রান্তে অবস্থিত এবং স্ক্লেরা ও কোরয়েড স্তরের ঠিক ভিতরে থাকে।
রেটিনার প্রধান কাজ কী?
রেটিনার প্রধান কাজ হলো আলোক রশ্মিকে স্নায়বিক সংকেতে রূপান্তরিত করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করা। এটি আলোক-গ্রাহক কোষ (রড ও কোণ) দ্বারা গঠিত হয়ে দৃষ্টি সম্ভব করে। এছাড়া, এটি বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করতে সাহায্য করে।
রড ও কোণ কোষের মধ্যে পার্থক্য কী?
রড ও কোণ কোষের মধ্যে পার্থক্য –
1. রড কোষ – কম আলোতে (অন্ধকারে) দেখতে সাহায্য করে এবং সাদা-কালো দৃষ্টির জন্য দায়ী।
2. কোণ কোষ – উজ্জ্বল আলোতে রঙিন দৃষ্টি এবং স্বচ্ছ দৃষ্টির জন্য দায়ী।
রেটিনা খারাপ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী হয়?
রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে, দৃষ্টিক্ষেত্রের কিছু অংশ অনুপস্থিত দেখা যেতে পারে (অন্ধ বিন্দু), এমনকি সম্পূর্ণ অন্ধত্বও হতে পারে। রেটিনা বিচ্ছিন্নতা ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এর সাধারণ উদাহরণ।
রেটিনার সাথে অপটিক স্নায়ুর সম্পর্ক কী?
রেটিনার কোষগুলোতে উৎপন্ন দৃষ্টি সংকেত অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের দৃষ্টিকেন্দ্রে পৌঁছে যায়। অপটিক স্নায়ু রেটিনার পশ্চাৎভাগে সংযুক্ত থাকে।
রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠনের প্রক্রিয়া কী?
চোখের লেন্স (অ্যাকুয়াস হিউমর ও ভিট্রিয়াস হিউমরের মাধ্যমে) রেটিনার উপর একটি উল্টো ও বাস্তব প্রতিবিম্ব গঠন করে। রেটিনার আলোক-গ্রাহক কোষগুলো এই প্রতিবিম্বকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে।
রেটিনা কেন আলোক-সংবেদনশীল?
রেটিনার রড ও কোণ কোষে আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন (রডোপসিন ও আইডপসিন) থাকে। এগুলো আলোর উদ্দীপনা গ্রহণ করে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করে এবং স্নায়বিক সংকেত সৃষ্টি করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানবচক্ষুতে রেটিনার অবস্থান ও কাজ লেখো। মানবচক্ষুর অক্ষিগোলকের স্ক্লেরা, কোরয়েড ও রেটিনার একটি করে গঠনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন