এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানুষ কোন্ পদ্ধতিতে গমন করে এবং গমনে সাহায্যকারী অঙ্গগুলি কী কী? মানুষের গমনে কোন্ কোন্ অস্থি ও পেশি সাহায্য করে?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষ কোন্ পদ্ধতিতে গমন করে এবং গমনে সাহায্যকারী অঙ্গগুলি কী কী?
মানুষ দ্বিপদ গমন পদ্ধতিতে গমন করে।
দ্বিপদ গমন – মানুষের গমনে সাহায্যকারী প্রধান অঙ্গটি হল দুটি পা। দুটি পা বা দ্বিপদ -এর পর্যায়ক্রমিক সঞ্চালনের মাধ্যমে স্থানান্তর ঘটে তাই মানুষের গমন পদ্ধতিকে দ্বিপদ গমন বলে।
মানুষের প্রধান গমনাঙ্গ হল একজোড়া পা, দুটি পা ছাড়াও একজোড়া হাত, কঙ্কাল পেশি, অস্থিসন্ধি গমনে সাহায্য করে। গমনের সময় দেহের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লঘুমস্তিষ্ক এবং অন্তঃকর্ণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মানুষের গমনে কোন্ কোন্ অস্থি ও পেশি সাহায্য করে?
অস্থি – মানুষের গমনে টিবিয়া, ফিবিউলা, টারসাল, মেটা-টারসাল, ফিমার, পেলভিক গার্ডেল, ফ্যালেনজেস ইত্যাদি অস্থি সাহায্য করে।
পেশি – মানুষের গমনে বাইসেপস ফিমোরিস, গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস, গ্লুটিয়াস ম্যাক্সিমাস, অ্যাডাকটর লংগাস ইত্যাদি পেশি সাহায্য করে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মানুষ দুই পায়ে হাঁটে কেন? এর সুবিধা কী?
মানুষ দুই পায়ে হাঁটলে (দ্বিপদ গমন) হাত মুক্ত থাকে, যা হাত দিয়ে কাজ করা, জিনিস বহন করা ও ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। এটি শক্তির দক্ষ ব্যবহার এবং দূরের দৃশ্য দেখে পথ চলতে সাহায্য করে।
দ্বিপদ গমনের সময় দেহের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হয়?
ভারসাম্য রক্ষায় লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum) দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমন্বয় ও ভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্তঃকর্ণের ভেস্টিবিউলার তন্ত্র শরীরের অবস্থান ও গতির তথ্য সরবরাহ করে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
হাঁটার সময় পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুল পর্যন্ত কীভাবে চলন হয়?
প্রথমে গোড়ালি মাটিতে পড়ে, তারপর পায়ের পাতার বাইরের দিক ও শেষে আঙুলের মাধ্যমে ধাক্কা দিয়ে শরীরকে সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় পেশি, অস্থি ও অস্থিসন্ধির সমন্বিত কাজ জড়িত।
গমনে পেলভিক গার্ডেল (শ্রোণীচক্র) এর ভূমিকা কী?
পেলভিক গার্ডেল শরীরের ওপরের ভরের ভার নিচের অঙ্গে (পায়ে) স্থানান্তরিত করে, হাঁটার সময় স্থিতিশীলতা দেয় এবং অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখে।
হাঁটার সময় হাতের নড়াচড়ার প্রয়োজন আছে কি?
হাঁটার সময় হাতের পেন্ডুলামের মতো নড়াচড়া শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে এবং শক্তির ব্যবহারকে আরও দক্ষ করে।
গমনে মেরুদণ্ডের ভূমিকা কী?
মেরুদণ্ড দেহকে সোজা রাখে, মাথা ও বুকের ভার বহন করে এবং হাঁটার সময় দেহের ঝাঁকুনি কমিয়ে শক শোষণ করে।
বয়স বা অসুস্থতায় গমন পদ্ধতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
বয়স বাড়লে বা অসুস্থতায় (যেমন – আর্থ্রাইটিস, স্নায়বিক রোগ) পেশির দুর্বলতা, অস্থিসন্ধির অনমনীয়তা বা ভারসাম্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে, ফলে গতি কমে, শক্তির প্রয়োজন বাড়ে বা সহায়ক উপকরণ (যেমন – লাঠি) প্রয়োজন হতে পারে।
দৌড়ানো ও হাঁটার মধ্যে পার্থক্য কী?
দৌড়ানোর সময় দু’পা একসঙ্গে মাটি থেকে ওপরের দিকে উঠে এবং হাঁটার চেয়ে বেশি গতি, শক্তি ও পেশির সমন্বয় প্রয়োজন হয়। দৌড়ানোর সময় পায়ের ওপর চাপ বেশি পড়ে।
কৃত্রিম অঙ্গ (প্রস্থেটিকস) কীভাবে গমনে সাহায্য করে?
আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ (প্রস্থেটিক লেগ) পায়ের গঠন ও কাজের অনুকরণ করে, পেশির শক্তিকে ব্যবহার করে গমন পদ্ধতিকে স্বাভাবিকের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানুষ কোন্ পদ্ধতিতে গমন করে এবং গমনে সাহায্যকারী অঙ্গগুলি কী কী? মানুষের গমনে কোন্ কোন্ অস্থি ও পেশি সাহায্য করে?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন