মোবাইল ফোন – প্রবন্ধ রচনা

Rahul

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘মোবাইল ফোন’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় এই রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। একবার ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি—যেকোনো ক্লাসের পরীক্ষাতেই তোমরা এই রচনার প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখতে পারবে।

মোবাইল ফোন - প্রবন্ধ রচনা

মোবাইল ফোন – প্রবন্ধ রচনা

এখন নাকি শব্দগুলো এক মুহূর্তে সাগর পেরোয়
এখন নাকি যন্ত্রগুলো এপার থেকে আমার কথা তোমার পারে পৌঁছিয়ে দেয়
তবু কিছুই যায় না বলা, শব্দখেলায় কেবল ফাঁকি
কথার পিঠে কথা সাজাই আমরা
এখন একলা থাকি

ভূমিকা –

বিজ্ঞানের যে কটি বিস্ময়কর আবিষ্কার আজকের মানবসভ্যতাকে আরও আধুনিক ও আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে, মোবাইল ফোন সেগুলির অন্যতম। মোবাইল ফোন আধুনিক পৃথিবীর অপরিহার্য অঙ্গ, জীবনের দ্রুত চলমানতার সঙ্গে মানানসই এক আবশ্যিক উপকরণ।

মোবাইল ফোনের ইতিহাস –

1946 খ্রিস্টাব্দে আমেরিকায় যে মোবাইল টেলিফোন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল তাকেই মোবাইল ফোনের আদিরূপ বলা হয়। বেল সিস্টেম মোবাইল টেলিফোন সার্ভিস নামে প্রচলিত এই সংযোগ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হওয়ায় বিশেষ জনপ্রিয় হয়নি। এরপর কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে 1973 খ্রিস্টাব্দে ড. মার্টিন কুপার আধুনিক মোবাইল ফোনকে পৃথিবীর মানুষের কাছে হাজির করেন। সেই আদি মোবাইলটির ওজন ছিল 2 কিলোগ্রাম। 1979 খ্রিস্টাব্দে জাপান প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সেলুলার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চালু করে। 1990 খ্রিস্টাব্দে সমগ্র পৃথিবীতে 1 কোটি 24 লক্ষ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করতেন। কিন্তু অতি দ্রুত এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় 2010 খ্রিস্টাব্দে বিশ্বজুড়ে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় 46 কোটি। ভারতে 1995 খ্রিস্টাব্দে মোবাইল ফোনের পরিসেবা বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়। 2014 খ্রিস্টাব্দে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা হয়েছে 4.55 বিলিয়ন। একটি সমীক্ষায় বলছে 2022 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ভারতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে 82 কোটি 90 লক্ষ। ভারতের মতো দেশের ক্রমবর্ধমান বাজারের কথা মাথায় রেখে দেশীয় এবং বহুজাতিক অনেক সংস্থাই যেমন, বিএসএনএল, ভোডাফোন, এয়ারটেল, আইডিয়া সেলুলার, জিও প্রভৃতি এদেশে মোবাইল পরিসেবা দিতে উদ্যোগী হয়েছে।

মোবাইল ফোনের উপযোগিতা –

মোবাইল ফোন এমন একটি বৈদ্যুতিন উপকরণ যার উপযোগিতা আধুনিক জীবনে সর্বত্র। চিঠি লেখার ও পাওয়ার অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তাকে দূর করে মোবাইল নিয়ে এসেছে এসএমএস পরিসেবা। সংযোগকে আরও প্রাণবন্ত করেছে এই ব্যবস্থা। কম্পিউটারের দুনিয়াকেও অনেকটাই হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে মোবাইল ফোন। ই-মেল, ইনটারনেট-এইসব পরিসেবা এখন মোবাইল ফোনের কারণে সহজে উপলব্ধ। ব্লুটুথ বা ইনফ্রারেড প্রযুক্তি সংযোগব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। স্থির এবং চলমান ফোটোগ্রাফিও অনায়াসে সম্ভব এই মোবাইল ফোনের সাহায্যে। এতে রয়েছে বিনোদনের অজস্র ব্যবস্থা। রেডিয়ো, এমপিথ্রি, গেমিং, এমনকি টিভির অনুষ্ঠানও মোবাইলের সাহায্যে উপভোগ করা সম্ভব। মোবাইলে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশই উন্নত হচ্ছে। মোবাইল ব্যবস্থা এখন চতুর্থ প্রজন্মে প্রবেশ করেছে। মোবাইলের মাধ্যমে টাকাপয়সার লেনদেনের ক্ষেত্রে নেট-ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে যেমন কার্যকর করা হচ্ছে, তেমনই আগামী দিনে এটি ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতে চলেছে। মোবাইল ফোন যেন আলাদিনের মায়ার প্রদীপের মতো জাদুশক্তির অধিকারী।

মোবাইল ফোনের খারাপ দিক –

বিজ্ঞানের যে-কোনো আবিষ্কারের মতোই মোবাইলেরও কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। কিশোরমনে মোবাইল ফোনের প্রতি যে আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে তা এক নেতিবাচক সামাজিক চাহিদার জন্ম দিচ্ছে। মোবাইলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিদ্যালয়ের পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে, আবার ছাত্রছাত্রীদের মনঃসংযোগেও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। নানারকম সামাজিক দূষণও এর মাধ্যমে ঘটছে। নাগরিক জীবনে মোবাইলের অসতর্ক ব্যবহার যেমন গাড়ি চালানো কিংবা রাস্তা পারাপার বা লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার দুর্ঘটনা ডেকে আনছে। মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার শ্রবণেন্দ্রিয় ও হার্টের সমস্যা তৈরি করতে পারে এরকমও অনেকে বলেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনও এমন ধারণাকে সমর্থন করেনি। সবমিলিয়ে মোবাইল ফোনের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজন। বিদ্যালয় স্তরে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।

উপসংহার –

বিজ্ঞানের যে-কোনো যুগান্তকারী আবিষ্কারের মতোই মোবাইলের সার্থকতা নির্ভর করছে তার ব্যবহারের উপর। নাগরিক সচেতনতা এই আধুনিক উপকরণটির প্রয়োগকে তাই সার্থক করে তুলতে পারে। গতিশীল আধুনিক যুগের ট্রেডমার্ক মোবাইল ফোনকে বাদ দিয়ে একুশ শতককে ভাবা অসম্ভব।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ‘মোবাইল ফোন’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করেছি। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় ‘মোবাইল ফোন’ রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি প্রাচীন বটগাছের আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা

একটি মেলা দেখার অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

একটি মেলা দেখার অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

প্রতিসরণ কোণ কাকে বলে? কাচফলকে প্রতিসরণের ফলে আলোকরশ্মির চ্যুতি হয় না কেন?

একটি প্রিজমের i-δ লেখচিত্র আঁকো, যেখানে i হল আপতন কোণ ও δ হল চ্যুতিকোণ।

উত্তল লেন্স এবং অবতল লেন্স কয়প্রকার ও কী কী?

আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।

রেখাচিত্রের সাহায্যে লেন্স দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠনের নিয়মাবলি গুলি লেখো।