এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Madhyamik Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “একসংকর পরনিষেক (Monohybrid Cross) কী? এবং দ্বিসংকর পরনিষেক (Dihybrid Cross) কী?” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর অংশ। শুধুমাত্র মাধ্যমিক (WBBSE) পরীক্ষাই নয়, বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার (Competitive Exams) প্রস্তুতিতেও এই টপিকটি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিষয়টি খুব সহজ ভাষায় নিচে আলোচনা করা হলো।

একসংকর পরনিষেক বা মনোহাইব্রিড ক্রস কী (Monohybrid Cross in Bengali)?
একজোড়া পরস্পর বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতিভুক্ত দুটি বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানোর পদ্ধতিকে একসংকর জনন বা মনোহাইব্রিড ক্রস বলে।
- উদাহরণ – একটি বিশুদ্ধ লম্বা (TT) মটর গাছের সঙ্গে বিশুদ্ধ বেঁটে (tt) মটর গাছের সংকরায়ণ।
মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষা (Mendel’s Experiment)
বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (Gregor Johann Mendel) তাঁর একসংকর জনন পরীক্ষার জন্য মটর গাছ (Pea plant) নির্বাচন করেছিলেন। তিনি এই পরীক্ষার জন্য মটর গাছের কাণ্ডের দৈর্ঘ্যকে বৈশিষ্ট্য হিসেবে বেছে নেন।
- বিপরীত বৈশিষ্ট্য – বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছ এবং বিশুদ্ধ বেঁটে মটর গাছ।
- জিন বা অ্যালিল (Gene/Allele) – লম্বা বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিনকে ক্যাপিটাল ‘T’ এবং বেঁটে বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিনকে স্মল ‘t’ ধরা হয়।
- বিশুদ্ধ লম্বা (Pure Tall) গাছের জিনোটাইপ – TT
- বিশুদ্ধ বেঁটে (Pure Dwarf) গাছের জিনোটাইপ – tt
দ্বিসংকর পরনিষেক বা ডাইহাইব্রিড ক্রস কী (Dihybrid Cross in Bengali)?
দু-জোড়া বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে পরনিষেক বা সংকরায়ণ ঘটানোকে দ্বিসংকর পরনিষেক বা ডাইহাইব্রিড ক্রস বলে।
- উদাহরণ – একটি হলুদ বীজপত্র ও গোলাকার বীজবিশিষ্ট (YYRR) মটর গাছের সঙ্গে একটি সবুজ বীজপত্র এবং কুঞ্চিত আকার বীজবিশিষ্ট (yyrr) মটর গাছের সংকরায়ণ।
আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা একসংকর পরনিষেক (Monohybrid Cross) এবং দ্বিসংকর পরনিষেক (Dihybrid Cross) সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের বংশগতি অধ্যায়ের এই প্রশ্নটি পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই আর্টিকেলটি আপনাদের পড়াশোনায় সামান্য হলেও সাহায্য করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। জীবনবিজ্ঞান বা অন্যান্য বিষয়ের ওপর আপনাদের আরও কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, সরাসরি আমাদের সাথে টেলিগ্রামে (Telegram) যোগাযোগ করুন।ইব্রিড ক্রস কী?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ” -এর “বংশগতি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment