এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব— “নীলমণি হাজরার দলের যাত্রা অপুর মনে কেমন প্রভাব ফেলেছিল?” এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি উপন্যাসের মূল ভিত্তি এবং গ্রামীণ বাংলার চিরায়ত শৈশবকে বোঝার জন্য অপরিহার্য।

নীলমণি হাজরার দলের যাত্রা অপুর মনে কেমন প্রভাব ফেলেছিল?
অপু এমন যাত্রা পূর্বে কখনও দেখেনি, তার শিশুমনে এই যাত্রা গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। ঘুমের মধ্যেও অপু যেন যাত্রায় বাজানো বেহালার সুর শুনতে পায়। রাতে ভালো ঘুম হয় না, সকালেও যেন তার কানে ভেসে আসে বেহালা-ঢোল-মন্দিরার ঐকতান। ঘাটের পথে পাড়ার মেয়েরা যখন কথা বলতে বলতে যায়, অপুর মনে হয় তারা কেউ যেন ধীরাবতী, কেউ কলিঙ্গের মহারানি, কেউ রাজপুত্র অজয়ের মা বসুমতী, আর তার দিদি দুর্গা যেন রাজকন্যা ইন্দুলেখা। ইন্দুলেখার যে অবয়ব অপুর মনে তৈরি হয়েছে, তা তার দিদিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। দিদির গায়ের রং, বড়ো বড়ো চোখ, সুন্দর মুখ, সুন্দর চুল রাজকন্যা হবারই যোগ্য বলে মনে হয় অপুর। ইন্দুলেখা যেন করুণা, স্নেহ, মাধুরী নিয়ে তার দিদি হয়ে ফিরে এসেছে। গভীর বনে রাজকন্যা শতস্নেহে যেভাবে ছোটো ভাইকে জড়িয়ে রেখেছিল, ভাইকে খাওয়ানোর জন্য ফল সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্জন বনে হারিয়ে গিয়েছিল, তাতে একদিনের মাকাল ফল সংগ্রহ করতে যাওয়ার ঘটনাই অপুর মনে হতে থাকে। অজয়ের কাছ থেকে সে কয়েকটি গান শিখে নেয় এবং দিদিকে শুনিয়ে বাহবা আশা করে। বড়ো হলে সেও যাত্রার দলে যোগ দেওয়ার বাসনা মনে মনে লালন করে। নীলমণি হাজরার যাত্রাদলের যাত্রা এমনই প্রভাব ফেলেছিল অপুর মনে।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “নীলমণি হাজরার দলের যাত্রা অপুর মনে কেমন প্রভাব ফেলেছিল?” — নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের জন্য সহায়ক হয়েছে।
যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!





Leave a Comment