এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবন ও তার বৈচিত্র্য’ -এর উপবিভাগ ‘জীবনের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণিবিন্যাস : ট্যাক্সোনমি’ -এর সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাক্সোনমি এবং ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি
ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি কাকে বলে?
জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে তাদের শনাক্তকরণ, নামকরণ ও শ্রেণিভুক্তকরণের রীতিনীতি এবং আইনকানুন বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা করা হয় তাকে ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি বলা হয়।
ট্যাক্সোনমি শব্দটির উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে?
ট্যাক্সোনমি (Taxonomy) শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। যথা –
- ট্যাক্সিস (Taxis) কথার অর্থ হল arrangement বা বিন্যাস।
- নোমোস (Nomos) কথার অর্থ হল law বা বিধি বা নিয়ম।
অর্থাৎ ট্যাক্সোনমির বুৎপত্তিগত অর্থ হল বিন্যাসবিধি।
কোন্ বিজ্ঞানী কত সালে ‘ট্যাক্সোনমি’ শব্দটি প্রবর্তন করেন?
সুইডিশ বিজ্ঞানী পি দ্য ক্যানডোলে (P de Candolle) 1813 সালে তাঁর প্রকাশিত ‘Theorie elementerie de la Botanique’ গ্রন্থে প্রথম ‘ট্যাক্সোনমি’ (Taxonomy) শব্দটি প্রবর্তন করেন।
সিস্টেমেটিক্স (Systematics) কাকে বলে?
বিজ্ঞানী সিম্পসন (Simpson 1960) -এর মতে, জীবের প্রকারভেদ, বৈচিত্র্য এবং তাদের পারস্পরিক তুলনামূলক ও বিবর্তনগত সম্পর্ক নির্ধারণ করার বিজ্ঞানকে সিস্টেমেটিক্স (Systematics) বলে।
শ্রেণিবিন্যাস (Classification) কাকে বলে?
জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে জীবজগৎকে সুশৃঙ্খল রীতিনীতি অনুযায়ী গোষ্ঠীভুক্তকরণকেই বলা হয় শ্রেণিবিন্যাস।
ট্যাক্সোনমির জনক কাকে বলে? তাঁর লিখিত গ্রন্থটির নাম লেখো।
ট্যাক্সোনমির জনক (Father of Taxonomy) হলেন ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus; 1707–1778)। তাঁর লিখিত গ্রন্থ হল –
- স্পিসিস প্ল্যান্টেরাম (Species Plantarum)।
- সিস্টেমা ন্যাচুরি (Systema Naturae)।
ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধির প্রধান উপাদানগুলি কী কী?
ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধির প্রধান উপাদানগুলি হল –
- বৈশিষ্ট্য নির্বাচন।
- শনাক্তকরণ।
- নামকরণ।
- শ্রেণিবিন্যাস।
- প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণ।
শনাক্তকরণ (Identification) কাকে বলে?
বিশেষ বৈশিষ্ট্যর ওপর ভিত্তি করে কোনো জীবকে অন্যান্য জীবদের থেকে আলাদা করে চিনে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় শনাক্তকরণ। এটি ট্যাক্সোনমির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
নামকরণ (Nomenclature) কাকে বলে?
যে পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী জীবগোষ্ঠীর প্রতিটি জীবকে সঠিক নাম দেওয়ার মাধ্যমে জীবগুলি আলাদাভাবে চিনে নেওয়া হয়, তাকে নামকরণ বলে।
প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?
যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উদ্ভিদ বা প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করে সংগ্রহশালা বা জাদুঘরে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা হয়, তাকে প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণ বলে। প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণ ভবিষ্যতে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর শনাক্তকরণ, নামকরণ বা শ্রেণিবিন্যাস করতে সাহায্য করে।
ট্যাক্সন (Taxon) কাকে বলে?
ট্যাক্সোনমিক ক্যাটেগরিকে যে নির্দিষ্ট জীব বা জীবগোষ্ঠী দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তাকে ট্যাক্সন বলে। অর্থাৎ ট্যাক্সন হল বিন্যাসবিধির এক একটি গোষ্ঠী যাকে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট নাম ও নির্দিষ্ট স্তর প্রদান করা হয়। যেমন – রাজ্য – অ্যানিম্যালিয়া, পর্ব – কর্ডাটা, শ্রেণি – ম্যামালিয়া। এক্ষেত্রে অ্যানিম্যালিয়া, কর্ডাটা, ম্যামালিয়া এগুলি হল এক-একটি ট্যাক্সন।
ক্যাটেগরি (Category) বলতে কী বোঝায়?
জীবজগতে শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি একককে বলে ক্যাটেগরি। ক্যাটেগরি শ্রেণিবিন্যাসের র্যাংক বা লেভেলকে নির্দেশ করে। যেমন – প্রজাতি → শ্রেণি → রাজ্য।
অর্থাৎ, ট্যাক্সন ও ক্যাটেগরির মধ্যে সম্পর্ক হল –
- ট্যাক্সন – কুকুর → স্তন্যপায়ী → প্রাণী।
- ক্যাটেগরি – প্রজাতি → শ্রেণি → রাজ্য।
এক্ষেত্রে, কুকুর স্তন্যপায়ী এবং প্রাণী হল বাস্তব জীবগোষ্ঠী এবং প্রজাতি (Species), শ্রেণি (Class) এবং রাজ্য (Animal Kingdom) হল হায়ারার্কিয়াল র্যাংক বা লেভেল।
ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
- পৃথিবীতে বসবাসকারী অসংখ্য জীব থেকে তাদের শনাক্ত করা ও পৃথক করা।
- সাদৃশ্য ও সম্পর্কের ভিত্তিতে জীবসমূহকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির অন্তর্গত করা হয়।
- জীবসমূহের দ্বিপদ নামকরণ।
- শ্রেণিভুক্তকরা জীবগোষ্ঠীসমূহকে নির্দিষ্ট রীতি অনুযায়ী সুসজ্জিত করা।
- নিম্নতর ক্যাটেগরিতে মিলযুক্ত বৈশিষ্ট্যের সংখ্যা সর্বাধিক লক্ষ করা যায়।
ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির প্রয়োজনীয়তা কী?
ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব –
- সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে জীবদের গোষ্ঠীভুক্তকরণ ও যথাযথভাবে উপস্থাপনা করা।
- নির্দিষ্ট জীব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ।
- জীবের বিবর্তনগত ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়।
রাজ্য বা জগৎ কাকে বলে?
অনেকগুলি বিভাগ বা পর্বের সমন্বয়ে গঠিত শ্রেণিবিন্যাসের সর্ববৃহৎ একক বা গোষ্ঠীকে রাজ্য বা জগৎ বলে। এটি হায়ারার্কির সর্বোচ্চ স্তর। যেমন – উদ্ভিদরাজ্য, প্রাণীরাজ্য, রাজ্য-প্রোটিস্টা, রাজ্য-মনেরা, রাজ্য-ফাংগি প্রভৃতি।
আমগাছ উদ্ভিদরাজ্য ও মানুষ প্রাণীরাজ্যের অন্তর্গত।
বিভাগ বা পর্ব কাকে বলে?
এক বা একাধিক সম্পর্কযুক্ত শ্রেণি মিলিতভাবে হায়ারার্কির যে অপেক্ষাকৃত বৃহৎ ক্যাটেগরি বা র্যাংক বা একক গঠন করে, তাকে বিভাগ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে) বা পর্ব (প্রাণীদের ক্ষেত্রে) বলে। যেমন – আমগাছ অ্যানজিওস্পার্মি বা গুপ্তবীজী বিভাগের এবং মানুষ কর্ডাটা পর্বের অন্তর্গত।
শ্রেণি (Class) কাকে বলে?
কতকগুলি সাদৃশ্য বৈশিষ্ট্যযুক্ত বর্গ -এর সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বলা হয় শ্রেণি (Class)। যেমন – আমগাছ ডাইকটিলিডোনি এবং মানুষ ম্যামালিয়া বা স্তন্যপায়ী শ্রেণির অন্তর্গত।
বর্গ (Order) কাকে বলে?
পরস্পর সম্পর্ক ও সাদৃশ্যযুক্ত কতকগুলি গোত্রের সমন্বয়ে হায়ারার্কির যে বৃহৎ একক গঠিত হয় তাকে বর্গ বলে। যেমন – আমগাছের বর্গ হল স্যাপিনডালিস এবং মানুষের বর্গ হল প্রাইমেট।
গোত্র (Family) কাকে বলে?
উৎপত্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ, জননাঙ্গ সংক্রান্ত সাদৃশ্যযুক্ত এক বা একাধিক গণের সমষ্টিকে গোত্র বা ফ্যামিলি বলে। যেমন – আমগাছের গোত্র অ্যানাকার্ডিয়েসি এবং মানুষের গোত্র হল হোমিনিডি।
গণ (Genus) কাকে বলে?
একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত এক বা একাধিক সম্পর্কবদ্ধ প্রজাতির সমষ্টিকে গণ বলা হয়। যেমন – আমগাছের গণ হল ম্যাঙ্গিফেরা (Mangifera) এবং মানুষের গণ হল হোমো (Homo)।
প্রজাতি (Species) বলতে কী বোঝো?
বিজ্ঞানী মেয়ার (Mayr, 1966) -এর মতে প্রজাতি হল একটি ক্ষুদ্রতম প্রাকৃতিক জীবগোষ্ঠী, যারা নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম হলেও অন্য জীবগোষ্ঠী থেকে জননগতভাবে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং স্বতন্ত্রভাবে বসবাস করে। যেমন – আমগাছের প্রজাতি হল ইন্ডিকা (indica) এবং মানুষের প্রজাতি হল স্যাপিয়েন্স (sapiens)।
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিগুলি কী কী?
শ্রেণিবিন্যাসের কয়েকটি মূল ভিত্তি হল –
- অঙ্গ সংস্থানজনিত ভিত্তি।
- ভ্রূণতত্ত্বগত ভিত্তি।
- কোশগত ভিত্তি।
- বাস্তুবিজ্ঞানজনিত ভিত্তি।
- জৈব-রসায়নজনিত ভিত্তি।
- পরাগরেণুর ভিত্তি।
বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিনে লেখা হয় কেন?
বিজ্ঞানী লিনিয়াস জীবের বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ শুরু করেছিলেন ল্যাটিন ভাষা ব্যবহার করে। ল্যাটিন ছিল সেই সময়কার বহুল প্রচলিত ভাষা। বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভাষাভেদে ও স্থানভেদে নাম বদলে যায়। তাই প্রত্যেকটি জীবের একটি সর্বজন গৃহীত (universal) অভিন্ন নাম হওয়া প্রয়োজন। সেইজন্য বর্তমানে ল্যাটিন একটি মৃত ভাষা (dead language) হলেও বিজ্ঞানসম্মত নাম ল্যাটিনে লেখা হয়।
Homo sapiens Linn. 1758 -এর ব্যাখ্যা দাও।
Homo sapiens Linn. 1758 -এর অর্থ হল –
- এটি মানুষের বিজ্ঞানসম্মত নাম।
- নামটির প্রথম শব্দ Homo হল গণনাম (Genus name) এবং দ্বিতীয় শব্দ sapiens হল প্রজাতিনাম (species name)।
- বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস এই নামকরণ করেন বলে বিজ্ঞানসম্মত নামের পরে Linn শব্দ বসানো হয়েছে এবং এই নামকরণটি 1758 সালে প্রথম প্রবর্তিত হয়েছে।
কোনো জীবের স্থানীয় বা আঞ্চলিক নাম ব্যবহার করার অসুবিধাগুলি কী কী?
কোনো জীবের স্থানীয় বা আঞ্চলিক নাম ব্যবহার করার অসুবিধাগুলি হল –
- স্থানীয় নাম স্থানভেদে আলাদা আলাদা হয়। ফলে স্থানের পরিবর্তন হলে জীবের নামও পরিবর্তিত হয়ে যাবে।
- স্থানীয় নাম ব্যবহার করে কোনো জীবের বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক গবেষণা চালানো যায় না।
- স্থানীয় নামের ব্যবহার লিনিয়াসের দ্বিপদ নামকরণের পরিপন্থি।
- স্থানীয় নাম ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রে জীব সম্পর্কে ভুল তথ্য পরিবেশিত হয়।
জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা কী?
শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা –
- জীববৈচিত্র্য – শ্রেণিবিন্যাস জীবজগতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দেয়।
- শনাক্তকরণের রীতি – সমস্ত চেনা ও অচেনা জীবকে শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি প্রদান করে।
- অন্যান্য জীববিজ্ঞানের শাখা – সমস্ত জীববিদ্যার শাখা (যেমন – ভৌগোলিক জীববিদ্যা, বাস্তুসংস্থানবিদ্যা, রোগবিদ্যা, বনপালন প্রভৃতি) সজীব বস্তুকে সঠিকভাবে অধ্যয়নের জন্য শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে থাকে।
- আন্তঃসম্পর্ক – শ্রেণিবিন্যাস জীবজগতের বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে।
- অভিব্যক্তি – শ্রেণিবিন্যাস প্রাকৃতিক সম্পর্ক, সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে বলে বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর জাতিজনিগত বা বিবর্তনগত উৎসের সন্ধান দেয়।
- তথ্য সরবরাহ – কোনো একটি গোষ্ঠীর একটি বা দুটি সদস্য সম্পর্কে জানলেই সমস্ত গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
সিস্টেমেটিক্স বলতে কী বোঝো? সিস্টেমেটিক্স -এর সাথে ট্যাক্সোনমির সম্পর্ক কী?
সিস্টেমেটিক্স (Systematics) – জীবের প্রকারভেদ ও বৈচিত্র্য এবং তাদের পারস্পরিক তুলনামূলক ও বিবর্তনগত সম্পর্ক সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে বলা হয় সিস্টেমেটিক্স (Systematics)। বিজ্ঞানী সিম্পসন (1961) সিস্টেমেটিক্স সম্পর্কে ধারণা দেন।
সিস্টেমেটিক্স ও ট্যাক্সোনমির পারস্পরিক সম্পর্ক – ‘ট্যাক্সোনমি’ এবং ‘সিস্টেমেটিক্স’ – এই দুটি শব্দের অর্থ ও ব্যবহারের বিষয়ে নানা মতপার্থক্য আছে। বিজ্ঞানী ম্যাসন (Mason) -এর মতানুসারে ‘ট্যাক্সোনমি’ ও ‘সিস্টেমেটিক্স’ সম্পূর্ণ আলাদা দুটি শব্দ। তিনি মনে করেন ট্যাক্সোনমি হল উদ্ভিদের নামকরণ ও শনাক্তকরণ এবং সিস্টেমেটিক্স হল উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসকরণ পদ্ধতি। অপরদিকে বিজ্ঞানী ল্যাম ও টিউয়িল (Lam, 1959 & Tuwill, 1964) মনে করেন ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স হল সমার্থক।
বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের ধারণা একত্রিত করে জানা গেছে যে ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স পরস্পর সমার্থক হলেও সিস্টেমেটিক্স আরও বৃহৎ অর্থে ব্যবহার করা হয়। কোনো জীবকে গোষ্ঠীভুক্তকরণের নানা নিয়ম প্রনয়ণ করে ট্যাক্সোনমি এবং ট্যাক্সোনমি যে শাখা থেকে তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সেটা হল সিস্টেমেটিক্স। ট্যাক্সোনমির প্রধান বিষয়গুলি হল – শনাক্তকরণ, নামকরণ ও শ্রেণিবিন্যাস।
- শনাক্তকরণ হল সংগৃহীত জীব নমুনাকে (যেমন – উদ্ভিদ বা প্রাণী) বিজ্ঞানসম্মতভাবে চিনতে পারা।
- নামকরণ হল শনাক্ত করা জীবসমূহের বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে যথাযথ নাম দেওয়া।
- শ্রেণিবিন্যাস হল শনাক্ত করা ও নামকরণ করা জীবসমূহের সঠিক উপায়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করার পদ্ধতি।
তাই বলা যায় যে ট্যাক্সোনমি ও ট্যাক্সোনমির ভিতরকার অংশগুলি যেমন – শনাক্তকরণ, নামকরণ, শ্রেণিবিন্যাস ও জীবের বর্ণনা-এই সব অংশই সিস্টেমেটিক্স -এর অন্তর্গত। এককথায় ট্যাক্সোনমি ও বিবর্তনকে নিয়ে সিস্টেমেটিক্স তৈরি।
শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি কয় প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা দাও।
শ্রেণিবিন্যাস তিন প্রকার। যথা –
- প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি।
- কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি।
- জাতিজনিগত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি।
- প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি – জীবের অনেকগুলি বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে সৃষ্ট যে শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি দ্বারা জীবকে শনাক্ত করা হয় এবং নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়, তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলে।
- কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি – সবচেয়ে প্রাচীন যে শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে জীবের কয়েকটি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়, তাকে কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়।
- জাতিজনিগত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি – এটি আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি। যে শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে জীবের উৎপত্তি, বংশগতি ও অভিব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়, তাকে জাতিজনিগত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়।
দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) কাকে বলে? এর আবিষ্কারক কে?
দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) – যে পদ্ধতির সাহায্যে জীবজগতের প্রতিটি জীবের বিজ্ঞানসম্মত নামকরণে গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species) নামক দুটি শব্দ বা পদ ব্যবহার করা হয়, তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলা হয়। যেমন – মানুষের দ্বিপদ নামকরণ হল –

দ্বিপদ নামকরণের আবিষ্কারক হলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus)।
জীবের বিজ্ঞানসম্মত বা দ্বিপদ নামকরণের প্রয়োজন কেন?
জীবের বিজ্ঞানসম্মত নাম বা দ্বিপদ নামকরণের প্রয়োজনীয়তা –
- জীবের সাধারণ নাম স্থানীয়ভাবে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, একই জীবের নামকরণ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন হয়। যেমন – পেঁয়াজ (বাংলায়), Onion (ইংরাজিতে), ভেনগায়ম (তামিলে), ইরুলি (কানাড়া)।
- কোনো কোনো জীবের প্রচলিত নাম ভুল ধারণার সৃষ্টি করে। যেমন – কাটল ফিশ, জেলিফিশ, সিলভার ফিশ প্রভৃতি। এই নামগুলি কোনো মাছের নাম নয়। কাটল ফিশ একপ্রকার মোলাস্কা, জেলিফিশ নিডারিয়ান পর্বভুক্ত প্রাণী এবং সিলভার ফিশ হল আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত প্রাণী। অর্থাৎ, এরা প্রত্যেকেই অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবের নামকরণ করা হয় বাসস্থানের ওপর ভিত্তি করে, যেমন – গেছো ব্যাং, ওয়াটার লিলি। এক্ষেত্রেও জীবটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হয় না।
দ্বিপদ নামকরণের সুবিধা বা গুরুত্বগুলি লেখো।
দ্বিপদ নামকরণের সুবিধা বা গুরুত্ব –
- কোনো জীবের দ্বিপদ নাম বা বিজ্ঞানসম্মত নাম পৃথিবীর সমস্ত স্থানে একই থাকে অর্থাৎ সর্বজনীন (universal)।
- দ্বিপদ নামকরণ জীবের সুপরিকল্পিত জ্ঞানলাভে সাহায্য করে।
- নামকরণ নিয়ে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা কম থাকে।
- একই গণের অন্তর্গত বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে পৃথক পৃথক ধারণা লাভে সাহায্য করে, যেমন – কুকুর, নেকড়ে এবং শিয়াল প্রত্যেকেই একই গণের অন্তর্গত হলেও প্রজাতি আলাদা।
- সদ্য আবিষ্কৃত জীব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।
উদ্ভিদের জাতিজনিগত বা আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ছকের সাহায্যে দেখাও।
উদ্ভিদের জাতিজনিগত বা আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস (Phylogenetic or Modern Classification)-এর প্রবক্তারা হলেন – আইসলার, এডলফ এঙলার, জন হাচিনসন প্রমুখ।
এখানে উদ্ভিদের জাতিজনিগত বা আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ছকের সাহায্যে দেখানো হল –

উদ্ভিদের প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস ছকের সাহায্যে দেখাও।
ইংরেজ বিজ্ঞানী জর্জ বেত্থাম এবং জোসেফ ডালটন হুকার 1862 খ্রিস্টাব্দে উদ্ভিদের প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাসের প্রচলন করেন।
ব্যোম ও হুকারের শ্রেণিবিন্যাসের ছক নিম্নরূপ –

জীবের পাঁচটি রাজ্য ও উদ্ভিদরাজ্য এবং প্রাণীরাজ্যের শ্রেণিবিন্যাস
জীবের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস কে প্রবর্তন করেন? কোন জীবগোষ্ঠীকে তিনি রাজ্য প্ল্যান্টি থেকে পৃথক করে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেন?
বিজ্ঞানী আর. এইচ. হোয়াইটেকার জীবের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস করেন।
তিনি ছত্রাকগোষ্ঠীকে রাজ্য প্ল্যান্টি থেকে পৃথক করে রাজ্য ফানজি-র অন্তর্গত করেন।
হোয়াইটেকার প্রবর্তিত জীবজগতের শাঁচটি রাজ্যের নাম ও প্রতিটি রাজ্যের অন্তর্গত একটি করে জীবের নাম লেখো।
| রাজ্য | জীব |
| মনেরা | ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া |
| প্রোটিস্টা | অ্যামিবা, ইউগ্লিনা |
| ফানজি/ফাংগি | মিউকর, ইস্ট |
| প্ল্যান্টি/ উদ্ভিদরাজ্য | মস, ফার্ন, পাইন, ধান, আম |
| অ্যানিম্যালিয়া / প্রাণীরাজ্য | স্পঞ্চ, আরশোলা, ব্যাং, মানুষ |
পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের সুবিধা কী কী?
মার্কিন বাস্তুতন্ত্রবিদ রবার্ট হার্ডিং হোয়াইটেকার (1969) পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস করেন। এই শ্রেণিবিন্যাসের সুবিধাগুলি নিম্নরূপ-
- এইরূপ শ্রেণিবিন্যাসের ফলে প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক জীবদের আলাদা করে চেনা সহজতর হয়েছে।
- জীবের দেহগঠনের জটিলতা অনুসারে জীবদের আলোচনা করা হয়েছে যেমন – এককোশী ও বহুকোশী।
- খাদ্যগ্রহণের রীতি অর্থাৎ পুষ্টিপদ্ধতি অনুযায়ী স্বভোজী ও পরভোজী এই দুই শ্রেণিতে শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ রয়েছে। ছত্রাকের পুষ্টি পদ্ধতি উদ্ভিদগোষ্ঠী থেকে পৃথক হওয়ায় তাকে পৃথক রাজ্যের অন্তর্ভুক্তকরণ করা হয়েছে।
- বাস্তুতন্ত্রে জীবের জীবনযাত্রা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করায় বাস্তুতন্ত্রে জীবের অবস্থান অর্থাৎ উৎপাদক, খাদক বা বিয়োজকগুলিকে আলাদা আলাদাভাবে শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ আছে।
- শ্রেণিবিন্যাসে জীবের একাধিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য জীবের বংশগতি অভিব্যক্তিজনিত সম্পর্কের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া ও ক্ল্যামাইডোমোনাস উভয়েই এককোশী আণুবীক্ষণিক ও কোশপ্রাচীরযুক্ত। তুমি কি এদের একই গোষ্ঠীর অন্তর্গত করবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
ব্যাকটেরিয়া ও ক্ল্যামাইডোমোনাস উভয়েই এককোশী আণুবীক্ষণিক ও কোশপ্রাচীরযুক্ত হলেও এদের একই গোষ্ঠীর অন্তর্গত করা যায় না, কারণ –
- ব্যাকটেরিয়ার কোশপ্রাচীর পেপটাইডোগ্লাইকান দ্বারা নির্মিত কিন্তু ক্ল্যামাইডোমোনাসের কোশপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত।
- ব্যাকটেরিয়ার কোশ সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিহীন অর্থাৎ, প্রোক্যারিওটিক এবং ক্ল্যামাইডোমোনাসের কোশ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত অর্থাৎ, ইউক্যারিওটিক।
ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলার কারণ কী?
ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলার কারণ –
- ব্যাকটেরিয়ার কোশে উদ্ভিদকোশের মতো কোশপ্রাচীর বর্তমান।
- কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়ার দেহে সালোকসংশ্লেষকারী রঞ্জক বর্তমান।
- কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড সংশ্লেষ করতে সক্ষম।
- অঙ্গজ জনন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে।
নিউক্লিওয়েড বা জেনোফোর কী?
মনেরা রাজ্যের অন্তর্গত প্রোক্যারিওটিক জীবদের দেহকোশে সাইটোপ্লাজমে প্রোটিনবিহীন, নগ্ন, চক্রাকার যে দ্বিতন্ত্রী DNA উপস্থিত থাকে, তাকে নিউক্লিওয়েড বা জেনোফোর বলে।
প্রোটোজোয়া কাকে বলে?
প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্গত সরল, এককোশী আণুবীক্ষণিক প্রাণীগোষ্ঠীকে প্রোটোজোয়া বা আদ্যপ্রাণী বলে। যেমন – অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, জিয়ার্ডিয়া প্রভৃতি।
অনুসূত্র বা হাইফি (Hyphae) কী? এর কাজ কী?
বহুকোশী ছত্রাকের দেহগঠনকারী সূত্রাকার শাখান্বিত, লম্বা কোশ সমন্বিত অংশকে অণুসূত্র বা হাইফি বলে।
কাজ –
- অণুসূত্র বা হাইফাগুলি একত্রিত হয়ে ছত্রাকের থ্যালাস দেহ মাইসেলিয়াম (mycelium) গঠন করে।
- হাইফার সাহায্যে ছত্রাক পরিবেশ থেকে খাদ্যরস শোষণ করে পুষ্টি সম্পন্ন করে।
মাইসেলিয়াম (Mycellium) কী?
বহুকোশী ছত্রাকের অঙ্গজ দেহ গঠনকারী অণুসূত্র বা হাইফি প্রচুর শাখাপ্রশাখাযুক্ত হয়। এই সমস্ত শাখাপ্রশাখাগুলি পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে যে জটিল জালকাকার গঠন তৈরি করে তাকে মাইসেলিয়াম (Mycelium) বলে। যেমন – পেনিসিলিয়াম, মিউকর, অ্যাগারিকাস প্রভৃতি ছত্রাক।
সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ বা থ্যালোফাইটা কাকে বলে?
যে-সমস্ত অপুষ্পক উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভেদিত থাকে না অর্থাৎ থ্যালাস প্রকৃতির হয়, তাদের সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ বা থ্যালোফাইটা বলে। যেমন – ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স, স্পাইরোগাইরা প্রভৃতি শৈবাল।
ব্রায়োফাইটা বা মসজাতীয় উদ্ভিদকে ‘উভচর উদ্ভিদ’ বলে কেন?
ব্রায়োফাইটা বা মসজাতীয় উদ্ভিদ ভিজে স্যাঁতসেঁতে স্থলজ পরিবেশে জন্মায়। অর্থাৎ এরা স্থলজ উদ্ভিদ। কিন্তু নিষেকের সময় এদের জলের প্রয়োজন হয়। জলের মাধ্যমে এদের সঞ্চালনক্ষম শুক্রাণু স্ত্রীধানীতে পৌঁছায় ও নিষেক ঘটে। এজন্য ব্রায়োফাইটাকে ‘উভচর উদ্ভিদ’ বলা হয়।
রাইজয়েড কাকে বলে? এর কাজ কী?
মসজাতীয় উদ্ভিদের দেহে মূলের মতো যে এককোশী গঠন উপস্থিত থাকে, তাদের রাইজয়েড বলে।
কাজ – মাটি থেকে জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করে।
কোলয়েড ও ফাইলয়েড কাকে বলে?
ব্রায়োফাইটা বা মসজাতীয় অপুষ্পক উদ্ভিদের দেহে যে কান্ড সদৃশ অংশ উপস্থিত থাকে, তাকে কোলয়েড এবং যে সমস্ত পাতাসদৃশ অংশ থাকে, তাদের ফাইলয়েড বলে। যেমন— পোগোনেটাম, পলিট্রিকাম প্রভৃতি মসে দেখা যায়।
ফার্নের পাতা কত প্রকার ও কী কী?
ফার্নের দু-রকম পাতা দেখতে পাওয়া যায়। যথা – ক্ষুদ্র ও সুক্ষ্মপাতা (মাইক্রোফাইলাস) এবং বড়ো ও প্রসারিত পাতা (মেগাফাইলাস)।
সারসিনেট ভারনেশন কাকে বলে?
টেরিডোফাইটা বা ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের অপরিণত পাতাগুলি কুণ্ডলিত হয়ে যে বিশেষ ধরনের গঠন সৃষ্টি করে, তাকে সারসিনেট ভারনেশন বলে। যেমন – মারসিলিয়া, ড্রায়োপটেরিস প্রভৃতি ফার্নে দেখা যায়।সারসিনেট ভারনেশন কাকে বলে

সোরাই কী?
টেরিডোফাইটা বা ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের পরিণত পাতার নীচের দিকে বাদামি রঙের সরযের দানার মতো যে-সমস্ত রেণুস্থলী গঠিত হয় তাদের একত্রে সোরাই (একবচনে-সোরাস) বলে। রেণুস্থলীতে রেণু উৎপন্ন হয়।

পাইনাসকে ‘ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ’ রূপে গণ্য করা হয় কেন?
পাইনাস উদ্ভিদের স্ত্রীরেণুপত্রে কোনো ডিম্বাশয় না থাকায় নিষেকের পরে ফল সৃষ্টি হয় না, একারণে নগ্ন ডিম্বক থেকে সৃষ্ট বীজগুলি অনাবৃত অবস্থায় স্ত্রীরেণুপত্রে সজ্জিত থাকে। এজন্য পাইনাসকে ব্যক্তবীজী উদ্ভিদরূপে গণ্য করা হয়।
ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে ফল উৎপন্ন হয় না কেন?
বাক্তবীজী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ডিম্বক বহনকারী স্ত্রীরেণুপত্রগুলি ভাঁজযুক্ত হয়ে ডিম্বাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ডযুক্ত বদ্ধ প্রকোষ্ঠের গর্ভকেশর চক্র গঠন করে না, তাই নিষেকের পর নগ্নডিম্বকগুলি নগ্নবীজ উৎপন্ন করে, ফল গঠিত হয় না।
ধান, আম প্রভৃতি উদ্ভিদকে ‘গুপ্তবীজী উদ্ভিদ’ রূপে গণ্য করা হয় কেন?
ধান, আম প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুলে স্ত্রীস্তবক ডিম্বাশয়যুক্ত হওয়ায় নিষেকের পর ফল সৃষ্টি হয়। এ কারণে ডিম্বক (ডিম্বাশয়ের মধ্যে অবস্থান করে) থেকে সৃষ্ট বীজ ফলের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। এজন্য ধান, আম প্রভৃতি উদ্ভিদকে গুপ্তবীজী উদ্ভিদরূপে গণ্য করা হয়।
অরীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী কাকে বলে?
যদি কোনো প্রাণীকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর যতবারই ছেদ করা হয় ততবারই দুটি সমান অংশ পাওয়া যায়, তাহলে সেই প্রাণীকে অরীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী বলে। যেমন – তারামাছ।
দ্বি-অরীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী কাকে বলে?
যদি কোনো প্রাণীকে তার অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে দুটি ভাগে ভাগ করলে দুটি সমান অংশ পাওয়া যায়, তাকে দ্বি-অরীভাবে প্রতিসম প্রার্থী বলে। যেমন – সি-অ্যানিমোন, বেরো। দ্বি-অরীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী কাকে বলে।

দ্বি-পার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী কাকে বলে?
যদি কোনো প্রাণীকে তার কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর ছেদ করলে একবার মাত্র দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায়, তাকে দ্বি-পার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম প্রাণী বলে। যেমন – মানুষ, চিংড়ি।

অপ্রতিসম প্রাণী কাকে বলে?
যদি কোনো প্রাণীকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর ছেদ করলে একবারও দুটি সমান অংশ না পাওয়া যায়, তাকে অপ্রতিসম প্রাণী বলে। যেমন – অ্যামিবা, শামুক, স্পঞ্জ।

দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রাণীদের দেহে দুটি কলান্তর (এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) থাকে, তাদের দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী বলে।
এর অন্তর্গত প্রাণীগুলি হল – পরিফেরা, নিভারিয়া, টিনোফোরা।
ত্রিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বা ট্রিগ্রেড্রাস্টিক প্রাণী কাকে বলে?
যেসব প্রাণীদের দেহে তিনটি কলাস্তর (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম, এন্ডোডার্ম) থাকে, তাদের ত্রিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বা ট্রিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী বলে।
এর অন্তর্গত প্রাণীপর্বগুলি হল – প্ল্যাটিহেলমিনথিস, নিমাটহেলমিনথিস, অ্যানিলিডা, আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা, একাইনোডারমাটা, কর্ডাটা।
সংকোচনশীল গহ্বর কোন জীবে দেখা যায়? এর কাজ কী?
অ্যামিবার কোশে সংকোচনশীল গহ্বর দেখা যায়।

কাজ – সংকোচনশীল গহ্বরের সাহায্যে অ্যামিবার কোশ থেকে রেচন পদার্থ পরিত্যক্ত হয় এবং কোশে জলসাম্য বজায় থাকে।সংকোচনশীল গহ্বর কোন জীবে দেখা যায়
মেসেনকাইম বা মেসোগ্লিয়া কী?
দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণীদের দেহে দুটি কোশস্তরের মাঝে যে জেলির মতো পদার্থ থাকে, তাকে মেসেনকাইম বা মেসোগ্লিয়া বলে।
গ্যাসট্রোভাসকুলার ক্যাভিটি কী? এর কাজ লেখো।
নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের (হাইড্রা) দেহে যে বদ প্রান্তযুক্ত থলির মতো কেন্দ্রীয় গহর উপস্থিত থাকে, তাকে গ্যাসট্রোভাসকুলার ক্যাভিটি বা সিলেনটেরন বলে।
কাজ – বহিঃপরিপাকে সাহায্য করে।
নিডারিয়ার জীবনচক্রে পলিমরফিজন ও মেটাজেনেসিস বলতে কী বোঝো?
নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের জীবনচক্রে দুটি ভিন্ন দশা, যথা – পলিপ ও মেডুসা দশা উপস্থিত থাকে। এদের পলিপ দশা হল অভাজ দশা বা অযৌন দশ্য এবং মেডুসা দশা হল যৌন দশা। নিডারিয়া পর্বের জীবনসমূহের জীবনচক্রে একাধিক রূপ উপস্থিত থাকার ঘটনাকে পলিমরফিজম বলে। এই পর্বের প্রাণীর মধ্যে অযৌন ও যৌন দশার মধ্যে আন্তঃরূপান্তর হওয়ার ঘটনাকে মেটাজেনেসিস বলে।
কোরাল (Coral) কী?
নিডারিয়া পর্বভুক্ত কয়েকটি পলিপ গঠনকারী প্রাণী দেহনিঃসৃত পদার্থ দ্বারা গঠিত শক্ত খোলকের মধ্যে বাস করে। একে কোরাল বলে। এরা কলোনি গঠন করে বাস করে বলে বসবাসের জায়গায় ক্যালশিয়াম কার্বনেটের পাহাড় জমে ওঠে এবং কোরালরিফ বা প্রবালদ্বীপ গঠিত হয়। যেমন – স্টার কোরাল, মাশরুম কোরাল প্রভৃতি।
ল্যাসোকোশ বা কোলোব্লাস্ট কোশ কাকে বলে? এর কাজ কী?
টিনোফোরা পর্বভুক্ত প্রাণীদের কর্ষিকায় উপস্থিত একপ্রকার বিশেষ আঠালো কোশকে ল্যাসোকোশ বা কোলোব্লাস্ট কোশ বলে।
কাজ – এর সাহায্যে এরা খাদ্য সংগ্রহ করে।
কোম্বপ্লেট কী?
টিনোফোরা পর্বের প্রাণীদের গমনাঙ্গ হল সিলিয়া। এই সিলিয়াগুলি পরস্পর যুক্ত হয়ে যে শক্ত চিরুনির মতো অঙ্গ তৈরি করে, তাকে কোম্বপ্লেট বলে।
ফ্লেমসেল কী? এর কাজ লেখো।
পর্ব প্ল্যাটিহেলমিনথিস-এর অন্তর্গত প্রাণীদের দেহে যে বিশেষ ধরনের কোশ শিখা বা ফ্লেমের মতো একগুচ্ছ সিলিয়া বা ফ্ল্যাজেলাযুক্ত হয়, তাদের ফ্লেমসেল বা শিখাকোশ বলে।
কাজ – রেচন কাজে সাহায্য করে এবং দেহে জলসামা নিয়ন্ত্রণ করে।
নিমাটোডা ও অ্যানিলিডার মধ্যে কোন পর্বটি বেশি উন্নত ও কেন?
অ্যানিলিডা নিমাটোডার থেকে উন্নত, কারণ –
- অ্যানিলিডার দেহের খণ্ডীভবন নিমাটোডার থেকে উন্নত।
- নিমাটোডার ক্ষেত্রে সিউডো বা ছদ্মসিলোম বর্তমান কিন্তু অ্যানিলিডায় প্রকৃত সিলোম বর্তমান।
- অ্যানিলিডার দেহে বন্ধ প্রকৃতির রক্তসংবহনতন্ত্র বর্তমান।
কেঁচো ও কৃমিকে বাইরের বৈশিষ্ট্য দেখে কীভাবে চিনবে?
কেঁচোর দেহ অসংখ্য আংটির মতো খণ্ড বা মেটামিয়ার দ্বারা গঠিত, কিন্তু কৃমির দেহ অখণ্ডিত প্রকৃতির।
কেঁচোর দেহের 14, 15 ও 16 নং খণ্ডক পরিবর্তিত হয়ে ক্লাইটেলাম গঠন করে যা কৃমির দেহে অনুপস্থিত।
মেটামিয়ার বা সোমাইট কী?
অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের দেহ যে অসংখ্য আংটির মতো খণ্ডক নিয়ে গঠিত, তাদের মেটামিয়ার বা সোমাইট বলে। যেমন – কেঁচো।
ক্লাইটেলাম কী? কোন্ পর্বের প্রাণীদেহে এটি দেখা যায়?
কেঁচোর 14তম, 15তম এবং 16তম দেহখণ্ডক জুড়ে যে গ্রন্থিময় ত্বকের ব্যান্ড (band) দেখা যায়, তাকে ক্লাইটেলাম (Clitellum) বলে।
এটি অ্যানিলিডা পর্বভূস্ত প্রাণীদেহে দেখা যায়।
হিমোসিল কী? কোন পর্বের প্রাণীদের দেহে এটি দেখা যায়?
সিলোমাটা প্রাণীদের দেহে অবস্থিত সিলোম রপ্তপূর্ণ হলে, তাকে হিমোসিল (Haemocoel) বলে।
হিমোসিল আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা পর্বভূক্ত প্রাণীদের দেহে দেখা যায়।
ম্যান্টল পর্দা কী?
মোলাস্কা পর্বের প্রাণীদের দেহে শস্ত চুননির্মিত খোলকের নীচে নরম মাংসল দেহটি যে পেশিময় পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, তাকে ম্যান্টল পর্দা বলে।
মাংসল পদ কাকে বলে? মাংসল পদযুক্ত দুটি প্রাণীর নাম লেখো।
মোলাস্কা পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহের অঙ্কীয় তলে যে মাংসল অংশ গমনে সাহায্য করে, তাকে মাংসল পদ বলে।
মাংসল পদ দেখা যায় শামুক, ঝিনুক প্রভৃতি প্রাণীতে।
অ্যাসিডিয়ান লার্ভার কোন কোন বৈশিষ্ট্য পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিডিয়াতে দেখা যায় না?
নোটোকর্ড ও নার্ভকর্ড বৈশিষ্ট্য দুটি অ্যাসিডিয়ান লার্ভার লেজ অংশে দেখা গেলেও পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিডিয়াতে দেখা যায় না।
আক্রেনিয়াটা বলতে কী বোঝো?
যে-সমস্ত প্রাণীদের মস্তিষ্ক (brain) করোটি (Cranium) দ্বারা সুরক্ষিত থাকে না, তাদের আক্রেনিয়াটা বলে। যেমন – অ্যাম্ফিঅক্সাস (সেফালোকর্ডাটা উপপর্বের অন্তর্গত প্রাণী)।
ক্রেনিয়াটা বলতে কী বোঝো?
যে-সমস্ত প্রাণীদের মস্তিষ্ক করোটি দ্বারা আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত থাকে, তাদের ক্রেনিয়াটা বলে। যেমন – মাছ, ব্যাং, পাখি, মানুষ প্রভৃতি (ভার্টিব্রাটা উপপর্বভুক্ত প্রাণী)।
নোটোকর্ড কী?
কর্ডাটা পর্বভুক্ত প্রাণীদের জীবনকালে কোনো না কোনো দশায় দেহের পৃষ্ঠদেশ বরাবর যে নিরেট দন্ডাকার গঠন উপস্থিত থাকে, তাকে নোটোকর্ড (Notochord) বলে। নোটোকর্ড উন্নতপ্রাণীদেহে (ভার্টিব্রাটা উপপর্বের) মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
নোটোকর্ড ও মেরুদণ্ডের মধ্যে সম্পর্ক কী?
কর্ডাটা পর্বভুক্ত প্রাণীদের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল নোটোকর্ড। নোটোকর্ড কর্ডাটা পর্বভুক্ত প্রাণীদের ভ্রূণাবস্থায় বা সারাজীবন থাকে। কিন্তু কর্ডাটা পর্বের অন্তর্গত ভার্টিব্রাটা উপপর্বভুক্ত প্রাণীদের জুণাবস্থায় নোটোকর্ড মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
নার্ভকর্ড কাকে বলে?
অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের দেহের অঙ্কীয় তলে যে নিরেট এবং কর্ডাটা পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহের পৃষ্ঠীয় দেশে যে ফাঁপা স্নায়বিক উদ্দীপনা পরিবহণকারী দীর্ঘ অংশ উপস্থিত থাকে তাকে স্নায়ুরজ্জু বা নার্ভকর্ড বলে।
গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র কাকে বলে? কোন প্রাণীদের কেবলমাত্র ভ্রূণাবস্থায় ফুলকাছিদ্র দেখা যায়?
কর্ডাটা পর্বের অন্তর্গত প্রাণীদের ভ্রূণ অবস্থায় বা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় গলবিলের দুপাশে যে পার্থীর ছিদ্রগুলি থাকে, তাদের গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র বলে।
সমস্ত কর্ডাটা পর্বভুক্ত প্রাণীদের ভ্রূণ পরিস্ফুরণের সময় গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র থাকে।
অ্যাগনাথা (Agnatha) কাকে বলে?
যে-সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের চোয়াল থাকে না তাদের অ্যাগনাথা বলে। যেমন – ল্যামপ্রে (Petromyzon sp.), হ্যাগফিশ (Myxine sp.)।
ন্যাথোস্টোমাটা কাকে বলে?
যে-সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের চোয়াল থাকে, তাদের ন্যাথোস্টোমাটা বলে। যেমন – মাছ, ব্যাং, সরীসৃপ, মানুষ প্রভৃতি।
ব্যাংকে উভচর প্রাণী’ বলা হয় কেন?
পূর্ণাঙ্গ ব্যাং স্থলে বাস করলেও এদের ব্যাঙাচি বা লার্ভা দশা জলে থাকে এবং এদের নিয়েককালে জলের প্রয়োজন হয়। এজন্য এদের ‘উভচর প্রাণী’ বলা হয়।
পটকা ও কানকোবিহীন একটি মাছের নাম এবং পটকা ও কানকোযুক্ত একটি মাছের নাম লেখো এবং এদের পর্ব ও শ্রেণি উল্লেখ করো।
| বৈশিষ্ট্য | মাছ | পর্ব/শ্রেণি |
| পটকা ও কানকোবিহীন | হাঙর | পর্ব-কর্ডাটা শ্রেণি-কনড্রিকথিস |
| পটকা ও কানকোযুক্ত | রুইমাছ | পর্ব-কর্ডাটা শ্রেণি-অসটিকথিস |
শীতল রক্তযুক্ত প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে-সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণীদের দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, অর্থাৎ, পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে এদেরও তাপমাত্রা বাড়ে, আবার পরিবেশের তাপমাত্রা কমলে এদের দেহের তাপমাত্রা কমে যায়, তাদের শীতল রক্তযুক্ত প্রাণী বা পয়কিলোথারমিক (Poikilothermic) প্রাণী বলে।
উদাহরণ – মাছ, ব্যাং, সাপ ইত্যাদি।
উষ্ণ রক্তযুক্ত প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে-সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং দেহের তাপমাত্রা সবসময় নির্দিষ্ট থাকে, বাহ্যিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না, তাদের উষ্ণ রক্তযুক্ত প্রাণী বা হোমিওথারমিক (Homeothermic) প্রাণী বলে। উদাহরণ— পাখি, ইঁদুর, বাঘ, মানুষ ইত্যাদি।
নিউম্যাটিক অস্থি ও কিল অস্থিযুক্ত একটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাম লেখো। উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্য দুটি অপর কোন শ্রেণিতে দেখা যায়?
নিউম্যাটিক অস্থি ও কিল অস্থিযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী হল – বাদুড়।
নিউম্যাটিক অস্থি ও কিল অস্থি অ্যাভিস শ্রেণির বৈশিষ্ট্য।
প্যাটাজিয়াম কী? প্যাটাজিয়াম ও পাখির ডানা কি একই রকমের হয়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
বাদুড় ও চামচিকাদের চর্মনির্মিত বিশেষ ডানাকে বলে প্যাটাজিয়াম। এটি পশ্চাৎপদ ও অগ্রপদের মাঝখানে থাকে।
পাখির ডানা হল পাখির অগ্রপদের রূপান্তরিত গঠন বিশেষ। এটি পালক, অস্থি ও পেশি দিয়ে গঠিত হয়। পাখির ডানা ও প্যাটাজিয়াম তাই একরকমের নয়।
প্রদত্ত প্রাণীগুলি যে পর্বের সেটি লেখো – জেলিফিল, কাটলফিশ, স্টারফিশ, হ্যাগফিশ।
| প্রাণীর নাম | পর্ব |
| জেলিফিশ | নিডারিয়া |
| কাটলফিশ | মোলাস্কা |
| স্টারফিশ | একাইনোডারমাটা |
| হ্যাগফিশ | কর্ডাটা |
নিম্নলিখিত লার্ভাগুলি কোন্ পর্বের অন্তর্গত?
- ট্রোকোফোর,
- মাইক্রোফাইলেরিয়া,
- র্যাবডিটিফর্ম লার্ভা, লার্ভা।
- প্ল্যানুলা,
- অ্যাম্ফিব্লাস্টুলা
| লার্ভা | প্রাণী পর্বের নাম |
| ট্রোকোফোর লার্ভা | অ্যানিলিডা, মোলাস্কা |
| মাইক্রোফাইলেরিয়া | নিমাটোডা |
| র্যাবিডিটিফর্ম | নিমাটোডা |
| প্ল্যানুলা | নিডারিয়া |
| অ্যাম্ফিব্লাস্টুলা | পরিফেরা |
তোমাকে একটি ব্যাঙাচি ও একটি ছোটো মাছের চারা দেওয়া হল। তুমি কীভাবে তাদের শনাক্ত করবে?
প্রথমেই নমুনা বস্তুদুটিকে ‘A’ ও ‘B’ চিহ্নিতকরণ করা হল। এবার ‘A’ ও ‘B’ নমুনাদুটিকে ভালো করে লক্ষ করে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি খাতায় লেখা হল –
| বিষয় | নমুনা- ‘A’ | নমুনা- ‘B’ |
| মুখছিদ্র | দেহের অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত। | দেহের সামনে অবস্থিত। |
| কানকো | থাকে না। | থাকে। |
| ফুলকা | বহিঃফুলকা বর্তমান। | অন্তঃফুলকা বর্তমান। |
| আঁশ | আঁশ থাকে না। | আঁশ থাকে। |
| পাখনা | জোড়া পাখনা থাকে না এবং পাখনা রশ্মিবিশিষ্ট নয়। | রশ্মিবিশিষ্ট জোড়া পাখনা বর্তমান। |
| চোষক | দেহের অগ্রভাগে চোষক থাকে। | চোষক থাকে না। |
সুতরাং, বোঝা গেল নমুনা – A হল ব্যাঙাচি এবং নমুনা – B হল ছোটো মাছের চারা।
জীবের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস কে করেন? পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিগুলি কী কী?
বিজ্ঞানী হোয়াইটেকার (1969) জীবের পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস করেন।
পাঁচরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি –
- কোশের গঠন।
- জীবের দেহগঠনের জটিলতা।
- পুষ্টি পদ্ধতি।
- বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকা।
- জাতিজনিগত সম্পর্ক।
মনেরা রাজ্যের অন্তর্গত জীবদের আদি প্রকৃতির জীব বলা হয় কেন?
মনেরা রাজ্যের অন্তর্গত জীবদের আদি প্রকৃতির জীব বলার কারণ –
- জীব এককোশী এবং প্রোক্যারিওটিক প্রকৃতির।
- কোশে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও পর্দাবৃত কোশীয় অঙ্গাণু থাকে না।
- দ্বিতন্ত্রী চক্রাকার DNA নগ্ন প্রকৃতির অর্থাৎ প্রোটিনবিহীন।
শৈবাল ও ছত্রাকের দুটি সাদৃশ্য ও একটি বৈসাদৃশ্য উল্লেখ করো।
শৈবাল ও ছত্রাকের সাদৃশ্য –
- শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই কোশপ্রাচীরযুক্ত।
- শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই সমাঙ্গদেহী অর্থাৎ দেহ মূল, কাণ্ড, পাতায় বিভেদিত থাকে না।
শৈবাল ও ছত্রাকের বৈসাদৃশ্য –
- শৈবাল ক্লোরোফিলযুক্ত এবং স্বভোজী।
- অন্যদিকে ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন ও মৃতজীবী।
শৈবাল ও মসজাতীয় উদ্ভিদগুলির সাদৃশ্যগুলি উল্লেখ করো।
শৈবাল ও মসজাতীয় উদ্ভিদগুলির সাদৃশ্যগুলি হল –
- শৈবাল ও মস উভয়ই স্বভোজী প্রকৃতির উদ্ভিদ।
- উভয়েরই দেহ মূল ও কাণ্ডে বিভক্ত থাকে না।
- শৈবাল ও মস উভয়েরই দেহে ক্লোরোফিল থাকে।
- এদের প্রধান উদ্ভিদদেহ লিঙ্গধর হয়।
- এদের উভয়েরই দেহে সংবহন কলাতন্ত্র থাকে না।
- শৈবাল ও মস উভয়েরই দেহে সঞ্চিত খাদ্যবস্তু হল শ্বেতসার।
- উভয় উদ্ভিদেই ফুল উৎপন্ন হয় না, তাই এরা অপুষ্পক।
- এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং সচল প্রকৃতির হয়।
- নিষেকের সময় উভয়েরই জলের প্রয়োজন হয়।
ব্রায়োফাইটা সর্বত্র জন্মাতে পারে কেন?
ব্রায়োফাইটা সর্বত জন্মাতে পারে কারণ –
- এরা নির্দিষ্ট মূল বা মূলতন্ত্রের অধিকারী না হওয়ায় যে-কোনো জলীয় পরিবেশ থেকে সরাসরি জল শোষণ করতে পারে।
- এদের শুক্রাণু দ্বি-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত যা সহজেই জলের মাধ্যমে বাহিত হয়ে স্ত্রীধানীতে পৌঁছায়।
টেরিডোফাইটা ও ব্রায়োফাইটার মধ্যে সাদৃশ্যগুলি উল্লেখ করো।
টেরিডোফাইটা ও ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের সাদৃশ্যগুলি হল –
- টেরিডোফাইটা ও ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদগুলিতে ফুল উৎপন্ন না হওয়ায় এরা অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- এরা উভয়েই স্থলজ উদ্ভিদ।
- উভয় উদ্ভিদেরই নিষেক প্রক্রিয়ার জন্য জলের প্রয়োজন হয়।
- রেণুর মাধ্যমে এদের অযৌন জনন সম্পন্ন হয়।
- এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত হয়।
টেরিডোফাইটা জাতীয় উদ্ভিদকে ‘ভাসকুলার ক্রিপ্টোগ্যামস’ বলা হয় কেন?
টেরিডোফাইটা জাতীয় উদ্ভিদে কোনো ফুল হয় না এবং ফলও হয় না। একারণে এদের ‘ক্রিপ্টোগ্যামস’ বা অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। অপুষ্পক হলেও এই সকল উদ্ভিদের জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামক সংবহন কলা দেখা যায়। অর্থাৎ এরা ‘ভাসকুলার’ বা সংবহন কলাযুক্ত উদ্ভিদ, তাই টেরিডোফাইটাকে ‘ভাসকুলার ক্রিপ্টোগ্যামস্’ বলে।
টেরিডোফাইটা ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের সাদৃশ্যগুলি লেখো।
টেরিডোফাইটা ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের সাদৃশ্যগুলি হল –
- টেরিডোফাইটা ও ব্যক্তবীজী উভয় উদ্ভিদেরই প্রধান উদ্ভিদদেহ হল রেণুধর উদ্ভিদ।
- এদের রেণুধর উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত থাকে।
- উভয় উদ্ভিদদেহে জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা দিয়ে নির্মিত সংবহন কলা থাকে।
- উভয় উদ্ভিদে সুস্পষ্ট জনুক্রম উপস্থিত থাকে।
ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদের সাদৃশ্যগুলি উল্লেখ করো।
ব্যক্তবীজী বা জিমনোস্পার্ম ও গুপ্তবীজী বা অ্যানজিওস্পার্মের সাদৃশ্যগুলি হল –
- এই উদ্ভিদগুলির প্রধান উদ্ভিদদেহ হল রেণুধর উদ্ভিদ।
- এদের রেণুধর উদ্ভিদটি মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত থাকে।
- উভয় উদ্ভিদের মধ্যে গৌণ বৃদ্ধি দেখা যায়।
- উদ্ভিদগুলিতে দুই রকমের রেণু উৎপন্ন হয়।
- উভয় উদ্ভিদে বীজ গঠিত হয়।
গুপ্তবীজী উদ্ভিদের কোন্ তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যক্তবীজীর দেহে দেখা যায় না?
গুপ্তবীজী উদ্ভিদের তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যক্তবীজীর দেহে দেখা যায় না –
- প্রকৃত স্তবকযুক্ত ফুল।
- ফল।
- জাইলেম বাহিকাযুক্ত জাইলেম ও সঙ্গীকোশযুক্ত ফ্লোয়েম।
বৈশিষ্ট্য তিনটি গুপ্তবীজীর দেহে দেখা গেলেও ব্যক্তবীজীর দেহে দেখা যায় না।
অপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? এই উদ্ভিদগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
অপুষ্পক উদ্ভিদ – যেসব উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ গঠিত হয় না, তাদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। যেমন – মিউকর, ভলভক্স ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য –
- এদের ফুল উৎপন্ন হয় না।
- উদ্ভিদগুলিতে ফল ও বীজ গঠিত হয় না।
- উদ্ভিদদেহ অনুন্নত হয়, অর্থাৎ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভেদিত নাও থাকতে পারে।
সপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? এই উদ্ভিদগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
সপুষ্পক উদ্ভিদ – যে-সমস্ত উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় এবং ফুল থেকে ফল ও বীজ সৃষ্টি হয়, তাদের সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। যেমন – ধান, গম, আম, জাম ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য –
- এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত হয়।
- প্রকৃত ফুল উৎপন্ন হয়।
- ফল সৃষ্টি হয়। বীজ ফলের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে পারে (গুপ্তবীজীর ক্ষেত্রে) আবার নাও পারে (ব্যক্তবীজীর ক্ষেত্রে)।
একবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে? উদাহরণসহ এদের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
একবীজপত্রী উদ্ভিদ – যে-সমস্ত গুপ্তবীজী উদ্ভিদগুলির বীজে কেবলমাত্র একটি বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলা হয়। যেমন – ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য –
- সাধারণত এই উদ্ভিদেরা একবর্ষজীবী হয়।
- বেশিরভাগ একবীজপত্রী উদ্ভিদেরা বীরুৎ বা গুল্ম প্রকৃতির হয়। (ব্যতিক্রম – তাল, নারকেল এরা বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ)।
- এদের মূলগুলি অস্থানিক প্রকৃতির হয়।
- পত্রফলকগুলির শিরাবিন্যাস সমান্তরাল প্রকৃতির হয়।
- উদ্ভিদের ভ্রুণে একটিমাত্র প্রান্তীয় বীজপত্র থাকে।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদগুলির পাতা সমাঙ্কপৃষ্ঠীয় হয়।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে? উদাহরণ দিয়ে উদ্ভিদগুলির বৈশিষ্ট্য লেখো।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ – যে-সকল গুপ্তবীজী উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। যেমন – আম, মটর, সরষে, নিম।
বৈশিষ্ট্য –
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদেরা একবর্ষজীবী, দ্বিবর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী হতে পারে।
- এরা বীরুৎ, গুল্ম ও বৃক্ষ জাতীয় হয়।
- এদের প্রধান মূলতন্ত্র থাকে।
- এদের পাতার শিরাবিন্যাস জালিকাকার হয়।
- উদ্ভিদগুলির বীজে দুটি বীজপত্র থাকে।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতা বিষমপৃষ্ঠীয় হয়।
অস্টিয়া ও অসকিউলাম কাকে বলে? এদের কাজ কী?
অস্টিয়া (Ostia) – পরিফেরা পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহে যে-সমস্ত ছোটো ছোটো ছিদ্র উপস্থিত থাকে, তাদের অস্টিয়া বলে।
অস্টিয়ার কাজ – অস্টিয়ার মধ্যে দিয়ে পরিবেশ থেকে জল স্পঞ্জের দেহে প্রবেশ করে।
অসকিউলাম (Osculum) – পরিফেরা পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহের একটি প্রান্তে একটি বড়ো ছিদ্র বর্তমান, একে অসকিউলাম বলে।
অসকিউলামার কাজ – অসকিউলাম পথে স্পঞ্জের দেহ থেকে দূষিত বর্জ্য পদার্থপূর্ণ জল বাইরে বেরিয়ে যায়।

কোয়ানোসাইট কোশ কাকে বলে? এর কাজ কী?
পরিফেরা পর্বভুক্ত প্রাণীদের (স্পঞ্জ) দেহে যে বিশেষ ফ্ল্যাজেলাযুক্ত গ্রীবা সমন্বিত গোলাকার বা ডিম্বাকার কোশ উপস্থিত থাকে, তাকে কোয়ানোসাইট কোশ (Choanocyte cell) বলে।
কাজ –
- ফ্ল্যাজেলার আন্দোলনে এদের দেহে এক অবিচ্ছিন্ন জলস্রোতের সৃষ্টি হয়।
- কোয়ানোসাইট কোশ খাদ্য পরিপাকে, বর্জ্যপদার্থ নির্গমনে এবং জননে সাহায্য করে।

নালিকাতন্ত্র বা ক্যানাল সিস্টেম কোন্ প্রাণীতে দেখা যায়? এর কাজ কী?
পরিফেরা পর্বের প্রাণীতে অবস্থিত অসংখ্য নালি, ছিদ্র দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র বহিঃপরিবেশ ও স্পঞ্জোসিল বা ফ্ল্যাজেলেটেড প্রকোষ্ঠের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি সম্পন্ন করে, তাকে নালিকাতন্ত্র বা ক্যানাল সিস্টেম বলে।
কাজ –
- নালিকাতন্ত্রের সাহায্যে স্পঞ্জের দেহে জল প্রবেশ করে এবং স্পঞ্জকে খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- নালিকাতন্ত্র দেহ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড, বর্জ্যপদার্থ, জননপদার্থ প্রভৃতি নির্গমনে সাহায্য করে।
নিডোব্লাস্ট ও নিডোসাইট কাকে বলে? এর কাজ কী?
নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের (হাইড্রা) দেহে এক্টোডার্ম থেকে উৎপন্ন যে-সমস্ত কোশ প্রধানত মুখছিদ্র ও কর্ষিকাতে উপস্থিত থাকে, তাদের নিডোব্লাস্ট বা নিডোসাইট বলে। এদের ‘Stinging cell’ ও বলা হয়।
কাজ – নিডোব্লাস্ট কোশে চাবুকের মতো অঙ্গ নিমাটোসিস্ট উপস্থিত থাকে। এর সাহায্যে এরা খাদ্য সংগ্রহ ও আত্মরক্ষা করে।

আসিলোমাটা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে-সমস্ত প্রাণীর প্রকৃত সিলোম থাকে না, তাদের আসিলোমাটা বলে। যেমন – জেলিফিশ, ফিতাকৃমি প্রভৃতি।
সিউডোসিলোমাটা বলতে কী বোঝো?
যে-সমস্ত প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী স্থানটি ব্লাস্টোসিলের অবশিষ্টাংশ ও মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত নয়, তাদের সিউডোসিলোমাটা বলে। যেমন – গোলকৃমি।
সিলোমাটা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে-সমস্ত প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী স্থান মেসোডারমাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, তাদের সিলোমাটা বলে। যেমন – কেঁচো, আরশোলা, ব্যাং, মানুষ প্রভৃতি।
আসিলোমাটা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে-সমস্ত প্রাণীর প্রকৃত সিলোম থাকে না, তাদের আসিলোমাটা বলে। যেমন – জেলিফিশ, ফিতাকৃমি প্রভৃতি।
সিউডোসিলোমাটা বলতে কী বোঝো?
যে-সমস্ত প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী স্থানটি ব্লাস্টোসিলের অবশিষ্টাংশ ও মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত নয়, তাদের সিউডোসিলোমাটা বলে। যেমন – গোলকৃমি।
সিলোমাটা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে-সমস্ত প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী স্থান মেসোডারমাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, তাদের সিলোমাটা বলে। যেমন – কেঁচো, আরশোলা, ব্যাং, মানুষ প্রভৃতি।
সিলোম কাকে বলে? সিলোমের গুরুত্ব লেখো।
সিলোম (Coelom) – উন্নত প্রাণীদেহে যে গহ্বর মেসোডার্মের বহিস্থ সোমাটিক স্তর ও অন্তঃস্থ ভিসেরাল স্তরের মাঝখানে অবস্থিত এবং পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত, তাকে সিলোম বলে।
সিলোমের গুরুত্ব –
- দেহপ্রাচীরকে পৌষ্টিকনালির থেকে পৃথক রাখে।
- মুক্ত রক্তসংবহনতন্ত্রযুক্ত প্রাণীদের ক্ষেত্রে সিলোম সংবহনতন্ত্রের পথ হিসেবে কাজ করে। যেমন – আরশোলার হিমেসিল।
- অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে ধারণ ও রক্ষার কাজ করে।
- রেচন পদার্থের অস্থায়ী সঞ্চয়ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
- হাইড্রলিক কঙ্কালতন্ত্র হিসেবে কাজ করে। যেমন – কেঁচো, জোঁক।
চিংড়ি কি মাছ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও?
চিংড়ি মাছ নয়। চিংড়ি একপ্রকার সন্ধিপদী প্রাণী (আর্থ্রোপোডা)।
চিংড়ি মাছ নয়, এর সপক্ষে যুক্তিগুলি হল –
- চিংড়ির মাছের মতো রশ্মিযুক্ত পাখনা থাকে না।
- এটি সন্ধিপদী প্রাণী কারণ -এর উপাঙ্গগুলি সন্ধিল (jointed)।
- এর পুঞ্জাক্ষি থাকে এবং বহিঃকঙ্কাল কাইটিন নির্মিত খোলক দ্বারা আবৃত।
- মাছের মতো এদের তরুণাস্থি বা অস্থিনির্মিত অন্তঃকঙ্কাল থাকে না।

নালিপদ কাকে বলে? এর কাজ কী?
একাইনোডারমাটা পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহে অ্যাম্বুলাক্রাল খাঁজের (groove) দুপাশে সারিবদ্ধ নলাকার গঠনকে নালিপদ (Tube feet) বলে।
কাজ –
- নালিপদ গমনে সাহায্য করে।
- খাদ্য সংগ্রহ ও গ্যাসীয় পদার্থের আদানপ্রদানেও নালিপদ সাহায্য করে।
জলসংবহনতন্ত্র কাকে বলে? এর কাজ কী?
একাইনোডারমাটা পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহে নালিকার সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্রের সাহায্যে জল সংবহন ঘটে ও দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে জলসংবহনতন্ত্র (Water vascular system) বলে। এটি সিলোমের পরিবর্তিত রূপ।
কাজ –
- নালিপদ হাইড্রোস্ট্যাটিক কঙ্কাল গঠন করে।
- জলসংবহনতন্ত্র গমনে ও শ্বাসকার্যে সাহায্য করে।
তারামাছ মাছ নয় কেন?
তারামাছ মাছ নয়, কারণ –
- তারা মাছ নন-কর্ডাটাভুক্ত কিন্তু মাছ কর্ডাটাপর্বভুক্ত প্রাণী।
- তারামাছের দেহে মাছের মতো জোড়বিজোড় পাখনা থাকে না।
- তারামাছের দেহে মাছের মতো ভেনাস হৃৎপিণ্ড থাকে না।
- তারামাছের দেহে জলসংবহনতন্ত্র থাকে যা, মাছের দেহে অনুপস্থিত।
- তারামাছের দেহে নালিপদ উপস্থিত এবং এদের দেহ কণ্টকময়, যা মাছের দেহে দেখা যায় না। সাধারণত মাছের দেহ আঁশ দ্বারা ঢাকা থাকে।
- মাছের দেহে স্পর্শেন্দ্রিয় রেখা থাকে যা তারামাছের দেহে অনুপস্থিত। এর ফলে তারামাছকে মাছ বলা যায় না।
“সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীই কর্ডাটা, কিন্তু সব কর্ডাটাই মেরুদণ্ডী নয়” – উক্তিটির যথার্থতা ব্যাখ্যা করো।
- নোটোকর্ড ও নার্ভকর্ড হল কর্ডাটা পর্বের বৈশিষ্ট্য।
- সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের দেহেই জীবনের ভ্রুণ দশায় নোটোকর্ড থাকে এবং ভ্রুণের পরিস্ফুরণকালে নোটোকর্ড মেরুদণ্ড (Vertebral column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। একারণে, এদের মেরুদন্ডী প্রাণী (Vertebrate) বলা হয়।
- অন্যদিকে কর্ডাটা পর্বভুক্ত হেমিকর্ডাটা, ইউরোকর্ডাটা ও সেফালোকর্ডাটা উপপর্বের অন্তর্গত প্রাণীদের দেহে অবস্থিত নোটোকর্ড কখনোই মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় না। এজন্য, এরা কর্ডাটা হলেও মেরুদণ্ডী প্রাণী নয়।
কানকোবিহীন একটি মাছের নাম লেখো। এটি কোন শ্রেণির অন্তর্গত? এর দেহে কোন্ ধরনের আঁশ থাকে?
কানকোবিহীন একটি মাছ হল হাঙর।
হাঙর কনড্রিকথিস শ্রেণির অন্তর্গত (অন্তঃকঙ্কাল তরুণাস্থি দ্বারা নির্মিত)। এর দেহে আণুবীক্ষণিক প্ল্যাকয়েড আঁশ থাকে।
তিমি মাছ নয় কেন? এর বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?
তিমি মাছ নয় যদিও তিমি জলে বসবাস করে, কারণ এদের দেহে মাছের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, যেমন – ভেনাস হৃৎপিণ্ড, স্পর্শেন্দ্রিয়রেখা, রশ্মিবিশিষ্ট পাখনা থাকে না। অপরদিকে এদের দেহে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতো স্তনগ্রন্থি ও ফুসফুসের নীচে মধ্যচ্ছদা থাকায় এদেরকে স্তন্যপায়ী বলা হয়।
তিমির বিজ্ঞানসম্মত নাম – ব্যালিনপটেরা মাসকিউলাস (Balaenoptera musculus)।
“বাদুড় পাখি নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী” উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
অথবা, “পাখির মতো আকাশে উড়লেও বাদুড় স্তন্যপায়ী প্রাণী” – উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
বাদুড় পাখি নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী।
কারণ –
- বাদুড়ের দেহ পাখির মতো পালক দ্বারা ঢাকা থাকে না। স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- বাদুড়ের পিছনের পা দুটি আঁশ দ্বারা আবৃত নয়।
- বাদুড়ের চোয়াল পাখির চোয়ালের মতো চঞ্চুতে রূপান্তরিত হয়নি। এদের চোয়াল আছে এবং এতে দাঁত থাকে।
- বাদুড়ের বুকে উড্ডয়ন পেশি ও ফুসফুসে বায়ুথলি থাকে না।
- বাদুড়ের ডানা আসলে বহিঃ ত্বকের প্রসারিত অংশ প্যাটাজিয়াম। পাখির ডানার মতো অগ্রপদের রূপান্তরিত অংশ নয় এবং এতে পালক থাকে না।
- বাদুড়ের দেহে স্তনগ্রন্থি আছে। এরা ডিম পাড়ে না, বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড়ো হয়।
এই সকল কারণে বলা যায়, বাদুড় পাখি নয় স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং এরা পাখির মতো আকাশে উড়লেও পাখি নয়।

কী কারণে মানুষ ও বানর সম শ্রেণিভুক্ত প্রাণী?
মানুষ এবং বানর সম শ্রেণিভুক্ত হওয়ার কারণগুলি হল-
- উভয়ের ক্ষেত্রেই স্ত্রীদেহে সুগঠিত স্তনগ্রন্থি বর্তমান এবং শাবক মাতৃদুগ্ধ পান করে বড়ো হয়।
- উভয়ের দেহ লোম দ্বারা আবৃত।
- উভয়ের ক্ষেত্রেই মস্তকের দুপাশে কর্ণছত্র বা পিনা বর্তমান।
এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবন ও তার বৈচিত্র্য’ -এর উপবিভাগ ‘জীবনের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণিবিন্যাস : ট্যাক্সোনমি’ -এর সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন