এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অঙ্গজ বংশবিস্তারের সংজ্ঞা লেখো। অঙ্গজ বংশবিস্তারের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অঙ্গজ বংশবিস্তারের সংজ্ঞা লেখো। অঙ্গজ বংশবিস্তারের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
যে জনন পদ্ধতিতে জীবদেহের (প্রধানত উদ্ভিদের) কোনো অঙ্গ বা দেহাংশ জনিতৃ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোশ বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে নতুন অপত্যের সৃষ্টি হয়, তাকে অঙ্গজ বংশবিস্তার বলে।
অঙ্গজ বংশবিস্তারের বৈশিষ্ট্য –
- অঙ্গজ বংশবিস্তার প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদদেহে সংঘটিত একটি সরল এবং অনুন্নত পদ্ধতি এবং এই পদ্ধতিতে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
- অঙ্গজ বংশবিস্তারের ফলে সৃষ্ট অপত্য উদ্ভিদে কোনো নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব হয় না, যার ফলে অঙ্গজ জননের অভিব্যক্তিতে কোনো ভূমিকা নেই।
- অঙ্গজ বংশবিস্তারের মাধ্যমে খুব কম সময়ে দ্রুত নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।
- বছরের যে-কোনো ঋতুতে ইচ্ছামতন কৃত্রিম উপায়েও অঙ্গজ বংশবিস্তার ঘটানো যায় এবং এই প্রকার বংশবিস্তারে জনুক্রম অনুপস্থিত থাকে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
অঙ্গজ বংশবিস্তার বলতে কী বোঝায়?
যে জনন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের কোনো অঙ্গ (যেমন – কান্ড, শিকড়, পাতা) বা দেহাংশ জনিতৃ উদ্ভিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিন্তু জিনগতভাবে অভিন্ন একটি অপত্য উদ্ভিদ তৈরি করে, তাকে অঙ্গজ বংশবিস্তার বলে।
অঙ্গজ বংশবিস্তার কত প্রকার ও কী কী?
প্রধানত দুই প্রকার –
1. প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার – উদ্ভিদ নিজের থেকেই বিশেষায়িত অঙ্গ (যেমন – রান্নার, কন্দ, স্তলকন্দ) তৈরি করে।
2. কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তার – মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতি (যেমন – কলম, ডালপালা, রোপণ) প্রয়োগ করে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করে।
প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারের কিছু উদাহরণ দাও।
প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারের কিছু উদাহরণ –
1. রান্নার – পেয়ারা, ডুমুর;
2. কন্দ – আলু;
3. স্তলকন্দ – গোল আলু;
4. পত্রকন্দ – ব্রায়োফিলাম (জীবন্ত পাতা);
5. মূলকন্দ – ওল, আলু।
অঙ্গজ বংশবিস্তারের সুবিধাগুলো কী?
অঙ্গজ বংশবিস্তারের সুবিধা –
1. মাতৃ উদ্ভিদের সমস্ত ভালো গুণাবলী (যেমন – ফলনের মান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) অপত্যে সংরক্ষিত হয়।
2. ফুল ও ফল ধারণের জন্য কম সময় লাগে।
3. বীজ থেকে চারা গজানো যেখানে কষ্টসাধ্য বা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ, সেখানে এটি দ্রুত বিস্তারে সাহায্য করে।
4. বীজ উৎপাদন ক্ষমতা না থাকা উদ্ভিদও (যেমন – কলা, কমলা) বংশবিস্তার করতে পারে।
অঙ্গজ বংশবিস্তারের অসুবিধাগুলো কী?
অঙ্গজ বংশবিস্তারের অসুবিধা –
1. জিনগত বৈচিত্র্য না থাকায় পরিবেশের পরিবর্তন বা নতুন রোগের বিরুদ্ধে সব উদ্ভিদ সমানভাবে সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়।
2. রোগবালাই জনিতৃ থেকে অপত্যে স্থানান্তরিত হতে পারে।
3. দীর্ঘমেয়াদে জননক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
অঙ্গজ ও অযৌন বংশবিস্তার কি একই?
অঙ্গজ বংশবিস্তার অযৌন বংশবিস্তারের একটি প্রকার। সব অঙ্গজ বংশবিস্তার অযৌন, কিন্তু সব অযৌন বংশবিস্তার অঙ্গজ নয়। যেমন – স্পোর গঠনের মাধ্যমে বংশবিস্তার অযৌন কিন্তু অঙ্গজ নয়।
কেন কৃষি ও বাগানে অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়?
কারণ এতে উৎপাদিত উদ্ভিদ নির্দিষ্ট কাঙ্ক্ষিত গুণ (যেমন – বড় ফুল, মিষ্টি ফল, দ্রুত বৃদ্ধি) সম্পন্ন হয় এবং ফলন পাওয়া যায় দ্রুত। বীজের মাধ্যমে চারা তৈরি করলে গুণাবলী পরিবর্তিত হতে পারে।
অঙ্গজ বংশবিস্তারে কি কখনো বৈচিত্র্য দেখা যায়?
সাধারণত দেখা যায় না। তবে কদাচিৎ অঙ্গজ রূপভ্রংশ নামক প্রক্রিয়ায় দৈহিক পরিব্যক্তির কারণে কিছু ভিন্নতা দেখা দিতে পারে, যা নতুন প্রজাতি সৃষ্টির পথ দেখাতে পারে (যেমন – নেভেল কমলা)।
অঙ্গজ বংশবিস্তার এবং প্রজননের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
অঙ্গজ বংশবিস্তার একটি অযৌন পদ্ধতি, যেখানে শুধুমাত্র একক জনিতৃ থেকে দৈহিক বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, প্রজনন সাধারণত যৌন প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যেখানে দুটি জনিতৃ (পুরুষ ও স্ত্রী) গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে জিনগতভাবে ভিন্ন অপত্যের সৃষ্টি করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অঙ্গজ বংশবিস্তারের সংজ্ঞা লেখো। অঙ্গজ বংশবিস্তারের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “জনন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন