এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলতে কী বোঝো। এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। প্রতিবর্ত ক্রিয়া কীভাবে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে সাহায্য করে দুটি উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলতে কী বোঝো। এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো আকস্মিক সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনায় মস্তিষ্কের সরাসরি অংশগ্রহণ ব্যতীত (জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়া ছাড়া) সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রাণীদেহে যে দ্রুত, স্বতঃস্ফূর্ত, অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ – হাঁটতে শেখা, পড়াশোনা করা, সাঁতার কাটতে শেখা ইত্যাদি।
প্রতিবর্ত ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য –
- প্রতিবর্ত ক্রিয়া সাধারণত সুষুম্নাকান্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- প্রতিবর্ত ক্রিয়া একপ্রকার দ্রুত, স্বতঃস্ফূর্ত, অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া।
- এটি বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনায় ঘটে।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া কীভাবে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে সাহায্য করে দুটি উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
অথবা, প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি গুরুত্ব লেখো।
প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব –
- চোখে হঠাৎ উজ্জ্বল আলো পড়লে নিজের অজান্তেই চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়।
- দেহের কোনো অংশে অনৈচ্ছিকভাবে উত্তপ্ত বা গরম কোনো বস্তুর ছোঁয়া লাগলে দেহের সেই অংশটি তৎক্ষণাৎ উত্তপ্ত বস্তু থেকে দূরে সরে যায়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
প্রতিবর্ত ক্রিয়া কী?
প্রতিবর্ত ক্রিয়া হল বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ আকস্মিক উদ্দীপনায় মস্তিষ্কের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত দ্রুত, স্বতঃস্ফূর্ত ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও ইচ্ছাকৃত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?
প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও ইচ্ছাকৃত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য –
1. প্রতিবর্ত ক্রিয়া অনৈচ্ছিক, দ্রুত ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ন্ত্রিত।
2. ইচ্ছাকৃত ক্রিয়া ঐচ্ছিক, অপেক্ষাকৃত ধীরগতি সম্পন্ন ও মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত।
প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ দাও।
প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ –
1. হাঁটা বা পড়াশোনা শেখা (অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া)।
2. হাঁটুতে হালকা আঘাত করলে পা ওঠা (ঘুসি প্রতিবর্ত)।
3. চোখের সামনে হাত চলে এলে চোখ কুঁচকে যাওয়া।
সাধারণ প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?
সাধারণ প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য –
1. সাধারণ প্রতিবর্ত ক্রিয়া – সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সরল ও দ্রুত (যেমন – গরম বস্তু থেকে সরে আসা)।
2. জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়া – মস্তিষ্কের অংশগ্রহণ আছে, শেখার সাথে সম্পর্কিত (যেমন – সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা)।
প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় সুষুম্নাকাণ্ডের ভূমিকা কী?
সুষুম্নাকাণ্ড উদ্দীপনা গ্রহণ করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে মস্তিষ্কের সহায়তা ছাড়াই তাৎক্ষণিক সুরক্ষা প্রদান করে।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দেহকে আকস্মিক বিপদ থেকে রক্ষা করে, যা জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবর্ত চাপ কী?
প্রতিবর্ত ক্রিয়ার জন্য দায়ী স্নায়ু পথ, যেখানে সংজ্ঞাবহ স্নায়ু থেকে সুষুম্নাকাণ্ড হয়ে প্রেরক স্নায়ুতে উদ্দীপনা প্রবাহিত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলতে কী বোঝো। এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। প্রতিবর্ত ক্রিয়া কীভাবে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে সাহায্য করে দুটি উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন