এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Class 10 Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “রেসিপ্রোক্যাল ক্রস বলতে কী বোঝো? মেন্ডেলের ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝো?” — নিয়ে আলোচনা করব। প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় “বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ”-এর “বংশগতি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিষয়টি সহজ ভাষায় উদাহরণসহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

রেসিপ্রোক্যাল ক্রস বলতে কী বোঝো?
বিজ্ঞানী মেন্ডেল তাঁর সংকরায়ণ পরীক্ষায় একবার লম্বা উদ্ভিদের ফুলের পরাগরেণু খর্ব (বেঁটে) উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থাপন করে পরাগমিলন ঘটান। আবার ঠিক উল্টোভাবে, খর্ব উদ্ভিদের ফুলের পরাগরেণু লম্বা উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুণ্ডে প্রতিস্থাপন করে পরাগমিলন ঘটান। এই প্রকার ক্রসকে রেসিপ্রোক্যাল ক্রস (Reciprocal Cross) বলা হয়।
সহজ কথায়, রেসিপ্রোক্যাল ক্রস হলো প্রজননের এমন একটি পদ্ধতি যেখানে দুটি গাছের মধ্যে লিঙ্গ (পিতা ও মাতা) পরিবর্তন করে সংকরায়ণ ঘটানো হয়।
উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা – ধরুন, আপনার কাছে দুটি জাতের গাছ আছে— জাত A এবং জাত B।
- প্রথম সেট – আপনি ‘A’ গাছকে পুরুষ (পরাগরেণু দাতা) এবং ‘B’ গাছকে স্ত্রী (গর্ভমুণ্ড দাতা) হিসেবে ব্যবহার করলেন।
- দ্বিতীয় সেট (রেসিপ্রোক্যাল) – এবার ঠিক উল্টোটা করবেন। অর্থাৎ, ‘B’ গাছকে পুরুষ এবং ‘A’ গাছকে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করবেন।
এইভাবে লিঙ্গ অদলবদল করে যে পরীক্ষা চালানো হয়, তাকেই বলা হয় রেসিপ্রোক্যাল ক্রস।
রেসিপ্রোক্যাল ক্রসের গুরুত্ব
বাণিজ্যিক চাষাবাদ বা কৃষিক্ষেত্রে নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
- বংশগতির উৎস নির্ধারণ – যদি উভয় ক্রসেই একই ফলাফল আসে, তবে বোঝা যায় ওই বৈশিষ্ট্যটি সাধারণ ক্রোমোজোমের মাধ্যমে আসছে। কিন্তু যদি ফলাফল ভিন্ন হয়, তবে বোঝা যায় বৈশিষ্ট্যটি সাইটোপ্লাজমীয় বংশগতি (যা মূলত মা গাছ থেকে আসে) বা লিঙ্গ-সংশ্লিষ্ট কোনো কারণে হচ্ছে।
- উন্নত জাত নির্বাচন – কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বা প্রাথমিক বৃদ্ধি অনেক সময় মা গাছের ওপর বেশি নির্ভর করে। রেসিপ্রোক্যাল ক্রসের মাধ্যমে চাষিরা বুঝতে পারেন কোন গাছটিকে ‘মা’ হিসেবে রাখলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
- ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি – বারোমাসি কাঁঠাল বা উন্নত জাতের উচ্ছে চাষের ক্ষেত্রে, কোন জাতের পরাগরেণু কোন জাতের গর্ভমুণ্ডের সাথে সবচেয়ে ভালো কাজ করে তা এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
উদাহরণ (মটর গাছের ক্ষেত্রে)
বিজ্ঞানী মেন্ডেল মটর গাছ নিয়ে কাজ করার সময় নিচের পরীক্ষা দুটি করেছিলেন:
- পরীক্ষা 1 – লম্বা পুরুষ গাছ × খাটো স্ত্রী গাছ = সব লম্বা গাছ (ফলাফল)।
- পরীক্ষা 2 – খাটো পুরুষ গাছ × লম্বা স্ত্রী গাছ = সব লম্বা গাছ (ফলাফল)।
মেন্ডেলের ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝো?
ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থিত পলিপেপটাইডধর্মী, নিউক্লিয়োটাইড দ্বারা গঠিত, বংশগতির যে একক জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে সরাসরি অংশগ্রহণ করে, তাই হলো ফ্যাক্টর।
বিজ্ঞানী মেন্ডেল যাকে ‘ফ্যাক্টর’ (Factor) আখ্যা দিয়েছিলেন, বর্তমানে বিজ্ঞানী জোহানসেনের মতে তাকেই জিন (Gene) বলা হয়। অর্থাৎ, মেন্ডেলের ফ্যাক্টর এবং জিন একই বস্তুর ভিন্ন নাম।
আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা রেসিপ্রোক্যাল ক্রস এবং মেন্ডেলের ফ্যাক্টর সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হবে।
আপনাদের জীবনবিজ্ঞান সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন।





Leave a Comment