এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সিস্টার ক্রোমাটিড কাকে বলে? নন-সিস্টার ক্রোমাটিড কাকে বলে?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সিস্টার ক্রোমাটিড কাকে বলে?
সমসংস্থ ক্রোমোজোমের দ্বিত্বকরণের ফলে প্রতিটি ক্রোমোজোমে যে দুটি সমআকৃতি ও সমপ্রকৃতির ক্রোমাটিড গঠিত হয়, একই ক্রোমাজোমস্থিত সেই ক্রোমটিডদ্বয়ের একটিকে অপরটির সিস্টার ক্রোমাটিড বলে। এরা একটি সাধারণ সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
নন-সিস্টার ক্রোমাটিড কাকে বলে?
সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ার (একটি পিতা এবং অপরটি মাতার থেকে প্রাপ্ত) দুটি ভিন্ন ক্রোমোজোমের ক্রোমটিডদ্বয়, যারা একটি সাধারণ সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত নয় তাদের একটিকে অপরটির নন-সিস্টার ক্রোমাটিড চিত্র বলে। নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলি ট্রেটাডে অবস্থান করে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সিস্টার ক্রোমাটিড ও নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
সিস্টার ক্রোমাটিড ও নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে মূল পার্থক্য –
1. সিস্টার ক্রোমাটিড – একটি একক ক্রোমোজোম প্রতিলিপিকরণের ফলে সৃষ্ট দুটি অভিন্ন ক্রোমাটিড, যা একটি সাধারণ সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত থাকে। তারা জিনগতভাবে হুবহু একই।
2. নন-সিস্টার ক্রোমাটিড – সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ার (একটি মাতৃ ও একটি পৈতৃক) ভিন্ন দুটি ক্রোমোজোমের আলাদা ক্রোমাটিড। তারা একটি সাধারণ সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত নয় এবং জিনগতভাবে সম্পূর্ণ অভিন্ন নাও হতে পারে।
সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো কখন গঠিত হয়?
তারা গঠিত হয় কোষ চক্রের S দশায় (সিন্থেসিস দশা), যখন DNA প্রতিলিপিকরণ ঘটে। এর ফলে প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড নিয়ে গঠিত হয়।
সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো কখন পৃথক হয়?
তারা মাইটোসিসের অ্যানাফেজ দশায় অথবা মিয়োসিস II-এর অ্যানাফেজ দশায় পৃথক হয়, যখন সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় এবং ক্রোমাটিডগুলো বিপরীত মেরুতে টানা হয়।
নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলোর গুরুত্ব কী?
মিয়োসিস I -এর প্রোফেজ I দশায়, নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলোর মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে। এটি জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টির (যেমন – পৈতৃক ও মাতৃক জিনের পুনর্বিন্যাস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
‘হোমোলোগাস ক্রোমোজোম’ এবং ‘সিস্টার ক্রোমাটিড’ কি একই?
না, একেবারেই নয়।
1. হোমোলোগাস ক্রোমোজোম হলো জোড়া ক্রোমোজোম (একটি বাবার কাছ থেকে, একটি মায়ের কাছ থেকে) যা একই ধরনের জিন ধারণ করে কিন্তু অ্যালিল ভিন্ন হতে পারে।
2. সিস্টার ক্রোমাটিড হলো একটি একক ক্রোমোজোম প্রতিলিপিকরণের ফলে সৃষ্ট দুটি অভিন্ন কপি।
টেট্রাড বা ট্রেটাড কাকে বলে?
মিয়োসিস I -এর প্রোফেজ I দশায়, দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোজোম (প্রতিটিতে দুটি করে সিস্টার ক্রোমাটিড) পাশাপাশি জোড়া বাঁধে। এই চারটি ক্রোমাটিডের সমষ্টিকে (দুই জোড়া সিস্টার ক্রোমাটিড) একসাথে টেট্রাড বলে। এই অবস্থাতেই নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলোর মধ্যে ক্রসিং ওভার সম্ভব হয়।
ক্রসিং ওভার শুধু নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যেই ঘটে কেন?
কারণ সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো জিনগতভাবে সম্পূর্ণ অভিন্ন। নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলোর মধ্যে জিনের ভিন্নতা (বিভিন্ন অ্যালিল) থাকায় তাদের মধ্যে বিনিময় হয়ে নতুন জিনগত সংমিশ্রণ সৃষ্টি করে, যা বিবর্তন ও বংশগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাইটোসিসে কি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে?
সাধারণত ঘটে না। মাইটোসিসের প্রধান কাজ হল অভিন্ন কোষ সৃষ্টি করা, তাই জিনগত পুনর্বিন্যাস (ক্রসিং ওভার) এখানে প্রায় ঘটেই না। ক্রসিং ওভার প্রধানত মিয়োসিস I-এ ঘটে।
সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা না হলে কী সমস্যা হয়?
যদি সিস্টার ক্রোমাটিড সঠিক সময়ে আলাদা না হয় (যেমন – সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত না হলে), তাহলে অ্যানিউপ্লয়েডি হতে পারে। এর ফলে একটি অপত্য কোষে একটি ক্রোমোজোম বেশি, আর অপরটিতে কম হতে পারে, যা ডাউন সিনড্রোমের মতো জিনগত ব্যাধির কারণ হয়।
ক্রোমাটিড, ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোমের মধ্যে সম্পর্ক কী?
ক্রোমাটিড, ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোমের মধ্যে সম্পর্ক –
1. ক্রোমাটিন – DNA ও হিস্টোন প্রোটিনের জালিকা। কোষ বিভাজন ছাড়া অবস্থায় নিউক্লিয়াসে এভাবে থাকে।
2. ক্রোমোজোম – কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন সংক্ষিপ্ত ও ঘনীভূত হয়ে যে নির্দিষ্ট গঠন তৈরি করে।
3. ক্রোমাটিড – DNA প্রতিলিপিকরণের পর, একটি ক্রোমোজোমে যে দুটি সমান অর্ধেক দেখা যায়, তাদের প্রতিটিই একটি করে ক্রোমাটিড। তারা সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত থাকে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সিস্টার ক্রোমাটিড কাকে বলে? নন-সিস্টার ক্রোমাটিড কাকে বলে?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন