এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়াটি চিত্রসহ বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়াটি চিত্রসহ বর্ণনা করো।
মাইটোসিসে ক্যারিয়োকাইনেসিসের মাধ্যমে সংখ্যায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া ক্রোমোজোম অপত্য নিউক্লিয়াসে পৃথক হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইটোকাইনেসিস, অর্থাৎ সাইটোপ্লাজমের বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
উদ্ভিদকোশের সাইটোকাইনেসিস –
উদ্ভিদকোশের সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়াটি মূলত কোশপাত বা সেলপ্লেট গঠনের মাধ্যমে হয়। প্রকৃতপক্ষে টেলোফেজ দশাতেই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয় এবং এই দশাতেই এটি সম্পূর্ণ হয়।
- টেলোফেজ দশার শেষ পর্যায়ে কোশের বিষুব অঞ্চল বরাবর ফ্রাগমোপ্লাস্ট দানা জমতে থাকে। এই স্থানে গলগি ভেসিকেলগুলি পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে কোশপর্দা গঠন করে।
- ফ্রাগমোপ্লাস্টের মধ্যে থাকা ক্যালশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম পেকটেট একত্রিত হয়ে কোশপাত গঠন করে। এই কোশপাত পরবর্তী সময়ে মধ্যচ্ছদা বা ল্যামেলাতে পরিণত হয়।
- মধ্যচ্ছদার উভয়পাশে সেলুলোজ এবং হেমিসেলুলোজ জমে প্রাথমিক কোশপ্রাচীর গঠিত হয় এবং অপত্য কোশের সাইটোপ্লাজম আলাদা হয়ে যায়।
- এই পদ্ধতিতে কোশপ্রাচীর গঠনের সঙ্গে সঙ্গে মাতৃকোশের সাইটোপ্লাজম দুটি সমান ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।

কোশপাত ও অপত্য কোশ গঠনের ধাপসমূহ –
ইন্টারজোনাল তন্তু ও গলগি ভেসিকল → ফ্রাগমোপ্লাস্ট → কোশপাত → দুটি অপত্য কোশ → প্রাথমিক কোশপ্রাচীর → মধ্যচ্ছদা
প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস-
- প্রাণীকোশে অ্যানাফেজ দশায় এই সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং টেলোফেজ দশায় প্রক্রিয়াটি শেষ হয়। কোশের মধ্যবর্তী স্থানে দুই পাশ থেকে কোশপর্দাটি সংকুচিত হয়ে ভাঁজ বা Furrow গঠন করে। এই পদ্ধতিকে ক্লিভেজ বা ফারোয়িং পদ্ধতি বলে।
- ডগলাস মার্সল্যান্ডের মত অনুসারে, অ্যাকটিন এবং মায়োসিন তন্তুর সংযুক্তির ফলে একটি কনট্রাকটাইল রিং বা বলয় গঠিত হয় যার সংকোচনের ফলস্বরূপ খাঁজ বা Cleavage furrow ক্রমশ কোশের পরিধি থেকে গভীরে কেন্দ্রের দিকে প্রবেশ করে এবং একটি কেন্দ্রে একত্রিত হয়। এর ফলে সাইটোপ্লাজমটি দুটি সমান অংশে বিভক্ত হয় এবং সমগুণসম্পন্ন, সমান আকৃতিবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি কোষ বিভাজনের শেষ ধাপ, যেখানে একটি মাতৃকোষের সাইটোপ্লাজম দুটি অপত্য কোষে বিভক্ত হয়। এর মাধ্যমেই দুটি নতুন ও স্বাধীন কোষের সৃষ্টি হয়।
সাইটোকাইনেসিস কোষ বিভাজনের কোন পর্যায়ে ঘটে?
এটি সাধারণত মাইটোসিসের টেলোফেজ দশায় শুরু হয়ে সম্পন্ন হয়। তবে প্রাণীকোষে এটি কিছুটা আগে (অ্যানাফেজের শেষে) শুরু হতে পারে।
উদ্ভিদকোষ ও প্রাণীকোষের সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
উদ্ভিদকোষ ও প্রাণীকোষের সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য –
1. উদ্ভিদকোষে – কোষপাত (Cell plate) গঠনের মাধ্যমে মধ্যবর্তী প্রাচীর তৈরি হয়।
2. প্রাণীকোষে – সংকোচনশীল রিং (Contractile ring) তৈরি হয়ে কোষপর্দায় খাঁজ (Cleavage furrow) সৃষ্টি করে বিভাজন ঘটে।
উদ্ভিদকোষে ‘ফ্রাগমোপ্লাস্ট’ কী এবং এর ভূমিকা কী?
ফ্রাগমোপ্লাস্ট হলো মাইক্রোটিউবিউল ও গলজি ভেসিকেল দ্বারা গঠিত একটি অস্থায়ী কাঠামো, যা কোষের বিষুবীয় অঞ্চলে নতুন কোষপ্রাচীর গঠনের জন্য উপাদান সাজায় ও পরিবহন করে।
উদ্ভিদকোষে কোষপাত কীভাবে তৈরি হয়?
গলজি বস্তু থেকে আগত ভেসিকেলগুলি ফ্রাগমোপ্লাস্ট বরাবর জমা হয়ে একীভূত হয় এবং কোষপর্দা গঠন করে। পরে পেকটিন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম পেকটেট জমা হয়ে মধ্যবর্তী ল্যামেলা ও প্রাথমিক কোষপ্রাচীর তৈরি হয়।
উদ্ভিদকোষে সেলুলোজ প্রাচীর কীভাবে তৈরি হয়?
প্রাথমিক কোষপ্রাচীর গঠনের পর, কোষঝিল্লিতে অবস্থিত সেলুলোজ সিন্থেজ এনজাইম সেলুলোজ তন্তু সংশ্লেষ করে প্রাচীরকে শক্তিশালী করে।
প্রাণীকোষে ‘ক্লিভেজ ফারো’ কীভাবে তৈরি হয়?
অ্যাক্টিন ও মায়োসিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত একটি সংকোচনশীল রিং কোষের বিষুবীয় অঞ্চলের প্লাজমামেমব্রেনের নিচে জড়ো হয়। এটি সংকুচিত হয়ে কোষপর্দায় একটি খাঁজ তৈরি করে যা গভীর হতে থাকে।
প্রাণীকোষের বিভাজনে ‘কনট্রাকটাইল রিং’ এর কাজ কী?
এটি একটি বলয়ের মতো সংকুচিত হয়ে কোষপর্দাকে ভিতরের দিকে টানে, ফলে কোষটি দুইভাগে পৃথক হয়।
প্রাণীকোষে কেন কোষপাত তৈরি হয় না?
প্রাণীকোষের চারপাশে কঠিন কোষপ্রাচীর নেই, তাই নমনীয় প্লাজমামেমব্রেন সংকোচনের মাধ্যমে সহজেই বিভাজিত হতে পারে। কোষপাত শুধু দৃঢ় প্রাচীরযুক্ত উদ্ভিদকোষের জন্য প্রয়োজন।
সাইটোকাইনেসিস ব্যর্থ হলে কী হয়?
এর ফলে একটি কোষে দুই বা ততোধিক নিউক্লিয়াস থাকতে পারে (বহুকেন্দ্রিক কোষ), যা কোষের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং কখনো কখনো ক্যান্সারের মতো ব্যাধির সাথে যুক্ত।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়াটি চিত্রসহ বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন