আজকের আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — ‘উদ্ভিদের প্রধান বৃদ্ধিসহায়ক আম্লিক হরমোন (অক্সিন) ও তার কাজ’ — নিয়ে আলোচনা করব। এই টপিকটি দশম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়’-এর অন্তর্ভুক্ত। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসতে দেখা যায়, তাই শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ভালোভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত জরুরি।

উদ্ভিদের প্রধান বৃদ্ধিসহায়ক আম্লিক হরমোনের নাম উল্লেখ করে তার প্রধান কাজগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উদ্ভিদের প্রধান বৃদ্ধিসহায়ক আম্লিক হরমোনটি হল – অক্সিন।
অক্সিনের কাজ –
- কোশ বিভাজন ও কোশের আকার বৃদ্ধি – DNA সংশ্লেষের মাধ্যমে অক্সিন কোশের বিভাজন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্যাম্বিয়াম কোশের দ্রুত বিভাজন ঘটিয়ে উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি ঘটায় এবং ক্যালাস গঠন করে উদ্ভিদদেহে ক্ষয়পূরণ করে। অক্সিন হরমোন কোশগহ্বর সৃষ্টি করে কোশের বৃদ্ধি ঘটায়। তা ছাড়া অক্সিন সেলুলেজ ও পেকটিনেজ উৎসেচকের সক্রিয়তা বাড়িয়ে কোশের কোশপ্রাচীরকে নমনীয় করে। ফলে অন্তঃঅভিস্রবণের হার বেড়ে গিয়ে কোশের আয়তন বৃদ্ধি করে।
- অগ্রস্থ প্রকটতা ঘটায় এবং পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত করে – উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিন উদ্ভিদ অঙ্গের অগ্রভাগে সংশ্লেষিত হয়। উদ্ভিদের অগ্রভাগে অক্সিন অধিকমাত্রায় সঞ্চিত থাকায় তা উদ্ভিদের পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধিতে বাধাদান করে। পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধিতে অক্সিনের এই বাধাদানকে অগ্রস্থ প্রকটতা (Apical dominance) বলে, তাই উদ্ভিদের অগ্রস্থ অংশ কেটে ফেললে পার্শ্বীয় শাখার বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটতে দেখা যায়।

- উদ্ভিদে অগ্রস্থ মুকুল আছে
- উদ্ভিদে অগ্রস্থ মুকুল সরিয়ে ফেলার ফলে পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ঘটেছে
- মূলের বৃদ্ধি – অতি অল্পমাত্রায় অক্সিন মূলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু অক্সিনের অধিক ঘনত্বে মূলের বৃদ্ধি রোধ হয় এবং ওই ঘনত্বে অক্সিন কাণ্ডের পর্ব থেকে অস্থানিক মূল নির্গমনে সাহায্য করে।
- ফলের বৃদ্ধি – ফলের আকার ও আয়তন বৃদ্ধিতে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলের আকার ও আয়তন বৃদ্ধিতে ইন্ডোল বিউটারিক অ্যাসিড (IBA) ব্যবহার করা হয়, তা ছাড়া কৃত্রিম অক্সিন অল্পমাত্রায় প্রয়োগ করেও ফলের বৃদ্ধি ঘটানো হয়। এ ছাড়াও অক্সিন হরমোন ফলের অকাল মোচন রোধ করে।
- ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ – উদ্ভিদের আলোকবৃত্তি বা ফোটোট্রপিক এবং অভিকর্ষবৃত্তি বা জিয়োট্রপিক চলনে অক্সিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই আলোকবৃত্তি ও অভিকর্ষবৃত্তি চলন উদ্ভিদের কাণ্ড এবং মূলে অক্সিনের অসম বণ্টনের ফলে ঘটে। একপার্শ্বীয় আলোর প্রভাবে বিটপের একদিকে আলো পড়লে অক্সিন তার বিপরীত দিকে (অন্ধকার দিকে) চলে আসে, ফলে ওই অংশে কোশের বৃদ্ধি ও বিভাজন ঘটায় বিটপ আলোর দিকে বেঁকে যায়, কারণ উদ্ভিদের বিটপ অধিক পরিমাণ অক্সিনে বেশি অনুভূতিশীল। অন্যদিকে, উদ্ভিদের মূল অল্প পরিমাণ অক্সিনে বেশি অনুভূতিশীল। মূলের ক্ষেত্রে আলোর দিকে অক্সিনের ঘনত্ব কম থাকার দরুন আলোর দিকের কোশগুলিতে অধিক বৃদ্ধি ও বিভাজন ঘটে, তাই মূল আলোর বিপরীতে বেঁকে যায়। এই কারণে বিটপে অনুকূল আলোকবৃত্তি এবং মূলে প্রতিকূল আলোকবৃত্তি চলন দেখা যায়। জিয়োট্রপিক চলনের মূলেও রয়েছে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা। অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কাণ্ডের নিম্নদেশে অধিক পরিমাণে অক্সিন পুঞ্জীভূত হয়। এই কারণে সেখানে কোশগুলির দ্রুত বিভাজন ঘটে এবং কান্ড উপরের দিকে ধাবিত হয়। মূলের ক্ষেত্রে মূলাগ্রের নীচের অংশে অক্সিন বেশি পরিমাণে থাকায় ওই অংশে কোশ বিভাজন কম হয় কিন্তু মূলাগ্রের উপরের দিকে অক্সিনের পরিমাণ কম থাকায় কোশগুলি দ্রুত বিভাজিত হয় ও মূল নীচের দিকে বেঁকে অভিকর্ষের অভিমুখে ধাবিত হয়।

এই আর্টিকেলে আমরা উদ্ভিদের প্রধান বৃদ্ধিসহায়ক আম্লিক হরমোন অর্থাৎ অক্সিন (Auxin) এবং উদ্ভিদের ওপর তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি যারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্যও এই টপিকটি অত্যন্ত জরুরি। আশা করি, এই আলোচনা আপনাদের উপকারে আসবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে জানাতে ভুলবেন না। পোস্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল। ধন্যবাদ।





Leave a Comment