এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?
ইসলামের পুনরুজ্জীবনের সাধারণ লক্ষ্যে ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের সূচনা হলেও ইতিহাসসূত্র পর্যালোচনায় বিদ্রোহদ্বয়ের মধ্যে কিছু মূলগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের পার্থক্য
ব্যুৎপত্তিগত –
ওয়াহাবি শব্দের অর্থ হল নবজাগরণ, আর ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম ‘তারিখ-ই-মহম্মদীয়া’ বা মহম্মদ প্রদর্শিত পথে ইসলাম ধর্মের সংস্কার।
অন্যদিকে ‘ফরাজি’ শব্দের অর্থ হল – ‘ইসলাম নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক কর্তব্য’ বা ইসলাম ধর্মের আদর্শে বিশ্বাস।
উদ্ভবগত –
অষ্টাদশ শতকে আরব দেশে ইবন আব্দুল ওয়াহাব নামে জনৈক ধর্মপ্রান মুসলমান সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্মের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গড়ে তোলেন। ভারতভূমিতে এই আন্দোলনের সূচনা করেন দিল্লির বিখ্যাত মুসলিম সন্ত শাহ্ ওয়ালি উল্লাহ্ ও তাঁর পুত্র আজিজ। যদিও ভারতে এই আন্দোলনের প্রকৃত প্রবর্তনের কৃতিত্ব উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলির অধিবাসী সৈয়দ আহমেদের প্রাপ্য। পরবর্তীতে তিতুমীর বাংলায় ‘তারিখ-ই-মহম্মদীয়া’ আদর্শের প্রচার তথা প্রসার ঘটান।
ফরাজি আন্দোলনের সূচনা করেন হাজি শরিয়ৎ উল্লাহ্, অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলার বাহাদুরপুরে। তিনি ‘ফরাজি’ নামে ধর্মীয় সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করে দরিদ্র মুসলমান কৃষক ও কারিগরদের ঐক্যবদ্ধ করেন।
আন্দোলনের চরিত্রগত পার্থক্য –
ইসলামের পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন রূপে শুরু হয়ে শেষপর্যন্ত আন্দোলন দুটি জমিদার ও ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করলেও ওয়াহাবিরা অনেক বেশি সশস্ত্র পথে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। বাংলায় ওয়াহাবি আদর্শের প্রচারক তিতুমির বারাসাত-বরিহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘোষণা করে নিজেকে ওই অঞ্চলের ‘বাদশাহ্’ বলে ঘোষণা করেন এবং নারকেলবেরিয়া গ্রামে বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন। শেষপর্যন্ত 1831 খ্রিস্টাব্দে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিষ্কের প্রেরিত বাহিনী কামানের গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা ধ্বংস করলে তিতুমির ও তার অনুগামীরা যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করেন।
ফরাজি আন্দোলনে এইরূপ দৃষ্টান্ত অনুপস্থিত।
ব্যাপ্তিগত –
ব্যাপ্তির বিচারেও ওয়াহাবি আন্দোলন ফরাজি আন্দোলন অপেক্ষা অগ্রবর্তী ছিল। আরব দেশের পাশাপাশি ভারতের উত্তর ও পূর্ব অংশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই আন্দোলনের প্রসার ঘটেছিল।
অন্যদিকে ফরাজি আন্দোলন মূলত পূর্ববঙ্গের কিছু মুষ্টিমেয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফরিদপুর, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহের কিছু অঞ্চলই ছিল বিদ্রোহের ভরকেন্দ্র।
স্থায়ীত্বগত –
স্থায়ীত্বের বিচারেও ওয়াহাবি আদর্শ ফরাজি অপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
মন্তব্য –
কিছু পার্থক্য সত্ত্বেও ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনকে মূলত ধর্মীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত কৃষক বিদ্রোহ রূপে গণ্য করাই অধিকতর যুক্তিসংগত।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment