তিতুমিরের নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ সম্পর্কে টীকা লেখো।

Rahul

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “তিতুমিরের নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ – টীকা লেখো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “তিতুমিরের নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ – টীকা লেখো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

তিতুমিরের নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ - টীকা লেখো।

তিতুমিরের নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ – টীকা লেখো।

বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন মির নিসার আলি, তিতুমির নামেই যিনি ইতিহাসে সমধিক পরিচিত। সৈয়দ আহমেদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তিনি বাংলায় ওয়াহাবি আদর্শ প্রচার করেন।

তিতুমিরের লক্ষ –

তিতুমিরের মূল লক্ষ ছিল স্থানীয় অত্যাচারী জমিদার, নীলকর ও তাদের মদতদাতা ইংরেজদের বিতাড়ন এবং শোষণমুক্ত স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠা।

আন্দোলনের সূচনা –

24 পরগণার পুঁড়া গ্রামের অত্যাচারী জমিদার কৃষ্ণদেব রায়, গোবরডাঙার জমিদার এবং স্থানীয় সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিতুর নেতৃত্বে আন্দোলনের সূচনা হয়।

আন্দোলনের বিস্তার –

ক্রমে 24 পরগণা, নদিয়া, রাজশাহি, ঢাকা, পাবনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তিতুমিরের নেতৃত্বে ওয়াহাবি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পরে। তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহ জমিদার ও নীলকর বিরোধিতা থেকে ক্রমে প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে পর্যবসিত হয়।

বাঁশের কেল্লা –

জমিদারদের বিরুদ্ধে সাফল্য লাভের পর তিতুমির বারাসাতের নিকটবর্তী নারকেলবেড়িয়া গ্রামে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে তার সদর দপ্তর স্থাপন করেন। তিনি নিজেকে ওই অঞ্চলের ‘বাদশাহ্’ ঘোষণা করেন এবং স্থানীয় জমিদার, নীলকর ও মহাজনদের কাছ থেকে রাজস্ব দাবি করা হয়।

বিদ্রোহের অবসান –

তিতুমিরের কার্যকলাপ ব্রিটিশ শাসকের মনে ভীতির সঞ্চার করে। শেষ পর্যন্ত বড়োলার্ট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে এক বিশাল বাহিনী 1831 খ্রিস্টাব্দে বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। কর্ণেল স্টুয়ার্টের কামানের গোলার আঘাতে কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তিতুমির ও তার কয়েকজন অনুগামী যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের মতো মৃত্যু বরণ করেন।

মন্তব্য –

তিতুমিরের নেতৃত্বে ওয়াহাবি আন্দোলন কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংকীর্ণতা দোষে দুষ্ট হলেও ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্র প্রমুখ তিতুমিরের অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মরণপণ সংগ্রাম স্বৈরাচার বিরোধিতার এক উজ্জ্বল ইতিবৃত্ত।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “তিতুমিরের নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ – টীকা লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “তিতুমিরের নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ – টীকা লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্রদের অবদান আলোচনা করো।

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্রদের অবদান আলোচনা করো।

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (1953 খ্রিস্টাব্দ) কেন গঠিত হয়েছিল? ভারতের রাজ্য পুনর্গঠন এর ভিত্তিগুলি লেখো।

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (1953 খ্রিস্টাব্দ) কেন গঠিত হয়েছিল? ভারতের রাজ্য পুনর্গঠন এর ভিত্তিগুলি লেখো।

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নাইট্রোজেন চক্রের ওপর মনুষ্য ক্রিয়াকলাপের প্রভাব – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলতে কী বোঝো? শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর কী?

ক্যাকটাসের মূল ও পাতার অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

মুখ্য অভিযোজন এবং গৌণ অভিযোজন কাকে বলে? এদের পার্থক্য | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

মুখ্য জলজ প্রাণী ও গৌণ জলজ প্রাণী বলতে কী বোঝো?